লুঙ্গির গঠন যত সরলই হোক তাকে নিয়েও বিশদ রচনা লেখা যায়, যদিও স্কুলের পরীক্ষায় প্রশ্ন হিসেবে কখনো এসেছে বলে জানা নেই। যা হোক, লুঙ্গি নিয়ে এ রচনায় থাকবে লুঙ্গি কী ধরনের বস্ত্র, লুঙ্গির ইতিহাস ও উত্পত্তি, ব্যবহার ও উপকারিতা, নকশা বা ডিজাইন, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, আধুনিকীকরণ ও বিশ্বায়ন এবং লুঙ্গির ভবিষ্যৎ। এক কথায় লুঙ্গির ইতিবৃত্ত।

লুঙ্গি কী?

লুঙ্গি হলো বিশেষ ধরনের বস্ত্র, যা কোমরের চতুর্দিকে জড়ানো থাকে। বলতেই হয় এটি বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পোশাক। সাধারণত পুরুষেরা পরিধান করে শরীরের নিচের অংশের ‘ছতর’ ঢাকে। তবে লুঙ্গিকে ‘বিশ্বব্যাপী ভাগ্যহীনদের প্রতীক’ হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে কিল্ট (ঝালরসহ ঘাঘরা, যা স্কটল্যান্ডের পার্বত্য অঞ্চলে পুরুষরা পরিধান করে) বা ইউরোপীয় পোশাক সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের সুরুচির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

লুঙ্গি হলো ‘সাসটেইনেবল’ বা ‘টেকসই’ পোশাক। কেননা লুঙ্গি তৈরির সময় অতিরিক্ত কোনো কাপড় অপচয় করা হয় না। লুঙ্গি তৈরিতে জিনসের চেয়ে অনেক কম পানি ব্যবহার করতে হয়, এবং এ পোশাক অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাশনে ক্ষমতার সম্পর্ককে বিনির্মাণ প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তার পরও একটা প্রশ্ন থেকে যায়, ‘লুঙ্গি কী কখনো মূলধারার সমাজ গ্রহণ করবে? যদিও এটি টেকসই ফ্যাশনের সবচেয়ে ব্যয় সাশ্রয়ী পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি।’


লুঙ্গির ইতিহাস ও উত্পত্তি

লুঙ্গির ইতিহাস বেশ প্রাচীন। ৮০০ বছর আগে লুঙ্গির সূচনা হয়েছিল ভারতের তামিলনাড়ুতে। ‘ভেশতি’ নামক এক ধরনের পোশাককে লুঙ্গির পূর্বসূরি বলে মনে করা হয়। অবশ্য এই উৎসকথা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে।  সময়ের বদলের সঙ্গে সাদা কাপড়ে ফুল এবং অন্যান্য নকশা চিত্রিত হয়ে ভেশতি থেকে একসময় লুঙ্গির সৃষ্টি হয়েছে। এই ভেশতি বা লুঙ্গি তামিলভূমিতে এসেছিল মালয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে লুঙ্গি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় গমন করে। তারপর ১৬১২ সালে ডাচরা ভারতবর্ষে আগমন করার সময় থেকে বহির্বিশ্বে লুঙ্গি রফতানি করা শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়ে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখে ব্রিটিশরা। অঞ্চল বিশেষে লুঙ্গির অনেক নাম আছে, যেমন ‘সারং, মুন্ডু, হামেইন, সারাম পিনন, মাওয়ালি, কিটেং, কঙ্গা, কাইকি।’

লুঙ্গির ব্যবহার

লুঙ্গি একটি আদি পোশাক এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের অনেক অংশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহার করে আসছে। লুঙ্গি বিশেষ অঞ্চলের, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে পুরুষদের জন্য নিত্যনৈমিত্তিক পোশাক। এসব দেশে বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে আঁটসাঁট ট্রাউজার ব্যাবহারে অপ্রীতিকর ও অস্বস্তিকর। তাই অনেকেই লুঙ্গি পরিধান করতে পছন্দ করে।

