মিয়ানমারভিত্তিক ডিজিটাল মানি মিয়ানমার লিমিটেড বা ওয়েভ মানিতে থাকা ৫১ শতাংশ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেলিনর। ইওমা স্ট্র্যাটেজিকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ইওমা এমএফএস হোল্ডিংসের কাছে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারে ওই শেয়ার বিক্রি করছে নরওয়েভিত্তিক গ্রুপটি। টেলিনরের নিজস্ব ওয়েবসাইটে শেয়ার করা এক সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

টেলিনরের শেয়ার ক্রয়ের আগে ওয়েভ মানির ৪৪ শতাংশ শেয়ার ছিল ইওমা এমএফএস হোল্ডিংসের। টেলিনরের শেয়ার বুঝে পেলে কোম্পানির সিংহভাগ শেয়ার নিজেদের করে নেবে সিঙ্গাপুর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি। 

লেনদেন সম্পন্ন হলে ওয়েভ মানিতে সর্বোচ্চ শেয়ারহোল্ডার হবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইওমা স্ট্র্যাটেজিক। টেলিনরে প্রস্থানে মিয়ানমারের ফিনটেক খাতে ইওমার অবস্থান শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ লেনদেন ও ডিজিটাল পেমেন্ট সেবায় শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওয়েভ মানি। ইওমা ব্যাংক ও টেলিনর গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে যাত্রা করেছিল এ ফিনটেক সেবাটি।  

ইওমা স্ট্র্যাটেজিকের সিইও মেলভিন পান জানান, মিয়ানমারে আমরা দীর্ঘমেয়াদে যে শক্তিশালী ফিনটেক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চাই, এ অধিগ্রহণের মাধ্যমে তা আরো দৃঢ় হলো। দেশটির অর্থনীতিতে বিশেষ করে আর্থিক সেবায় উল্লেখযোগ্য ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। মিয়ানমারের মানুষের জীবন ইতিবাচক রূপান্তরে এবং গণমানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় আনতে ওয়েভ মানির ভূমিকায় আমরা আনন্দিত।

ওয়েভ মানি থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার নিয়ে গত বছরের জুনেই ঐকমত্যে পৌঁছেছিল ইওমা স্ট্র্যাটেজিক ও টেলিনর গ্রুপ। মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে লেনদেনটি সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।  

২০২০ সালে ওয়েভ মানির মাধ্যমে ৮৭০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স সরবরাহ ও পেমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে, যা মিয়ানমারের মোট জিডিপির ১২ শতাংশ। শহর ও গ্রামে কোম্পানির ‘ওয়েভ শপস’-এ ৪৫ হাজার সক্রিয় এজেন্ট কাজ করছে। দেশব্যাপী ৩৩০টি টাউনশিপের ২৯৫টিই ওয়েভ মানির সেবার আওতায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর সার্বিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও জুনের পর থেকে ঘুরে দাঁড়াতে থাকে ওয়েভ মানির ব্যবসা। তবে বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চি এবং তার নির্বাচিত সরকারকে অপসারণ করায় মিয়ানমারে কার্যক্রম পরিচালনায় অস্বস্তিতে পড়ে নরওয়েভিত্তিক টেলিকম জায়ান্টটি। দেশটিতে কাজ চালিয়ে নেয়া ক্রমে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিল তারা।

গত জুলাইয়ে মিয়ানমারে নিজেদের মোবাইল সেবা টেলিনর মিয়ানমার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল তারা। লেবাননভিত্তিক আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি এম১ গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয় নিজেদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানটি। তবে সেনা শাসকগোষ্ঠীর অনুমোদন না পাওয়ায় এখনো বিক্রি চূড়ান্ত হয়নি বলে স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

গত সেপ্টেম্বরে টেলিনর অভিযোগ তুলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে বিভিন্ন নজরদারি যন্ত্রপাতি স্থাপনের দাবি করে মিলিটারি জান্তা। কিন্তু এ দাবিতে সাড়া দেয়নি টেলিকম জায়ান্টটি।