সাহিত্যের মন্দিরে থাকা সেরা উপন্যাসগুলো কোনো কোনোটি ইতিহাসের একটি সামান্য কালকে তুলে ধরলেও সেগুলোর আবেদন যুগে যুগে অটুট থাকে। জেন অস্টিন তার প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিসে রিজেন্সি যুগের রীতি-নীতিকে পরীক্ষা করেছিলেন। জন স্টেইনবেক দ্য গ্রেপস অব র্যাথে দেখিয়েছিলেন মহামন্দার প্রতিক্রিয়া। তবে আমাদের বর্তমান যুগ নিয়ে কিছু লেখাটা জটিল। কারণ এখন আমাদের জীবনে আছে অসংখ্য গ্যাজেট, অ্যাপস ও সাংস্কৃতিক রেফারেন্স। আর তাই আপনার গল্প খুব দ্রুতই অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে থাকবে।

সালমান রুশদি দক্ষতার সঙ্গে কয়েক দশক ধরে ইতিহাসনির্ভর এ সূক্ষ্ম কাজটি করে চলেছেন। তিনি ১৯৮১ সালে মিডনাইট’স চিলড্রেনে ভারতের রক্তাক্ত দেশভাগ, ২০০৫-এ শালিমার দ্য ক্লাউনে জিহাদি মতবাদের কাশ্মীর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস ভ্রমণ দেখিয়েছেন। সাহিত্যকে ভূরাজনীতির সঙ্গে সাক্ষাত্ করানোর ক্ষেত্রে রুশদি পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। পুরনো সেই কাজটি তিনি আবার করেছেন তার নতুন উপন্যাস দ্য গোল্ডেন হাইজ-এ। কাহিনীটি একজন দুর্নীতিবাজ ভারতীয় ব্যবসায়ীর (নিরো গোল্ডেন), যিনি মুম্বাইয়ের মাফিয়াদের কাছ থেকে পালিয়ে নিজের তিন প্রাপ্তবয়স্ক পুত্রকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। পথে তুলে নেন একজন রুশ ট্রফি স্ত্রী। আজকের দিনের গরম ইস্যু: লিঙ্গ পরিবর্তন, অটিজম, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদ উপন্যাসের প্লট হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। রেনে উটালিনডন নামের এক চলচ্চিত্রনির্মাতা গোল্ডেনের প্রতিবেশী। তিনি গোল্ডেনের ওপর একটি সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরছেন। তার জবানিতেই আমার উপন্যাসের গল্প শুনি। নিজের এজেন্টের ম্যানহাটনের অফিসে বসে সম্প্রতি রুশদি কথা বলেছেন টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে, ‘আমি শুধু বাতাসে কী শোনা যাচ্ছে, সেটাই বুঝতে চেয়েছিলাম।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে প্রবেশ করুন। দ্য গোল্ডেন হাউজ শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে বারাক ওবামার নির্বাচন দিয়ে আর শেষ হয়েছে ‘দ্য জোকার’-এর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এ ‘জোকার’ চরিত্রটি হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পসদৃশ, যার চুল সবুজ, চামড়া সাদা আর গোথাম সিটির লাল ঠোঁট। রুশদির মতে, জোকার ও ট্রাম্প উভয়ই খেলার ময়দানের অস্বাভাবিক কার্ড। এ জোকার উপন্যাসের পটভূমিতে শহরময় ঘুরে বেড়ায়, চিত্কার করে, ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। অন্যদিকে মূল চরিত্রগুলো তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে লিপ্ত থাকে। রুশদি বলেন, ‘এ উপন্যাসের বেশির ভাগ অংশই বাস্তববাদী। আমি চেষ্টা করেছি দেখাতে যে, এটাই বাস্তব দুনিয়া; সত্যিকার মানুষরা তাদের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে যুঝছে এবং এরই মধ্যে আমাদের সমাজ এ বিকট দর্শন চেহারা নিয়েছে।’

দ্য গোল্ডেন হাউজ সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ জাদুবাস্তবতানির্ভর মিডনাইট’স চিলড্রেনের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবতার ভূমিতে লেখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ উপন্যাস তার সর্বশেষ উপন্যাস টু ইয়ারস এইট মানথস অ্যান্ড টুয়েন্টি এইট (২০১৫)-এর চেয়ে বেশি অপরাধ কাহিনী গোত্রের। রুশদির মতে, তার নতুন বইটা কাফকার চেয়ে বালজাকের শৈলীর সঙ্গেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে যে বাস্তবতা রুশদির এ উপন্যাসে বিধৃত হয়েছে, তা কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন থেকে অনেক দূরের; এ গল্প ধনী নিউইয়র্কবাসীর (এ ধনীরা আবার অনেকেই ট্রাম্পের পরিবর্তে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাট ওম্যানকে ভোট দিয়েছেন)।

