পোশাক নিয়ে
কথা বলতে
গেলেই সবার
মনে আসে পারস্যের কবি শেখ সাদির ঘটনাটি।
গল্পটা সবারই
জানা, সামান্য
রকমফের মাত্র।
একবার রাজদরবারে
যাওয়ার পথে
এক ব্যক্তির
বাড়িতে আশ্রয়
নেন কবি শেখ সাদি। সাধারণ
পোশাকে থাকায়
কবিকে চিনতে
না পেরে
তেমন আপ্যায়ন
করেননি বাড়ির
মালিক। রাজদরবার
থেকে অনেক
উপহার ও
দামি পোশাক
পরে ফেরার
পথে কবি
আবারো ওই
বাড়িতে হাজির
হন। এবার
বাড়ির মালিক
তাকে চিনতে
পেরে বাড়তি
আপ্যায়ন করেন।
কিন্তু কবিকে
মর্যাদা না
দিয়ে পোশাককে
গুরুত্ব দেয়া
খাবার কবি
তার জামার
পকেটে ভরতে
থাকেন।
এমন গল্পের
বিস্তার বিজ্ঞানী
আইনস্টাইনকে নিয়েও
আছে। পাঠকের
ব্যক্তিজীবনে এমন
অভিজ্ঞতা থাকাও
বিচিত্র কিছু
নয়। এ
তো গেল
পোশাকের দামি-কমদামি
হওয়া নিয়ে
কথা। রকম
ভেদে অন্তত
পাঁচটা দেশের
মানুষের পোশাকের
সঙ্গে ‘লুঙ্গি’
নিবিড়ভাবে জড়িয়ে
থাকলেও বাংলাদেশে
এর অবস্থা
কী?
অবশ্যই দেশের
সবচেয়ে বেশিসংখ্যক
মানুষের পোশাক
লুঙ্গি—এটা
প্রায় সবাই
বলতে পারবেন।
কিন্তু লুঙ্গি
শুধু সুতোয়
বোনা কাপড়ের
মধ্যে সীমাবদ্ধ
নেই, পোশাক
হিসেবে এর
একটা সামাজিক
মর্যাদা আছে।
মর্যাদার বিষয়টা
পোশাক হিসেবে
উপযোগিতা, দেশের
ইতিহাস, সংস্কৃতি,
শ্রেণী ও
পোশাকের রাজনীতির
সঙ্গে যুক্ত।
লুঙ্গিকে বুঝতে
হলে আমাদের
এ বিষয়গুলো
খতিয়ে দেখতে
হবে।
পৃথিবীতে পোশাকের
ইতিহাসের দিকে
তাকালে দেখা
যায়, মানুষ
সম্ভবত প্রথম
ঊর্ধ্বাঙ্গের পোশাক
ব্যবহার শুরু
করেছিল। এর
কারণ হতে
পারে, ঝোপঝাড়ে
ফল-মূল
সংগ্রহকারী মানুষের
শরীর কাঁটার
আঘাত থেকে
রক্ষা ও
শীতে উষ্ণতা
পাওয়া। এ
পর্যন্ত ঠিকই
ছিল। মানুষ
যখন শাসন
ও ফ্যাশনে
যুক্ত হয়েছে
তখন থেকেই
পোশাকের রাজনীতি
শুরু হয়েছে।
পোশাক হিসেবে
লুঙ্গি মানবদেহেরে
নিম্নাঙ্গের পোশাক।
এর কারণ
হতে পারে
লুঙ্গি ব্যবহারকারী
অঞ্চল বা
দেশের জলবায়ু।
দেখা যাবে,
যে কয়টা
দেশের পোশাক
লুঙ্গি, সেগুলো
উষ্ণ বা
নাতিশীতোষ্ণ। ভারতবর্ষে
যে প্রাচীন
মূর্তি বা
টেরাকোটার কাজ
পাওয়া যায়,
তাতে নারী-পুরুষ
সবার নিম্নাঙ্গে
পোশাক আছে,
ঊর্ধ্বাঙ্গে নেই।
এতে এ
অঞ্চলে মানুষের
বিস্তার শিকারি
বা জঙ্গলে
ফল সংগ্রহকারী
হিসেবে নয়,
বরং কৃষি
কাজের মধ্য
দিয়ে হয়েছে—এমন
একটা ইঙ্গিত
পাওয়া যেতে
পারে। এ
পোশাকও লুঙ্গি
গোত্রীয়—মানে
ধুতি বা
কাপড়। তাতে
অনুমান করা
যাবে, লুঙ্গির
ব্যবহার অনেক
পুরনো। হতে
পারে তা