লুঙ্গি সাধারণত বাংলাদেশী সব সম্প্রদায়ের পুরুষদেরই পরতে দেখা যায়, যদিও এটি কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে পরা হয় না। বাংলাদেশে চট্টগ্রামের বনেদি সওদাগরেরা অত্যন্ত দামি লুঙ্গিই দৈনন্দিন নিত্যব্যবহার্য পোশাক হিসেবে ব্যবহার করে। সুতায় নকশা করা, বাটিক করা অথবা সিল্কের লুঙ্গি কখনো কখনো বিয়ের উপহার হিসেবে বরকে দেয়া হয়। কোনো বিশেষ দিন উপলক্ষে শিক্ষক ও মসজিদের ইমামদের লুঙ্গি উপহারের রীতি এখনো বাংলাদেশে চালু আছে। যাকাতেও লুঙ্গি দেয়া হয় দেদারছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা লুঙ্গির মতো দেখতে একই রকম একটি পোশাক পরিধান করে, তবে বাঙালি নারীরা লুঙ্গি পরিধান করে না। নৃ-গোষ্ঠীদের এ পোশাক থামি নামে পরিচিত। প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পুরুষের দৈনন্দিন পোশাক হিসেবে ধুতির পরিবর্তে লুঙ্গির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রবণতাও আছে। অনেক বাঙালি অবশ্য লুঙ্গি পরে না, কারণ তারা মনে করেন লুঙ্গি খুবই অনানুষ্ঠানিক এবং মানানসই নয়, যদিও এটি আরামদায়ক এবং অনেকেই ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে ধীরে ধীরে লুঙ্গির ব্যবহার কমে আসছে, কিন্তু তা এখনো বাংলাদেশের অধিকাংশ পুরুষের পরিচ্ছেদ্য পোশাক। তবে এ কথা সত্যি যে বর্তমানে বাংলাদেশের (হয়তো অন্য দেশেও) শহরকেন্দ্রিক তরুণ প্রজন্মের কাছে লুঙ্গির ব্যবহার কিংবা সমাদর নেই বললেই চলে। তারা লুঙ্গির ঐতিহ্য ও গৌরব ভুলতে বসেছে। কেননা তাদের কাছে লুঙ্গি হলো ‘খ্যাত’ এবং রাতে শোয়ার বস্ত্র হিসেবে লুঙ্গির স্থান দখল করেছে আভিজাত্যের প্রতীক পায়জামা।

যা হোক, মিয়ানমারের রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্যরা লুঙ্গি পরে এক লাইনে দাঁড়িয়ে ভিনদেশী কোনো বিশিষ্ট অতিথিকে অভ্যর্থনা জানান। এ দৃশ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ফিজিতেও দেখা যায়। শ্রীলংকায় বিভিন্ন রঙের কারুকাজ করা লুঙ্গি হচ্ছে তাদের উৎসবের পোশাক এবং সে দেশের পুরুষ প্রধানমন্ত্রী লুঙ্গি পরিধান করে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। নেপালি ও ভুটানিরাও তাদের নিজেদের মতো করে লুঙ্গিকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পোশাকের মর্যাদা দিয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতা বজায় রেখেছে।


লুঙ্গির উপকারিতা নিয়ে কবি কায়সার হক ‘ওড অন দ্য লুঙ্গি’ শিরোনামে ইংরেজিতে একটি সুদীর্ঘ প্যারোডি কবিতা রচনা করেছেন, যা ২০১২ সালে ঢাকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সেই প্যারোডি কবিতাটি লেখা হয়েছিল বিখ্যাত মার্কিন কবি ওয়াল্ট হুইটম্যানের ‘লিভস অব গ্রাস’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত ‘সং অব মাইসেলফ’ অবলম্বনে। বলা হয়, কবিতাটি সাম্রাজ্যবাদী সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক প্রতিরোধ-পরবর্তী কবিতা।

তবে এ কথা সত্যি যে লুঙ্গি বাংলাদেশের ব্যাপক প্রচলিত সংস্কৃতি হলেও যারা সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা কিংবা ওঠাবসা করেন, তারা অনেকেই কিন্তু লুঙ্গির গিঁট দিতে জানেন না। কেননা তারা মনে করেন তাদের কোমরে লুঙ্গি থাকলে জাত থাকবে না। এছাড়া পরিতাপের বিষয় যে কয়েক বছর আগে ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় রিকশাওয়ালাদের জন্য লুঙ্গির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় যুবসমাজ প্রতিবাদ করে ‘লুঙ্গি পদযাত্রা’, যা ‘লুঙ্গি মার্চ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, বের করেছিল। পরে অবশ্য হাইকোর্টের নির্দেশে লুঙ্গির ওপর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।