রুশদির বই লাখ লাখ কপি ছাপা হয়েছে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিরুদ্ধে শিল্পীদের কাজে যে প্রতিবাদ দেখা গেছে, তার প্রথম ঢেউতেই আছেন রুশদি। তবে আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, ট্রাম্পের সঙ্গে রুশদির অনেক মিল আছে। তারা হামেশাই সোসাইটি পেজে আলোচনায় থাকেন, তাদের একাধিক স্ত্রী ছিল, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ঝামেলা করেছেন এবং তারা দুজনই সিনেমায় অভিনয় করেছেন— ট্রাম্প হোম অ্যালোন টু ও রুশদি ব্রিজেট জোনস’স ডায়েরিতে। এসব মিলই কি রুশদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লিখতে উপযুক্ত ঔপন্যাসিকে পরিণত করেছে? রুশদি হেসে বললেন, ‘আপনার কথায় আমার আতঙ্ক লাগছে। এগুলো কাকতালীয় মিল।’ নিরো গোল্ডেনের অনেক গুণ ব্যবসায়ীর মতো হলেও রুশদি জানিয়েছেন, নিরো প্রকৃতপক্ষে ‘অন্য জায়গার লোক’। নিরোর চরিত্রটি মূলত মুম্বাইয়ের একজন মাফিয়ার, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের সবচেয়ে বড় ধনীদের যোগাযোগ। ‘আমি ট্রাম্পের চেয়ে গ্রিক ট্র্যাজেডি নিয়ে বেশি ভেবেছি। বইতে বৃত্তাকারে ঘুরপাক খাওয়া একটি প্রশ্ন এসেছে, কোনো মানুষের পক্ষে কি একই সঙ্গে ভালো ও খারাপ হওয়া সম্ভব? আমি সত্যিই এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেয়েছি।’

রুশদি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই তিনি তার উপন্যাসের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছিলেন এবং তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন যে, ট্রাম্পই জিততে যাচ্ছেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে হিলারি ক্লিনটনকেই সমর্থন করেছিলেন। “আমি যাচ্ছিলাম একটা হলুদ ট্যাক্সিতে, ড্রাইভার ছিল এক শিখ। জানালেন যে, তিনি ট্রাম্পকে ভোট দিতে যাচ্ছেন। আমি বললাম, ‘এ রকম কেন করবেন? ট্রাম্প আপনাকে বা আমার মতো মানুষদের পছন্দ করেন না।’ জবাবে তিনি বললেন, ‘ওহ স্যার, মি. ট্রাম্প সত্যভাষী; যা ভাবেন তা-ই প্রকাশ করেন এবং আমি বিশ্বাস করি, মি. ট্রাম্পই জিততে যাচ্ছেন’।” যদি হিলারি জিতে যেতেন তাহলে রুশদিকে তার পাণ্ডুলিপি নতুন করে লিখতে হতো। ‘আমি খুব করে বিশ্বাস করতে চাইতাম যে, ট্রাম্প জিতবেন না কিন্তু আমার বইয়ের ভাবনা ছিল ভিন্ন।’

রুশদি জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে তিনি কয়েকবারই পথে দেখেছেন। একবার তাদের দেখা হয়েছিল বছরখানেক আগে মেট্রোপলিটন অপেরায়। আরেকবার দেখা হয়েছিল ইউএস ওপেন চলাকালে। “তিনি জানতে চাইলেন, আমি টেনিস নিয়ে আগ্রহী কিনা? জবাবে বললাম, ‘হ্যাঁ আমি পছন্দ করি।’ তিনি তখন বললেন, ‘এখানে সেরা বক্সটা আমার। অন্যদের চেয়ে আমার বক্সটা অনেক ভালো। ইউএস ওপেনে এলে আপনি চাইলেই আমার বক্সটা ব্যবহার করতে পারেন’।”

