২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে টুইটারে যে এক হাজার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যয় করেছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যানালাইসিস ফার্ম পাথমেটিকসের জরিপ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটির মালিকানা ইলোন মাস্কের হাতে যাওয়ার পর বিজ্ঞাপনদাতাদের অবস্থান জানতে এ জরিপ চালানো হয়। খবর সিএনএন।
টুইটারের শীর্ষ এক হাজার বিজ্ঞাপনদাতার মধ্যে ৬২৫টি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে প্লাটফর্ম থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ যে ডলার দিয়েছিল তা সরিয়ে নিয়েছে। এদের মধ্যে কোকা-কোলা, ইউনিলিভার, জিপ, ওয়েলস ফারগো অ্যান্ড মার্কসহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে পাথমেটিকসের নথি সূত্রে জানা গেছে।
এক বিবৃতিতে ওয়েলস ফারগো জানায়, টুইটারের প্রতিষ্ঠানটির পেইড অ্যাডভারটাইজিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সামাজিক মাধ্যম হিসেবে প্লাটফর্মটি ব্যবহার করা হবে। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর থেকে বিজ্ঞাপনদাতাদের ব্যয় কমায় জানুয়ারিতে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে টুইটারের মাসিক রাজস্বের পরিমাণ ৬০ শতাংশ কমেছে। গত বছর যার পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বর্তমানে তা ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। একসময় টুইটারের বিজ্ঞাপন বাজার ৪৫০ কোটি ডলার মূল্যের ছিল। এ ঘটনা সে বাজার ব্যবস্থায় বড় পতনের বিষয়টিকে চিহ্নিত করছে।
গত অক্টোবরে ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারে টুইটার অধিগ্রহণ করেন টেসলা প্রধান ইলোন মাস্ক। এরপর থেকে বিজ্ঞাপনদাতারা প্লাটফর্মের নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। কেননা মালিকানা পাওয়ার পর মাস্ক গণহারে কর্মী ছাঁটাই শুরু করে এবং নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে। নভেম্বরে মাস্ক জানিয়েছিল যে টুইটারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য হারে কমছে।
মেটা মালিকানাধীন ফেসবুক ও গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসার তুলনায় টুইটারের পরিধি কম হলেও তা প্লাটফর্মটির অধিকাংশ রাজস্ব আয়ে সহায়ক ছিল। বর্তমানে ইলোন মাস্ককেই এ খালি জায়গা পূরণ করতে হবে। এ বিষয়ে টুইটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত বছর প্লাটফর্মটি এর মিডিয়া রিলেশনস বিভাগের অধিকাংশ কর্মীকে অব্যাহতি দিয়েছিল।
বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে লড়াই শেষে মাস্ক পুনরায় তাদের প্লাটফর্মে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিজ্ঞাপনদাতাদের আকর্ষণে কোম্পানিটি সুপার বোল ফায়ার সেল ডিলও অফার করেছিল। এছাড়া প্লাটফর্মটি ব্র্যান্ড সেফটি নামের একটি থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। প্লাটফর্মে কোনো ক্ষতিকর কনটেন্টের সঙ্গে বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে জানাবে এ প্রতিষ্ঠান, কিন্তু তার পরও বিজ্ঞাপনদাতাদের ধরে রাখতে পারছে না মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটি।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে টুইটারে নিয়ম ভঙ্গের কারণে যাদের ব্যান করা হয়েছিল সেসব অ্যাকাউন্টের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মাস্ক। এর মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টও রয়েছে। কিছু বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, আগে তারা যাদের সঙ্গে কাজ করেছে মাস্ক তাদের ছাঁটাই করে দিয়েছে। ফলে তারা দ্বিধায় রয়েছেন।
বিভিন্ন ঘটনার পরও মাস্ক তার নীতিতে অটল ছিলেন। প্লাটফর্মের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব আয়ে নতুন উপায়ও খুঁজতে থাকেন। এর মধ্যে কর্মী ছাঁটাই, পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবার পুনর্গঠনসহ সম্প্রতি এপিআই ব্যবহারকারী গবেষক ও ডেভেলপারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মতো বিষয় রয়েছে।










