কভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বে কম্পিউটার, মোবাইল, ল্যাপটপের চাহিদা ও বিক্রি বাড়তে থাকে। সে সময় গেমিং খাতে গ্রাহক ব্যয়ও নতুন রেকর্ড তৈরি করে। কিন্তু ২০২২ সালে এসে এসব খাতে মন্দা শুরু হয়। মূলত ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে গ্রাহক বা ভোক্তারা ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। যার প্রেক্ষিতে গেমিং খাতে বৈশ্বিক ব্যয় ৫ শতাংশ কমেছে। অ্যাপ বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ডাটা ডট এআইয়ের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিএনবিসির খবরে বলা হয়, ২০২২ সালে গেমিং খাতের ব্যয় ৫ শতাংশ কমে ১১ হাজার কোটি ডলারে নেমে এসেছে। ১১ জানুয়ারি স্টেট অব মোবাইল প্রতিবেদনে সাবেক অ্যাপ অ্যানি বা ডাটা ডট এআই এ কথা জানায়। প্রতিবেদনে মোবাইল বিজ্ঞাপন, রিটেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপগুলোর তথ্যও প্রকাশ করে।
ব্যয় কমলেও প্রথমবারের মতো বিশ্বে মোবাইলে গেম ইনস্টল করার হার ৮ শতাংশ বেড়ে নয় হাজার কোটিতে পৌঁছেছে। এদিক থেকে শীর্ষে ছিল হাইপার ক্যাজুয়াল গেমগুলো। ডাটা ডট এআইয়ের ইনসাইট বিভাগের প্রধান লেক্সি সিডো সিএনবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ ধরনের গেমের গ্রাহকদের আরো সংবেদনশীল ও আর্থিকভাবে রক্ষণশীল হতে দেখেছি।
অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যে উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তারা ব্যয়ের বিষয়ে এখন আরো সতর্ক। যেকোনো কেনাকাটার বিষয়ে তারা বারবার ভেবে দেখছে। এদিক থেকে গেমিং খাত প্রভাবিত হয়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাম্পেয়ার অ্যানালাইসিস গত বছর একটি পূর্বাভাস দিয়েছিল। পূর্বাভাসের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে গেমিং কনসোল, কম্পিউটার, গেম ও সার্ভিস বিক্রি বছরওয়ারি হিসেবে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গেম শিল্পে মোবাইল গেমিং বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বড় বড় প্রকাশক প্রতিষ্ঠান মোবাইল গেম ডেভেলপারদের ওপর বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ২০২২ সালের শুরুর দিকে ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে গেমিং ফার্ম জিংগা কিনে নেয় টেক-টু। ২০১৬ সালে ক্যান্ডি ক্রাশ সাগা গেম নির্মাতা কিং কে ৫৯০ কোটি ডলারে কিনে নেয় অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড।
অন্যদিকে মোবাইল গেমিং খাতের বিকাশে ৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড অধিগ্রহণ চুক্তির ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে মাইক্রোসফট। জীবনযাপন ব্যয় ও উচ্চ সুদহারের কারণে বর্তমানে বৈশ্বিক গেমিং খাতের বিকাশ অনেকটাই স্তিমিত। ২০২০ সালে মোবাইল গেমিং খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে মাইক্রোসফট ও সনি তাদের পরবর্তী প্রজন্মের গেমিং কনসোল বাজারজাত করে।
ডাটা ডট এআইয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালে নন-গেমিং অ্যাপগুলো কিছুটা ভালো অবস্থায় ছিল। বছরওয়ারি হিসেবে এসব অ্যাপে ব্যয় ৬ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। মূলত স্ট্রিমিং, ডেটিং ও শর্ট ভিডিও সার্ভিস টিকটকের মতো প্লাটফর্মগুলোর ইন-অ্যাপ পারচেজের কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে নন-গেমিং অ্যাপ ডাউনলোড ১৩ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ কোটিতে পৌঁছেছে।
নতুন বছরে বাজারে আরো পরিবর্তন আসবে। কেননা অ্যাপল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এনেছে তা অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর চাপ তৈরি করবে। ডাটা ডট এআইয়ের ধারণা, চলতি বছর গেমিং অ্যাপে বৈশ্বিক ব্যয় আরো ৩ শতাংশ কমে ১০ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে।