লুঙ্গির নকশা বা ডিজাইন

যদিও এক রঙের লুঙ্গিই বেশি জনপ্রিয়। তবে সাধারণত বিভিন্ন নকশা, বিশেষ করে চেক ও বাটিক ছাপের লুঙ্গি পাওয়া যায়। নকশা ও রঙ ছাড়াও লুঙ্গির ওপরে ও নিচে সাদা বা কালো রঙের ডোরা কাটা দাগ থাকে। বিভিন্ন ধরনের কাপড়, যেমন সুতি ও সিল্ক দিয়ে লুঙ্গি তৈরি করা হয়। তবে পলিয়েস্টার ও ভিস্কোস দিয়ে ব্র্যান্ডের লুঙ্গি বোনা হয়।

বাংলাদেশে লুঙ্গি উৎপাদন

বাংলাদেশে বেশির ভাগ লুঙ্গি উৎপাদন হয় নরসিংদী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায়। লুঙ্গির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বসে নরসিংদীর বাবুরহাট, সিরাগঞ্জের শাহজাদপুর ও টাঙ্গাইলের করটিয়ায়। মূলত এসব বাজার থেকেই সারা দেশের পাইকারি ব্যবসায়ীরা লুঙ্গি কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এছাড়া নরসিংদীর লুঙ্গি ২০০০ সাল থেকে রফতানিও করা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ লুঙ্গি ম্যানুফ্যাকচারার্স, এক্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, দেশের বিভিন্ন লুঙ্গি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশ ও বিদেশের বাজারে প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের প্রায় সাড়ে ১০ কোটি পিস লুঙ্গি বাজারজাত করে এবং ২০২০ সালে তা বেড়ে প্রায় ১১ কোটি পিস লুঙ্গি উৎপাদন এবং সরবরাহ করেছে। বিদেশে লুঙ্গি রফতানি করে ২০১৯ সালে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে।


লুঙ্গির আধুনিকীকরণ ও বিশ্বায়ন

যদিও এখনো অনেক বিদেশীর কাছে লুঙ্গি এক বেশ আশ্চর্য ধরনের বস্ত্র— বোতাম, দড়ি বা বেল্ট, ফিতা, চেইন, সেফটিপিন ছাড়া কেমন করে গিঁট দিয়ে কোমরে জড়িয়ে পায়ের দিকে ঝুলিয়ে পরিধান করে। বিদেশীদের, বিশেষ করে বিদেশিনী নারীদের জন্য এ সমস্যা দূর করতে সম্প্রতি স্প্যানিশ গ্লোবাল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘জারা’ লুঙ্গির আধুনিকীকরণ করে নতুন ফ্যাশন বাজারে চালু করেছে এবং তারা তাদের পণ্যের নাম দিয়েছে ‘চেক মিনি স্কার্ট’ (সামনের দিকে ভাঁজ করা), এগুলো পলিয়েস্টার ও ভিস্কোস দিয়ে তৈরি। জারার মতে, সেই স্কার্টের বিশেষত্ব হচ্ছে ‘মুড়ি-সেলাই করা অংশ লম্বালম্বিভাবে কাটা’ এবং ‘পেছনে বন্ধ করার জন্য ভাঁজ বরাবর লুকানো জিপ (চেইন)’। তারা সেসব স্কার্টের দামও রেখেছে অত্যধিক, যা বাংলাদেশী প্রায় ৮ হাজার টাকা এবং এই আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জারার ব্র্যান্ড নাম নিয়ে একজন জারাকে উদ্দেশ্য করে তার টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, “এটি ‘চেক মিনি স্কার্ট’ নয়...এটা একটা লুঙ্গি। আপনারা কেন এগুলোকে আসল নামে ডাকেন না? আপনারা যে সংস্কৃতিকে ব্যবহার করেছেন, তাকে অন্তত কৃতিত্ব দিন।” অন্য আরেকজন পণ্যের বিশেষত্ব, অর্থাৎ ভাঁজ করা স্কার্ট, সম্পর্কে তার বিরূপ মন্তব্য টুইট করতে কসুর করেননি। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেছেন, “আমার কাছে ‘মমলা দোসা’ আছে এবং এটিকে ‘মসলাযুক্ত আলু দিয়ে তৈরি প্যান গ্রিল্ড রাইস প্যানকেক’ বলে অভিহিত করেছি।” যা হোক, বেশির ভাগ মানুষ তাদের বাবা, চাচা ও মামাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে পুঁজি করে নারীদের হাল আমলের ফ্যাশন হিসেবে বিপণন করার জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

