ঘৃণামূলক বক্তব্য ঠেকাতে অটোমেশনের ওপর নির্ভর করতে যাচ্ছে টুইটার। সম্প্রতি মাইক্রোব্লগিং সাইটটির প্রধান ইলোন মাস্ক জানান, তারা ম্যানুয়াল রিভিউসহ আগের কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়া থেকে সরে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত কয়েকদিনে টুইটারে একাধিক টুইটে কনটেন্ট মডারেশনে অটোমেশনের ওপর জোর দেয়ার কথা জানান মাস্ক। দুই-তৃতীয়াংশ কর্মী কমে যাওয়ার পর প্লাটফর্মে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের উপস্থিতি বাড়ার কথা স্বীকার করেন চিফ টুইট।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইটের (সিসিডিএইচ) এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাস্কের অধীনে টুইটারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার কমার বদলে উল্টো বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে টুইটার কনটেন্ট মডারেশন প্রশ্নে ‘অটোমেশন’ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন আরউইন। ক্ষতিকর কনটেন্ট চিহ্নিত করতে কর্মীদের ওপর নির্ভরশীলতা টুইটারের অতীত ভুলগুলোর একটি এবং এতে সময় ও শ্রম উভয়ই অপচয় হতো বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোজা কথায়, আগে প্রশ্নবিদ্ধ কনটেন্ট পর্যালোচনা করে প্লাটফর্মে রাখা না রাখার সিদ্ধান্তটি মানবকর্মীরা নিলেও সে কাজটি টুইটারের মূল অ্যালগরিদমের ওপর চাপাতে চাইছেন মাস্ক।

মাস্কের ব্যবস্থাপনার সাফাই গেয়ে আরউইন রয়টার্সকে জানান, তিনি কর্মীদের আরো ঝুঁকি নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ করে প্লাটফর্মকে নিরাপদ করে তুলতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

আর শিশুনিরাপত্তার প্রশ্নে টুইটার নির্ভরযোগ্য অভিযোগকারীদের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অতীতে প্রশ্নবিদ্ধ কনটেন্ট নিয়ে সঠিক অভিযোগ তুলেছে এমন অ্যাকাউন্টগুলো থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনটেন্ট মুছে দিচ্ছে টুইটার। শিশু নিপীড়নের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে টুইটার আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মকভাবে নিপীড়নমূলক হ্যাশট্যাগ ও সার্চ রেজাল্ট মুছে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আরউইন। 

সম্প্রতি টুইটারে বিদ্ধেষমূলক ও বিতর্কিত কনটেন্ট প্রচারের কারণে অতীতে নিষিদ্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেছেন মাস্ক। তার পর পরই মাস্কের অধীনে প্লাটফর্মটিতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও আপত্তিকর ভাষার ‘ব্যাপক বিস্তারের’ বিষয়টি উঠে এসেছে গবেষকদের অনুসন্ধানে। 

অন্যদিকে শুক্রবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে ‘কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা আরো কঠোর করার এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষার’ অঙ্গীকার করেছেন মাস্ক। 

আরউইন রয়টার্সকে বলেছেন, ব্যবসা বৃদ্ধি বা আয়বৃদ্ধির ওপর নিজেদের পদক্ষেপগুলো কেমন প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে কর্মীদের দুশ্চিন্তা করতে মানা করেছেন মাস্ক। চিফ টুইট দিনে কয়েকবার করে প্লাটফর্মের নিরাপত্তার গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বলে দাবি তার।