নবম শতাব্দী আসতে না আসতেই আব্বাসীয় খলিফারা বিশাল এক এলাকাব্যাপী তাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। রাজ্যটি ভূমধ্যসাগরের কার্থেজ থেকে শুরু করে পূর্বের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেকটা এলাকাজুড়ে বিস্তার লাভ করে। গ্রিক, রোমান, তুর্কি ও পারসিকরা বহু বছর ধরে যেসব স্থান দখলের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল, আব্বাসীয় খলিফাদের রাজত্ব তার বেশির ভাগ জায়গা দখল করে নেয়। মদিনায় বসবাসকারী প্রারম্ভের দিকের ইসলামী খলিফা ও তাদের উত্তরসূরিদের শাসনের ফলে আব্বাসীয়দের সামাজ্য গড়ে ওঠে। সাম্রাজ্যটি ছিল উন্নত সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে অভিনব সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের এক মিলন। সেখানকার নতুন সমাজ একটি সাধারণ ভাষা, একই মুদ্রা, একই রকমের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ধ্যানধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এ শাসনামলের প্রভূত প্রভাব রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ মানুষের জীবনযাপনে পরিলক্ষিত হয়। আরবীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে মুহুর্মুহু এ শাসনামলের বর্ণনা ও উল্লেখ পাওয়া যায়।

আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে পঞ্চম ও সবচেয়ে বেশি আলোচিত খলিফা ছিলেন হারুন অর রশিদ। শুধু আরবীয় সাহিত্যে নয়, তার বিচরণ আছে সারা পৃথিবীর নানা প্রান্তের শিল্প-সাহিত্যে। বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধিশালী ও নিত্যনতুন ঘটনার অবতারণা করতেন বলে তার জীবন ও দাপ্তরিক ঘটনা বিভিন্ন কাহিনীর প্রধান উপাদান হয়ে উঠেছে। তবে লক্ষণীয়, কাহিনীগুলো যখন ছবি, ছায়াছবি বা কল্পকাহিনী হয়েছে, তখন তাতে কল্পনা এবং বাস্তবের কতটুকু মিল বা কতটুকু অমিল আছে তা স্পষ্ট করে ধরা যায় না।


ভিন্ন ভিন্ন সূত্রমতে, পঞ্চম আব্বাসীয় খলিফা, হারুন অর রশিদ ৭৬৩-৭৬৬ খ্রিস্টাব্দের কোনো এক সময় জন্মেছিলেন। তার শাসনামল ছিল ৭৮৬-৮০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। ওই সময়কে বহু ইতিহাসে ইসলামী স্বর্ণযুগের আরম্ভ হিসেবে ধরে নেয়া হয়। বিশেষ করে খলিফা হারুনের শাসনামলে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে প্রচুর ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তার সময়ে বিশেষ করে ইসলামী শিল্প ও সংগীতের প্রসার ঘটে। তত্কালীন শিক্ষার উন্নতির ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বাগদাদের বিখ্যাত গ্রন্থাগার, ‘বাইতুল হিকমাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন। ৭৯৬ সালে তিনি তার দরবার ও সরকার বর্তমান সিরিয়ার রাকা শহরে স্থানান্তর করেন। খলিফা হারুনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা কৌশল নিয়ে আলোচনাটি মুলতবি রেখে সাহিত্যে বা শিল্পে তার উপস্থিতি ও মূল্যায়ন নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।

হারুন অর রশিদের আমলের বাগদাদ নগরী সমগ্র বিশ্বের কাছে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। ধর্ম, সংগীত, নাট্যকলা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতির মাধ্যমে খলিফা হারুন আব্বাসীয় স্বর্ণযুগের সফলতার কাহিনী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন। একদিকে তার মানবতা, অন্যদিকে চৌকস নীতি, দুইয়ে মিলে আব্বাসীয় শাসনামলের ৩৭ জন খলিফার মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হন। এ কারণেই চিরায়ত কাহিনী আরব্য রজনীর গল্পগুলোতে বরাবর ভিন্ন কলেবরে তার উল্লেখ আসে। কখনো তিনিই গল্পের প্রধান চরিত্র, কখনোবা পার্শ্বচরিত্রের তালিকায় থেকেও কাহিনীর মূল চালিকাশক্তি। মূলত তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও নীতি সে সময়ের সমাজকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে সে সময়ের পটভূমিতে কোনো শিল্প বা সাহিত্য রচিত হলে তাকে ছাড়া তা কল্পনা করা কঠিন।