একেবারে আলাদা
হয়ে স্বতন্ত্র
রূপ ও
বৈচিত্র্য গ্রহণ
করেনি।
‘পুরোনো
লখনউ’ বইয়ে
হালিম শরর
জানাচ্ছেন, গোড়ার
দিকে হিন্দুদের
ধুতির মতো
লুঙ্গিও সেলাই
ছাড়া ছিল।
ইরাকের বাগদাদে
আব্বাসীয় বংশ
ক্ষমতায় আসার
পর ভারতে
ইসলামী প্রভাব
বাড়ে। তার
প্রভাবেই লুঙ্গিতে
সেলাইয়ের ফোঁড়
পড়ে। তবে
সৈয়দ মুজতবা
আলী একবার
কলকাতার কলেজ
স্ট্রিটের প্রবীণ
প্রকাশক সবিতেন্দ্রনাথ
রায়কে বলেছিলেন,
ব্রহ্মদেশের বৌদ্ধদের
দেখেই আরবে
লুঙ্গির প্রচলন।
সেখান থেকে
কন্দহর-গজনি
হয়ে ভারতে
লুঙ্গি প্রবেশ
করে।
জিএস ঘুরের
বিখ্যাত ‘ইন্ডিয়ান
কস্টিউম’ বইয়ে
বলছেন, ভারতে
ইসলাম আসার
অনেক আগে
থেকেই এ
অঞ্চলে লুঙ্গির
প্রচলন ছিল।
নারী-পুরুষ
উভয়ের জন্যই
ছিল এ
পোশাক। প্রাচীন
মন্দিরে ভাস্কর্যে
এমন অজস্র
নিদর্শন দেখা
যায়।
ভারতীয় মুসলিমদের
মধ্যে আরবের
পোশাকের প্রভাব
ছিল তা
নিয়ে সন্দেহ
নেই। তবে
আরব হয়ে
এলেও এর
কতটা আরবের
পোশাক তা
নিয়ে প্রশ্ন
আছে। পূর্ণেন্দু
পত্রী অনূদিত
হালিম শররের
‘পুরোনো
লখনউ’ বইয়ে
দেখা যায়,
‘হযরত
মোহাম্মদের সময়েই
অন্য দেশ
থেকে পাজামা
আরবে পৌঁছে
যায়। পরবর্তীকালে
বাগাদাদি দরবারের
ও প্রবাসী
আরবদের জাতীয়
পরিচ্ছদ হয়ে
যায়। মুসলমান
আসার আগে
হিন্দুস্তানে ধুতি
ছিল, পাজামা
ছিল না।
দিল্লির শেষ
দিন পর্যন্ত
এবং সারা
হিন্দুস্তানে মুসলমানদের
এ পাজামাই
ছিল। হিন্দুদের
সঙ্গে মেলামেশার
ফলে নিম্নবর্গের
মুসলমানরা ধুতি
পরত এবং
প্রতিষ্ঠাবান হিন্দুরা
ইচ্ছে করলে
ঘরে ধুতি
পরত। কিন্তু
শিষ্টমণ্ডলীতে আসার
সময় পাজামা
পরেই আসত।’
অর্থাৎ বাগদাদের
পোশাক-পরিচ্ছদ
উত্তর ও
পশ্চিম ভারতের
মুসলিম পোশাককে
অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ
করত। কিন্তু
বাংলা ভাষা
অধ্যুষিত অঞ্চলে
লুঙ্গির মর্যাদা
ছিল। কালক্রমে
হিন্দুদের মধ্যে
ধুতি ও
মুসলমানদের মধ্যে
লুঙ্গি নিজস্ব
পোশাকে পরিণত
হয়। বাঙালি
অধ্যুষিত অঞ্চলে
হিন্দু-মুসলিম
উভয়ই লুঙ্গি
পরে। নিম্নবর্গীয়
মানুষের মধ্যে
এ ভেদ
করাও যায়
না।
‘আমিনা
বিবি ও
নছর মালুম’
পালায় এক
মুসলিম কবি
লিখেছেন—
‘পইরণেতে
তহমান কালা
কুর্তা গায়।
মাথার উপর
টুপি দিয়া
আয়না ধরি
চায়।।’
এই ‘তহমান’
ফারসি ‘তহমত’
শব্দের পরিবর্তিত
রূপ। এর
বাংলা অর্থ
দামি লুঙ্গি।
এখনো ঢাকার
পার্শ্ববর্তী এলাকায়
লুঙ্গিকে ‘তপন’
বলা হয়।
এটা যে
তহমান শব্দের
ভঙ্গুর অংশ