লুঙ্গির ভবিষ্যৎ

লুঙ্গির ভবিষ্যৎ বলা কঠিন। তবে প্রতিনিয়ত শিল্প-কারখানার উন্নতি ও বিশ্বব্যাপী ইউরোপীয় পোশাকের প্রসারের কারণে হয়তো অদূরভবিষ্যতে লুঙ্গি বিলুপ্ত পোশাকের তালিকায় যুক্ত হবে। এ নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি হচ্ছে। যেমন মিয়ানমারের জনৈক গবেষকের যৌথ কাজের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, সেদেশে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে শহুরে পুরুষেরা ইংরেজ স্টাইলের চামড়ার বেল্ট এবং পরিপাটি জুতার সঙ্গে দামি লুঙ্গি পরত, যা তখন জনপ্রিয় ছিল। তাহলে কি ভবিষ্যতে ডেনিম লুঙ্গি দেখা যাবে, যা হাঁটুর উচ্চতায় ছেঁড়া, কিংবা কার্গো পকেটসহ লুঙ্গি? তিনি মনে করেন, আদৌ কোনো লুঙ্গি না থাকার চেয়ে তাই ভালো। এছাড়া তিনি ভবিষ্যতের পোস্টমডার্ন ফ্যাশন ডিজাইনারদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন, ‘লুঙ্গি ভুলে যাবেন না। এটাকে সম্মান করুন।’

একটা কথা ‘অসম্ভব’ বা ‘অবাস্তব’ বলে খারিজ করা যায় না। কেন জানি মনে হয়, অদূরভবিষ্যতে হয়তো এমনও দিন আসতে পারে, যখন নব্য অভিজাত শ্রেণী বিশেষ কৃপায় সাধারণ মাপের আসল লুঙ্গির পরিবর্তে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বাহারি রঙের ‘বনসাই’ লুঙ্গি বিশেষ ফ্রেমে বন্দি করে বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখবে (ঢাকার রিকশা আর্টের মতো। রিকশায় এখন আর সেভাবে দেখা না গেলেও ফ্যাশন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহূত হচ্ছে)। তারা হয়তো অতিথিদের বলবে, একদা অন্য অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও লুঙ্গি নামের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের আরামদায়ক ও প্রয়োজনীয় বস্ত্র ছিল। যদি তা-ই হয়, তাও ভালো। কথায় আছে, নাই মামার চেয়ে কানা মামাও ভালো।

তবে আশার কথা, কেউ কেউ মনে করেন আগামী দিনে অভিজাত মহলে লুঙ্গি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যাবে না। হয়তো সিল্কের লুঙ্গি বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠানে দেখা যাবে।

তাই এত কিছুর পরও হয়তো লুঙ্গি ‘পোশাকের রাজা’ হয়ে বেঁচে থাকবে পুরুষদের মাঝে। কবি কায়সার হকের ভাষায় বলা যায়, ‘সমঝদারের কাছে লুঙ্গি হলো পূর্ণাঙ্গ এক ওয়্যারড্রোব; সাম্যবাদের কণ্ঠস্বর এবং দুনিয়াজুড়ে সর্বহারার প্রতীক।’ এছাড়া তিনি কবিতায় অন্যত্র উল্লেখ করেছেন, ‘সব পোশাকেরই আছে সমান মর্যাদা।’

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: এ লেখার জন্য একাধিক গবেষণাপত্র ও আর্টিকেল, খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রবন্ধ/নিবন্ধ এবং অনলাইন ম্যাগাজিনের বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

 

ফজল হাসান: লেখক ও অনুবাদক