ইউরোপে নিকট ভবিষ্যতে কারখানা চালুর পরিকল্পনা নেই তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি)। আগের প্রাক্কলনের চেয়ে কারখানার নির্মাণ ব্যয় অধিক হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত শীর্ষ চিপ নির্মাতা কোম্পানির। ইইউ যখন সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্টে ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন টিএসএমসির এ সিদ্ধান্ত তাদের জন্য সুখকর হবে না। খবর নিক্কেই এশিয়া ও রয়টার্স।

শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে বার্ষিক সভায় টিএসএমসি চেয়ারম্যান মার্ক লিয়ু বলেন, আরিজোনায় নির্মাণ হতে যাওয়া বিদেশে তাদের প্রথম কারখানার নির্মাণ ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। তবে ব্যয় ঠিক কী পরিমাণ বেশি হচ্ছে, এ তথ্য শেয়ার করেননি তিনি। স্থানীয় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বিদেশী চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোকেও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ওয়াশিংটনের সহায়তা করা উচিত বলে মনে করেন লিয়ু।

টিএসএমসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয়া তাইওয়ানের চেয়ে অনেক কঠিন। তবে প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আরিজোনা কারখানার জন্য কর্মী নিয়োগ চলছে। নতুন কোনো জায়গায় কারখানা স্থাপনের শুরুতে কর্মী সংকটে পড়তে হয়। তাইওয়ানের তুলনায় সে জায়গায় কম চিপ কারখানা রয়েছে এবং সরবরাহ চেইন পরিপূর্ণ নয়। তবে টিএসএমসিসহ ইন্টেল ও স্যামসাং সেখানে কারখানা চালু করলে সামনের বছরগুলোয় সেখানকার সরবরাহ চেইন অনেক সবল হবে বলে আশাবাদী লিয়ু।

ইউরোপে চিপ কারখানা স্থাপন নিয়ে বলতে গিয়ে লিয়ু বলেন, নিকট ভবিষ্যতে আপাতত কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা নেই টিএসএমসির।

গত সপ্তাহে তাইওয়ান ও ইইউর শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়। বৈশ্বিক চিপস্বল্পতায় বিভিন্ন শিল্প যে ধুঁকছে তা ছিল তাদের আলোচনার মূল এজেন্ডা। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপিয়ান চিপস অ্যাক্ট পাস করে ইইউ। সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্বনির্ভর হতে ইইউর সমমনা অংশীদারের তালিকায় তাইওয়ানের নাম ছিল সবার ওপরে। কিন্তু টিএসএমসির সর্বশেষ এ ঘোষণায় ইইউর সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্বনির্ভরতার প্রয়াসে জল ঢেলে দিল।

এক বছর আগে জার্মানিতে চিপ কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল বিশ্বের শীর্ষ চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা কোম্পানি টিএসএমসি। কিন্তু গত এক বছরেও এক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি দেখা যায়নি। সম্প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে টিএসএমসি সিইও মার্ক লিয়ু বলেন, ইউরোপে আমাদের গ্রাহক খুবই সীমিত। আমরা এখনো সেখানে কারখানা চালুর বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে রেখেছি। এক্ষেত্রে সহসাই সেখানে কারখানা চালুর কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না।

যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনায় চিপ কারখানা স্থাপনে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছে টিএসএমসি। এছাড়া সনি গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে জাপানের কুমামাতো প্রিফ্যাকচারে আরেকটি কারখানা চালু করবে তারা। বৈশ্বিক চিপস্বল্পতা নিরসনে এবং সরবরাহ চেইন সংকট প্রশমনে এ দুটি কারখানা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।