এক সর্বজ্ঞ বালকের কথা মনে পড়ে। মেঝের ফাঁক দিয়ে সে দেখে যায়, অগুনতি মানুষের দিন আর রাত্রিজুড়ে খাওয়া। কয়েকজন বিখ্যাত মানুষকে আবছা দেখাটা মনে পড়ে। সুচরিত চৌধুরী যখন বেঁচে ছিলেন, আসতেন এখানে। আসতেন মিলন চৌধুরী আর মুন্না ভাই— পরবর্তীকালের শাহাদুজ্জামান। নানা রকম যোগ-বিয়োগ করে বোঝে বালকটি, এসব মানুষকে সে দেখেছে আড্ডা দিতে। বালকের ঠাকুরদা রমেশ চন্দ্র দে প্রতিষ্ঠিত সাধু মিষ্টি ভাণ্ডারের আড়াই তলা এক আশ্চর্য বিস্ময়। পাতলা কাঠ, ইট, প্লাস্টিক, সিমেন্ট, টিন কিছু বাকি ছিল না। হাঁটতে গেলে মনে হতো, এখনি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে কিন্তু কিছুই ভাঙেনি। এমনকি একানব্বইয়ের সাইক্লোনেও এক বিন্দু টসকাল না। এই দোকানখানা হাপিশ করে দিয়েছিল রমেশের ভাই কামিনী, বাবার জ্যাঠা। আর তারই ছেলে, আমার জ্যাঠামশাই আমি যখন রাত ১০টার পর নিচতলায় নেমে কাগজ, শিঙ্গাড়া, পরটা বেঁধে রাখার কাগজের স্তূপ খুটিয়ে দেখতাম, জানতে পেলে খিঁচিয়ে উঠত। আমি যেতাম বই আছে কিনা দেখতে, কিছু পেয়েও ছিলাম। এ স্তূপেই দেখা হলো মাসুদ রানার সঙ্গে, টার্গেট নাইন, আগাপাছতলা কিছু নেই, খালি মধ্যের শখানেক পৃষ্ঠা, হয়তো শিঙ্গাড়ার পেটে গেছে। তুলে নিলাম। পড়ে দেখি, যুদ্ধের কথা সরস ভঙ্গিতে। অই বয়সে অল্পই বুঝেছি। স্মৃতিতে পিছিয়ে গেলে টের পাই, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ও দেশীয় ক্ষেত্রে যথাক্রমে সোভিয়েত ও স্বৈরাচারের সাময়িক পতন কাছাকাছি সময়ের ঘটনা। এলাকার এক দাদা নিয়ে গেল মেশিনারি মার্কেটে, সেখানে বসতেন ‘ডালিম ভাইয়ের আব্বা’, মেশিনারি পার্টসের পাশাপাশি বই ভাড়ার ব্যবসা। থরে থরে বনহুর, রানা, ওয়েস্টার্ন। তিনি আমায় প্রথম দেখাতেই অবাক। কথায় কথায় জানলাম, বাবাও আসতেন। তাই তিনি অরিজিনালের ফটোকপি এতদিন পর উদয় হতে দেখে চমকে উঠেছেন। মা-বাবা তাদের বিয়ের শুরুর দিনগুলোয় রীতিমতো কম্পিটিশন করে বই পড়তেন। তা, সেকালে আমার নিম্নমাধ্যমিক সত্ত্বেও পকেটমানি ১০ টাকা, বখে গেলাম। ১ টাকা শিঙ্গাড়া, ১ টাকা বস্তা আইসক্রিম, ৮ টাকা রোজগার ডেইলি, বই কিংবা রুবেলের লাথি আর সালমানের প্রেমে যায়। তখনো কিন্তু সম্যক বুঝি না। মাত্র তিরানব্বই যাচ্ছে।
পরের বছর বাংলাদেশের প্রথম প্যাকেজ নাটক দেখাল বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা অর্থাৎ বিটিভিতে। পিশাচ দ্বীপ অবলম্বনে। নোবেল আর বিপাশা যথাক্রমে রানা আর সোহানা। দেখলাম নোবেল কন্টিনিউ স্যুটের বিজ্ঞাপন করে গেলেন। আর সোহানা অরিজিনালের তুলনায় বেশিই নেকুপুশু। ভালো লাগল না। ততদিনে কী করিলে কী হয়, জেনে ফেলেছি। তাই শয্যাদৃশ্যে রাতের বেলা জ্যোত্স্না ঘটে যায়।
