উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধিতে টাওয়ার কোম্পানিগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে অবকাঠামো শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে টাওয়ার কোম্পানিগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের (এমএনও) সর্বোচ্চ ১ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে।
সম্প্রতি এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সমন্বিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইডটকো গ্রুপ ও রোল্যান্ড বার্জার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। টাওয়ারিং অ্যাবভ: বিল্ডিং টুমোরো’স ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন এশিয়া শিরোনামে এটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে সাশ্রয়ী ফাইভজি সংযোগ সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে টাওয়ার কোম্পানিগুলো ভোক্তাদের ধারাবাহিক সঞ্চয় ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে ১ কোটি ৭০ লাখ টন কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমিয়ে আনার মাধ্যমে টেকসই ডিজিটাল সংযোগ অর্জনে ভূমিকা রাখবে।
ইডটকো, রোল্যান্ড বার্জার ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) যৌথ প্যানেল আলোচনায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ফিলিপাইনস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও শ্রীলংকায় টাওয়ারকোর বিশেষ ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ফাইভজি খাতের রূপান্তরে এবং ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অবকাঠামো বিশেষ ভূমিকা রাখছে। টাওয়ার কোম্পানিগুলো ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাতা হিসেবে শিল্প খাতে তাদের ভূমিকার রূপান্তর ঘটাচ্ছে এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইডটকো গ্রুপের ডিরেক্টর অব গ্রুপ স্ট্র্যাটেজি গায়ান কোরালেজ বলেন, যখন এমএনওগুলো দ্রুততার সঙ্গে এশিয়ার মতো লো এভারেজ রেভিনিউ পার ইউজার (এআরপিইউ) মার্কেটে নিজেদের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ঘটিয়ে যাচ্ছে, তখন তারা শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে এবং প্রতি জিবি ইন্টারনেটের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রকদের নীতিনির্ধারণীর মতো বেশকিছু বিষয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। আরো বড় পরিসরে অবকাঠামো শেয়ারিংয়ের মাধ্যমেই কেবল এ ধরনের সমস্যা টেকসইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এসইএ, রোল্যান্ড বার্জারের ম্যানেজিং পার্টনার ডেমিয়েন ডুজাকিয়ার বলেন, বর্তমান সময়ে টেলিযোগাযোগ খাতের গতিবিধির কথা বলতে গেলে, টাওয়ারকোকে অবশ্যই সক্রিয় ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাতা হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে। যাতে সংশ্লিষ্ট খাতের চাহিদা অনুযায়ী পরিধি, কার্যক্ষমতা ও সহজগম্যতা বাড়ানো যায়। সঠিক রেগুলেটরি পরিবেশের জন্য ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পাঁচটি নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন। এগুলো হলো শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রতিশ্রুতি, অনুকূল লাইসেন্সিং ও মালিকানা ব্যবস্থা, ইনফ্রা শেয়ারিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ, সুবিন্যস্ত প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সেবায় সক্ষমতা বাড়ানো।
গবেষণায় পরবর্তী স্বাভাবিকতায় টাওয়ারকো ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্ব কাজে লাগাতে নিয়মের সংস্কার ও বিভিন্ন নীতির পরিবর্তনের বিষয়ও উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রণোদনা প্রদান, সহায়ক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রতিষ্ঠার মতো বিষয় অন্তর্গত। যাতে টাওয়ারকো কোম্পানিগুলো আরো অভিনব উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব ও সেবা দিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়া ইন্টারনেট ব্যবহারে জনপ্রতি গড় ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্রুত বর্ধিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। তবে এমএনওগুলো চাহিদার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে না। ফলে এআরপিইউর ধারাবাহিক অবনমন ঘটছে এবং এমএনওগুলোর জন্য মুনাফা অর্জন কঠিন হচ্ছে।
গায়ান কোরালেজ আরো বলেন, এমএনওর বিনিয়োগ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সমাধাননির্ভর সফটওয়্যারকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কিং এবং আগামী প্রজন্মের টাওয়ার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব সেবা দ্রুততর করবে, পরিধি বাড়াবে এবং খরচ কমাবে।










