সেলফোন বা মোবাইলের ক্যামেরায় অপটিক্যাল জুম অন্যতম একটি ফিচার। সনি এক্সপেরিয়া ওয়ান ফোর, স্যামসাং গ্যালাক্সি জুম এবং আসুস জেনফোন জুমের মতো কয়েকটি মডেল ছাড়া অধিকাংশ ডিভাইসের অপটিক্যাল জুম বিভিন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। মাল্টি-ক্যাম ফোনের প্রতিটি লেন্সের পেছনে একটি ইমেজ সেন্সর থাকে। যখন সেলফোনের ম্যাগনিফিকেশন পরিবর্তন করা হয় তখন সেন্সর ও লেন্স উভয়ই পরিবর্তন হয়। এটি কেবল ক্যামেরা লেন্সের অপটিক্যাল জুম থেকে আলাদা নয়, বরং এসএলআর/সিঙ্গেল মিরর লেন্সের থেকেও আলাদা। মোবাইল ফোনের অপটিক্যাল জুম হলো ডিজিটাল প্রসেসিংয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ফিক্সড-ফোকাস লেন্স। এ ধরনের প্রযুক্তির একটি ডিভাইস সনি এক্সপেরিয়া ওয়ান থ্রি বা ফাইভ থ্রি। এ মডেলের ডিভাইসে থাকা টেলিফটো লেন্সটি ৭০ মিলিমিটার (এমএম) এফ ২.৩ এবং ১০৫ মিলিমিটার এফ ২.৮-এর মধ্যে পরিবর্তন করা যায়। একে ডাবল ফোকাল লেন্থও বলা হয়। তবে এটি আসল অপটিক্যাল জুম নয়।

অপটিক্যাল জুমের জন্য একাধিক ক্যামেরা

অধিকাংশ মোবাইল ফোনে ২৩-২৭ মিলিমিটার ফোকাল লেন্থকে ১এক্স (এক বার জুম) হিসেবে সেট করা হয়। এ কারণে সুপার ওয়াইড অ্যাঙ্গেল হয় শূন্য দশমিক ৪এক্স, দশমিক ৫এক্স, দশমিক ৬এক্স এবং মিডিয়াম টেলিফটো হয় ২এক্স, ৩এক্স ও ৫এক্স। তবে এতে দুই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

প্রথমত, ১এক্স-এর সংজ্ঞা নির্দিষ্ট নয়। এজন্য দশমিক ৫এক্স, ৩এক্স, ও ৫এক্সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয়ত, যখন কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনে ডিভাইসের ক্যামেরায় ১০এক্স জুম থাকার কথা জানায়, তখন এর অর্থ হলো সেলফোনটিতে ১০এক্স টেলিফটো ক্যামেরা আছে। অন্যথায় ডিভাইসটি ১০এক্স জুম করতে সক্ষম, যা আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল থেকে টেলিফটোর শূন্য দশমিক ৫এক্স থেকে ৫এক্স স্তরের ছবি তুলতে পারবে।

সুতরাং, লেন্সটি কত ধাপ জুম করতে পারবে এর পরিবর্তে এর ফোকাল লেংথ কত তা সরাসরি যাচাই করা বা বিবেচনা করা ভালো। 

ফোকাল লেংথ

দুটি ফিক্সড-ফোকাস ক্যামেরার মধ্যে মধ্যবর্তী ফোকাল লেংথ প্রসেসিংয়ের জন্য মাল্টিপল অপারেশন থাকে। ফোকাল লেংথের প্রাথমিক পদ্ধতি হলো ডিজিটাল জুম। এটি সাধারণত ১.১এক্স থেকে ২.৯এক্স পর্যন্ত জুম করতে পারে। তবে এ স্তরে ছবির রেজল্যুশন বা মান কমে যায়। ২.৯এক্স থেকে ৩এক্স স্তরে ছবির মান বাড়তে থাকে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্যামেরায় এখন পিকচার ফিউশন প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। ২.৯এক্স মোডে ১এক্স ও ৩এক্স ক্যামেরা একই সময়ে ছবি তুলবে। এছাড়া ১এক্স বাইরের ফ্রেমটি ২.৯এক্স এবং ৩এক্সের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে সহায়তা করবে। এ পদ্ধতি শুধু ছবি তোলার জন্য উপযুক্ত।

বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোনে কোয়াড-বেয়ার সেন্সরগুলোকে ১এক্স ওয়াইড অ্যাঙ্গেল মূল ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে হাই-পিক্সেলে ৪এক্স মোডে ছবি তোলা সম্ভব হয়। 

অটো সুইচ

২এক্স বা ৩এক্স টেলিফটো ক্যামেরাও কখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল ক্যামেরা বা সুপার ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরায় পরিবর্তিত হতে পারবে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছবি তোলা যাবে। গিজচায়না অবলম্বনে