কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটজিপিটি ২০২২ সালের নভেম্বরে উন্মোচন করে ওপেনএআই। প্রযুক্তির দুনিয়ায় মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হয় এর উত্থান। কেবল সিলিকন ভ্যালি নয় সারা বিশ্বেই এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম চ্যাটজিপিটি। তবে প্রযুক্তিটির জয়যাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে ই-বুক পরিষেবায়। সম্প্রতি রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।
চ্যাটজিপিটিকে লেখক বা সহলেখক হিসেবে ধরে নিয়ে ফেব্রুয়ারি নাগাদ প্রায় ২০০টি ই-বুক উন্মোচিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ‘হাউ টু রাইট অ্যান্ড ক্রিয়েট কনটেন্ট ইউজিং চ্যাটজিপিটি’ ও ‘দ্য পাওয়ার অব হোমওয়ার্ক’ ধরনের বইগুলো রয়েছে। রয়েছে ‘ইকোজ অব দ্য ইউনিভার্স’ নামের কবিতার সংকলন। আত্ম-উন্নয়ন ও ছবি আঁকার বইও বাদ যায়নি এ তালিকা থেকে। প্রতিদিনই বাড়ছে এর সংখ্যা। এর মধ্যে অ্যামাজনে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার নিয়ে পৃথক একটা ঘরানাও রাখা হয়েছে। তবে চ্যাটজিপিটির কর্মক্ষমতা সবার জানা। স্বাভাবিকভাবেই অনেক লেখক বই লেখার পরে চ্যাটজিপিটির অবদান উল্লেখ করেনি। ফলে এআই দিয়ে ঠিক কতগুলো বই লেখা হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা বের করা কঠিন।
সফটওয়্যারটির উত্থান এরই মধ্যে অস্বস্তিতে ফেলেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে। প্রভাবিত করেছে অন্যদের। মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া মিলছে চ্যাটজিপিটি নিয়ে। বিনিয়োগকারীরা এআইভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগে টাকা ঢালছে। কর্মী ছাঁটাইয়ের পর টেক প্রতিষ্ঠানগুলোও চ্যাটজিপিটির দিকে ঝুঁকছে। মাইক্রোসফট বিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছে চ্যাটজিপিটিকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে চ্যাটজিপিটির লেখার যথার্থতা নিয়ে। চ্যাটজিপিটির লেখায় বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিদ্যমান লাখো লেখাকে স্ক্যান করে নতুন লেখা তৈরি করে প্রযুক্তিটি। এর মধ্যে বেশকিছু সীমাবদ্ধতাও দেখা গেছে। অনেকেই চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছেন।
চ্যাটজিপিটির উত্থান সৃজনশীল লেখকদের জন্য হুমকি হয়ে আসবে কিনা, প্রশ্ন থেকে যায়। প্রযুক্তিটি লেখকদের মতো কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হওয়া বইয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে মানুষ। অ্যামাজনের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। ইউটিউব ও টিকটকে এ নিয়ে হাজারো টিউটোরিয়াল রয়েছে। কীভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বই লেখা যায়। দ্রুত বড়লোক হওয়া, খাওয়ার উপদেশ, কোডিং থেকে রান্নার পরামর্শ। আকর্ষণীয় সব বিষয়বস্তু। এর মধ্যে সৃজনশীল লেখকদের জন্য শঙ্কাই বটে। কারণ বই লেখা একটা শিল্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাধান্য বইকে শিল্প থেকে পণ্যে রূপান্তরিত করবে। সার্বিকভাবে মারাত্মক প্রভাব পড়বে বইয়ের ওপর। কেউ চাইলে বছরে তিনশর বেশি বই প্রকাশ করতে পারবে। তখন নিম্ন মানের বইতে ছেয়ে যাবে বাজার। যেহেতু অ্যামাজন তার নীতিমালায় নির্দিষ্ট করেনি লেখকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে পারবে কিনা। ফলে বইগুলো তো তাদের নীতিমালাবহির্ভূত নয়।
হার্ডকপি ও ই-বুক বিক্রিতে অ্যামাজন এখন পর্যন্ত বৃহত্তম বাজার। মার্কিন বই বাজারের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশের লেনদেন ঘটে অ্যামাজনে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সাল থেকে সরাসরি কিন্ডল প্রকাশের যাত্রা করেছে। তখন থেকে প্রকাশনীর সাহায্য ছাড়াই অ্যামাজনে বই প্রকাশ করতে পারেন লেখক। সুবিধাটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারীদের জন্য ফাঁক হিসেবে দেখা দিয়েছে। চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে বই প্রকাশ করে ফেলতে পারছেন একদিনেরও কম সময়ে। যদিও চ্যাটজিপিটির পরিসর এখনো শিশুতোষ বই, গল্পের বই কিংবা ছবি আঁকার বই নিয়ে। তবে উপন্যাস লেখাতে চ্যাটজিপিটির কর্মক্ষমতা তলানিতে। কিন্তু আগামী দুনিয়ার লেখালেখিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










