সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন খাতের পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিতে আগামী পাঁচ বছরে বড় অংকের বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে স্যামসাং। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি জানায়, ১২টি আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিতে ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। খবর জেডিনেট।

সম্প্রতি স্যামসাং জানায়, বায়োফার্মা, সেমিকন্ডাক্টর ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিতে ২০২৬ সাল নাগাদ ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। এ বিনিয়োগে পরবর্তী পাঁচ বছরে ৮০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদ স্যামসাংয়ের। কোম্পানির অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে চিপ, বায়োটেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি উন্নয়ন।

দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন ন্যানোমিটারের চিপ উৎপাদনের চেষ্টা চালাচ্ছে স্যামসাং। এর মাধ্যমে তাইওয়ানভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট টিএসএমসির সঙ্গে টেক্কা দিতে পারবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সুপারকম্পিউটার, রোবটস ও এআইয়ের জন্য উন্নততর চিপ তৈরিতে কাজ করছে স্যামসাং।

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম কনগ্লোমারেট স্যামসাং এবং দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশের সমান স্যামসাংয়ের বার্ষিক আয়। এর ফ্ল্যাগশিপ সাবসিডিয়ারি স্যামসাং ইলেকট্রনিকস বিশ্বের বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানি। এছাড়া মেমরি চিপ উৎপাদনেও স্যামসাং শীর্ষে।

স্যামসাং বলছে, সেমিকন্ডাক্টর ও বায়োফার্মাসিটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব অনুধাবন করছে বিভিন্ন দেশ। এজন্য তাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম এশিয়া সফর করেন জো বাইডেন। সোমবার জাপানে এক বক্তৃতায় তিনি ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর প্রোসপারিটি’ উপস্থাপন করেন। এতে চারটি ভিত্তির ওপর জোর দেন—বাণিজ্য, সরবরাহ চেইন, টেকসই জ্বালানি ও অবকাঠামো। এর সঙ্গে থাকছে শুল্ক সুবিধা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান। হোয়াইট হাউজের দাবি, কাঠামোর আওতায় দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করলে সামনের দিনগুলোয় সরবরাহ চেইনের ঝুঁকি এড়াতে পারবে।

স্যামসাংয়ের পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনায় যে ১২টি আঞ্চলিক অংশীদারের কথা এসেছে সেগুলো হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। অস্ট্রেলিয়া ও ভারত বাদে বাকি ১০টি দেশই চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) স্বাক্ষরকারী দেশ। স্পষ্টত চীন বলয়ে ঢুকে পড়া উদীয়মান অর্থনীতিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বলয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাইডেনের সফরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার ইঙ্গিত ওয়াশিংটনের। এদিকে স্যামসাং জানায়, টেক্সাসে নতুন একটি চিপ নির্মাণ কারখানা স্থাপনে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রস্তাবিত কাঠামোয় সার্বিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইওন সুক ইওল। এছাড়া তিনি আরো ঘোষণা দেন, ডিক্লারেশন ফর দ্য ফিউচার অব দি ইন্টারনেটে স্বাক্ষর করবে দক্ষিণ কোরিয়া।