চলতি বছর দুর্বল বাজারের পূর্বাভাস দিয়েছে চীনের চিপ ফাউন্ড্রি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (এসএমআইসি)। ২০২২ সালে রেকর্ড বিক্রি ও আয় করলেও ইলেকট্রনিক পণ্য ক্রয়ে গ্রাহক চাহিদা কমে যাওয়ায় এ কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বর্তমানে চিপ উৎপাদন খাতে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে চীনকে এ খাতে বৈশ্বিক প্রধান করে তোলার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের অর্থায়নে পরিচালিত এসএমআইসি সব আশা-ভরসার জায়গা।

বৈশ্বিক চিপ সংকট ও কভিড-১৯ মহামারীর কারণে গত দুই বছর এসএমআইসি উল্লেখযোগ্য হারে বিক্রি বাড়তে দেখেছে। কেননা এ সময় সাশ্রয়ীমূল্যের চিপের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি দেয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২২ সালে আয় ৭২৩ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২১ সালের তুলনায় যা ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। রেফিনিটিভের বিশ্লেষকদের জরিপের তথ্যানুযায়ী, আয়ের জন্য ৭৩৫ কোটি ডলারের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি কম। অন্যদিকে নিচের দিক থেকে নভেম্বরের শেষে ৭৩০ কোটি ডলার আয়ে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটি হয়তো প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ কমে যাওয়ায় গ্রাহকের মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার চাহিদাও কমছে। আর্থিক প্রতিবেদনে এসএমআইসি জানায়, আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় ১০ শতাংশ কমতে পারে। ফলে চলমান প্রবৃদ্ধির ধারা ব্যাহত হবে।

২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির গড় আয় ১৮২ কোটি ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। যেখানে ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকে ১৬২ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য বিক্রি হয়েছে। বছরওয়ারি হিসাবে ২ শতাংশ বেশি এবং বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্য কম। একই সময়ে মোট মুনাফা ৫৫ কোটি ২৮ লাখ থেকে কমে ৫১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারে নেমেছে।

চিপ উৎপাদনে বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন হয়। আর এদিক থেকে চীনের এ প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ, প্রযুক্তি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এ খাতকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের কো-সিইও ঝাও হাইজুন আয় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বলেন, ‘‌২০২২ সালে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট থেকে শুরু করে গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক পণ্যের চাহিদা অনেক কমেছে। এছাড়া গ্রাহকও আগের মতো কেনাকাটায় আগ্রহী না।’

২০২২ সালের অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চীনের ওপর  নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্যে চিপ খাতের উন্নয়নে উন্নত প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ রফতানির বিষয়ও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শঙ্কা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চীন তাদের সামরিক খাতের ব্যাপক উন্নতি করবে এবং তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর খাত কয়েক যুগ পিছিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

চীনে উন্নত চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত মেশিন সরবরাহ বন্ধে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের সঙ্গে সম্প্রতি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র।