নিরাপত্তাজনিত কারণে চীনের কাছে চিপ ও উৎপাদন প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নেদারল্যান্ডস ও জাপানও সম্প্রতি এতে সম্মতি দিয়েছে। তবে জাপানের চিপ সরঞ্জাম উৎপাদনকারীরা এখনো অন্ধকারে। চীনে রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা সে বিষয়ে সরকারের পরিষ্কার বক্তব্য জানতে চেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। খবর রয়টার্স।

বার্তা সংস্থাটির পক্ষ থেকে চিপ সংশ্লিষ্ট ১০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অ্যাডভান্টেস্ট করপোরেশন, নিকন, রেসোনাক হোল্ডিংস, লেজারটেক ও শিন ইৎসু কেমিক্যাল জানায়, চীনে রফতানি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে তারা অবগত নয়। এমনকি জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

অ্যাডভান্টেস্টের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘‌বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। তাই এর কী প্রভাব পড়বে বা আমাদের কী উদ্যোগ নেয়া উচিত সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’ প্রতিষ্ঠানটি চিপ পরীক্ষণ মেশিন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরি করে। এর আগেও চীনে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। তবে তখন জাপান সেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। অতীতে বিশ্বের শীর্ষ চিপ উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত ছিল জাপান। কিন্তু বর্তমানে দেশটি মাত্র ১০ শতাংশ চিপ উৎপাদন করে থাকে। এছাড়া এসব চিপের অধিকাংশই তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং নির্মিত চিপের তুলনায় অনুন্নত।

উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টর তৈরির মেশিনগুলো তৈরি করে জাপান। চীনে রফতানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও নেদারল্যান্ডস যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সেটি কার্যকর হলে এসব মেশিন রফতানিও বন্ধ হয়ে যাবে। টোকাই টোকিও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক মাসাহিকো ইশিনো বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া এক বছর ধরে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে জাপানকে পেছনে ফেলেছে।  তবে একটি জিনিস তাদের কাছে নেই তা হলো স্টেপারস। সিলিকন প্লেটে ইলেকট্রনিক সার্কিট প্রজেক্ট করতে এটি ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে এর প্রভাব সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আগে চীনে প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ রফতানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত পোষণ করে নেদারল্যান্ডস ও জাপান। ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, ২৭ জানুয়ারি দুটি দেশের প্রতিনিধিরা রফতানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। ২০২২ সাল থেকে এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান যেন চীনের কাছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে বাইডেন প্রশাসন। তিন দেশের নতুন চুক্তির ফলে এসএমএল ও নিকনের মতো যেসব প্রতিষ্ঠান লিথোগ্রাফি প্রযুক্তির উন্নয়ন করে তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও জাপান তাদের পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে জানাতে আগ্রহী নয়। এছাড়া এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। কেননা আইনি বিবরণ নিয়েও দেশগুলোকে কাজ করতে হবে। সিদ্ধান্তের  বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট বলেন, ‘‌অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে আগ্রহী না। সিদ্ধান্ত থেকে কোনো কিছু চূড়ান্ত হলে সেটি দৃশ্যমান হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।’

ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে এএসএমএলের লিথোগ্রাফি মেশিন সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। কেননা  প্রতিষ্ঠানটিই শুধু এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি মেশিন তৈরি করে। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারে যে ৫ ও ৩ ন্যানোমিটারের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি তৈরিতে এ মেশিন প্রয়োজন হয়। চীনের অভ্যন্তরীণ চিপ উৎপাদন শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য এএসএমএলের পণ্য ব্যবহার বন্ধ করা বাইডেন প্রশাসনের অন্যতম প্রচেষ্টা।

গত গ্রীষ্মে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের অন্যতম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসএমআইসি বিদেশী প্রযুক্তি ছাড়াই ১৪ ন্যানোমিটার ও ৭ ন্যানোমিটার সিলিকনের উৎপাদন শুরু করেছে।