দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদিত চিপ সবচেয়ে বেশি রফতানি করে চীনে। আর দিনদিন এর পরিমাণ বাড়ছে। ফলে চিপ রফতানিতে চীনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া। এদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ক্রমেই বাণিজ্য হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য খাতের ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কাজনক। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।

দেশটির আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন এ ঝুঁকি নিরসনে রফতানি পণ্য ও বিদেশী বাজারকে আরো বৈচিত্র্যময় করা উচিত দক্ষিণ কোরিয়ার।

কোরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (কেআইটিএ) পরিসংখ্যান অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়া জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে চীনে ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের চিপ রফতানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। এর ফলে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট উৎপাদিত চিপের ৪০ দশমিক ৬০ শতাংশ রফতানি হয় চীনে।

চীনা বাজারের ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানিনির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির মোট চিপ রফতানির ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ কমেছে। ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন বলছে, এর ফলে দেশটির বার্ষিক চিপ রফতানি ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়া ৬৭১ কোটি ডলার মূল্যের চিপ রফতানি করেছে, যা এর আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। জাপানের বাজারেও একই অবস্থা। জাপানে রফতানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ কমে ১০৬ কোটি ডলার হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ রফতানি সিঙ্গাপুরে বেড়েছে ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, তাইওয়ানে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে বেড়েছে ৩ শতাংশ। তবে সামগ্রিক হিসাবে এ অঞ্চলগুলোতে রফতানি বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত সিস্টেম চিপের উৎপাদন বাড়ানো। কেননা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এর চাহিদা বাড়ছে। কেআইটিএর গবেষক জাং স্যাং-সিক বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ কারখানা মূলত মেমোরি চিপনির্ভর। তাই এর বিক্রিতে আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার প্রভাব থাকে।

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বিদেশী বাজারে নিজেদের অবস্থান অবশ্যই সুসংহত করতে পারবে, যদি রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে পারে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অঞ্চলের বাজারের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সিস্টেম চিপ উৎপাদন বাড়াতে হবে।