গুপ্তচরবৃত্তি মানুষের দ্বিতীয় প্রাচীনতম পেশা এবং প্রথম পেশাটির মতোই সম্মানীয়।

— মাইকেল জে. ব্যারেট, জার্নাল অব ডিফেন্স অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি, ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪

 

বিশ শতকে স্পাই থ্রিলার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনেকে বলেন, এসব থ্রিলারের বিকাশ মূলত হয়েছে পশ্চিমা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর নানা ধরনের রাজনৈতিক অভিলাষের কল্পনা থেকে। বাস্তব যেসব আশ্চর্য রাজনীতি-গুপ্তচরবৃত্তি মানুষের অজানা রয়ে যায়, যেসব ঘটে তাদের চোখের আড়ালে, সেগুলোই স্পাই থ্রিলার হয়ে পাঠকের চোখের সামনে ধরা দিল। স্পাই থ্রিলারের গল্পে থাকে যৌনতা, সহিংসতা, খুনোখুনি— এগুলো সবই মানুষের নিষিদ্ধ আকর্ষণের বিষয়, তাই স্পাই থ্রিলার জনপ্রিয় না হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।

আমেরিকার বিপ্লব, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, বিশ্বযুদ্ধ, ঠাণ্ডা যুদ্ধ— সবই স্পাই থ্রিলারের বহুল ব্যবহূত প্রেক্ষাপট। লেখকরা এসব বিষয়কে প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করে অনেক বাস্তব ঘটনা, ভূগোল নিয়ে গল্প তৈরি করেন। এক কথায় এসব কাহিনীতে ফিকশন ও নন-ফিকশন উভয়েরই মিশ্রণ ঘটে যায়। একসময় এসব থ্রিলার ‘ইতিহাসের ষড়যন্ত্রমূলক বিবরণী’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

স্পাই থ্রিলারের একজন খ্যাতিমান গুরু গ্রাহাম গ্রিন। ১৯৫৭ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল দ্য স্পাই’জ বিসাইড বুকস। বইটি গ্রিন উৎসর্গ করেছিলেন উইলিয়াম লা কুয়ে ও জন বুকানের অমর স্মৃতির উদ্দেশে। এ সুযোগে জানিয়ে রাখা যায়, বইটি প্রকাশের পর পরই এর ১০০ কপি কিনে নিয়েছিল পূর্ব জার্মানির গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রিনের উৎসর্গপত্রে উইলিয়াম লা কুয়ে ও জন বুকানকে নিয়ে যতটা আশা করেছিলেন, ততটা বিখ্যাত কিন্তু তারা শেষমেশ হননি। তা সত্ত্বেও মনে রাখা দরকার গ্রিন যে দুজন লেখকের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন, তারা ছিলেন স্পাই থ্রিলারের অন্যতম অগ্রদূত। এসব উপন্যাস যখন সাহিত্যের একটি স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে গড়ে উঠছে, তখন লিখতেন কুয়ে ও বুকান। এ দুজনকে এখনকার দর্শকরা ভুলে গেলেও স্পাই নভেল বা থ্রিলারের বিবর্তনে তাদের ভূমিকা স্মরণীয়। এর পরে আরো ক’জন লেখকের ভূমিকাকেও স্মরণ করা প্রয়োজন, তারা হলেন জোসেফ কনরাড, সমারসেট মম ও গ্রিন নিজে।

দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে সান জু লিখেছিলেন, ‘শত্রুর বিন্যাস সম্পর্কে তথ্য পেতে একমাত্র ভরসা অন্য কোনো মানুষ।’ খুব সাধারণ একটি বক্তব্য মনে হলেও এটাই হচ্ছে আজ পর্যন্ত গুপ্তচরবৃত্তির অন্যতম মূলনীতি। গুপ্তচর নিয়ে চীনাদের প্রাচীন ধারণাকে সহজ কথায় ব্যাখ্যা করা যায় এভাবে— যিনি কোনো ফুটো দিয়ে উঁকি মারেন।

গুপ্তচরবৃত্তির সাহিত্যের উৎস তালাশে আমাদের অতি অবশ্যই যেতে হবে চীনের প্রাচীন সময়ে। ৪৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এখানেই লিখিত হয়েছিল ইতিহাসের প্রথম যুদ্ধ ও গুপ্তচরবৃত্তি বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ। বইটির নাম সবারই কম-বেশি জানা— সান জুর পিং ফা বা আর্ট অব ওয়ার। গুপ্তচরবৃত্তির জন্য সে আমলেই নয় বরং এখনো সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দাদের স্কুলে অপরিহার্য এক গ্রন্থের নাম আর্ট অব ওয়ার।

ফুটো দিয়ে উঁকি দেয়াটা নিশ্চয়ই গুপ্তচরবৃত্তিকে পুরো ব্যাখ্যা করতে পারে না। তবে স্পাই থ্রিলারে লেখককে এটাই করে দেখাতে হয়। সাহিত্যের এ শাখাটি মূলত পিপশো। একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অভ্যন্তরে উঁকি দিয়ে সংক্ষিপ্ত ঝলক দেখাতে হয় লেখককে। কিন্তু এ ঝলকের প্রেক্ষিতটাই বিভিন্ন যুগে পরিবর্তিত হয়েছে।

দুনিয়ায় গুপ্তচরদের অস্তিত্ব আছে হাজার বছর ধরে। তারা কাজ করেছেন গির্জা, রাষ্ট্র কিংবা ব্যবসায়ীদের পক্ষ হয়ে। প্রাচীন ইসরায়েলেও গুপ্তচরবৃত্তির উপস্থিতি ছিল, ওল্ড টেস্টামেন্টে জোশুয়া এবং মোজেস গুপ্তচরদল নিয়োগ করেছিলেন। কিছুদিন পর একটু উত্তর দিকে এগোলে দেখা যায় আলেকজান্ডার এবং জুলিয়াস সিজার তাদের গুপ্তচর বিভাগের তত্পরতায় প্রভূত উপকৃত হয়েছিলেন। ড্যানিয়েল ডিফোর নাম কে না জানে! রবিনসন ক্রুসোর লেখক কিন্তু গুপ্তচর ছিলেন। নারী গুপ্তচররাও দুনিয়া কাঁপিয়েছেন। কনফেডারেটদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেছিলেন রোজ গ্রিনহাউ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আলোচিত হয়েছেন মাতা হারি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত এবং মার্কিন ঠাণ্ডা যুদ্ধে গুপ্তচররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

উনিশ শতকের শুরুর দিকে স্পাই নভেল/থ্রিলারের আকস্মিক বিস্ফোরণ দেখা যায়। তবে খেয়াল করলে দেখা যাবে এর দুটি— ১. উনিশ শতকের শেষভাগে নৈরাজ্যবাদী এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে রচিত ফিকশন, ২. ভিক্টোরিয়ান পর্নোগ্রাফি, যেখানে বদ্ধ দরজার ভেতরে অনৈতিক চর্চার গল্প লেখা হতো। তবে এসবেরও আগে স্পাই জনরায় একটি প্রত্যক্ষ সংযোজন হয়েছিল, যার নাম দ্য স্পাই: আ টেল অব দ্য নিউট্রাল গ্রাউন্ড (১৮২১)। লেখক ছিলেন জেমস ফেনিমোর কুপার। দ্য স্পাই তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু এটাই প্রথম স্পাই থ্রিলার। এবং এর মাধ্যমেই এ জনরায় ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ব্যবহার দেখা যায়: নিউইয়র্ক রাজ্যে আমেরিকান বিপ্লবের পটভূমি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য গুপ্তচরদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, ব্রিটিশ লেখকরা এটা জানতেন। অন্যদিকে তারা এটাও বুঝতেন কিছু জায়গায় সাম্রাজ্যের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও আছে। ব্রিটিশ লেখকরা এসব ঝুঁকি ও সমাধান চিত্রিত করতে আশ্রয় নেন স্পাই থ্রিলারের। উনিশ শতকের শুরু থেকে স্পাই থ্রিলার একের পর এক প্রকাশিত হতে শুরু করে আর এগুলো এসেছিল তখন ব্রিটিশ লেখকদের কলম থেকে। বেশ কয়েক দশক ধরে ব্রিটিশ লেখকরাই স্পাই থ্রিলার লেখায় তাদের মনোপলি বজায় রেখেছিলেন। এটা ছিল লন্ডনের প্রকাশনা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা, বিশ্ব রাজনীতিতে ব্রিটেনের আধিপত্য ও একই সঙ্গে বহু বিস্তৃত হওয়ায় সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার আশঙ্কা।

স্পাই থ্রিলারের সীমানা প্রথম নির্ধারণ করেছিল যে দুটি বই, সেগুলো হচ্ছে রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের ‘কিম’ (১৯০১) এবং এর্সকাইন শিল্ডারের ‘দ্য রিডল অব দ্য স্যান্ডস’ (১৯০৩)। এ দুই উপন্যাসেই লেখকরা ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে গুপ্তচরদের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করেছেন।

জেমস ফেনিমোর কুপার (১৭৮৯-১৮৫১) ছিলেন আমেরিকার প্রথম সফল জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। অল্প বয়সে বাবাকে হারান এবং ৩০ বছর বয়সে পৌঁছতেই দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে হাজির হন। এরপর তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের আদর্শ ধরেছিলেন স্যার ওয়াল্টার স্কটকে। কুপারের প্রথম উপন্যাস ‘প্রিকওশন’ প্রকাশিত হয় ১৮২০ সালে। পরের বছর প্রকাশিত হয় দ্য স্পাই: আ টেল অব দ্য নিউট্রাল গ্রাউন্ড। বইটি আমেরিকায় বেশ সাফল্য পায়। গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে প্রথম উপন্যাস হওয়ায় লেখক কুপারের সামনে কোনো আদর্শ ছিল না। তাকে বরং কিছু প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ধারার ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে, তিনি মূলত ব্যবহার করেছেন ঐতিহাসিক অ্যাডভেঞ্চার। এর সঙ্গে জুড়ে দেন গুপ্তচরদের ছলনা এবং গোপনে কাজ করার প্রক্রিয়া।

কুপারের উপন্যাসের মূল চরিত্র হ্যারি বার্চ। কয়েকজন অভিজাত দেশপ্রেমিক সন্দেহ করেন হ্যারি ব্রিটিশদের গুপ্তচর। এমনকি জর্জ ওয়াশিংটনও তাকে ভুলে বোঝেন। ওয়াশিংটন সেই হ্যারিকে টাকার লোভ দেখিয়ে তথ্য জানতে চান। কিন্তু হ্যারি অবজ্ঞাভরে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায়, টাকা-পয়সার লোভ তার নেই, সে বরং আমেরিকার স্বাধীনতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়। কুপার তার গল্পটি তৈরি করেছেন একটি বার্তা দেয়ার জন্য— যেকোনো জাতির অস্তিত্ব, বিপ্লব নির্ভর করে তার নাগরিকদের কর্মকাণ্ডের ওপর, তাদের বংশ পরিচয় বা মর্যাদার ওপর নয়। কুপার শুরুতে বার্চকে কর্মঠ, সৎ মানুষ হিসেবে দেখিয়েছেন, যেটা আমেরিকার শক্তি এবং দেশপ্রেমের প্রতীক। এরপর কাহিনী বিস্তৃত হতে হতে কুপার বার্চের মধ্যে গুপ্তচরের বৈশিষ্ট্যগুলো আরোপ করতে শুরু করেন।

নোবেলজয়ী রুডইয়ার্ড কিপলিং (১৮৬৫-১৯৩৬) উপন্যাস, গল্প ও কবিতা লিখেছেন, যেগুলোর বেশির ভাগই ভারত ও বার্মার প্রেক্ষাপটে। কিপলিংয়ের জন্ম বোম্বাইয়ে। ছয় বছর বয়সে তাকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার স্পাই থ্রিলার কিম প্রকাশিত হয় ১৯০১ সালে। অবশ্য এর আগেই দ্য জাঙ্গল বুক (১৮৯৪) এবং ক্যাপ্টেনস কারেজিয়াস (১৮৯৭) প্রকাশিত হয়ে কিম বিখ্যাত হয়ে গেছেন। শিগগিরই এটা ব্রিটেনের সাম্রাজ্যবাদী যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সাহিত্যকর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যায় এবং ভিক্টোরীয় যুগের শেষভাগের সাম্রাজ্যবাদী সাহিত্যের আদর্শ হয়ে ওঠে। উপন্যাসের নায়ক কিম এক এতিম অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এবং সে ভারতীয় উপনিবেশে ব্রিটিশদের গুপ্তচর ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠে।

