দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকায় বিস্তৃত হচ্ছে স্টারলিংকের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক। স্পেসএক্স প্রধান ইলোন মাস্কের একাধিক টুইটে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। খবর টেক টাইমস।

টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলোন মাস্ক এক টুইটে জানান, আফ্রিকায় মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়া স্পেসএক্সের স্টারলিংক অনুমোদন করেছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিস্তৃত হচ্ছে স্টারলিংক পরিষেবা। অঞ্চলটির প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংকের ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তি গ্রহণের কথা জানিয়েছে ফিলিপাইন।

আফ্রিকায় স্পেসএক্সের ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক চালু নিয়ে ২০২১ সাল থেকেই চেষ্টা শুরু হয়। শুরুতে স্পেসএক্স প্রতিনিধিরা স্টারলিংকের লাইসেন্সের জন্য নাইজেরিয়ান কমিউনিকেশনস কমিশনের (এনসিসি) সঙ্গে আলোচনা চালায়।

সম্প্রতি স্টারলিংক ইন্টারনেট সার্ভিসেস নাইজেরিয়া লিমিটেডের লাইসেন্স অনুমোদন করে এনসিসি। ২০২২ সালের মে মাসে অনুমোদন হওয়া এ লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে পরবর্তী ১০ বছর। বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে অনুমোদিত ও লাইসেন্সসহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্টারলিংক।

আফ্রিকায় স্টারলিংকের আগমনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠিত টেলিকম কোম্পানি এমটিএন ও এয়ারটেল। তবে শুরুতে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর চেয়ে বেশ ব্যয়বহুল ঠেকবে স্টারলিংক। স্টারলিংকের প্রি-অর্ডারের জন্য ১১০ ডলার ও ফুল কিটের জন্য ৫৯৯ ডলার ব্যয় করতে হবে গ্রাহকদের। কিটের মধ্যে রয়েছে একটি টার্মিনাল, মাউন্টিং ট্রিপড ও ওয়াইফাই রাউটার। শুরুতে বড় অংকের ব্যয় হলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের নিশ্চয়তা দিচ্ছে স্টারলিংক। গ্রাহকরা ১০০ থেকে ২০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট পাবেন বলে আশা করছে তারা।

এদিকে কয়েক বছর ধরেই ইন্টারনেট গতির দিক থেকে এশিয়ায় পেছনের সারিতে রয়েছে ফিলিপাইন। ২০২১ সালে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট স্পিডের দিক থেকে বিশ্বে ফিলিপাইনের অবস্থান ৮৯তম। গত কয়েক মাসে দেশটিতে গ্রাহকরা গড়ে ৪৬ দশমিক ৪৪ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট পাচ্ছেন।

ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে স্টারলিংকের ব্রডব্যান্ড সার্ভিস এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছে ফিলিপাইনস ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস কমিশন (এনটিসি)। ২৭ মে এনটিসির এ অনুমোদনের ফলে ফিলিপাইনের স্যাটেলাইট সিস্টেমসে প্রবেশ করতে পারবে এবং নিজেদের ব্রডব্যান্ড সেবা দিতে পারবে তারা।

পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্টারলিংকের পরিষেবা গ্রহণকারী প্রথম দেশ হবে ফিলিপাইন। দেশটির শহর, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবা ব্যাপৃত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্পেএসএক্সের পরামর্শক বিয়েন মার্কেজ বলেন, স্টারলিংক অনুমোদনের মাধ্যমে এনটিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে কানেক্টিভিটি সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ফিলিপাইন সরকার।

সম্প্রতি শেয়ার করা স্টারলিংকের কভারেজ মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের মধ্যে পুরো আফ্রিকা সেবার আওতায় আনতে চাইছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাইরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনে স্টারলিংক ব্যবহারকারীর সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ খবরে দেখা গেছে দেশটিতে বর্তমানে স্টারলিংক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে।