১৮৯০ থেকে ১৯২০ সময়ের মধ্যে হুগলি বন্দর দিয়ে জাহাজের খালাসির পদ বাগিয়ে পূর্ব বাংলার বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার উদ্দেশ্যে এসেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বন্দরে জাহাজ নোঙর করার আগেই গভীর রাতে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উপকূলে উঠে গা-ঢাকা দিয়ে সেখানকার স্থায়ী অভিবাসী হওয়াই ছিল এই ‘শিপ জাম্পার’দের স্বপ্ন।
কিন্তু নতুন ভূমিতে পা রেখেও তাদের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্ক। ইমিগ্রেশনের মুখোমুখি হওয়া একদল শিপ জাম্পারের সওয়াল-জবাবের একটি উদাহরণ—
অপেক্ষমাণ পূর্ববঙ্গের অভিবাসীদের স্মৃতিতে পেছনে ফেলে আসা হুগলি, নোয়াখালী আর সিলেটের স্মৃতি, ফেলে আসা প্রিয় স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবার মুখ, অন্যদিকে নতুন মুলুকের আইন কর্মকর্তার শ্যেন দৃষ্টি। প্রথম জিজ্ঞাসার মুখোমুখি হলেন পূর্ব বাংলার নোয়াখালী অঞ্চল থেকে আসা আবদুল আজিজ।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার প্রশ্ন: পেশা কী?
ঝটপট উত্তর: ব্যবসা।
কপাল কুঁচকে আবার প্রশ্ন: জাতীয়তা?
মুখস্থ উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া
এখানে আসার আগে কোথায় ছিলেন এবং কোথায় যাবেন?
ঝটপট উত্তর: যাব নিউজার্সি আর ছিলাম জাহাজে।
আবার ইমিগ্রেশন অফিসারের প্রশ্ন: আপনার জাহাজের টিকিট কে কিনে দিয়েছে?
আমিই কিনেছি, স্যার— মুখ নিচু করে উত্তর দিলেন আবদুল আজিজ।
হুম, বুঝলাম। কত টাকা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন?
৬ পাউন্ড।
আগে কি যুক্তরাষ্ট্রে কখনো এসেছেন? নাকি এটাই প্রথম?
হ্যাঁ, আগেও এসেছিলাম।
আগে কেন এসেছিলেন? আত্মীয়র সঙ্গে দেখা করতে?
না।
তবে কেন? কী ছিল সেই কারণ, জানা যাবে?
আবদুল আজিজের মুখে কোনো কথা নেই।
আপনি কি কমিউনিস্ট?
মাথা নেড়ে উত্তর দিল আজিজ।
তাহলে? আমেরিকায় কেন এসেছেন? কোনো কাজের চুক্তি নিয়ে এসেছেন? বা এখানে কাজ করতে চান?
আবদুল আজিজ আবার মাথা নাড়লেন, ‘না।’
তারপরের ঘটনা আরো করুণ...






