একসময় অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীদের কাছে আকর্ষণীয় গ্যাজেট ছিল আইপড। চলতি সপ্তাহে গ্যাজেটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সর্বশেষ মডেলটিও বন্ধ করে দেয়ার সময় ডিজিটাল অডিও মাধ্যমে পড শোনার প্রতি সবার ভালোবাসা ও মোহমুগ্ধতা রয়েছে। তাই বলা যায়, আইপডের মৃত্যু ঘটেছে। তবে এখনো জনপ্রিয়তা নিয়ে টিকে রয়েছে পডকাস্টের গ্রহণযোগ্যতা। খবর দ্য ভার্জ।
আইপড প্রকৃতপক্ষে এমন কিছু ছিল না যাতে পডকাস্ট বিকশিত হয়, কিন্তু যখন পডকাস্টের যাত্রা হলো তখন আইপডই ছিল শহরের নতুন চমক। ২০০৪ সালে এমপিথ্রি প্লেয়ার মার্কেটের ৬০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ ছিল আইপডের। এটি ছিল চলতে চলতে অডিও শোনার বিকল্প মাধ্যম, যদিও এটি অমার্জিত।
প্রথম দিককার ডিজিটাল অডিও আউটলেট দিস উইক ইন টেকের প্রতিষ্ঠাতা এবং রেডিও শো দ্য টেক গাইয়ের উপস্থাপক লিও ল্যাপোর্টে বলেছেন, এটা ছিল ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। প্রথমে কম্পিউটারে ডাউনলোড করতে হবে, আইটিউনসের মাধ্যমে আইপডকে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, এরপর আইপডে তা কপি করে নিতে হবে এবং তার পরই এটি শুনতে পারবেন। গ্যাজেটটি সব জায়গায় থাকার কারণে পডকাস্ট নামে স্ক্র্যাপি অনলাইন অডিও শো জনপ্রিয় হতে শুরু করে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই দুই ব্যক্তি আলাদাভাবে আইপড ও ব্রডকাস্ট একত্রিত হয়েছে বলে দাবি করে।
প্রথম রেকর্ড ছিল ২০০৪ সালে সাংবাদিক ও প্রযুক্তিবিদ বেন হ্যামার্সলির গার্ডিয়ানে প্রকাশিত নিবন্ধ, যেখানে তিনি মাধ্যমটির সম্ভাব্য নাম দেন। একই বছর ডিজিটাল অডিও বিশেষজ্ঞ ড্যানি গ্রেগরি তার একটি সফটওয়্যারের নাম দেন পডকাস্টার। তিনি পডকাস্ট নামে একটি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করেন। তারপর সাবেক এমটিভি ভিজে এবং প্রাথমিক পডকাস্ট উপস্থাপক অ্যাডাম কারির সহায়তায় এটি জনপ্রিয় করে তোলেন।
গ্রেগরি দাবি করেন, নামটি দেয়ার আগে তিনি হ্যামার্সলির প্রবন্ধ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এ ব্যাপারে মন্তব্য চেয়ে অনুরোধ করলে হ্যামার্সলি কোনো সাড়া দেননি।
২০০৫ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্সিয়াল রেডিও ভাষণ পডকাস্ট মাধ্যমে প্রকাশ করেন। পডকাস্ট শব্দটিকে দ্য নিউ অক্সফোর্ড আমেরিকান ডিকশনারি ২০০৫ সালের ওয়ার্ড অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করে।
পডকাস্ট নিয়ে সবাই যে রোমাঞ্চিত ছিলেন ব্যাপারটা এমন না। বছরজুড়ে ল্যাপোর্টে পডকাস্টিংকে নেটকাস্টিং হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার যুদ্ধ করেছেন এবং হেরেছেন। তার যুক্তি ছিল পডকাস্ট শব্দটির সঙ্গে অ্যাপলের আইপড শব্দটি যুক্ত। সময় তাকে একই সঙ্গে সঠিক ও ভুল প্রমাণিত করেছে। হ্যাঁ, শুরুর দিকে পডকাস্টিংয়ের সঙ্গে আইপডের নাম লেপটে ছিল। কিন্তু শব্দটি তার নামকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছে যে পডকাস্টিং ইকোসিস্টেমের একটি অংশ মাত্র অ্যাপল। বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী নামের একটি বৈ কিছু নয়। পডকাস্টিংয়ের সবচেয়ে ব্যবহূত প্লাটফর্ম স্পটিফাই এখন এ মুকুটের অধিকারী। অ্যাপলের পডকাস্ট প্রোগ্রামিং মোটামুটি মান বজায় রেখেছে।
প্রথম দিককার ডিজিটাল অডিও আউটলেট দিস উইক ইন টেকের প্রতিষ্ঠাতা ও রেডিও শো দ্য টেক গাইয়ের উপস্থাপক লিও ল্যাপোর্টে তার নেটকাস্ট নেটওয়ার্ককে বদলে পডকাস্ট নেটওয়ার্ক করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেছেন, শব্দটি অনিবার্য। ভাষা এভাবেই চলে। আপনি এর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারবেন না।