***
মাসুদ রানা কে? ভেবে দেখতে গেলে তার, তার নির্মাতার আর তার পাঠকের একই ভাগ্য। যেমন দেশের বাইরে বা দেশে সে দায়িত্ব পালনকালে মারা গেলে সরকার স্বীকার করবে না। সে কোনো পুরস্কার নিতে পারে না। বিসিআইয়ের নিষেধে। কাজী আনোয়ার হোসেনকে সেই সময় আর এই সময় সাহিত্যিক বলেই অনেকে স্বীকার করেন না। কেউ কেউ এক কাঠি বাড়িয়ে ওটা তো ‘নকল’, তবে ‘নকল’ আর ‘অ্যাডাপ্টেশন’ বোধ হয় আলাদা জিনিস। সেসব ধ্রুপদী গ্রন্থ ছাড়া কিছু পাঠ করেন না যারা, তারা কোনো দিন বুঝবেন না নিজের কাজ আর দেশের মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা না থাকলে রাঙার মা আর গিলটি মিয়া এই চরিত্র দুটি কেবল ‘কপিপেস্টে’ আসে না। আসে না গগল, সোহেল কিংবা কৈশোরের প্রথম ক্রাশ সোহানা। নিজের সৃষ্ট চরিত্রের অসাম্প্রদায়িক আচরণ ধরে রাখাটা কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরল কৃতিত্ব। কেননা, রাইটার্স প্যানেলকে নির্দেশনা দিয়ে, সম্পাদনা করে, সিরিজটাতে বায়ান্ন প্লাস বছর ধরে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পমুক্ত রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। তবু এখনো তিনি সেই অর্থে, অনেক ‘রুচিবান’ ব্যক্তির কাছে সাহিত্যিক পদবাচ্য নন, তার পাঠকরা চটুল বলে পরিগণিত। আর হায়! লেখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার নেই তার। যদিও অন্তত তিনটি প্রজন্মের হূদয়ে তার অধিষ্ঠান এখনো। অজস্র দুপুর আর রাতের সঙ্গী। সেবার স্লোগান: অবসরের সঙ্গী। তা, আমার মতন কারো কারোর রানার বেলায় সারা জীবন অবসর। জাতিসংঘ কত নতুন প্রস্তাব আনল, তৃতীয় বিশ্বের কত মানুষ মারা গেল না খেতে পেয়ে ও বেশি খেয়ে হূদরোগে, আমাদের হিরো কিন্তু সেই ২৭-২৮ বয়সসীমার ভেতর দুনিয়াজুড়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত রুখে দিচ্ছে। এখনো ষড়যন্ত্র বইয়ের ফোরকাস্টিং এখন দৈববাণীর মতন অমোঘ লাগে।
মাসুদ রানাকে কখনো রঙ ফর্সাকারী ক্রিম লাগাতে দেখিনি। অথচ দেখি, এমন একটি প্রতিষ্ঠান রানার অভিনেতা খুঁজছে। ঘোড়ার ডিম হবে। এভাবে আমাদের কল্পনারা আজ পুঁজির হাতে বিনষ্ট।
***
হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম। সেই কারণে কচি বয়সে রানার এন্তার প্রেম, নারী শরীরের বিবরণ, পুরনো গাড়ির কালেকশন, গ্রা পি রেসে জেতা, বাধ্য না হলে মানুষকে খুন না করা, অ্যাকাউন্টে অগুনতি টাকা আর বিসিআইয়ের সবার ভেতর ব্রাদারহুড— কাঁপিয়ে দিয়েছিল। মতিঝিল শুনলেই মনে হতো, কোথাও একটা বহুতলে ট্রেডিং ব্যবসার আড়ালে বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের হেড অফিস। আশপাশে স্মার্ট লোকজন দেখলে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করত, আপনি কি বিসিআইতে চাকরি করেন? কিন্তু বেদনার এই, সমাজতন্ত্রের সাময়িক বিপর্যয় হয়, প্রেমিকা চলে যায়, সেবার রাইটার্স প্যানেলের লোকজন দুনিয়ার নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন। ভাবুন, শাহাদত চৌধুরী, শেখ আবদুল হাকিম, রকিব হাসান, নিয়াজ মোরশেদ, রওশন জামিল — এ বাঘা নামগুলোর কথা। যে প্রচ্ছদ অধিক বিতর্ক তৈরি করেছিল আশির দশকে, তার বেশির ভাগ কোলাজ পদ্ধতিতে করেছিলেন শাহাদত চৌধুরী, বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদক। সাসপেন্স আর থ্রিলের সঙ্গে মাসুদ রানার মাথার কাজের একটা ব্যাপার ছিল, যুক্তির ধাপ পেরিয়ে সিদ্ধান্তে আসা। এখন সবকিছু খুব তাড়াতাড়ি ঘটছে। ইমোশনাল উপাদান কম। মনে আছে গোটা পাঁচেক বইয়ের কথা, আই লাভ ইউ ম্যান, অগ্নিপুরুষ, বিদায় রানা, দংশন পড়ে কেঁদেছিলাম।