তা অনুমান
বোধ হয়
কঠিন হবে
না।
বাঙালি অধ্যুষিত
অঞ্চলে লুঙ্গির
অধিক ব্যবহার
থাকলেও এর
উত্পত্তি হিসেবে
দক্ষিণ ভারতে
বর্তমানে তামিলনাড়ু
অঞ্চল। হালের
গবেষণায় এ-ই
দেখা গেছে।
ভেশতি নামক
এক ধরনের
লুঙ্গিসদৃশ পোশাক
থেকে এর
উত্পত্তি।
বর্মি ভাষায়
‘খামি’
শব্দটি বার্মিজ
(বর্তমান মিয়ানমার)
নারীদের পরিধেয়
লুঙ্গি বোঝায়।
এর হুবহু
ব্যবহার দেখা
যাবে বাংলাদেশের
পার্বত্য অঞ্চলে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর
নারীদের পরিধেয়
লুঙ্গিকে তারা
খামি বলে।
এর কারণ
হতে পারে
মিয়ানমার ও
পার্বত্য অঞ্চলে
বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীর
মধ্যে সাংস্কৃতিক
মিল। স্মরণ
করা যেতে
পারে, মগ
বা বর্মিদের
প্রধান অধোবসন
লুঙ্গি। তাদের
সঙ্গে বাণিজ্যিক,
রাজনৈতিক ও
সাংস্কৃতিক সম্পর্কের
ফলে পূর্ববঙ্গীয়
মুসলমানদের মধ্যে
লুঙ্গির সহজ
প্রচল হয়েছে—এটা
ভাবা যেতে
পারে।
যেকোনো পোশাকই
টিকে থাকে
এ উপযোগিতার
ভিত্তিতে। পোশাকে
হালের প্রকৃতি
বিরুদ্ধ ঢঙ
আর সংরক্ষণ
কথা বাদ
দিলে আরামদায়ক
পোশাক হিসেবেই
লুঙ্গি জনপ্রিয়।
‘অরণ্যের
দিনরাত্রি’ ছবির
আউটডোর শুটিংয়ের
স্মৃতিতে সৌমিত্র
চট্টোপাধ্যায় লেখেন,
‘বৌদি
(বিজয়া রায়)
তাড়াহুড়োয় মানিকদার
(সত্যজিৎ রায়)
ব্যাগে পাজামা
দিতে ভুলে
গেছেন।...আমার
একটা বিশাল
বড় বার্মিজ
লুঙ্গি ছিল।...বললাম...আপনি
পরবেন? মানিক
দা সঙ্গে
সঙ্গে প্রস্তাব
খারিজ করে
দিলেন।...মধ্যরাতে
দেখি ছোটরা
যেমন বড়দের
ডাকে সেই
রকম প্রায়
ভয়ে ভয়ে
ডাকছেন, সৌমিত্র,
তোমার সেই
লুঙ্গিটা আছে?’
সাহিত্যে নানাভাবে লুঙ্গির প্রসঙ্গ এলেও একে নিয়ে দীর্ঘ কবিতাটি লিখেছেন কায়সার হক। Ode On The Lungi কবিতায় তিনি নিজেকে রীতিমতো ‘লুঙ্গি অ্যাক্টিভিস্ট’ বলেছেন। কবিতায় তিনি লিখেছেন—
I’m
talking of something more fundamental
Hundreds of millions
from East Africa to Indonesia
wear the lungi, also known variously
as the sarong, munda, htamain, saaram,
ma’awaiis, kitenge. kanga. kaiki
They wear it day in day out,
indoors and out.
এ তো
ঠিক আছে,
কিন্তু একসময়
তো গোল
বাঁধল—
Think too of neo-imperialism
and sartorial hegemony,
how brown and yellow sahibs
in natty suits crinkle their noses
at compatriots (even relations)
in modest lungis,...
Hegemony invades private space
as well: my cousin in America
would get home from work
and lounge in a lungi-
till his son grew ashamed
of dad and started hiding
the “ridiculous ethnic attire”
লুঙ্গির মর্যাদা
নিয়ে আমাদের
‘মনোজগতে
উপনিবেশ’-এর
প্রশ্ন উঠছে
কেন? পোশাকের
মর্যাদা তৈরি
হয় ব্যবহারকারীদের
সংখ্যা, পরিচয়বোধ
ও জাতীয়তার
ভিত্তিতে। সেই
সঙ্গে যারা
বিশেষ পোশাক
পরছে, তাদের
জাতীয় অবদান
বিবেচনায় মর্যাদার
বিচার করা
যেতে পারে।
বহু জাতিগোষ্ঠীর
এ দেশে
পোশাকের যে
বৈচিত্র্য থাকবে
তা সহজেই
অনুমেয়। একটু
তাকালেই বোঝা
যাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে
নির্ধারিত জাতীয়
পোশাক নেই।
ফলে এ
নিয়ে মতবৈচিত্র্য
হতেই পারে।
তার পরও
কী করে
যেন লুঙ্গি
ও শাড়িকে
অনেকেই জাতীয়
পোশাক ভাবে।
মানুষের পোশাকে
সবচেয়ে বেশি
প্রভাব বিস্তার
করে আছে
তার ভৌগোলিক
অবস্থান ও
সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান।
ধর্মীয় বোধ
এক্ষেত্রে বেশি
প্রভাবশালী। এ
দুটি শর্তের
বাইরে আরেকটি
কারণ থাকতে
পারে। তা
হচ্ছে ঔপনিবেশিক
প্রভাব। এদের
ঘিরে তৈরি
হচ্ছে পোশাকের
রাজনীতি। ভারতবর্ষ
দীর্ঘ ঔপনিবেশিক
শাসনের মধ্য
দিয়ে গেছে।
এর প্রভাব
পোশাকেও পড়েছে।
যেসব দেশে
ঔপনিবেশিক শাসন
ছিল, সেখানে
উত্তর-ঔপনিবেশিক
লড়াইও সক্রিয়
থাকবে এটাই
স্বাভাবিক। সেই
লড়াইয়ে পোশাক
একটা গুরুত্বপূর্ণ
ব্যাপার।
ব্রিটিশ আমলে
প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে
ইউরোপীয় পোশাক
সংরক্ষিত করায়
পোশাকের রাজনীতি
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে
উন্নীত হয়,
এটা বলা
যায়। এর
সঙ্গে মহাত্মা
গান্ধীর স্বদেশী
আন্দোলন কিংবা
সুভাষ বসুর
বিশেষ পোশাক
পরা একই
সুতোয় বাঁধা।
পাকিস্তান আমলে
এ চাপিয়ে
দেয়ার চর্চা
ছিল। স্বাধীনতা-উত্তর
বাংলাদেশ পড়েছে
বৈশ্বিক বাণিজ্যিকীকরণ
ও দেশীয়
এলিট চর্চার
ভেতর। ফলে
আগের তুলনায়
এ লড়াই
অনেক বেশি
জটিল ও
কুটিল।
দেশের সব
শ্রেণীর মানুষের
মধ্যে লুঙ্গি
পরার চল
থাকলেও সবার
পোশাক লুঙ্গি
নয়। বিদেশমুখী
ধনীরা অন্তত
তা স্বীকার
করবে। নিম্নবিত্ত
ও মধ্যবিত্তের
পোশাক এটি।
লক্ষণীয় হলো,
মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন
ছবিতে দেখা
যায় মুক্তিযোদ্ধাদের
অধিকাংশই লুঙ্গি
পরা ছিলেন।
মৃত্যু আর
নির্যাতিত হওয়ার
দিক দিয়ে
তারাই বেশি।
স্বাধীনতার পর
তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা
যে দেশ
চালতি হবে
তা আশাই
করা যায়।
মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং
দেয়া এক
ভারতীয় কমান্ডার
এর আগে
এক সাক্ষাত্কারে
এ প্রসঙ্গটা
ধরিয়ে দিয়েছিলেন।
দেশে ব্যক্তি
সমৃদ্ধি যে
তাদের দিকে
নেই, বৈষম্য
বৃদ্ধির দিকে
তাকালে তা
অস্বীকার করা
যায় না।
বলিউডের ‘চেন্নাই
এক্সপ্রেস’ সিনেমার
‘লুঙ্গি
ড্যান্স’ গানটা
যতটা জনপ্রিয়তা
পাক, তাতে
লুঙ্গি পরা
মানুষের মর্যাদা
