ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রথম সারির সমর্থকদের বেশকিছু ই-মেইল একটি নতুন ওয়েবসাইটে ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে রাশিয়ার হ্যাকাররা জড়িত বলে দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ফরেইন ইন্টেলিজেন্স বিভাগের সাবেক প্রধান ও গুগলের সাইবারনিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা। খবর রয়টার্স।
ভেরি ইংলিশ কুপ ডিইট্যাট নামের ওয়েবসাইটি জানায়, এটি সাবেক ব্রিটিশ স্পাইমাস্টার রিচার্ড ডিয়ারলাভ, শীর্ষস্থানীয় ব্রেক্সিট প্রচারক গিসেলা স্টুয়ার্ট, ব্রেক্সিটপন্থী ইতিহাসবিদ রবার্ট টম্বসসহ যারা ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছিল, তাদের ব্যক্তিগত ই-মেইল প্রকাশ করেছে। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যায়। এটিই ব্রেক্সিট নামে পরিচিত।
ওয়েবসাইটটির দাবি, তারা কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী ব্যক্তিদের একটি গ্রুপের অংশ এবং গোপনে যুক্তরাজ্যে তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। ই-মেইলগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি দুজন ভুক্তভোগী হ্যাকারদের হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এজন্য রাশিয়ার সরকারকে দায়ী করেছে।
নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ই-মেইল পরিষেবা প্রোটনমেইলের কথা উল্লেখ করে ডিয়ারলাভ বলেন, প্রোটন অ্যাকাউন্টে আমার কাছে আসা ও পাঠানো ই-মেইলগুলো নিয়ে রাশিয়ার কার্যক্রমের ব্যাপারে আমি যথেষ্ট সচেতন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বিদেশী গুপ্তচর পরিষেবা এমআই৬-এর নেতৃত্বে ছিলেন ডিয়ার। রয়টার্সকে তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বর্তমানে যে সম্পর্ক বিরাজ করছে, সেটি বিবেচনাসাপেক্ষে সতর্কতার সঙ্গে ফাঁসকৃত তথ্যগুলো ব্যবহার করা উচিত।
এক ই-মেইলে টম্বস জানান, তিনি ও তার সহকর্মীরা অবৈধ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাশিয়ার বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়ে সচেতন ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের ভোট বর্জন প্রচারণার প্রধান স্টুয়ার্ট ই-মেইলের উত্তর দেননি। গুগলের থ্রেট অ্যানালাইসিস গ্রুপের পরিচালক শেন হান্টলি রয়টার্সকে বলেন, ইংলিশ কুপ ওয়েবসাইটটি রাশিয়াভিত্তিক হ্যাকিং গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানে গুগল। প্রযুক্তিগত সূচকের মাধ্যমে এটি আমাদের সামনে চাক্ষুষ।
কোল্ড রিভারের হ্যাকিং থেকে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় একজনের সঙ্গে আরেকজনের প্রযুক্তিগত সংযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন হান্টলি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও লন্ডন ও ওয়াশিংটনে থাকা রাশিয়ান দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এমআই৬-এর বিষয়ে গণমাধ্যমে যেকোনো অনুসন্ধান তদারক করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের কাছ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সমর্থকদের ই-মেইলগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। পাশাপাশি ওয়েবসাইট যারা পরিচালনা করছে, তারাও ফাঁসের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফাঁস হওয়া ই-মেইলগুলো মূলত প্রোটনমেইলে আদান-প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রোটনমেইল মন্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তথ্য ফাঁসে রাশিয়ার হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুগল যে মূল্যায়ন করেছে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ থমাস রিড জানান, এর আগেও ওয়েবসাইটটি রাশিয়ান হ্যাকারদের আক্রমণ ও তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্ত ছিল।
প্রকাশিত মেসেজগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার ই-মেইল হ্যাক ও তথ্য ফাঁস করার মতো ঘটনা তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার সংঘটিত হলো। যার সঙ্গে ক্রেমলিনের গুপ্তচররা জড়িত।










