সিকামোর নামে পরবর্তী প্রজন্মের কোয়ান্টাম কম্পিউটিং চিপ আনার ঘোষণা দিয়েছে সফটওয়্যার জায়ান্ট গুগল। এটি কোয়ান্টামের যেকোনো ভুল সংশোধন করবে। এছাড়াও গুগল যা দেখিয়েছে তা সত্যিই কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। খবর গিজচায়না।
সিকামোরের পুনরাবৃত্তি নাটকীয় নয়। এটিতে আগের সংস্করণের মতো একই সংখ্যক কিউবিট রয়েছে। তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি অনেক উন্নত। তবে ত্রুটি সংশোধনের বিষয়টি মূল বিষয় নয় বলে জানিয়েছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কয়েক বছর আগে প্রসেসরটি কাজ করতে সক্ষম হয়েছিল।
কম্পিউটিংয়ের ভবিষ্যৎ হিসেবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে বিবেচনা করা হয়। আর সম্প্রতি ব্যবহৃত প্রচলিত কম্পিউটারগুলোর জন্য জটিল বা অসম্ভব। তবে এগুলো ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগের বেলায় এটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
গুগলের গবেষকরা বলছেন, তারা এ প্রযুক্তি তৈরির এমন এক উপায় খুঁজে পেয়েছেন, যা এসব ত্রুটি কমিয়ে আনে। কোম্পানি বলছে, এ অগ্রগতি তিন বছর আগের কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি ঘোষণার সমতুল্য। আর এটি কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কার্যকরী ব্যবহারের দিকে যাওয়ার মাইলফলক হিসেবে দাবি করছে গুগল।
গুগল কোয়ান্টাম এআইয়ের গবেষকরা বলেন, ‘সিস্টেমের আকার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে তারা ত্রুটির মাত্রা কমিয়ে আনার এক উপায় খুঁজে পেয়েছেন। একপর্যায়ে ব্রেক-ইভেন পয়েন্টে’ যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
গুগল কোয়ান্টাম এআইয়ের প্রকৌশল পরিচালক ড. হার্টমুট নেভেন বলেন, ‘সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ বাকি থাকলেও তিনি মনে করেন, এ পর্যায়ে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘অর্থনীতির ভাষায় আমরা “ব্রেক-ইভেন’’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, তবে তা যথেষ্ট নয়। ত্রুটির হার আমাদের একেবারে তলানিতে নিয়ে যেতে হবে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোয়ান্টাম কম্পিউটার তথ্য সঞ্চয় ও গণনার পেছনে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যবহার করে। প্রচলিত কম্পিউটারে তথ্যের মৌলিক একককে ‘বিট’ বলে। আর এগুলো সংরক্ষিত থাকে এক ও শূন্যের ধারা হিসাবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার সিস্টেমে এসব ইউনিট ‘কিউবিট’ নামে পরিচিত। আর এগুলো একই সময়ে এক ও শূন্য হিসেবে থাকতে পারে।
এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর কোয়ান্টাম মেশিনের দিকে যাওয়ার অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর কারণ কোয়ান্টাম কম্পিউটারে তথ্য প্রেরণের সক্ষমতা বেশ ভঙ্গুর। তাপমাত্রা ও পরিবেশগত প্রভাব এ সমস্যার সম্ভবত অন্যতম কারণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্ষমতা ব্যবহারের বেলায় এ ধরনের ত্রুটি নিয়ন্ত্রণ বা অপসারণ একটি বড় বাধা। গবেষণায় ড. নেভেন ও তার সহকর্মীরা ৭২ কিউবিটের ‘সুপারকন্ডাক্টিং’ কোয়ান্টাম প্রসেসর বানিয়ে দুটি ভিন্ন ‘সারফেস কোড’-এর সহায়তায় এর পরীক্ষা চালান। এর একটি ৪৯ ভৌত কিউবিটে আর অন্যটি তুলনামূলক ছোট ১৭ ভৌত কিউবিটে চলেছে।
তারা দেখতে পান, ৪৯ ভৌত কিউবিটের তুলনামূলক বড় সারফেস কোড ছোট সারফেস কোডের তুলনায় ভালো কার্যকারিতা দেখিয়েছে।
গুগল ও অ্যালফাবেটের প্রধান সুন্দার পিচাই বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমাদের কোয়ান্টাম এআই গবেষকরা পরীক্ষামূলকভাবে দেখিয়েছেন, কিউবিটের সংখ্যা বাড়িয়ে এর ত্রুটি কমানো সম্ভব।’