আরব্য রজনী, আরবি ভাষায় যা কিতাব আলফে লায়লা আল লায়লা হিসেবে পরিচিত, তা মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশীয় গল্প ও লোককথার একটি সংকলন, যা ইসলামের স্বর্ণযুগে আরবিতে সংগৃহীত হয়েছিল। বইটির মূল নাম, এক হাজার এক রাত, তবে তা সহস্র ও এক আরব্য রজনী কিংবা অ্যারাবিয়ান নাইটস নামেও পরিচিত। পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে লেখক, অনুবাদক ও সাহিত্য গবেষকরা দীর্ঘকাল ধরে আরব্য রজনীর গল্পগুলো সংগ্রহ করেছেন। মূলত মধ্যযুগের আরব, পারস্য, ভারত, মিসর ও মেসোপটেমিয়ার লোককাহিনী ও সাহিত্য বইটিতে স্থান পাওয়া গল্পগুলোর উৎস। তার মধ্যে অনেক গল্পই আব্বাসীয় খলিফাদের যুগের। বলাবাহুল্য, যার সিংহভাগ পঞ্চম খলিফা হারুন অর রশিদের আমলের। এছাড়া বাকি কাহিনীগুলো পাহলভীয় সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ভারতীয় সাহিত্যের উপাদান বিদ্যমান।

আরব্য রজনীর সব সংস্করণে সম্রাট শাহরিয়ারকে তার স্ত্রী শেহেরজাদ কাহিনীগুলো শোনান। কাহিনীগুলো গদ্যরীতিতে বর্ণিত, কোথাও আবার পদ্যও ব্যবহার করা হয়েছে, কোথাও এসেছে গান বা ধাঁধা। অল্পকিছু দীর্ঘ কবিতা থাকলেও বাকিগুলো ছড়া বা চতুষ্পদী শ্লোক। আরব্য রজনীর মূল আরবি সংস্করণে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ, আলিবাবা চল্লিশ চোর ও সিন্দবাদের সমুদ্রযাত্রা গল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না। প্রধানত ইউরোপীয় অনুবাদকরা এ কাহিনীগুলো পরে আরব্য রজনীতে জুড়ে দেন। যদিও যৌনতা, নারী চরিত্রকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা, নারীর বহুগামিতা, কুটিলতা, হিংসা, ক্ষমতার লড়াই এবং সর্বোপরি সম্পর্কের উত্থান-পতন আরব্য রজনীর মূল উপজীব্য বিষয় ছিল। তবু তার আগ পর্যন্ত খলিফা হারুনের আধা বাস্তব আধা কল্পিত কাহিনীগুলো আরব্য রজনীকে আকর্ষণীয় করে রেখেছিল। একাধারে দিনের বেলা রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত আইনের সাহায্যে প্রজাদের বহুবিধ অধিকার ও দখল-বেদখলের সমস্যার সমাধান, অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে অভুক্ত প্রজাকে খাদ্য সরবরাহ ও তাদের মানবিক সমস্যার সমাধান করা একজন খলিফার দিনলিপির কাহিনী পাঠক গোগ্রাসে গিলবে না কেন! সোজা কথায়, আরব্য রজনী একজন শাসক, খলিফা হারুন অর রশিদের শাসন ও নীতির দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে তাকে এক মানবিক কিংবদন্তিতে পরিণত করে। পাঠকের হূদয়ে তাই যুগ যুগ ধরে তিনি এক মানবিক শাসক হিসেবেই টিকে থাকেন।


খলিফা হারুনের শাসনাঞ্চলের আশপাশে কেবল নয়, সারা পৃথিবীর কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, ছায়াছবি নির্মাতা তার চরিত্রকে তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে মহান করেছেন। শুরুতে বলা যায়, হেনরি ওয়ার্ডসওয়ার্থ লংফেলোর কবিতা, হারুন অর রশিদ সম্পর্কে। কবিতায় তিনি রাজপরিবারের আভিজাত্য সম্পর্কে কয়েক ছত্রের পরে মৃত্যু যে প্রত্যেক মানুষের জন্য অনিবার্য, সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। মানুষ যতই অভিজাত বা বিখ্যাত হোক না কেন, মৃত্যুর থাবা একবার না একবার তার দিকে আসবেই, যা আর সবার মতো প্রখ্যাত হারুন অর রশিদকেও আক্রমণ করে, এ তার কবিতার উপজীব্য বিষয়।

পৃথিবী বিখ্যাত উপন্যাস ইউলিসিস-এর ১৫ পর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন চরিত্রকে খলিফা হারুন অর রশিদের ছদ্মবেশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন লেখক জেমস জয়েস। রচনায় জেমস জয়েসের নিজের চরিত্রের ছায়া হিসেবে তিনি যে বর্ণনাকারীকে উপস্থাপন করেন, তার নাম স্টিফেন ডেড্যুলাস। জেমস জয়েসের আত্মজৈবনিক উপন্যাস, দ্য পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট অ্যাজ এ ইয়াং ম্যান-এ দেখা যায়, স্টিফেন ডেড্যুলাস লেখকের আরেক ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে সেই স্টিফেন ডেড্যুলাস ইউলিসিস উপন্যাসেও উল্লেখযোগ্য চরিত্র যে হারুন অর রশিদকে বারবার স্বপ্নে দেখে। একই স্বপ্নের স্মৃতি সে ইউলিসিস উপন্যাসজুড়ে বারবার উপস্থাপন করতে থাকে। এভাবে হারুন অর রশিদ বিখ্যাত উপন্যাসটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে ওঠে।

সালমান রুশদির ১৯৯০ সালে শিশু-কিশোরদের জন্য প্রকাশিত উপন্যাস, হারুন অ্যান্ড দ্য সি অব স্টোরিজ-এ খলিফা হারুন অর রশিদের বিচিত্র উল্লেখ পাওয়া যায়। জন্মসূত্রে ভারতীয় হলেও ব্রিটিশ-আমেরিকান ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি বরাবর তার রচনায় ইতিহাস ও বর্তমানের অদ্ভুত সংমিশ্রণ ঘটান। এ কারণে পৃথিবীময় অরাজকতা, জোরপূর্বক অভিবাসন তার রচনায় ফিরে ফিরে আসে। জাদুবাস্তবতার ভঙ্গিতে তিনি কিশোর উপন্যাস হারুন অ্যান্ড দ্য সি অব স্টোরিজ বইটিতে চরিত্র খলিফা হারুন অর রশিদকে উপস্থাপন করেন। উপন্যাসের পটভূমি থাকে নাম ভুলে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের মতো প্রাচীন এক নগরী, যেখানে খলিফা হারুন তার বাবা চিকিৎসক ও গল্পকার রশিদ ও মা সুরাইয়ার সঙ্গে বসবাস করেন।

আইরিশ কবি, নাট্যকার ও লেখক, ডব্লিউ বি ইয়েটস হারুন অর রশিদকে নিয়ে দীর্ঘ কবিতা লিখেছিলেন। কবিতায় যেমন ঘোর তিনি তৈরি করতে পারতেন, তার গিফ্ট অব হারুন অর রশিদ কবিতাটিতেও তাই করেছেন। বাইজেন্টাইন, রঙিন পাখি, শিকারি, খলিফা হারুন অর রশিদের জীবনযাপন, প্রেমময় কিছু পঙক্তি্, প্রিয়ার উদ্দেশে বলা কথা, সবকিছু মিলিয়ে সত্যি কথা বলতে কী, পটভূমি যাই হোক, কবিতাটি পুরোপুরি ‘ইয়েটসীয়’ বটে। কবি ইয়েটসের প্রধান আকর্ষণ ছিল আইরিশ ইতিহাস, কিংবদন্তি, ঐতিহ্য ও লোককাহিনীতে। কিন্তু পশ্চিমের মানুষদের মধ্যে অনেকেরই যেমন আগের লোককাহিনী আর মিথ সম্পর্কে অসীম কৌতূহল, কবি ইয়েটসও ছিলেন ঠিক তেমন। আগের তথা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তার কাছে ছিল রহস্যে ভরা এক জগৎ। তাই এ বিষয়ে বিস্তর ঘাঁটাঘাঁটির পরে তার কলম থেকে বেশকিছু রচনা বেরিয়ে আসে, যার মধ্যে গিফ্ট অব হারুন অর রশিদ অন্যতম ও অনবদ্য এক কবিতা।