মিডনাইট’স চিলড্রেনে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে চিত্রায়ণের জন্য রুশদি আইনি নোটিস পেয়েছিলেন। আর দ্য স্যাটানিক ভার্সেসের জন্য আয়াতুল্লাহ খোমেনির কোপানলে পড়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে ইরানের এই সাবেক সর্বোচ্চ নেতা রুশদিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ফতোয়া ঘোষণা করেন। ২০১২ সালে স্মৃতিকথা জোসেফ অ্যান্টন-এ তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে লিখেছিলেন। জোসেফ অ্যান্টন ছিল ব্রিটিশ পুলিশের কাছে রুশদির কোড নেম; তিনি যখন লুকিয়ে ছিলেন তখন এই ব্রিটিশ পুলিশ তাকে সুরক্ষা দিয়েছিল। তার মতে, ফতোয়া-সংক্রান্ত আলোড়নে সমালোচকরা তার লেখার হিউমারকে বুঝতে পারেননি। ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস নিয়ে এমন ভয়ানক ঘটনা ঘটায় মানুষজন আমাকেও ব্যক্তি হিসেবে একজন খারাপ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করল।’ রুশদির বিরুদ্ধে দেয়া ফতোয়া মাঝে মধ্যেই পুনরুজ্জীবিত করা হয়। তবে রুশদি বলেন, তিনি কখনই এ ফতোয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে করেননি (রুশদিও মুসলমান, তবে তিনি সেক্যুলার মানুষ)।

এখন পর্যন্ত দ্য গোল্ডেন হাউজ-এর রিভিউ বিভক্ত। নিউইয়র্ক টাইমসের সমালোচক ডুইট গার্নার উপন্যাসটিকে ‘বাগাড়ম্বরপূর্ণ ও প্রায় পাঠের অযোগ্য’ বলে মূল্যায়ন করেছেন। তবে প্রধান চারটি ট্রেড পাবলিকেশন প্রশংসামূলক রিভিউ দিয়েছে। পাবলিশার’স উইকলি এটাকে ‘আধুনিক আমেরিকায় অভিবাসীদের অভিজ্ঞতার অনবদ্য মহাকাব্য’ বলে অভিহিত করেছে।

১৯৯৯ সালের শেষ দিক থেকে রুশদি নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করছেন, এর আগে চার দশক তিনি বাস করেছেন যুক্তরাজ্যে। আগতপ্রায় ব্রেক্সিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন, “আমার মনে হচ্ছে ইংল্যান্ড এখন এমন একটি পরিবারের মতো, যারা রেলওয়ে লাইনের ওপর বনভোজন করছে। ‘তাতে সমস্যা কী? ওই টিটকারির শব্দটা কোথা থেকে আসছে? পেঁচা?’ আমি বোঝাতে চাইছি, ইংরেজরা বুঝতে পারছে না, তাদের সঙ্গে কী হতে যাচ্ছে।”

তবে রুশদি তার জন্মভূমি ভারতকে নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত। তার সঙ্গে আমার সাক্ষাত্ হয়েছিল ১৫ আগস্ট, ভারতের স্বাধীনতার ৭০তম বার্ষিকীতে। একই সঙ্গে দিনটি ছিল রুশদির তৈরি সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র সালিম সিনাইয়ের জন্মদিন। সালিম ছিলেন মিডনাইট’স চিলড্রেনের ধারাভাষ্যকার। ভারত স্বাধীন হওয়ার আগের মুহূর্তে মধ্যরাতে জন্ম হয়েছিল সালিমের, বড় হতে হতে এ ছেলে হয়ে ওঠে তার তরুণ দেশের প্রতীক (বইটির কত লাখ কপি বিক্রি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ ভারতে পাইরেটেড সংস্করণ বেশ জনপ্রিয়। ‘ভারতে একটা সময় বইটার পাইরেটেড সংস্করণ এত বেশি বিক্রি হয়েছে যে, এই নকলবাজরা আমাকে শুভেচ্ছা কার্ড পাঠাতে শুরু করে— ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার, বেস্ট উইশেস, দ্য পাইরেটস’) স্বাধীনতার ৭০ বছর পরে রুশদি সেক্যুলারিজম থেকে ভারতের সরে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন, তরুণ বয়সে তিনি ভারতকে সেক্যুলার চরিত্রে পরিচিত হতেই দেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিস্তৃতিতে রুশদি চিন্তিত। ‘সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপারটা হচ্ছে, ওখানে এসব ঘটার পরও সরকার খুব জনপ্রিয়... কাল যদি মোদি নির্বাচনের ঘোষণা  দেন, তাহলে তিনি ঝড়ের বেগে জিতে যাবেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মনে হচ্ছে, নতুন ভারতের পরিচয় এই সাম্প্রদায়িক পপুলিজম।’ তবে বিপরীতক্রমে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়তাবাদের কিছু মাত্রায় যথার্থতা আছে।

রুশদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েছেন গত বছর। আমেরিকার যে বৈশিষ্ট্য রুশদিকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে তা হলো— দেশটির মত প্রকাশের স্বাধীনতার সংস্কৃতি; দেশটি এমনকি ঘৃণা উদ্রেককারী কোনো বক্তব্য হলেও তা প্রচারের অনুমতি দেয়। ‘ইংল্যান্ডে রেস রিলেশনস অ্যাক্ট বলে একটা বিষয় আছে, এর ফলে সেখানে কোনো বর্ণবাদী মন্তব্য করা যায় না।’ রুশদি যুক্তরাজ্যে বসবাসের সময় ভাবতেন— বিষয়টা যুক্তিযুক্ত, বর্ণবাদীদের কেন ঘৃণা ছড়াতে দেয়া হবে? দুই দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অনেক ভেবেছেন, “আপনি সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন গণতন্ত্র বিভিন্ন জায়গায় সীমারেখা নির্ধারণ করে দেয়। ইউরোপের অনেক দেশে ‘হলোকাস্ট অস্বীকার’ একটি অপরাধ। এবং আমি একসময় সত্যি সত্যি মত প্রকাশের স্বাধীনতার সংজ্ঞাকে আরো বিস্তৃত ক্যানভাসে দেখা শুরু করলাম এবং সেটা হলো আমেরিকান সংজ্ঞা। আমার কাছে মনে হলো, প্রকাশে বাধা দিয়ে আপনি কোনো পচা ধারণা থেকে মুক্তি পাবেন না এবং বাধা দিয়ে আপনি বরং সেগুলোকে আরো শক্তিশালী করে তুলবেন, কারণ আপনি সেগুলোকে ট্যাবুর শক্তি দিচ্ছেন।” রুশদি এখন কিছুটা চিন্তিত। কারণ তার মনে হচ্ছে, তরুণ আমেরিকানরা কোনো ঝামেলায় না জড়ানোর জন্য নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিচ্ছেন।

দ্য গোল্ডেন গেট উপন্যাসে রুশদি বিষয়টি নিয়ে এগিয়েছেন, সঙ্গে আছে অটিজমে আক্রান্ত একটি চরিত্র; আরেকটি চরিত্র আছে ট্রান্সজেন্ডার। এ রকম সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে রুশদি স্নায়ুর চাপে ভুগছিলেন। ‘চারদিকে অসংখ্য ফাঁদ ও ল্যান্ডমাইন। যেকোনো সময় সেগুলোর ওপর পা পড়তে পারে এবং আপনার পা উড়ে যেতে পারে। কিন্তু বুঝতে পারছিলেন যে, তিনি বিষয়গুলোর প্রতি ন্যায়বিচার করতে পারবেন। গবেষণার পাশাপাশি রুশদির অটিস্টিক ও হিজড়া বন্ধু আছে। তাছাড়া গেটস ফাউন্ডেশনের এইডস-বিষয়ক একটি প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে তিনি মুম্বাইয়ে হিজড়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় কাটিয়েছেন।

তার কাজের সমালোচনায় সুন্দরী নারীদের প্রতি তার আকর্ষণের বিষয়টি ঢুকে পড়ে বলে রুশদি কিছুটা অস্বস্তিতে থাকেন। ‘বেশির ভাগ লেখকের জীবন কাগজে শব্দ নিয়ে সংগ্রাম করতে করতে নীরবে কেটে যায়। আমি তেমনই একজন লেখক। ট্যাবলয়েডগুলো আমাকে যতটা মিশুক হিসেবে তুলে ধরে, আমি মোটেও তেমনটা নই। সত্যি বলতে, আমি বড় পার্টি পছন্দ করি না। বড়জোর দুজন বন্ধুকে নিয়ে ডিনার করতে পছন্দ করি। অন্য সব আবর্জনা বাদ দিয়ে বইয়ের ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করাটাই মনে হয় সবচেয়ে ভালো।’ রুশদি বলে চললেন, “প্রচলিত ঘরানার বেস্ট সেলার ফিকশন লেখার পরিবর্তে যদি আপনি এ ধরনের বই লেখেন, তার মানে আপনি সাময়িক পরিতৃপ্তির জন্য লিখছেন না; বরং আপনি লিখছেন যেন বইগুলো বহুকাল টিকে থাকে সেই আশায়। এবং সত্য হচ্ছে এটাই যে, এ রকম ধরনের কিছু বইয়ের বয়স এখন অনেক; কিন্তু মানুষ ভাবে যে, বইগুলোর এখনো কিছু বলার আছে। এটা ভাবলে আমার সত্যিই খুব ভালো লাগে। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মার্টিন আমিস এই অসাধারণ কথাটা আমাকে বলতেন, ‘তোমার আশা শুধু এটুকুই যে, বিদায় নেয়ার সময় তুমি কেবল এক সেলফ ভর্তি বই রেখে যাবে।’ এখন পর্যন্ত ১৮টা হয়েছে। মানে আমার সেলফ পূর্ণ হতে শুরু করেছে।”

 

লেখাটি টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত