১৫৮০-এর দশকে একজন ডাচ সরাইমালিকের দুঃসাহসী পুত্রের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভারতে আগমন ঘটে। গোয়ার প্রধান আর্চবিশপ দ্বারা নবনিযুক্ত য়ান হর্গান ভ্যান লিনশোটেন নামীয় এ যুবার যাত্রা ছিল এস্তাদো ডা ইন্ডিয়া পর্তুগুয়েসা এর উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ ভারতে পর্তুগিজদের শাসনকেন্দ্রের রাজধানীতে পৌঁছানো, যেখান থেকে ইউরোপীয় শক্তি ভারতীয় উপমহাদেশের বাণিজ্যকে পুরাপুরি নিয়ন্ত্রণ করত।

ভাস্কো ডা গামার ভারতীয় উপমহাদেশের সমুদ্রপথ আবিষ্কারের কয়েক দশক পরও পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য বাণিজ্যিক সুবিধার প্রত্যাশায় এ যাত্রাপথকে রহস্য দিয়ে আগলে রেখেছিল। যদিও ব্রিটিশ ও ডাচদের লোলুপ দৃষ্টি দীর্ঘ এ জলপথ পাড়ি দেয়ার উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছিল। তবে কম লোকই জানতেন যে জোয়ার চিরকাল একই পথে আসবে না এবং প্রাচ্যে পর্তুগিজ উপনিবেশের অধঃপতনের দেশলাই জ্বলবে ভ্যান লিনশোটেন হাতেই।

আর্চবিশপের সহকারী হিসেবে পাঁচ বছর গোয়ায় অবস্থানকালে ভ্যান লিনশোটেন শুধু পর্তুগিজ সাম্রাজ্য ও উপমহাদেশে এর কর্তৃত্বের কারণ নিয়েই জ্ঞান অর্জন করেননি, তিনি জ্ঞান অর্জন করেছিলেন স্থানীয় অধিবাসী, সংস্কৃতি, জনজীবন নিয়েও। আর এ তথ্যগুলোরই সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন নেদারল্যান্ডসে ফিরে গিয়ে ১৫৯২ সালে লেখা ‘ইটিনারারিও’ নামের যুগান্তকারী এক বইতে। এ গ্রন্থে লিসবন থেকে গোয়া যাত্রার বিস্তৃত বর্ণনার পাশাপাশি পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের অঞ্চলগুলো, নৌ-পরিবহনের যাবতীয় নির্দেশনা, এলাকাগুলোর বিশদ মানচিত্রসহযোগে উপস্থাপিত হয়েছে, যা দীর্ঘকাল গোপনীয়তার চাদরে ঢাকা ছিল।


১৫৯৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইটিনারারিও বিক্রয় তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে নেয় এবং দ্রুত ইংরেজিতে অনূদিত হয়। আর এর মাধ্যমেই ব্রিটিশ ও ডাচরা ভারতবর্ষে পর্তুগিজদের আধিপত্য খর্ব করার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চাবিটি হাতে পেয়ে যায়।

ভ্যান লিনশোটেন কর্তৃক ইটিনারারিও প্রকাশের ৪০০ বছর পর এর একটি ঐতিহাসিক মানচিত্র হায়দরাবাদভিত্তিক কলাকৃতি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত লাহোটির কাছে পাওয়া যায়। লাহোটির সংগৃহীত পাঁচ হাজার মানচিত্রের কেবল একটি হলো ভ্যান লিনশোটেনের মানচিত্র। আটটি দেশ থেকে ১৫ বছরেরও অধিক সময় ধরে সংগৃহীত অন্য মানচিত্রগুলো ১৪৮২ থেকে ১৯১৩ সময়কালের।

 

একটি মৃতপ্রায় শিল্প

ইউরোপীয়দেরও বহু আগে জার্মানিতে ভারতীয় উপমহাদেশের কাঠখচিত একটি মানচিত্র তৈরি হয়, যেখানে ২০ ফুট লম্বা প্যানেলে খোদাইকৃত গঙ্গা যেন একটি শিল্পকর্ম। একঘেয়ে ও প্রয়োজনীয় গুগল ম্যাপের দূরবর্তী ওই সময়ের এসব সংগ্রহ ইঙ্গিত করে যে কালে কালে ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কতভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কোয়ার্টজকে দেয়া সাক্ষাত্কারে লাহোটি বলেন, ‘আগের মানচিত্রগুলো শৈল্পিকভাবে তৈরি এবং এখনকার নিরস মানচিত্রের মাঝে এসব খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

নিশ্চিতভাবেই অনেক মানচিত্র ভারতীয় জনপদে ইউরোপীয়দের আধিপত্য বিস্তারের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে তৈরি হয়েছিল। যেমন বলা যায়, ব্রিটিশদের তৈরি বহু মানচিত্র বয়ান দেয়, কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। তবু সময়ের প্রেক্ষাপটে রচিত ভারতের মানচিত্রের সূক্ষ্ম চিত্রায়নের এ প্রচেষ্টা কালক্রমে আজও মূল্যবান। লাহোটির ভাষ্যমতে, ‘আপনি প্রতিটি মানচিত্রেই ভারতীয় ইতিহাসের কিছু খণ্ডিত চিত্রের নিজস্ব উপস্থাপন খুঁজে পাবেন।’

ভারতীয়দের তৈরি মানচিত্রের মধ্যে তার সংগ্রহে আছে জৈন ধর্মতত্ত্ব ও তীর্থযাত্রার নকশা করা মহাজাগতিক মানচিত্র। এগুলো যতটা না মানচিত্র তার অধিক শিল্পকর্ম যা শত্রুঞ্জয়ের মতো পবিত্র স্থানগুলোর দিকে পথ দেখায় এবং এসব মানচিত্র হাতি ও মানুষের প্রতিকৃতি দ্বারা সজ্জিত। এগুলোর মধ্যে একটা তো মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত।


জিপিএস নেভিগেশন আর সব কাজের কাজি অ্যাপসের এ যুগে মানচিত্রাঙ্কন বিদ্যা হারিয়ে যাওয়া যে কতখানি ক্ষতি তা এসব দৃষ্টিনন্দিত মানচিত্রগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে আরো স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে এসব বিরল মানচিত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণ খুব বড় একটি চ্যালেঞ্জ, বিশেষত ভারতের মতো একটি দেশে যেখানে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ভাবনার প্রাথমিক অংশ নয় আর ব্যক্তিগত সংগ্রহকারীদের ওপর সাধারণত এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের দায় বর্তায়।

‘কয়েক বছরের মধ্যেই অনেক মানচিত্রই নষ্ট হয়ে যাবে। প্রথমত, মানচিত্র সংরক্ষণের মতো উপযোগী আবহাওয়া আমাদের নেই আর দ্বিতীয়ত, পুরনো জিনিস সংগ্রহে রাখার অভ্যাস আমাদের নেই’—বলছিলেন লাহোটি, যিনি তার সংগ্রহগুলো একটি নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ঘরে রেখেছিলেন। ‘ভারতে কোনো গ্রন্থাগার সংস্কৃতি নেই আর এ কারণে আমার মনে হচ্ছে এগুলো দ্রুতই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

সৌভাগ্যক্রমে, কলাকৃতি আর্কাইভস এসব সংগ্রহের কাজকে সহজসাধ্য করে দিয়েছে তা আপনি যেখানেই থাকুন না কেন। গুগুল আর্টস অ্যান্ড কালচার এ অনেক মানচিত্রের ডিজিটাল সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে। নিম্নে বিদেশীদের হাতে তৈরি ভারতবর্ষের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মানচিত্রের বিবরণী তুলে ধরা হল—

 

টলেমির ভারত, নিকোলাস জার্মানাস (১৪৮২)

১৪৯৮ সালে ভাস্কো ডা গামার ভারত আগমনেরও আগে গ্রিক ও রোমানরা ডোনাস নিকোলাস জার্মানাস নামে একজন জার্মান ভিক্ষুর নকশাকৃত কাঠে খোদাই করা ভারতীয় মানচিত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। মানচিত্রটি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের গ্রিক-মিসরীয় ভূগোলবিদ ক্লডিয়াস টলেমির রচনা পুনরাবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। যদিও আধুনিক মানুষের কাছে আপাতদৃষ্টিতে মানচিত্রটি ভারতের অপরিচিত চিত্রায়ন বলে মনে হবে, তবু খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলে উত্তর-পশ্চিমের সিন্ধু নদ ও গঙ্গার বদ্বীপ দেখতে পাওয়া যাবে।

 


ভারত ও মধ্যপ্রাচ্য, য়ান হর্গান ভ্যান লিনশোটেন (১৫৯৬)

মানচিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম সুন্দর মানচিত্র হলো য়ান হর্গান ভ্যান লিনশোটেনের ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের চিত্রায়ন, যা শিল্পকর্মের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। তবে এর আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির একটি চমকপ্রদ গল্প আছে। বণিক লিনশোটেন আর্চবিশপের সহকারী হিসেবে গোয়ায় কাজ করার প্রাক্কালে পর্তুগিজ প্রশাসনের নথি থেকে গোপন তথ্য-উপাত্ত ও মানচিত্র হাতিয়ে নিতে সমর্থ হয়েছিলেন। তখন ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় বাণিজ্যের তুঙ্গে ছিল পর্তুগিজরা। তেমন একটি প্রেক্ষাপটে লিনশোটেনের মানচিত্র ব্রিটিশ ও ডাচদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভারত আসার পথ বাতলে দিয়েছিল আর পর্তুগিজ আধিপত্যের অবসানের সূচনা করেছিল।

 

উত্তর ভারত, মোগল সাম্রাজ্য, উইলিয়াম বাফিন (১৬২৫)

এটি উত্তর ভারতের প্রথম মানচিত্র—প্রায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এ অঞ্চলের ভৌগোলিক দিক ও মোগল সাম্রাজ্যের বিস্তারকে উপস্থাপন করেছিল, যা উত্তরে আফগানিস্তান ও কাশ্মীর এবং দাক্ষিণাত্য পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইংরেজ অভিযাত্রী উইলিয়াম বাফিন, সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইংরেজ রাষ্ট্রদূত থেকে প্রাপ্ত বিদ্যা কাজে লাগিয়ে এটি তৈরি করেছিলেন।

 

উত্তর ভারত—মোগল সাম্রাজ্য, কাতিব ছেলেবি (১৭৩২)

এটি মুসলিম বিশ্বে মুদ্রিত ভারতের প্রথম মানচিত্র। ১৭৩২ সালে ইস্তাম্বুলে তুর্কি ভূগোলবিদ কাতিব ছেলেবি দ্বারা প্রকাশিত এ মানচিত্রে আরবীয় টাইপোগ্রাফি বা মুদ্রণবিদ্যার মাধ্যমে তুর্কি রঙের সমাহারে মোগল সাম্রাজ্যের বিস্তার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 

প্ল্যান অব পণ্ডিচেরি (১৭৪১)

১৭৬১ সালে ব্রিটিশদের পণ্ডিচেরি (বর্তমান নাম পুডুচেরি) দখল ও ধ্বংসের আগে, জায়গাটি ছিল ফরাসিদের ভারতীয় রাজধানী। কথিত আছে, এ অঞ্চলে ইউরোপীয় পরিকল্পনায় তৈরি সবচেয়ে সুন্দর শহরের মধ্যে অন্যতম ছিল পণ্ডিচেরি। ১৭৪১ সালে নকশাকৃত এ মানচিত্রে পণ্ডিচেরির প্রশস্ত বৃক্ষ শোভিত রাস্তা আর নান্দনিক দৃশ্যাবলি গোলাপি রঙের বাহারে উপস্থাপিত হয়েছে।

 

বাংলা ও বিহার, জেমস রেনেল (১৭৭৬)

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এ মানচিত্রটিকে বাংলা ও বিহারের প্রথম নির্ভরযোগ্য মানচিত্র বলা হয়। এ মানচিত্রটি নদী, পাহাড়, এমনকি জলাশয় ছাড়াও প্রতিটি গ্রামকে অবিশ্বাস্যভাবে চিত্রিত করেছে। এরূপ বিস্তৃত উপস্থাপনের মাঝে বাংলার বৃহত্তর অংশের ওপর কোম্পানির নিয়ন্ত্রণকে আরো দৃঢ় করার ইচ্ছা লুক্কায়িত ছিল। কথিত আছে, বাংলার তত্কালীন গভর্নর জেনারেল মানচিত্রটিকে ‘ডুমসডে বুক’ হিসেবে দেখার উদ্দেশে তৈরি করতে বলেছিলেন। ১১ শতাব্দীর শেষের দিকে ‘উইলিয়াম দ্য কনকোয়েরার’ -এর ইংল্যান্ডের রাজস্ব জরিপ যেমন সম্পত্তি নিবন্ধন ও রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশে হয়েছিল। আর রেনেলের মানচিত্র ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলায় আধিপত্য শক্তিশালীকরণের পূর্বাভাস দেয়, যা মূলত পুরো ভারতের ওপর আধিপত্য বিস্তারের পথকে সুগম করেছিল।

 

বেঙ্গালুরু, রবার্ট হোম (১৭৯১)

বেঙ্গালোরের (বর্তমানে বেঙ্গালুরু) এ মানচিত্রটি ১৭৯১ সালের মার্চে অ্যাংলো-মহীশুর যুদ্ধে ব্রিটিশ প্রশাসন কর্তৃক শহরটি দখলের পর তৈরি হয়েছিল। ইউরোপীয়দের নগর পরিকল্পনার ছোঁয়া লাগার আগে শহরটি কেমন ছিল, তা এ মানচিত্রে উপস্থাপিত হয়েছে। এমনকি উপস্থাপিত হয়েছে দেয়ালে ঘেরা জনাকীর্ণ বাজার, যা সরু রাস্তা দ্বারা বিচ্ছিন্ন ছিল। মূলত সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের বিভ্রান্ত করাই ছিল এ ধরনের নকশার উদ্দেশ্য, কেননা তত্কালীন সময়ে শহরগুলো প্রায়ই আক্রমণের মুখে পড়ত। এর কয়েক দশকের মধ্যে বেঙ্গালোর ব্রিটিশ ভারতের গ্যারিসন শহরে পরিণত হয়।

 

মুম্বাই, মহারাষ্ট্র, জগন্নাথ উইলোবা (১৮৪০)

মুম্বাই পোতাশ্রয়ের উল্লেখ থাকা বৃহত্তর গঠনশৈলীর একমাত্র ভারতীয় মানচিত্র, যা কালক্রমে টিকে আছে এবং সম্ভবত মানচিত্রটি কোনো ভারতীয় মুদ্রণশিল্পীর হাতে ভারতে মুদ্রিত হয়েছে। এর মুদ্রনশৈলী ও উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার স্বতন্ত্রভাবেই ভারতীয়। ধারণা করা হয়, ‘মেনিফেস্টো প্রেস’ নামীয় মুদ্রণ কারখানায় জগন্নাথ উইলোবা নামীয় ব্যক্তির হাতে মানচিত্রটি মুদ্রিত হয়েছিল।

 

প্ল্যান অব দিল্লি, এডউইন লুটিয়েনস (১৯১২)

১৯১১ সালে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লি নেয়ার প্রয়াসে ব্রিটিশ প্রশাসন স্থপতি এডুইন ল্যান্ডসিয়ার লুটিয়েন্সকে নতুন রাজধানী গঠনের পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করে। ‘নিউ দিল্লি” স্থাপনের এ পরিকল্পনার স্থান ছিল এককালের মোগল রাজধানীর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। মানচিত্রটি নির্দেশ করে লুটিয়েন্সের মহাপরিকল্পনা কী ছিল, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ১৮ বছর ধরে নির্মাণকাজ করা হয়েছে। মানচিত্রের লাল দাগ চিহ্নিত অংশগুলো বৃক্ষ শোভিত প্রশস্ত রাস্তা করার প্রয়োজনে যে এলাকাগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হবে তার নির্দেশক। মানচিত্রটি সম্রাট হুমায়ূনের সমাধির মতো মোগল স্মৃতিস্তম্ভগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, তার পরিকল্পনাকেও ধারণ করেছে।

 

মারিয়া টমাস: বেঙ্গালুরুভিত্তিক নন-ফিকশন লেখিকা