একটি মৃত কাকের দেহ থেকে এই লেখার শুরু। কাকটা মরে যাওয়ার পর এর ঘাড় মটকে একে লটকে দেয়া হয়েছে সফেদা গাছের মগডালে, এগাছ-ওগাছ থেকে ডালে বসে ঘাড় কাত করে করে অন্য কাকেরা জাতভাইকে দেখছে আর চিত্কার করে হয়তো কাঁদছে, হয়তো প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কাকটির মৃতদেহের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি বোরকাবৃতা মা তার শিশুকন্যাকে দেখাচ্ছেন, ‘দ্যাহো দ্যাহো!’ অকুস্থল বলধা গার্ডেনের ‘সিবিলী’ অংশ, যেখানে জনসমাগম নিষিদ্ধ নয়। পাখির মৃত্যু দেখে শিশুটি কী শিখছে এবং তার চিত্ত বিনোদিত হচ্ছে কিনা, মা তার আদরিণী কন্যাকে এ দৃশ্য থেকে কী শিক্ষা দিচ্ছেন, তা ভেবে আমি শিহরিত হই, এই শিউরে ওঠা আমাকে লুকোতে হয়। লুকোতে হয় কেননা আমি যখনই মানুষের ও মানবশিশুর ডিসেন্সিটাইজড হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কিছু বলি, তখন আমাকে সহাস্যে শোনানো হয়, আমি ‘প্রবাসী’ এবং আমি দেশের ‘ভাও’ বুঝি না। জন্মের পর থেকে আমি কত বছর এ দেশে নিমজ্জিত ছিলাম এবং তাতে আদ্যন্ত ভাও বোঝা যায় কিনা তা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়, তা আরেক দিনের গল্প। শিশুশিক্ষার সঙ্গে একটি শব্দ বিজড়িত, ইংরেজিতে তাকে বলে ‘হাই এক্সপেক্টেশন’, শিশুকে শিক্ষাদানকল্পে দৃষ্টি রাখতে হবে সুদূর ও সুউচ্চ, তাকে নিয়ে আশা করতে হবে, যে দুইয়ের নামতায় কঁকিয়ে পড়ে, সে যেন ১৯-এর নামতা সড়গড় করে ফ্যালে। এই ‘হাই এক্সপেক্টেশন’ শব্দটা শুধু শিশুর কাছ থেকে কেড়ে নিইনি আমরা, আমাদের নাগরিক জীবনেও বিসর্জন দিয়েছি। সেই সঙ্গে নগরবাসী হিসেবে আমাদের নিজের প্রতিও আশা-প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ কল্পনা বিসর্জিত হয়েছে। আমরা পঙ্কশয্যাকেই আপন স্থান ভাবতে শিখে নিয়েছি। বলবেন, এ রাগের কথা। রেগেও যখন কাজ হয় না, তখন লোকে হতাশ হয়। আমি আমার স্মৃতির মিনারময় শহরে তাই অনেক হতাশা দেখি, অনেক আশাহতকে নীরব দেখি। 

প্রখ্যাত ব্রিটিশ ব্রডকাস্টার ও হর্টিকালচারিস্ট মন্টি ডন বিবিসি টুতে যখন ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি গার্ডেনস’ (ফরাসি ঔপন্যাসিক জুল ভার্নের অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’-এর মতো করে নাম দেয়া) সিরিজটা শুরু করেন, তখন আমি উদ্গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছি, কবে কখন এ সিরিজে বলধা গার্ডেনের নাম আসবে। দুই মাস ধরে এই সিরিজ চলেছে, বিস্ময়কর সব বাগানের সন্ধানে মন্টি ডন ঘুরেছেন মেক্সিকো, কিউবা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দুই আমেরিকা, চীন, জাপান, ভূমধ্যসাগরীয় দেশমালা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা। এমন বাগান তো আছে পৃথিবীতে অজস্র, কিন্তু যেসব বাগানের পেছনে ভাবনা আছে, গল্প আছে, ইতিহাস আর প্যাশন আছে, খেয়ালিপনা আছে, সেসব বাগানের খোঁজ দিয়ে যাচ্ছে সিরিজটা। সিরিজে