অনু কুমার। অনুবাদ: এস এম রশিদ
১৮৫১ সালে প্রকাশিত হয় হারম্যান মেলভিলের উপন্যাস মবি ডিক। কিন্তু প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বইটি বিস্মৃতির জলে তলিয়ে যায়। অর্ধশতকের বেশি সময় পর বইটি তার দ্বিতীয় জন্ম পায়, নাকি পুনর্জন্ম— যেটাই হোক, সেটা ঘটেছিল ১৯১৯ সালে লেখকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষেই। এরপর মেলভিল অমরত্ব পেয়েছেন, তার বই একদিকে যেমন ক্ল্যাসিক হিসেবে বহুল পঠিত, তেমনি বইটিকে বিরল গোত্রের উপন্যাস হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। উপন্যাসটির জটিলতা পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
মেলভিল গবেষক এবং ভক্তরা এখনো মবি ডিকের রহস্যকে উন্মোচন করার নেশায় গবেষণা করছেন এবং কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্যের রহস্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৮৪১ সালে ২১ বছর বয়সে মেলভিল তিমি শিকারি জাহাজ আকুশনেটে চড়ে বসেন। এ জাহাজে চড়ার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল মারকুয়েসাস দ্বীপপুঞ্জে কয়েক মাস সময় কাটানো। প্রশান্ত মহাসাগরে অনেকগুলো অ্যাডভেঞ্চার শেষে মেলভিল ১৮৪৪ সালে বোস্টনে ফিরে আসেন। এ অভিজ্ঞতা অতি অবশ্যই তার শুরুর লেখাগুলোয় প্রভাব বিস্তার করেছিল। তার প্রথম উপন্যাসগুলো ছিল তাইপি, ওমু।
পণ্ডিতরা দেখিয়েছেন মবি ডিকের গল্প ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত দক্ষিণ সাগরের তিমি মোচা ডিকের কাহিনী দিয়ে অনুপ্রাণিত, মোচা ডিকের গল্প লিখেছিলেন জেরেমিয়াহ রেনল্ডস।
মেলভিলের জন্ম ১৮১৯ সালে। সে সময় এসেক্স নামে একটি তিমি শিকারি জাহাজের ফার্স্ট অফিসার ছিলেন ওয়েন চেজ। তিনি ৮৫ ফুট লম্বা একটি স্পার্ম হোয়েলের আক্রমণে তাদের জাহাজডুবির ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। জাহাজের ক্রুরা কয়েকটি লাইফবোটে চড়ে জীবন রক্ষা করেন। জীবন রক্ষার জন্য তারা একে অন্যের মাংসও খেয়েছিলেন।
মৎস্য অবতার
তিমি শিকারের দুনিয়ায় নিজস্ব দর্শন ছিল। শিকারিরা বড় মাছ, নানা অলৌকিক ঘটনা এবং মহাপ্লাবনের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা ধরনের পুরাণের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। মেলভিলও নিশ্চয়ই সেগুলো জানতেন, কিন্তু তার লেখার পদ্ধতি ছিল অপরিচিত, তার স্মৃতিচারণ ছিল বেশ তথ্যসমৃদ্ধ।
হারম্যান মেলভিল তার উপন্যাসে মবি ডিক নামের অতিকায় তিমিকে প্রকৃতির একটি শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন, যাকে মানুষ কখনো পুরোপুরি বুঝতে পারে না। তিমিটিকে তিনি কেবল প্রাচীন দুনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করেননি, বরং তার মধ্যে দেবত্বও আরোপ করেছিলেন। এটা করতে গিয়ে তিনি হাত বাড়িয়েছিলেন ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতিতে, তিনি মবি ডিককে হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর মৎস্য অবতার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মবি ডিকের ৫৫ নম্বর অধ্যায়ে অতীতের তিমির বিবরণ দিতে গিয়ে মেলভিল মৎস্য অবতারের উল্লেখ করেছেন এবং এলিফেন্টা গুহায় মৎস্য অবতারের খোদাই সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন—