অনেক সমালোচক মনে করেন কিম উপন্যাসটি নায়কোচিত স্পাই থ্রিলারের প্রান্তিক মডেল বড়জোর। কিন্তু স্পাই থ্রিলারের বিবর্তনে কিম একটি স্তম্ভ। এ উপন্যাস সাম্রাজ্যবাদী, একই সঙ্গে এতে ভারতীয়দের ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

কিম উপন্যাসে আমরা দেখি কিমবল ও’হারা, এক আইরিশ সেনার এতিম সন্তান। কিমকে পালন করে এক ভবঘুরে লামা। একসময় কিমকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়। সে ছিল লামার চ্যালা। কিম ব্রিটিশদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতে কোনো সমস্যা দেখেনি। কিমের কাছে এটি ছিল একটা খেলা এবং তাতে নৈতিকতা, বৈধতার প্রয়োজন ছিল না। উপন্যাসে কিছু গৌন চরিত্রে ভারতীয়দের দেখা পাওয়া যায়, কিন্তু সেটা কেবল ব্রিটিশ শাসনকে বৈধতা দিতেই।

কিমে যথেষ্ট নায়কোচিত বৈশিষ্ট্য না থাকা এবং সাম্রাজ্যের পক্ষে কিপলিংয়ের সওয়ালের পরও স্পাই থ্রিলারের ইতিহাসে বইটি একটি গুরুতর সংযোজন। প্রথমত, বইটি থ্রিলার ফিকশন লেখার জন্য একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে স্থানীয় মানুষ, ভ্রমণবৃত্তান্ত, নায়কোচিত অ্যাকশন, শত্রুকে নিজের মতো করে বর্ণনা যুক্ত হয়। কিপলিংয়ের এ ফর্মুলারই একটু ভিন্নভাবে প্রয়োগ দেখা যায় এর্সকাইন শিল্ডারের দ্য রিডল অব দ্য স্যান্ডস (১৯০৩) উপন্যাসে। এতে দেখা যায় দুজন ইংরেজ গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে জার্মানদের একটি আকস্মিক নৌ-হামলাকে নস্যাৎ করে দেয়।

জোসেফ কনরাড পোলিশ বাবা-মায়ের সন্তান। অল্প বয়সেই এতিম হয়েছিলেন। কিশোর বয়সে জাহাজে কাজ করেছেন, সে সময় নানা অ্যাডভেঞ্চারে কেটেছে তার জীবন। ১৮৮৬ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সমসাময়িক বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে তার উপন্যাসে ব্যবহার করেছেন। তবে তার সময়কার অন্য লেখকদের তুলনায় তিনি তার চরিত্রগুলো অনেক জটিল রূপ দিতে পেরেছিলেন। উনিশ শতক শেষ হতে হতে গুপ্তচররা শুধু মধ্যম গোছের অ্যাডভেঞ্চার লেখক নয় বরং প্রথিতযশা সাহিত্যিকদেরও আকর্ষণ করতে শুরু করে। দস্তয়ভস্কি তার বেশকিছু উপন্যাসে গোপন কর্মকাণ্ডকে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু প্রথমবারের মতো গুপ্তচরবৃত্তিকে কেন্দ্রীয় থিম হিসেবে ব্যবহার করে একটি আধুনিক ট্র্যাজেডি দ্য সিক্রেট এজেন্ট (১৯০৭) রচনা করেছিলেন কনরাড। এ বইয়ের মাধ্যমে কনরাড একটা নতুন ফর্ম উদ্ভাবন করেন। বিশেষত গোপন তত্পরতার জগতে তিনি নতুন একটি ধরন হাজির করেন। ডিকেন্স, দস্তয়ভস্কি এবং আর্থার কোনান ডয়েলের লেখার মাধ্যমে উনিশ শতকেই পাঠক গোয়েন্দা কাহিনীর স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু কনরাড গোয়েন্দা কাহিনীতে রাজনৈতিক ঘটনা, ব্যক্তি ষড়যন্ত্র এবং মতাদর্শিক কর্মকাণ্ড জুড়ে দেন। তিনিই ইংরেজি ভাষায় প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক-গোয়েন্দা কাহিনীর জন্ম দেন। রহস্য থেকে গল্পকে মতাদর্শিক, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নিয়ে যান কনরাড।&dquote;&dquote;

কিথ চেস্টারটন (১৮৭৪-১৯৩৬) ছিলেন সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, কবি, সমালোচক এবং ঔপন্যাসিক। তবে বিখ্যাত হয়ে আছেন তার গোয়েন্দা উপন্যাসগুলোর জন্যই। ১৯০৮ সালে তিনি একটি স্পাই স্টোরি লিখলেন— দ্য ম্যান হু ওয়াজ থার্সডে: আ নাইটমেয়ার। এ উপন্যাসে তিনি গুপ্তচরদের ধোঁকা দেয়ার বিষয়টি হাজির করেন। চেস্টারটন ছিলেন নৈরাজ্যবাদী মতাদর্শের মানুষ। অন্তত তার লেখায় সেটাই পাওয়া যায়। তার কথায় নৈরাজ্যবাদী হচ্ছেন ‘একজন শিল্পী। তিনি যখন বোমা মারেন, তখন সেটা শিল্প।’ অনেক সমালোচক, ভক্ত মনে করেন, দ্য ম্যান হু ওয়াজ থার্সডে হচ্ছে দুনিয়ার সেরা স্পাই থ্রিলার। চেস্টারটন যখন তার উপন্যাসটিতে ডাবল এজেন্টকে দেখিয়েছেন, তখন দুনিয়ায় এ রকম ঘটনা পরিচিত ছিল না। অনেক লেখকের কাছেই দ্য ম্যান হু ওয়াজ থার্সডে স্পাই থ্রিলারের একটি আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্পাই থ্রিলারে জন বুকান (১৮৭৫-১৯৪০) জীবিত অবস্থায় মূল্যায়িত না হলেও তার মৃত্যুর পর অন্য কাজগুলো ছাড়িয়ে তিনি তার এ ঘরানার বইগুলোর জন্যই স্মরণীয় হয়ে আছেন। তার চারটি জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার হচ্ছে দ্য থার্টি নাইন স্টেপস (১৯১৫), গ্রিন ম্যান্টেল (১৯১৬), মি. স্ট্যান্ডফাস্ট (১৯১৯), দ্য থ্রি হস্টেজ (১৯২৪)।

বুকান প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। এরপর তাকে তথ্য দপ্তরের পরিচালক করা হয়। শেষে ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তরের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। কর্মক্ষেত্রের এ অভিজ্ঞতাই সম্ভবত বুকানকে স্পাই থ্রিলারের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়তা করেছিল। তার কাহিনীতে দেখা যায় শত্রুর গুপ্তচর নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ, একাকী স্পাই এজেন্টদের তত্পরতা।

বুকান স্পাই থ্রিলারকে আধুনিক করতে চেয়েছেন তার সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা, বিপদ এবং চ্যালেঞ্জকে তার কাহিনীতে যুক্ত করে। বুকানের উত্তরসূরি ছিলেন এরিক অ্যাম্বলার, গ্রাহাম গ্রিন ও জন লা কারে। 

বিশ এবং ত্রিশের দশকে স্পাই থ্রিলারের স্বর এবং দিকনির্দেশে মৌলিক পরিবর্তন দেখা যায়। এ সময় স্পাই থ্রিলার লেখকদের একটি নতুন স্কুল যাত্রা করে। এ স্কুলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সমারসেট মম, এরিক অ্যাম্বলার, গ্রাহাম গ্রিন। তারা স্পাই হিসেবে জটিল মনস্তত্ত্বের চরিত্র তৈরি করেন, যা ছিল অভূতপূর্ব। তারা এ সাহিত্যধারার নন্দনতত্ত্বের দিকেও মনোযোগ দিয়েছিলেন।

সমারসেট মমের অ্যাশেনডেন অর দ্য ব্রিটিশ এজেন্ট (১৯২৮) ছিল এ নতুন চেহারার প্রথম উপন্যাস। এটিই দুনিয়ার প্রথম বাস্তবধর্মী স্পাই থ্রিলার হিসেবে মর্যাদা পেয়েছিল।

বিশ শতকের অন্যতম পাঠকপ্রিয় ও মর্যাদাবান লেখক উইলিয়াম সমারসেট মম (১৮৭৪-১৯৬৫) এক ধনাঢ্য ব্রিটিশ আইনজীবীর সন্তান। অবশ্য অল্প বয়সেই তিনি বাবা-মাকে হারান। জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তিনি লন্ডনের সেন্ট টমাস হসপিটালে চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়ন শুরু করেন। চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় ল্যামবেথের বস্তিতে ধাত্রীসেবায় একজন সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ অভিজ্ঞতা তাকে প্রথম উপন্যাস ‘লিজা অব ল্যামবেথ’ (১৮৯৭) লিখতে সহায়তা করেছিল। এ উপন্যাসের সাফল্যে তিনি চিকিৎসা পেশা ছেড়ে পুরোদস্তুর লেখক হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি রেড ক্রসের অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজ নেন। তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি একজন ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জন ওয়ালিঞ্জারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জন ভারতে কাজ করেছিলেন এবং তখন ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের হয়ে কাজ করছেন। এ সাক্ষাত্কারই মমকে স্পাইদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিল। মম পরবর্তীতে নিজেই গুপ্তচরবৃত্তিতে নিয়োজিত হয়েছিলেন। তার কর্মস্থল জেনেভা থেকে শুরু হয়ে রুশ বিপ্লবের সময় পেট্রোগার্ডে এসে শেষ হয়। নিজের এ প্রত্যক্ষ জ্ঞান তিনি তার অ্যাশেনডেন অর দ্য ব্রিটিশ এজেন্ট উপন্যাসে ব্যবহার করেছিলেন। এরিক অ্যাম্বলারের মতে, ‘অ্যাশেনডেন হচ্ছে সিক্রেট এজেন্টের জীবন নিয়ে প্রথম কোনো উপন্যাস, যেখানে লেখক যা লিখছেন, সে বিষয়ে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চলা ঠাণ্ডা যুদ্ধ সাধারণ মানুষের মনে গুপ্তচরবৃত্তি সম্পর্কে ধারণায় বিরাট পরিবর্তন সূচিত করে। এ সময় মানুষ গুপ্তচরদের নানা ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে অনেক স্পষ্টভাবে জানতে শুরু করেন। এবং গুপ্তচরবৃত্তি সাধারণের মনে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং মানুষ গুপ্তচরদের রোমাঞ্চকর, ঝুঁকিপূর্ণ জীবন সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এ পরিস্থিতি তৈরিতে যে ঠাণ্ডা যুদ্ধ নিয়ে লেখা অসংখ্য স্পাই থ্রিলারের অবদান ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লেখকদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তা, সিআইএ এজেন্ট ও অভিযাত্রীরা। এগুলোর অনেকগুলোই লেখা হয়েছিল আত্মজীবনীর ছদ্মবেশে, কিন্তু পাঠকমাত্রই জানেন এগুলো ফিকশনের চেয়েও রোমাঞ্চকর। যতসংখ্যক থ্রিলারই প্রকাশ হোক আর লেখক যে-ই হোন না কেন এবার গুপ্তচররা গ্ল্যামার পেয়ে হয়ে উঠলেন রোমান্টিক হিরো।

ষাটের দশক থেকে স্পাই থ্রিলারগুলো মূলত রোমান্টিক অ্যাডভেঞ্চারের চেহারা পেতে থাকে। দুর্দান্ত সব ভৌগোলিক লোকেশন, যৌনতা আর নানা অ্যাডভেঞ্চার কৌশলে জেমস বন্ডই মনে হয় এ বিভাগের সেরা প্রতিনিধি। তবে এসবের মধ্যেও ছিল গভীর, জটিল বার্তা এবং রাজনীতি। ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রেক্ষিত বা সময়কালে রচিত স্পাই থ্রিলারগুলোয় দুনিয়াকে দুটি সরল ভাগে বিভক্ত করা হতো— এক পাশে মঙ্গলময় পশ্চিমা গণতন্ত্র এবং অন্য পাশে শয়তানি সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্র। উপন্যাসগুলোয় পশ্চিমা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের দারুণ প্রকাশ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা এবং তার একার পক্ষে পরিস্থিতি পরিবর্তন করার যে ক্ষমতা, সেটাকেই উদযাপন করেন গুপ্তচর নায়করা। সময়ের প্রয়োজনে এসব বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণও ছিল, কারণ তখন আর প্রত্যক্ষ যুদ্ধ নেই, অন্যদিকে আছে জটিল ভূরাজনীতি। এখানে পরাশক্তিগুলো একে অন্যকে বিপদে ফেলতে নানা ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির কৌশল ব্যবহার করে। যুদ্ধ নেই, তাই গুপ্তচররা এবার নায়ক হিসেবেই আবির্ভূত হলেন।

স্পাই থ্রিলার উপন্যাসের কল্পনা পরিস্থিতির বাস্তবতাকে অনুসরণ করে, অন্তত আক্ষরিক অর্থে না হলেও নতুন বিশ্লষণ সে হাজির করে। কোল্ড ওয়ারের যুগে এ কাজ বেশ সফলভাবে করেছেন ইয়ান ফ্লেমিং, লেন ডেইটন, জন লা ক্যারে। এ যুগের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লা ক্যারের একটি উদ্ধৃতি সহায়ক, ‘আমরা যুদ্ধটা জিতে গিয়েছিলাম। আমরা শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি। এক কথায় আমাদের বিজয় অর্জিত হয়নি। যখন আমরা নতুন শত্রুর কথা বলি, তখন কোনো না কোনোভাবে আমরা নিজেদের কথাই বলি।’

ইয়ান ফ্লেমিং (১৯০৮-১৯৬৪) জেমস বন্ডের স্রষ্টা। এটা সবারই জানা। তার পরও একবার তার পরিচয় দেয়া যাক। তিনি হলেন ফ্লেমিংয়ের কল্পনা থেকে সৃষ্ট একজন ব্রিটিশ এজেন্ট ০০৭। মানুষ হত্যা করার লাইসেন্স আছে তার। ফ্লেমিং ছিলেন ব্রিটিশ নৌবাহিনীর গোয়েন্দা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে তার প্রথম উপন্যাসগুলো তার কর্মজীবনের বাস্তবতাকে স্পর্শ করেনি, সেগুলো ছিল বরং মনোরম প্রাকৃতিক স্থান, সুন্দরী নারী এবং উত্তেজনাকর সব অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সাধারণ মানুষের অবচেতন মনে জেমস বন্ড এবং ইয়ান ফ্লেমিংয়ের নাম-পরিচয় গুলিয়ে যায়। যেমনটা দেখা যায় টারজান ও এর স্রষ্টা এডগার রাইজ বারোজ এবং মিকি মাউস ও ওয়াল্ট ডিজনির ক্ষেত্রেও।

তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্রষ্টার চেয়ে সৃষ্টির জনপ্রিয়তা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের মৃত্যুর পর অর্ধশতক কেটে গেছে কিন্তু জেমস বন্ডের জনপ্রিয়তা দুনিয়ায় এতটুকু কমেনি। তবে আজকের প্রজন্মের মানুষ বন্ডকে চিনলেও ফ্লেমিংয়ের নাম কতজন জানেন, তা নিয়ে সংশয় আছে। জেমস বন্ড উপন্যাস থেকে নির্মিত হয়েছে সিনেমাও। বলে রাখা ভালো জনপ্রিয়তায় সিনেমাগুলো উপন্যাসকে ছাড়িয়ে গেছে। জেমস বন্ড এখনো বইয়ের পাতায় এবং বড় পর্দায় দুষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। জেমস বন্ড চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এবং ব্যবসাসফল ফিল্ম সিরিজ।

ইয়ান ফ্লেমিংয়ের উপন্যাস তার সমসাময়িক লেখকদের তুলনায় অনেক সরল। তার পরও স্পাই থ্রিলারের বিবর্তনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সাম্রাজ্য না থাকলেও ফ্লেমিং ব্রিটিশদের শক্তি ও মর্যাদায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের শ্রেষ্ঠত্বের অতীতে গর্বিত ছিলেন। এ গর্ব তার মধ্যে তৈরি হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ নেভাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সময়।

কিছু ক্ষেত্রে ফ্লেমিং তার উত্তরসূরি ব্রিটিশ লেখক বুকানকে অনুসরণ করেছেন। কিন্তু তিনি ১৯৫০-এর দশকে এ থ্রিলার সাহিত্যকে বিবর্তিতও করেছেন। ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় জেমস বন্ড সিরিজের প্রথম উপন্যাস ‘ক্যাসিনো রয়াল’। এরপর ১৯৬৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফ্লেমিং প্রতি বছর অন্তত একটি বন্ড উপন্যাস রচনা করেছেন। বন্ড উপন্যাসগুলো ব্রিটিশ ও আমেরিকান দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। তবে নারী বিষয়ে বন্ডের কিংবা বলা যায় ফ্লেমিংয়ের মতামত আজকের দিনে রীতিমতো অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয়, ক্যাসিনো রয়ালে ফ্লেমিং নারীকে স্রেফ উপভোগ, বিনোদনের বস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ক্যাসিনো রয়ালের মাধ্যমে শুরু হয়ে প্লেবয় ম্যাগাজিনের মতো বন্ড সিরিজ ষাটের দশকে পুরুষদের জীবনযাত্রার ফ্যান্টাসি হয়ে ওঠে। যৌনতা এবং নানা উপাদেয় জিনিসের স্বাদ নেয়া ছিল বন্ডের বৈশিষ্ট্য। যেমন ক্যাসিনো রয়ালে বন্ডকে একটি বেন্টলি গাড়ি চালাতে দেখা যায়। আবার ডিনারে যাওয়ার সময় সেরা শ্যাম্পেন, ক্যাভিয়ার খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বন্ডকে আলোচনা করতে শোনা যায়। তবে সমালোচকরা মনে করেন বন্ড উপন্যাসগুলো লেখার সময় ফ্লেমিং দুনিয়ার পরিস্থিতিকে তুলে ধরতে পারেননি, বরং তিনি বন্ডকে গ্ল্যামার দিতেই ব্যস্ত ছিলেন।

ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় আরেক ধরনের থ্রিলারের আগমন ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে প্রকাশ হয় অ্যালিস্টার ম্যাকলিনের দ্য গানস অব নাভারন (১৯৫৭), জ্যাক হিগিনসের দ্য ইগল হ্যাজ ল্যান্ডেড (১৯৭৫) এবং কেন ফলেটের আই অব দ্য নিডল (১৯৭৮)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক বিবরণী থেকে এ রকম অনেক স্পাই থ্রিলার পাওয়া যায়। আবার ঐতিহাসিক ঘটনার ফিকশনাল বিবরণী নিয়েও লেখা হয়েছে অনেক উপন্যাস।

কুপারের দ্য স্পাই: আ টেল অব নিউট্রাল গ্রাউন্ড প্রকাশ হওয়ার পর থেকে কেটে গেছে প্রায় ২০০ বছর। অনেক বিবর্তন শেষেও একটি বিষয় সবসময়ই স্পাই থ্রিলারের সঙ্গে ছিল, সেটা হলো সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। যুদ্ধ, ভূরাজনীতি ছাড়া গুপ্তচরবৃত্তি জমে না। এটাই স্পাই থ্রিলারের বাস্তবতা।

 

সূত্র:আ পলিটিক্যাল হিস্টরি অব এসপিওনেজ ফিকশন, ব্রেট এফ. উডস