কবি এডওয়ার্ড জেমসের বাগান এল, এল লুই বারাগানের বাগান, এমনকি মন্টি ডন চলে এলেন ভারতের আগ্রা-সেকান্দ্রা-জয়পুর হয়ে মুন্নারের পুরাতন রেলওয়ে গার্ডেনসে, এলেন কেরালার আব্রাহাম সাহেবের গরম মসলার বাগানে। আমি অপেক্ষায় ছিলাম, কবে স্ক্রিনে উঠবে খেয়ালি জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায়চৌধুরীর হাতে ১৯০৯-৪৩ সাল অবধি তিলে তিলে গড়া এই বলধা গার্ডেনের নাম, ঝলসে উঠবে রাজ অশোকের লাল পালকের মতো ফুল, ওরিয়ল পাখি রৌদ্রে উছলে উঠে যোগ করে দেবে অপার্থিব হলুদ। ইহপৃথিবীতে ৩ দশমিক ১৫ একর জায়গার ভেতরে কোথায় আছে ৬৭২ প্রজাতির গাছপালা? কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে ব্যথিত করে দিয়ে তিনি আর বলধা গার্ডেনে এলেন না। বিলেতে বসে আমি আমার প্রিয় বলধা গার্ডেনের জন্য বিরলে চোখের জল ফেললাম। মনে করতে পারলাম, অঝোর দিনে কত রকমের ভেষজ সুবাস উঠে আসত সেই উদ্যানের বুক থেকে, কেমন করে সজল দিনে আমি বসে থাকতাম অ্যামাজন লিলি ভরা জলাশয়টির বাঁধাই করা পাড়ে, আর প্রায়ই ঠাট্টা করে বলতাম, ‘উদ্যান-বিহনে (‘উদ্যম-বিহনে’ না বলে) কার পুরে মনোরথ’। আমি কি আর তখন জানি, বলধা গার্ডেন যেমন তিলে তিলে গড়ে উঠেছিল, তেমনি তিলে তিলে ধ্বংস হওয়ার প্রক্রিয়া সমাধা হয়েছে? যে ক্রান্তীয় উদ্যানে আমি গাছের নাম পড়ে পড়ে শেষ করতে পারতাম না, সেই উদ্যান ভরে উঠেছে সরকারি অগ্নিশ্বর পাতাবাহারে? যে বাগানের মাটি দেখা যেত না পায়ের তলায় আর আকাশ দেখা যেত না ঊর্ধ্বে তাকালে, এমনই ঘন তার ফোলিয়েজ, সে বাগানে ধুলো উড়ছে ফোকলা জায়গাগুলোতে। তার একদিকের দেয়ালময় উদ্ভিদরাশি উপড়ে ফেলে চলে গেছে নতুন সড়ক আর উড়াল-সড়ক।&dquote;&dquote;

অবশেষে আরেকবার এলাম বলধা গার্ডেনে এ বছর। বলতে নেই, বলধা গার্ডেনে ঢুকতেই যখন পড়লাম এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বন অধিদপ্তরের, তখনই আমার বুক ধড়াস করে উঠেছিল। আরেকটু চমকে উঠে আবিষ্কার করলাম অজস্র ফোকর আমার চেনা সেই জটলায়, যেখানে দুটো-চারটের বেশি একই প্রজাতির উদ্ভিদ থাকত না, সেখানে উদ্যানময় একই পাতাবাহার, নাকের বদলে সরকারি নরুন। রাজ অশোক গাছগুলোর ছায়া সিঁদুরে লাল হয়ে আছে ঝরা ফুলে, মৌটুশি এসেছে শহরের ধূসর বাতাবরণকে তুচ্ছ করে, সফেদা গাছটায় কাকের শব ঝুলিয়ে রেখেছে লোকে, ধুলো জমেছে অর্কিড হাউজে, চিন্নিটিকরির কাজ করা ঘাটটার গা ঢেকে সিমেন্ট ঢালাই করা ‘আমাকে ব্যবহার করুন’। ‘সাইকি’তে উঁকি দিয়ে কেবল রাশি রাশি অ্যালোভেরা দেখতে পেলাম (মনে মনে ভাবলাম, লোকে ঘৃতকুমারীকে আজকাল খুব তেল দিচ্ছে তাহলে, বাদবাকি যারা শরীরের কাজে লাগে না, তাদের বেলায় আমরা আশ্চর্য নিরুত্তাপ)। যেদিক দিয়ে উড়াল সরণি গেছে, সেদিকটার দেয়াল নতুন লাগল, গাছপালাও নেই সেখানে, একেবারে টাকমাথা হয়ে আছে। দেখলে বিমর্ষতা নয়, ক্রোধ জাগে। ট্যাবেবুইয়া আর ভূর্জপত্রের গাছগুলোকে দেখে বললাম, ‘দ্বিজেন (শর্মা) কাকাকে মনে আছে তো তোমাদের? কাকা মরে গিয়ে ইস্তক তোমাদের আর কেউ নেই তাই না?’ চালতার নাম লেখা চইলতা, এরিকা পামের নাম এরিকা পাম্প, ‘এরিকা পাম’ নামে একটা ভারি মিষ্টি গল্প আছে বিভূতিভূষণের, বিশ্বসাহিত্যের সম্পদ হওয়ার মতো অথচ কেউ জানে না। মুচকুন্দ, কাঠমালতি, মুক্তোঝুরি, গোলাপজাম, নাগচম্পা, নীলমণিলতা...কী সব নাম গাছপালাদের। অ্যামাজন লিলির নামনিশানাও নেই, জলাশয়ে জল নেই, কয়েকটি ট্যাংকে কয়েক জাতের লিলি ফুটে আছে। গাছে ঠোকর মেরে চলেছে কাঠঠোকরা। নিষ্পত্র শিমুল গাছে লাল লাল ফুল আর কালো কালো বাদুড় ভরদুপুরের আলো মাখছে। জমিনে অনেক ওলটপালট করে দেয়া বলে একটি নেউলশিশু ত্রস্ত হয়ে নিজের চেনা গর্তটাকেই সম্ভবত খুঁজে ফিরছে। তাকে দেখে আশ্চর্যরকমের চেনা লাগল, যেন আমারই সংস্করণ।&dquote;&dquote;

হাঁটতে হাঁটতে ভাবলাম, আচ্ছা, এমন একটি আজব বাগান যদি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশগুলোতে থাকত, তাহলে কতজন মালিকে আমি অবিশ্রাম এখানে কাজ করতে দেখতাম, হাতে করে মাটির ঢেলা গুঁড়োতে দেখতাম, দেখতাম আগাছা ওপড়াতে, ঠেলায় করে জৈব সার নিয়ে যেতে দেখতাম। কই কাউকে তো দেখলাম না। যাদের দেখলাম তারা ফটকের কাছে বসে ভুক্তাবশেষ থাকা ভাতের থালায় পানি ঢুলিয়ে তা পান করতে, আবু দাউদ ও তিরমিযি শরিফ নিয়ে তর্ক করতে, উদগ্র আগ্রহে এসে লেজ নাড়া কুকুর তাড়াতে এবং বাগানের অন্তিমে জোড়ায় জোড়ায় বসা প্রেমিক-প্রেমিকাদের চৌকিদারিতে ব্যস্ত। স্থানে স্থানে সভয়ে হাত ধরে পাশাপাশি বসে আছে যুগলেরা, গাছপালার অন্তরালবর্তী আকাশচ্যুত আলোয় তাদের কী ভালোই না দেখাচ্ছে, কী আশাপ্রদ। বড় বড় হরফে সতর্কবাণী টাঙানো আছে, উদ্যানের অভ্যন্তরে অশ্লীল ও আপত্তিকর অবস্থায় বসা ও ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ। কাউকে অশ্লীল ও আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে, আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ। এ দুটি বাক্যে একাধিক বানান ভুল এবং শেষ বাক্যটিও ভুল এবং বোধ করি এসব গ্রাহ্য করা আরো বড় ভুল। ‘অশ্লীল’ ও ‘আপত্তিকর’ কার কাছে? কতটুকুর পর তা আপত্তিজনক? সামাজিক বিধিমালা প্রস্তুতকারক কে? তারা কি অন্যান্য বৃহত্তর অপরাধে সোচ্চার? আমি তো দেখেছি প্রার্থনাঘর থেকে বের হওয়া লোকের চোখেই কুিসত রিরংসা, দেখেছি অসুখী গৃহী মানুষকে অন্যান্যের দৃষ্টিবিনিময় বা করমর্দনেও অসূয়াগ্রস্ত হয়ে উঠতে। তার পরও আমি দীর্ঘশ্বাস লুকোতে পারলাম না এই ভেবে যে সারাটা শহরের সিটিস্কেপে একটি প্রেম করার বিরল অবকাশ নেই, যারা ভালোবাসে তারা প্রকাশ্য হয়ে গেলে ফলাফল গ্লানিকর হবে ঘোষণা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বলে দিচ্ছে, শাস্তি দিতে পারে এমন লোকেদের কাছেই সোপর্দ করা হবে তাদের। অথচ আমার শহরে রেচনক্রিয়া অবধি ব্যক্তিগত নয়; এ শহরে সব অপরাধ প্রকাশ্য, সব বেশ্যাবৃত্তির বিষয়ে সবাই অবগত, প্রায় সব