‘তিমি সদৃশ সবচেয়ে প্রাচীন যে প্রতিকৃতিটি এখনো দুনিয়ায় টিকে আছে, সেটি ভারতের গুহা-প্যাগোডা এলিফেন্টায়।... হিন্দুদের তিমি হচ্ছে বিষ্ণুর জলের অতিকায় রূপ, এই মাছ মৎস্য অবতার নামে পরিচিত। এটাও দেয়ালে খোদাই করা আছে। তবে এই ভাস্কর্যটি অর্ধেক মানব, অর্ধেক তিমি মাছ। এতে শুধু তিমির লেজ যুক্ত করা হয়েছে, তবে এই লেজটি ঠিকমতো তৈরি হয়নি, দেখে মনে হবে অ্যানাকোন্ডার লেজ। তিমির লেজের যে প্রশস্ত, রাজকীয় তালু, সেটা এখানে একেবারেই নেই; বরং দেখে মনে হবে অ্যানাকোন্ডার ক্রমেই সরু হয়ে যাওয়া লেজ।’
এরপর ৮২ নম্বর অধ্যায়ে আবারো মেলভিল বিষ্ণুর কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি লিখেছেন মৎস্য অবতারের রূপের মাধ্যমে বিষ্ণু তিমি মাছকে চিরদিনের জন্য পবিত্র করে গেছেন। মেলভিল বিষ্ণুর মৎস্য অবতারটিকে আধা তিমি আধা মানুষ হিসেবে বুঝেছিলেন। তিনি এলিফেন্টার এই খোদাইকে তিমি শিকারিদের জন্য দক্ষিণা বলে মনে করতেন।
ভিন্ন সংস্কৃতি এবং অপরিচিত দুনিয়ার কথা উঠলে মেলভিল তার সময়ের অদ্ভুত চরিত্রের কথা বলতেন। মেলভিল কোথা থেকে মৎস্য অবতার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছিলেন? এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন হাওয়ার্ড পি ভিনসেন্ট তার দ্য ট্রাইং আউট অব মবি ডিক (১৯৫১) গ্রন্থে। হাওয়ার্ড দেখিয়েছেন মেলভিল মৎস্য অবতারের বিস্তারিত পেয়েছিলেন টমাস মরিসের ইন্ডিয়ান অ্যানটিকুইটিজ ভলিউম ২ থেকে। টমাসের বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮০৬ সালে। বইতে ছিল ইনিগো বারলোর করা মৎস্য অবতারের খোদাই। ভিনসেন্ট দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন, মরিস তার বর্ণনায় কোথাও এলিফেন্টার গুহা প্যাগোডা এবং মৎস্য অবতারের মধ্যে কোনো সম্পর্ক দেখাননি, অর্থাৎ বইটি পড়ার সময় মেলভিল স্পষ্টতই ভুল পড়েছিলেন বা বুঝেছিলেন। সমস্যা হলো এলিফেন্টায় মৎস্য অবতারের কোনো প্রতিকৃতিই নেই। সমস্যাটির মূল বোধহয় মরিসের বইয়ে থাকা মৎস্য অবতারের একটি চিত্রের ক্যাপশন, “ব্রাহ্মণদের তত্ত্ব...প্রাচীনকালে সালসেট্টে এবং এলিফেন্টার গুহায় পালিত হতো।” মরিসের ক্যাপশনের অর্থ ছিল এলিফেন্টা শিব মন্দির হলেও এখানে বিষ্ণুর আরাধনা হতো।
মেলভিলের ভুল করার পেছনে আরেকটা কারণ থাকতে পারে। ইলোরা মন্দিরের আকার এলিফেন্টা কিংবা সালসাটের চেয়ে অনেক বড়। পর্যটক এবং পণ্ডিতরা অনেক সময়ই এই তিনটি গুহা মন্দিরকে নিয়ে একইসঙ্গে কথা বলেন। জন সিলে তার দি ওয়ান্ডার্স অব ইলোরা (১৮২৪) গ্রন্থে খনন করা মন্দির সম্পর্কে লিখেছেন, “এখানকার দেয়ালে দশ অবতারের প্রতিকৃতি খোদাই করা আছে।” মেলভিল নিশ্চয়ই জানতেন অনেক হিন্দু মন্দিরের দেয়ালে বিষ্ণু অবতার খোদাই করা আছে। মরিস এমন একটি মন্দিরের কথা উল্লেখ করতেই মেলভিল সেটা এলিফেন্টা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন।
কোনো বিবেচনাতেই মরিসের ইন্ডিয়ান অ্যানটিকুইটিজ বইটি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস নয়। তিনি তার বইটি নিজেই প্রকাশ করেছিলেন এবং বইটির প্রথম খণ্ডের অনেকটা অংশ তিনি ব্যয় করেছেন তার কাজের সমালোচনা করা পণ্ডিতদের ভর্ত্সনা করতে। মরিস মনে করতেন তার কাজকে পণ্ডিতরা অন্যায্যভাবে সমালোচনা করেছেন। মরিস ছিলেন উইলিয়াম জোনসের একজন সহকারী, মেলভিল নিজেও জোনসের কাজ সম্পর্কে ধারণা রাখতেন।
ভিনসেন্টের অনুমান মেলভিল মরিসের বইয়ের তথ্য গ্রহণ করেছিলেন ১৮৫০-এর আগের সময়ের জন্য, অর্থাৎ মবি ডিকের প্রকাশের পূর্বকালের প্রেক্ষিত লিখতে। এ বইতে কেবল মৎস্য অবতারের নাম উল্লেখ আছে।
পরবর্তীতে খোঁজ মেলে রিচার্ড জোসেফ সুলিভান মৎস্য অবতার নামটি ১৭৯৪ সালে তার লেটারস টু আ ট্রাভেলার গ্রন্থে উল্লেখ করেছিলেন। মেলভিল গবেষকরা মনে করেন মেলভিলের আরেকটি ভুল ছিল এলিফেন্টাকে ভারতের অন্যান্য গুহা মন্দির যেমন সালসেটে, কার্লে এবং ইলোরার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা। সে সময় এসব মন্দির নিয়েই পণ্ডিতমহলে নানা আলোচনা হচ্ছিল।
এলিফেন্টা গুহায় জলজ ভাস্কর্য/খোদাইয়ের শনাক্তকরণে মেলভিল একাই ভুল করেছেন এমন নয়। ১৮১৯ সালে প্রকাশিত হয় উইলিয়াম এর্সকাইনের দীর্ঘ নোট ট্রানজেকশন অব দ্য বোম্বে লিটারারি সোসাইটি, সঙ্গে ছিল মিসেস অ্যাশবার্নার ও অ্যাগনেস দুনদাসের আঁকা এলিফেন্টার স্কেচ। নোটের শুরুর অংশে উইলিয়াম তার জানা এলিফেন্টা নিয়ে আগের সব বিবরণী নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর্সকাইন লিখেছেন, ১৭৮০-এর দিকে হেক্টর ম্যাকনেইল এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সার্জন উইলিয়াম হান্টার একটি খোদাইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যেটা দেখতে মাছের মতো। এর্সকাইনের মতে, এটা বরং শঙ্খ বা সর্পিল খোলের মতো দেখতে। এর্সকাইন এ ভুলের দায় দিয়েছেন স্থানীয় এক দোভাষীকে।
এর্সকাইন জার্মান পরিব্রাজক কারস্টেন নিবুরের প্রশংসা করেছেন, কারণ তিনি যখন বর্ণনা দিয়েছেন, তখন ইউরোপের মানুষ হিন্দুধর্ম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানত না। এর্সকাইন ১৭১২ সালের ক্যাপ্টেন পাইকের উল্লেখ করা ‘বোম্বাইয়ের কাছের অদ্ভুত প্যাগোডা’র কথাও স্মরণ করেছেন। অন্যদিকে পাইকের উল্লেখ করা কিছু ভাস্কর্য এর্সকাইনের আমলে এসেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, এর মধ্যে ছিল একটা বড় হাতির পিঠে একটা ছোট হাতি এবং ‘আলেকজান্ডারের ঘোড়া’। পাইক তার গবেষণায় এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, এসব খোদাই আলেকজান্ডারের সেনা কিংবা কোনো চীনা বণিকের কাজ নয়, যেমনটা ষোড়শ শতকে য়ান য়ুগেন ভ্যান লিনশোটেন মত দিয়েছিলেন।
তবে এর্সকাইন কিছু বিবরণী ছেড়েও গিয়েছেন। রবার্ট মেলভিল গ্রিন্ডলের সিনারি, কস্টিউমস অ্যান্ড আর্কিটেকচার চিফলি অব দি ওয়েস্টার্ন সাইড অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত হয় ১৮৩০ সালে, এতে ছিল উইলিয়াম ওয়েস্টলের আঁকা এলিফেন্টার মহাত্রয়ীর চিত্রকর্ম। ১৮৩০ সালে লিস্টার স্কয়ারে রবার্ট বারফোর্ডের প্যানোরমাতে পুরনো শহর থেকে এলিফেন্টার চেহারা ফুটে উঠেছিল।
সুয়েজ হয়ে স্থলপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে যারা সুয়েজ থেকে বোম্বাই আসতেন, তারা সবাই অতি অবশ্যই এলিফেন্টা ঘুরে যেতেন, লেখক অ্যানি এলউড (১৮৩৪) এবং উপনিবেশের কর্মকর্তা সিআর বেনেজ (১৮৪৩) এ বিষয় উল্লেখ করেছেন।
ব্রিটিশ প্রশাসক টমাস বি ম্যাকলে পর্যন্ত তার ইরোস অ্যান্ড অ্যান্টেরোস: আ প্লাটোনিস্টিক রোমান্সে (পগকিপসি জার্নাল, ৪ জুন, ১৮৪৪) এলিফেন্টার কথা উল্লেখ করেছেন। এ কাহিনীতে আছে শিশুকালের দুই প্রেমিক-প্রেমিকা ইউমালফোস ও ইউচারিয়াস জীবন। ইউমালফোস জ্ঞানের তৃষ্ণায় দুনিয়া ঘুরে বেড়ায়, তার গন্তব্যের মধ্যে ছিল এলিফেন্টা, পিরামিড।
মবি ডিকে মেলভিলের এলিফেন্টা এবং মৎস্য অবতারের উল্লেখ শুধু তার আগ্রহের ফসল নয়। এটা ছিল তার প্রতিরোধও, তিনি তার পরিচিত জগতের যে রক্ষণশীল গণ্ডি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
হাজারো পাঠক তন্ন তন্ন করে মবি ডিককে অনুসন্ধান করেছেন। তারা মেলভিল আর কী রহস্য, ইঙ্গিত রেখে গেছেন মবি ডিকে সেটা খুঁজে দেখেছেন। মেলভিল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন, এমনকি মানুষের বাইরে প্রাণীর মধ্যেও তিনি এ গুণ নিশ্চিতভাবে দেখতে চেয়েছেন।
ব্রুস এম সুলিভান ও প্যাট্রিসিয়া হল তাদের প্রবন্ধ হোয়েল অ্যাভাটার অব দ্য হিন্দুজ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন পুবের দেশগুলো নিয়ে মেলভিলের মধ্যে জন্মগত কৌতূহল, আকর্ষণ ছিল। যেমন- ৪৪ নম্বর অধ্যায়ে মেলভিল বলেছেন ক্যাপ্টেন আহাবের কথা, যিনি একজন বৃদ্ধ মোগল। আবার ৯৬ নম্বর অধ্যায়ে তিমি প্রক্রিয়াজাতকরণের ঘ্রাণ একেবারে ভিন্ন রকমের এবং এটা ‘হিন্দুদের চিতার পোড়া থেকে আসা গন্ধের মতো’। ১১৯ নং অধ্যায়ে ‘বাংলার বাঘ’ উল্লেখ আছে। ৮৭ ও ৯২ নম্বর অধ্যায়ে তিমিকে হাতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যে হাতি আলেকজান্ডার এবং পুরুকে মুগ্ধ করেছিল। মেলভিল শুধু পুবের এসব সংযোগ দেখিয়েই সমাপ্তি টানেননি, মবি ডিকের জাহাজ পিকোডে ছিল দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের নাবিকরা। জাহাজটা ছিল পুরো দুনিয়ার একটা ছোট মডেল।
মবি ডিক মেলভিলের সুচিন্তিত একটি সাহিত্যকর্ম। দুজন নাবিক ছিলেন— ভারতীয় একজন লস্কর ছিল, যে একবার হিন্দু দেবতার কাছে প্রার্থনা জানায়; আবার আছে ফেদাল্লাহ নামের একটি চরিত্র, যাকে মনে হয় পারস্যের মানুষ।
কিন্তু জাহাজের হার্পুন নিক্ষেপকারী কুইপেগের মধ্যে ছিল অনেক বিশ্বাসের সমন্বয়। সে অনেক দিন উপবাস করে, যেটাকে তিনি মুসলমানদের রমজান মাসের রোজ হিসেব অবিহিত করে। আবার সে য়োজো নামের এক মূর্তির পূজাও করে। মেলভিলের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ব্যক্তি মানুষের মনের জটিল মনস্তত্ত্বকে তুলে ধরা; এ ব্যাপারে সুলিভান এবং হলও একমত। কিন্তু শুরুতে এ দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মীয় এবং রক্ষণশীল মহল থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। প্রকাশের পরে মবি ডিক কেন সাফল্য পায়নি, তার পেছনে এটা একটা গুরুতর কারণ। মেলভিলের প্রথম উপন্যাস তাইপিতেও দেখা যায় তিনি মিশনারিদের নানাভাবে ব্যঙ্গ করছেন। তবে মবি ডিক প্রকাশের ১৬০ বছর পর উপন্যাসটি এবং এর লেখক সম্পর্কে সমালোচকদের ধারণা বদলেছে। মেলভিল দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি দিয়ে প্রভাবিত ছিলেন। মেলভিল দেখিয়েছেন দুনিয়ার প্রতি নিজের দুয়ার খোলা রাখলে কী করা সম্ভব।
অনুবাদ : এস. এম. রশিদ
সূত্র : স্ক্রল ইন






