আজ থেকে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোস্যাল মিডিয়া অ্যাপ ট্রুথ সোস্যাল। রোববার গভীর রাতে অ্যাপ স্টোরে অ্যাপটি উন্মোচন করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্লাটফর্মে দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর নিজস্ব প্লাটফর্মের মাধ্যমে ফিরছেন সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আবাসন, রিয়ালিটি শোসহ বিভিন্ন উদ্যোগে ট্রাম্প সফলতার পরিচয় দিলেও এ সোস্যাল প্লাটফর্ম লাভজনক হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স ও নিউইয়র্ক টাইমস।
ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম মধ্যরাত থেকে অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে ট্রুথ সোস্যাল। এছাড়া যারা প্রি-অর্ডার করে রেখেছেন, অ্যাপল ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপটি ডাউনলোড হয়ে গিয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, ট্রুথ সোস্যালে অ্যাকাউন্ট খুলতে সমস্যায় পড়ছেন বা অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হচ্ছে। তাদের কাছে এমন মেসেজ আসছে, একসঙ্গে ব্যাপক অনুরোধ আসার কারণে আপনাকে অপেক্ষমাণ রাখতে হচ্ছে।
টুইটার, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো প্লাটফর্মে নিষিদ্ধ ট্রাম্প। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকদের ক্যাপিটল হিলে হামলায় উসকানিতে তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছিল ওই সাইটগুলো। তখন থেকেই নিজস্ব সোস্যাল প্লাটফর্ম আনার ঘোষণা দেন এ আবাসন ব্যবসায়ী।
ট্রুথ সোস্যাল অ্যাপটি বিভিন্ন দিক থেকে টুইটারের নকল বলে মনে করছেন প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা। ক্ষমতায় থাকাকালে ট্রাম্পের পছন্দের প্লাটফর্ম ছিল টুইটার। প্রতিদিন মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্মটিতে ডজন খানেকবার টুইট করা ছিল নিয়মিত রুটিনের অংশ। ট্রুথ সোস্যাল পরিচালনায় রয়েছে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি)। প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন রিপাবলিকান দলীয় সাবেক প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডেভিড নুনেজ।
অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক অভিষেক হলে বিকল্প সামাজিক মাধ্যম নির্মাতা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ তালিকায় যোগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি।
টুইটার, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো মূলধারার সামাজিক মাধ্যমগুলোয় গ্রহণযোগ্যতা পান না এমন ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করতে চায় তারা। নিজস্ব প্লাটফর্মগুলোকে বাক্স্বাধীনতার অগ্রদূত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে এ বিকল্প সামাজিক মাধ্যম সেবাগুলো। কয়েক মাস ধরেই এ নিয়ে জোর প্রচারণা চালিয়ে আসছেন ট্রাম্প ও তার কড়া সমর্থকরা। ট্রাম্পের মতো একই ধরনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা করেছিল আরো অন্তত সাতটি সোস্যাল সাইট। কিন্তু এখন পর্যন্ত মূলধারার প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি গেটটর, পার্লার ও ভিডিও সাইট রাম্বলের মতো সেবাগুলো।
টুইটারের বিকল্প প্লাটফর্ম হিসেবে গত বছর যাত্রা করেছিল গেটটর। ‘গেটিং টুগেদার’
থিম নিয়ে ডানপন্থী প্লাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা জ্যাসন মিলার। অনেকটা একই ধরনের থিম নিয়ে যাত্রা করেছিল পার্লার। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় ডোনার রেবেকাহ মার্সার। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোস্যাল সাইট ফেসবুকের নকল করে বানানো হয়েছে মিউই ও ক্লাউটহাব। কোনো ধরনের বাধা ছাড়া মুক্তমত প্রকাশের প্লাটফর্মের দাবিদার তারা।
টুইটার, ফেসবুক ও গুগলের বিকল্প হিসেবে দাঁড়াতে চাওয়া প্লাটফর্মের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ট্রুথ সোস্যাল। কোনো ধরনের বহির্নিয়ন্ত্রণ ছাড়া মতপ্রকাশ এবং ডানপন্থী ও রক্ষণশীলদের নিরাপদ প্লাটফর্ম হিসেবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে এসব অল্টারনেটিভ প্লাটফর্ম বা তথাকথিত অল্ট-টেক। কিন্তু কতটুকু সাড়া ফেলতে পারবে এ বিকল্প প্লাটফর্মগুলো?
ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়ার অধ্যাপক শ্যানন ম্যাকগ্রেগর জানান, এসব অল্ট-টেকের অডিয়েন্স ও বাজার রয়েছে কিন্তু তা বিশাল নয়। অধিকাংশ ব্যবহারকারীই এমন প্লাটফর্ম পছন্দ করেন না, যেখানে যা ইচ্ছা পোস্ট করা যায়।
ডানপন্থী ব্যক্তিত্বদের বিশাল অডিয়েন্স থাকলেও মূলধারার সোস্যাল মিডিয়াতেই তাদের অনুসারী সবচেয়ে বেশি। বিদ্যমান প্লাটফর্মগুলো থেকে বহিষ্কার করার আগ পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরে যাবেন না, এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তাছাড়া সিলিকন ভ্যালির প্রথাগত বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের বিকল্প প্লাটফর্ম নিয়ে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। এ প্লাটফর্মগুলোয় সীমিতসংখ্যক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সমর্থকই বিনিয়োগ করছেন।