একটুও বাড়েনি।
মাঝে মধ্যে
এ তর্কটা
চাগর দিয়ে
ওঠে নানা
ঘটনার কারণে।
যে যুক্তিতে
‘পোশাক
সংরক্ষণ’ (ড্রেস
কোড) করা
হয়, তা
পোশাকের ভৌগোলিক
ও সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যার সঙ্গে
যায় না।
ফলে তা
ঔপনিবেশিক বুদ্ধির
পুনরুত্থানের মতো
দেখায়। অনেক
সময় তা
সামাজিক ব্যাধি
(ট্যাবু) জেগে
থাকে। এ
ট্যাবু ভাঙতে
২০১৯ সালের
এপ্রিলে ‘লুঙ্গি
মহফিল’ করে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্ররা।
ব্রিটিশ আমলে
অভিজাতদের ক্লাবে
কুকুর ও
ভারতীয়দের প্রবেশ
নিষেধ ছিল।
ক্লাবের বাইরে
রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি
থাকত। কুকুর
না হয়
ইতর প্রাণী
বলে নিষেধ
ধরা হচ্ছে,
কিন্তু ভারতীয়রা
কেন এর
মধ্যে। তাদেরও
যে কুকুরে
অধিক মর্যাদা
ছিল না,
এটা তারই
প্রকাশ।
এখন দেশের
অভিজাত হোটেল,
বিপণিগুলোতে লেখা
না থাকলেও
লুঙ্গি পরে
কেউ ঢুকলে
ট্যারা চোখেই
দেখা হয়।
কেউ ব্যাখ্যা
দিচ্ছে না
কেন ঢোকা
যাবে না,
আবার কেউ
এটাও বলছে
না যে
লুঙ্গি কোনো
অশ্লীল পোশাক।
যে লুঙ্গি
দেশের ব্র্যান্ডিং
হতে পারত,
সেই শিল্পের
মানুষ এখন
ধুঁকছে। এটা
কি সাংস্কৃতিক
আধিপত্যের প্রক্রিয়া?
এ প্রশ্ন
তো এসেই
যায়।
আমরা একটা
আধিপত্যের যুগে
বাস করছি।
এ আধিপত্যটা
পুঁজিবাদের। সে
সবকিছুকে পণ্য
করে তোলে,
সবকিছু থেকে
মুনাফা চায়।
এর অনেক
কৌশল আছে।
পুঁজিবাদ তার
আধিপত্য তৈরির
জন্য সংস্কৃতিকে
ব্যবহার করে।
ক্রিস্টোফার কলম্বাস-পরবর্তী
যুগে সরাসরি
উপনিবেশ স্থাপনের
জন্য আগে
ধর্মযাজক পাঠানো
হতো। অরুন্ধতী
রায় দেখিয়েছেন,
দূষণ ছাড়ানোর
মতো কোনো
কারখানা স্থাপনের
আগে ওই
এলাকায় হাসপাতাল,
স্কুল প্রতিষ্ঠা
করে কোম্পানিগুলো।
এসব পদক্ষেপ
কারখানার বিরুদ্ধে
স্থানীয় প্রতিরোধ
দুর্বল করে
আনে।
পুঁজিবাদের যুগে
এ কৌশল
হচ্ছে স্থানীয়
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য
গুঁড়িয়ে কেন্দ্র
নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা
তৈরি করা,
মনোজগতে আধিপত্য
(হেজিমনি) তৈরি
করা। এজন্য
যত রকম
প্রচার ও
প্ররোচনা আছে
সবই ব্যবহার
করবে। শেষ
পর্যন্ত অবরোধ
ও শক্তি
প্রয়োগ করে।
এটা এক
ধরনের কালচারাল
ফ্যাসিজম বটে,
যার আড়ালে
থাকে বাণিজ্য।
মানুষ যখন
কাজের সুবিধা,
ভৌগোলিক কারণ
বা নিতান্তই
ভালো লাগা
থেকে কোনো
পোশাক পরে
তাতে কুটবুদ্ধি
থাকে না।
কিন্তু যখন
কোনো পোশাক
পরা বা
রহিত করার
জন্য কোনো
বিধান করা
হয়, তার
পেছনে উদ্দেশ্য
থাকে, রাজনীতি
থাকে। মানুষ
যেহেতু চিন্তাশীল
প্রাণী, তাই
কালচারাল ফ্যাসিজমে
সবসময় পিষ্ট
হয় না।
এ কারণে
দেশে দেশে
হিজাব নিষিদ্ধের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
হয়, জাতিসংঘ
অধিবেশনে জাতিগত
পোশাক পরে
হাজির হন
আদিবাসী নেতা।
দেশে লুঙ্গি
নিয়ে বিভিন্ন
তত্পরতা তারই
অংশ।
অলাত এহ্সান: গল্পকার-সমালোচক। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ: অনভ্যাসের দিনে