হত্যাকাণ্ড প্রশস্ত দিবালোকে সংঘটিত। মানুষ শহরে আসবে এবং শহরে থাকবে ক্ষুন্নিবৃত্তির ঊর্ধ্বশ্বাস তাড়নায়, এইই আমাদের নাগরিক জীবনের শুরু আর শেষ। নগর পরিকল্পনায় শিশুর জন্য মাঠ নেই, প্রেমিকের জন্য, ভাবুকের জন্য কোনো প্রাঙ্গণ নেই, কোনো দিগন্ত নেই; প্লাজা আছে আর টেরাস আছে। তাদের শুধু মুখোমুখি বসে খেতে হবে। বলদর্পী, স্বেচ্ছাচারী, (প্রেমের প্রতি) ঈর্ষী যে মানুষগুলো এসব গাছপালা, অরণ্যানী, পশু-পাখিকুলের শাসক বলেই রক্ষক যারা, তাদের মনে প্রেম আছে কি? যে প্রেমে মানুষ গভীর ব্যথা-সমবেদনা আর ভালোবাসার চোখে পৃথিবীর দিকে তাকাতে পারে, পরিপার্শ্বের দিকে তাকাতে পারে? যে প্রেম জীবজগতের জীবনের পরিপন্থী নয়? প্রশ্নগুলো সহজ, আর উত্তরও তো...&dquote;&dquote;

মনের ভেতর দরদের অভাব কোনো তহবিল দিয়ে পুরিয়ে দেয়া যায় না, আমাদের যে দিন গেছে সেসব কালের সাক্ষীদের কেন দরদ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে, তা কি আমরা জানি? অতীতের চিহ্ন, কালের যাত্রার চিহ্ন কেন একটি নাগরিককে শিশুকাল থেকে দেখাতে হয়, তা কি আমরা জানি? শিশু বাপের জুতোয় পা গলায়, মায়ের অলংকার পরে মুখ দেখে আয়নায়, এসব সামান্য মুদ্রায় গড়ে ওঠে তার অধিকারবোধ, তার চেতনা, তার আত্মসচেতনতা; ঠিক একইভাবে সে আরো দেখতে চায় তার শহরের বা গ্রামের অতীতকে, সেই অতীতের আদরণীয়কে জানতে চায়, তার অতীতে যে শ্রেয় কিছু আছে, তারিফের যোগ্য কিছু আছে, সেটা জানা তার নিজের গরীয়ান বোধ করার জন্য জরুরি, সেটিকে বাদ দিলে সে উন্মূল হয়ে যাবে, সে বিশ্বের অন্যান্য জাত্যভিমানীদের কাছে মানসিকভাবে নতজানু হয়ে পড়বে। শুধু কি তাই? যে শিশু-কিশোর জাতীয় সম্পদকে এত হেলাফেলা করতে দেখেছে, জাতীয় ইতিহাসকে এত গৌণ হতে দেখেছে, সে কেমন নাগরিক হবে, তা কি বলে দেয়ার অপেক্ষা রাখে?&dquote;&dquote;

শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-অকালবৃদ্ধের জন্য একটি শ্বাসরুদ্ধকর শহর তৈরি করেছি আমরা। সবুজকে এমনভাবে লুণ্ঠন করেছি আর নীলকে এমনভাবে ঘোলা করেছি যে আমরা নিজেরাই তাতে পরান টেকাতে পারছি না। কিন্তু বলুন তো, আপনি চান না, এ শহরেই থাকুক এমন কোনো পলায়নের খোপ, যেখানে আপনার ফুসফুস ভরে উঠবে শ্যামলে, আপনার মনে উসখুস করবে ভুলে যাওয়া সুর, অতীতের গৌরবচিহ্ন দেখে ফুল্ল হবে চিত্ত, আপনার হাতে ধরা শিশুটি উল্লাসধ্বনি দিয়ে কলকল করে উঠবে একটি সামান্য কাঠবিড়ালির ডোরাদার পিঠ দেখে? যেখানে পৃথিবী পরিব্রাজন শেষে এসে অন্য ভাষাভাষীর লোকে বিস্মিত হবে, যে ভাবমূর্তি রক্ষায় আমরা এত কাতর, তা-ই অবশেষে সুরক্ষিত হবে, সেই ভাবমূর্তিকে ঘিরে রচিত হবে আমাদের আগামীর আত্মবিশ্বাস? রাষ্ট্র যা ভুলে যায়, তা মনে করিয়ে দেয়ার গুরুদায়িত্ব এই আমরাই তো জাত হিসেবে কতবার নিয়েছিলাম, এই ফেব্রুয়ারিতে, এই মার্চে প্রমাণ করেছিলাম, জাত হিসেবে আমাদের চাহিদা সুদূরপ্রসারী ও সমুন্নত; আরেক ফাল্গুন আসুক না আমাদের মুঠি ধরে।