আগামী ছয় মাসের মধ্যে মানবদেহে নিউরোলিংকের ওয়্যারলেস ব্রেইন চিপ পরীক্ষার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন ইলোন মাস্ক। এর আগে একবার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষা চালাতে পারেনি। খবর রয়টার্স।

মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ব্রেইন চিপের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। তাদের দাবি চিপটি শারীরিকভাবে অক্ষম রোগীদের চলাচল ও যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে। সম্প্রতি মাস্ক জানান, চিপটি দৃষ্টিশক্তি ফেরাতেও সহায়তা করবে।

নতুন এ চিপের বিষয়ে সর্বশেষ দেয়া এক আপডেটে ইলোন মাস্ক জানান, মানবদেহে প্রতিস্থাপনের আগে চিপটির শতভাগ কার্যকারিতা নিশ্চিতে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। নিউরোলিংকের সদর দপ্তরে ৩ ঘণ্টাব্যাপী আয়োজিত প্রেজেন্টেশনে অতিথিদের সামনে মাস্ক ডিভাইসের উন্নয়ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপের বিষয়ে জানান।

মাস্ক জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দুজন মানুষের ওপর নিউরোলিংক ডিভাইসের পরীক্ষা চালানো হবে। বিশেষ করে যাদের দৃষ্টিশক্তি নেই বা দুর্বল ও চলাচলে অক্ষম। তিনি বলেন, যদি জন্মের সময় কেউ দৃষ্টিশক্তি ছাড়া জন্মায় আমাদের বিশ্বাস তাদেরও আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারব।

এক বছরেরও বেশি সময় আগে নিউরোলিংক তাদের একটি পরীক্ষা প্রকাশ করেছিল। যেখানে দেখা যায়, ব্রেইন চিপযুক্ত একটি বাঁদর একাই কম্পিউটার গেম খেলছিল। সে সময় এটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা, রকেট ফার্ম স্পেসএক্স ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার পরিচালনা ছাড়াও মাস্কের আরো কিছু পরিকল্পনায় রয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলগ্রহে উপনিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে মানবজাতিকে রক্ষা করা অন্যতম। ২০১৬ সালে নিউরোলিংক চালু করাও এর অন্তর্গত ছিল।

বিশ্বের অন্যতম ধনী ইলোন মাস্কের লক্ষ্য এমন একটি চিপ তৈরি করা, যেটি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্রেন থেকেই জটিল বৈদ্যুতিক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এছাড়া এটি প্যারালাইজড হওয়া রোগীদের পুনরায় চলাচলে সহায়তা করবে এবং পারকিনসনস, ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারের মতো রোগ নির্মূল করবে।

অন্যদিকে নিউরোলিংক এখনো নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ২০১৯ সালে দেয়া এক প্রেজেন্টেশনে মাস্ক জানিয়েছিলেন, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তিনি নিয়ন্ত্রকদের অনুমতি পাবেন। ২০২১ সালের শেষ দিকে এক সম্মেলনে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে চিপের পরীক্ষা চালানো হবে।

নিউরোলিংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মীরা জানান, মানবদেহে পরীক্ষা করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকবার এফডিএর অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। আগস্টে রয়টার্স প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে বিনিয়োগের বিষয়ে মাস্ক প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান সিংক্রনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। মূলত নিউরোলিংকের কর্মীদের ধীর কার্যক্রমে বিরক্ত হয়েই এ পথে এগিয়েছিলেন তিনি। জুলাইয়ে সিংক্রোন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এক রোগীর শরীরে ডিভাইস যুক্ত করে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে।