টিকটকের চীনা
মালিকানাধীন শেয়ার বিক্রিতে চাপ প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জো
বাইডেনের প্রশাসন সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ভিডিও প্লাটফর্মটিতে
থাকা চীনা মালিকদের শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করতে হবে। এ রকমটা না হলে
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে জনপ্রিয় প্লাটফর্মটি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের এ ঘোষণা দেশটির নিরাপত্তাসংক্রান্ত সাম্প্রতিক
পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয়। যদিও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি,
রাজনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা পুরনো। এর আগেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে চীনা বেশ
কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টিকটকের ক্ষেত্রে বাইডেন
প্রশাসনের অভিযোগ গুরুতর। টিকটকের মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করে চীন সরকারকে
দেয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের।
ওয়াল স্ট্রিট
জার্নালের প্রতিবেদনেও পদক্ষেপটিকে উভয় দেশের ধারাবাহিক উত্তেজনার মধ্যে সবচেয়ে
নাটকীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে,
চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত থাকার সম্ভাবনায় অ্যাপটির প্রতি যুক্তরাজ্য,
কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব
দেশ সরকারি ব্যবহৃত ডিভাইস থেকে অ্যাপটি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই
পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের
তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে সরকারি সব ডিভাইসে টিকটক নিষিদ্ধ করেছে। তবে
অ্যাপটিকে দেশজুড়ে সম্ভাব্য নিষিদ্ধ করার হুমকি বাইডেন প্রশাসনের অধীনে এটাই
প্রথম। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, যেকোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বড় ধরনের
আইনি বাধা পার হতে হয়। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে টিকটক
নিষিদ্ধের চেষ্টা করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেটি আলোর মুখ দেখেনি।
টিকটকের মুখপাত্র ব্রুক
ওবারওয়েটার রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী বিনিয়োগ কমিটি (সিএফআইইউএস) অ্যাপটির চীনা মালিকদের শেয়ার
বিক্রি করে দেয়ার দাবি করেছে। অন্যথায় ভিডিও অ্যাপটি সম্ভাব্য মার্কিন
নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের
তথ্য মতে, বাইটড্যান্সের ৬০ শতাংশ শেয়ার বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া ২০ শতাংশ
কর্মচারীদের এবং বাকি ২০ শতাংশের মালিক এর প্রতিষ্ঠাতারা। ২০২০ সালে সিএফআইইউএস
সর্বসম্মতিক্রমে বাইটড্যান্সকে টিকটকে বিনিয়োগ বন্ধের সুপারিশ করেছিল।
ব্রুক ওবারওয়েটার বলেন,
‘এ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যদি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাবিষয়ক হয়, তবে চীনা শেয়ার
বিক্রি করে দেয়া বা বিনিয়োগ তুলে নেয়া সত্যিকারের সমাধান নয়। কেননা মালিকানা
পরিবর্তন হলে সেটি প্লাটফর্মটির তথ্য প্রবাহ বা প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে নতুন কোনো
বিধিনিষেধ আরোপ করবে না। বরং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি সমাধানের সর্বোত্তম উপায়
হলো, মার্কিন ব্যবহারকারীর ডাটা এবং সিস্টেমগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি পক্ষের
মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা।’
টিকটকের সিইও শাওজি চিউ
এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের মুখোমুখি হবেন বলে জানা গেছে। টিকটক এবং
সিএফআইইউএস দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে তথ্য সুরক্ষা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা
করছে। টিকটক বলছে, কঠোরভাবে তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১৫০ কোটি ডলারের অধিক ব্যয়
করা হয়েছে। পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে প্লাটফর্মটি।










