বেইজিং অলিম্পিক শুরুর আগে থেকেই অনেক দেশ তাদের অ্যাথলিট, কোচ, সংবাদকর্মী ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের বলে দিয়েছিল, তারা যেন ডিসপোজেল বার্নার ফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহার করেন। এদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ সব সেবা এক প্লাটফর্মে দেয়ার জন্য অ্যাথলিটদের বলে দিয়েছিল, তারা যেন বেইজিং অলিম্পিকের অফিশিয়াল স্মার্টফোন অ্যাপটি ব্যবহার করেন। এ রকম দ্বিমুখী টানাপড়েনের মধ্য দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে শীতকালীন অলিম্পিক। তবে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উত্কণ্ঠা যে অলিম্পিক শেষেও কাটবে না, তা উঠে এসেছে সংশ্লিষ্টদের বয়ানে। খবর এপি।

বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী ও প্রতিযোগীদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উভয় পক্ষের সম্পর্কে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। বার্নার ফোন ব্যবহারে বিভিন্ন দেশ তাদের অ্যাথলিটদের উৎসাহিত করলেও অফনেকে তাতে পাত্তা দেয়নি। এমনকি কানাডার স্নোবোর্ডার মার্ক ম্যাকমরিস বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, সত্যি বলতে ১২ বছর ধরে চীনে আসছি বা তার কমবেশি যা-ই হোক, আমি তেমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই। যদি আমি কোনো কূটনীতিক বা এ রকম কিছু হতাম তাহলে আমার ফোন বন্ধ করতাম। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে ঘৃণ্য সাইবার কার্যকলাপ গুরুত্বপূর্ণ দিক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও প্রযুক্তি পর্যবেক্ষকরা চীনকে অনলাইনে অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো ও তথ্য চুরির ব্যাপারে অভিযুক্ত করে। যদিও বরাবরের মতোই দেশটি তা অস্বীকার করে আসছে। ২০ ফেব্রুয়ারি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক শেষ হয়েছে। এখন প্রায় ১৬ হাজার অ্যাথলিট, সংগঠক, সাংবাদিক ও দর্শনার্থীরা নিজ নিজ দেশে ফেরার পথে রয়েছেন। এদের মধ্যে যারা ম্যালওয়্যার এবং অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা এ ঝুঁকি সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন। ভালো খবর হলো, সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম ম্যানডিয়ান্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত চীন বা অন্য কোনো দেশের সরকার কর্তৃক তথ্য চুরির মতো কর্মকাণ্ডের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। কিন্তু কিছুই ঘটেনি বিষয়টা এটাও নয়, বলছেন প্রতিষ্ঠানটির সাইবার এসপিওনাজ বিশ্লেষণ বিষয়ের ডিরেক্টর বেনজামিন রিড। তিনি বলেন, এসব ঘটনা ঘটার সপ্তাহ বা মাসখানেক পর চিহ্নিত হয়। তাই কোনো ঘটনা ঘটেনি এ উপসংহারে পৌঁছা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। এটা খুবই সম্ভব যে দর্শনার্থীরা যখন চীনে গেছে তখন তাদের বৈদ্যুতিক নজরদারি খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং যখন তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়েছে তখন তা আর কার্যকর থাকবে না। তিনি পরামর্শ দেন, যারা শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে চীনে গিয়েছিলেন, তারা যেন তাদের বাড়ি ফিরে পাসওয়ার্ডটা পাল্টে ফেলেন। সেই সঙ্গে অপরিচিত সার্ভিস ও ডিভাইস তাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের ব্যাপারে তারা যেন নিশ্চিত হয়ে নেন। তিনি আরো বলেন, এটা হয়তো সবসময় সম্ভব নয় যে কোনো ডিভাইসে সম্মতি দেয়া হয়েছে কিনা তা যাচাই করে নেয়া। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রেই সতর্কতা অবলম্বন করা উত্তম। অনেক অপেশাদার অলিম্পিক ক্রীড়াবিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে তাদের কৃতিত্বের ছবি ও ভিডিও ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য।

এটা তাদের স্পন্সরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কানাডিয়ান স্নো বোর্ডার লরি ব্লুইন বলেন, আমি আমার ফোনে আছি। আমি ভাবি আমরা সবাই ফোনে আছি। ব্লুইন মনে করেন, তিনি ইনস্টাগ্রামকে খাওয়ান (প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করেন)। ম্যাক মরিস বলেন, তিনি টিভি শো স্ট্রিম করতে আইফোন ব্যবহার করেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ও টিকটকে বার্তা আদান-প্রদান ও পোস্ট করেন। মার্কিন বংশোদ্ভূত চীনা ফ্রি স্টাইল স্কির বড় তারকা এইলিন গু শীতকালীন অলিম্পিক গেমস চলাকালে বহুবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়েছেন। যখন একজন ব্যবহারকারী তাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন চীনে নিষিদ্ধ অ্যাপ ব্যবহারে সক্ষম হয়েছেন, তখন তিনি উত্তর দেন, যে কেউ ভিপিএন ব্যবহার করে তা ডাউনলোড করতে পারে। পরে পোস্টগুলো মুছে গেলে অনলাইন স্বাধীনতা ইস্যুতে তুমুল শোরগোল ওঠে। কর্তৃপক্ষের ক্র্যাকডাউনের পরে চীনা অ্যাপস্টোরগুলোয় ভিপিএন উধাও হয়ে যায়।