ইউক্রেনে পরিচালিত সাইবার হামলার সঙ্গে বেলারুশের গোয়েন্দাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দেশটির প্রশাসন। সম্প্রতি পরিচালিত এ হামলায় দেশটির অধিকাংশ সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায়। খবর রয়টার্স।
সাম্প্রতিক এ হামলায় যে ম্যালওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি রাশিয়ান গোয়েন্দাদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গ্রুপ ব্যবহার করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনের ঊর্ধ্বতন এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ কথা জানান।
দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি সেরহি ডেমেডিউক রয়টার্সকে জানান, সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইউক্রেন বেলারুশকে দায়ী করছে। এ হামলায় হুমকিমূলক বার্তা প্রদানের পাশাপাশি সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বার্তায় আরো বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি ইউনসি১১৫১ নামের একটি গ্রুপ এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার এ বক্তব্য দেশটির কয়েক ডজন সরকারি ওয়েবসাইটে হামলার বিষয়ে রাজধানী কিয়েভের বক্তব্যের প্রতিফলন। এ হামলায় রাশিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি জানালেও সরকারি কর্মকর্তারা অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে রাশিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হলো বেলারুশ।
কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের আশঙ্কা মস্কো খুব সম্ভবত ইউক্রেনে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। কেননা ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া তাদের সৈন্যদের সমবেত করেছে। এমন একটি মুহূর্তে ইউক্রেনের সরকারি ওয়েবসাইটগুলোয় সাইবার হামলা কিছুটা সন্দেহ তৈরি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওয়েবসাইটগুলোয় ভয় পাওয়ার এবং আরো ভয়ানক আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেয়া হয়েছে। তবে রাশিয়া এ ধরনের আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
ডেমেডিউকের বক্তব্যের বিষয়ে বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর অফিসে যোগাযোগ করা হলে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। লিখিত বক্তব্যে ডেমেডিউক বলেন, সরকারি ওয়েবসাইটগুলোয় যে বার্তা দেয়া হয়েছে সেটি ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া আরো ভয়ংকর কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।
ইউনসি১১৫১ গ্রুপের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি গ্রুপ। যেটি বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন বিশেষ পরিষেবার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ইউক্রেন সাইবার পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ডেমেডিউক। তিনি বলেন, লিথুনিয়া, লাটভিয়া, পোল্যান্ড, ইউক্রেনসহ বেশকিছু দেশে সাইবার হামলার বিষয়ে গ্রুপটির রেকর্ড রয়েছে।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কাউন্সিলে হামলা চালায় এটিপি-২৯ গ্রুপ। সে সময় হ্যাকাররা যে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করেছিল, ইউক্রেনের সরকারি ওয়েবসাইটেও সেটি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে হামলার পর এক ব্লগপোস্টে মাইক্রোসফট জানায়, ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এমন কিছু সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারের সন্ধান পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে গত বছর উল্লেখযোগ্য সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত আরইভিল র্যানসমওয়্যার গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে রাশিয়া। বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের চাপের মুখে গ্যাংটির ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২১ সালে মার্কিন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর র্যানসমওয়্যার হামলা চালিয়ে একাধিকবার খবরের শিরোনাম হয়েছিল আরইভিল গ্যাংটি। এর সদস্যদের চিহ্নিত করতে বা খুঁজে পেতে সহায়ক যেকোনো তথ্যের জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি জানায়, হ্যাকারদের দলটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই। আরইভিল সদস্যদের গ্রেফতারের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে বড় অংকের নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে এফএসবি।