ইতালীয় লেখক ইতালো ক্যালভিনোর ১৯৭৯ সালের বিখ্যাত উপন্যাস ইফ অন এ উইন্টার’স নাইট এ ট্রাভেলার-এ হারুন অর রশিদ চরিত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। উত্তরাধুনিক কায়দায় লেখক উপন্যাসটিতে প্রতি পর্বে একবার দ্বিতীয় আরেকবার তৃতীয় পুরুষে বর্ণনা চালিয়েছেন। কাহিনীতে দেখা যায়, বর্ণনাকারী একটি বই পড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যার নাম ইফ অন এ উইন্টার’স নাইট এ ট্রাভেলার। বর্ণনার এক সময়ে আকস্মিক খলিফা হারুন অর রশিদ হাজির হন, সেখানে হারুন তার নিজেরই বন্দিত্বের দৃশ্য কল্পনা করেন। ইতালো ক্যালভিনো কালজয়ী এ উপন্যাসে এক অভিনব বর্ণনা কৌশল প্রয়োগ করেছেন, যা পরে অনেক বিখ্যাত লেখক অনুকরণ করেছেন। অন্যদিকে ইতালো ক্যালভিনো নিজেই বলেছেন, দন কিহোতে থেকে শুরু করে প্রচুর রচনা তাকে উপন্যাসটি লেখায় প্রভাবিত করেছে, যার মধ্যে প্রধান হলো আরব্য রজনী বা থাউজেন্ড আন্ড ওয়ান নাইট। আর কে না জানে, খলিফা হারুন অর রশিদ কোনো না কোনোভাবে আরব্য রজনীর কাহিনীগুলোর প্রাণ। সুতরাং কাহিনীতে তার চরিত্রের প্রভাব ইতালো অস্বীকার করতে পারেননি।

সেভাবে বলতে গেলে পৃথিবীর বহু বিখ্যাত লেখক-কবির রচনায় খলিফা হারুন অর রশিদ এসেছেন। এসেছেন তার কাজের মাধ্যমে মানবিক খলিফা হিসেবে এক অমর চরিত্রের অধিকারী হিসেবে। আরো কিছু উদাহরণ টেনে বলা যায়, ও’হেনরি তার গল্প, দ্য ক্যালিফ অ্যান্ড দ্য ক্যাড-এ হারুন অর রশিদকে একটি চরিত্র হিসেবে নিয়েছেন। আলফ্রেড টেনিসন তরুণ বয়সে দ্য রিকালেকশন অব অ্যারাবিয়ান নাইটস নামে কবিতার বই প্রকাশ করেছেন। বইটির শুরু ও শেষের কবিতা খলিফা হারুন অর রশিদ সম্পর্কে লিখিত। চার্লস ডিকেন্স ১৮৪২ সালে প্রকাশিত তার ভ্রমণ কাহিনীতে খলিফা হারুন অর রশিদের উল্লেখ করেন। আমেরিকায় দাসপ্রথার বহুল প্রচলন দেখে তিনি খলিফা হারুনের টকটকে লাল রাজকীয় পোশাকের রাগী চেহারা কল্পনা করেন। বস্তুত এ তালিকা শিল্প বিস্তারের ঊর্ধ্বমুখী সময় থেকে শুরু করলে ক্রমাগত লম্বাই হতে থাকবে।

আরব্য রজনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতীয় টেলিভিশন সর্বপ্রথম আলিফ লায়লা সিরিজ সম্প্রচার শুরু করে। সিরিজটি হারুন অর রশিদের চরিত্রের কারণেই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে সেভাবে বলতে গেলে কত দেশে কতভাবে আলিফ লায়লা বর্ণিত ও অভিনীত হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। আর শুধু নাটক বা সিনেমা কেন, আজকের যুগের বহু ভিডিও গেমেও খলিফা হারুন অর রশিদের উপস্থিতি সাধারণ ঘটনা। যেমন সিভিলাইজেশন গেমটিতে খলিফা হারুনই প্রধান চরিত্র, যাকে ঘিরে গেমের কল্পিত রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। বহু কমিক সিরিজে হারুন অর রশিদ প্রধান চরিত্র। যেমন ফ্রেঞ্চ কমিক বই ইজনোগুড-এর কথা ধরা যেতে পারে।

শিল্প সাধারণত ইতিহাস, অতীতের অনুভূতি ও তাত্ক্ষণিক বা দীর্ঘস্থায়ী আবেগের একত্র প্রকাশ। শিল্প যেহেতু আগের সব শিল্পের ছায়া, কেবল নতুনত্বের শর্ত নিয়ে আনকোরা হয় তার উপস্থাপন, তাই তাতে দেশের বা দেশকালের ঊর্ধ্বে উঠে প্রাচীন ঐতিহ্য কিছুটা হলেও ফুটে উঠবে, সেটাই স্বাভাবিক। খলিফা হারুন অর রশিদ এমন এক মানবিক চরিত্র, সুনির্দিষ্ট পটভূমিতে তিনি তো আসবেনই, জাত লেখকের কল্পনাতেও আগুপিছু না ভেবে হুট করেও হাজির হতে পারেন।

 

আফসানা বেগম: কথাসাহিত্যিক