***
একবার ঢাকায় এক মাস্তানের উদয় হলো। রাফ অ্যান্ড টাফ। টাকা নেয় কিন্তু কাজ করে না। ডিউক নামের সেই মাস্তান আটকে গেল ঝামেলায়। রানার বই যখন দেশের পটভূমিতে—অনেক দিন আসছে না—একবার তো চট্টগ্রাম স্টেশন রোডের মিশকা হোটেলে উঠেছিল রানা। তারপর এসেছিল বিপণিবিতান অর্থাৎ নিউ মার্কেটে। আর ৮ মিনিট সামনে গেলে, তখন যদি বাবার সঙ্গে দেখা হতো, সাধুর বিখ্যাত আসল ছানার রসগোল্লা কি ডায়েটিং সত্ত্বেও রানাকে খাওয়াত না বাবা? হায়! মনে পড়ল, ৪৫৮টি বই ধরে রানা কখনো কবিও হয়নি আর রসগোল্লাও খায়নি! ১০ মাস ধরে লেখা ‘ধ্বংসপাহাড়’ আর সাত মাস ধরে ‘ভারতনাট্যম’ সিরিজের শুরুর মৌলিক বই দুটি পড়লে যে কেউই বুঝবেন, মৌলিক থ্রিলার লিখলেও অসাধারণ লিখতে পারতেন কাজীদা। রক্তপিপাসা বইতে আজটেক সভ্যতার বিপুল সোনার কথা কিংবা চাই সাম্রাজ্য বইতে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির ধ্বংস হওয়ার বিবরণ, শান্তিদূতে প্রথম জেনেছিলাম স্পাইদের স্লিপার সেলের কথা। আমি সোহানা বইয়ে সোহানার গলার হারের জন্য পৃথিবীর নানা সমুদ্রে ডুব দিয়ে রানা তুলে আনে অমূল্য বাছাই মুক্তো। কিংবা সোহানার বিখ্যাত সোর্ড ফাইট। মনে আছে, কয়েক বছর আগে ড্যান ব্রাউনের ভিঞ্চি কোডের জয়জয়কার, সেই সময়ই প্রকাশ পেল দুই খণ্ডে গুপ্ত সংকেত। কাঠামো ভিঞ্চি কোডেরই কিন্তু শেষ মোচড়টা আমার ভিঞ্চি কোডের চেয়েও বেটার লেগেছিল। এ জিনিস, অ্যাডাপ্টেশনের শিল্পিত ব্যবহারটাই আমাকে রানার চিরপ্রেমিক করে রেখেছে। টাইম বম বইটা বেরোনোর আগে আগেই ঘটনাচক্রে ডাই হার্ড পার্ট থ্রি দেখেছিলাম। বেশ আগের ফিল্ম। বইটা এ সিনেমার অ্যাডাপ্টেশন। তখন ব্যক্তিগত কৌতূহলের জায়গা থেকে, পজ দিয়ে দিয়ে, বই আর সিনেমা মিলিয়ে অবাক হই এই ভেবে, ফিল্মের দ্রুতগতি কলমে তুলে আনা অনেক দিনের সাধনা না হলে হয় না। যেকোনো জনরার লেখকের তুলনায় থ্রিলার লেখকরা এ জায়গায় আলাদা। প্রতিদ্বন্দ্বী বইটা মনে পড়ল। বারবার এড়াতে চেয়েছে রানা দাতাকুকে। শেষবার মুখোমুখি হলো। তাও সুযোগ প্রথমবার দাতাকুর। কুয়াশা আর রানার দেখা হয়েছিল দুটো বইয়ে। কুয়াশা বিজ্ঞানসাধনা আর আইনের চোখে অপরাধী হওয়ার মাঝখানে উচ্চাঙ্গ সংগীতের একজন সমঝদার। মনে পড়ে যাবে অনেকের, ১৯৬৭ সালে পাবলিক স্পেসে গান গাওয়া ছাড়ার আগেই তিনি বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন। কুয়াশা যেহেতু প্রকাশের দিক থেকে রানার অগ্রজ, বইতেও কিন্তু কুয়াশা রানার সিনিয়র, ভালোবাসে রানা কুয়াশাকে কিন্তু আইনের লোক বলে সরাসরি পক্ষাবলম্বন পারে না। কুয়াশা একা মানুষ, কাজীদার আরেক অপূর্ব বৈজ্ঞানিক স্পাই, যে কিনা আইনের চোখে বিপথগামী। রানার চরম শত্রু দুজন কবীর চৌধুরী আর উ সেন। কবীর চৌধুরীকে মাঝে মাঝে ফিলোসফার বানিয়েছেন। ভিলেন হলেও মায়া পড়ে যায়। আবার যাকে রানা একবার আত্মীয়ের সম্মান দিয়েছে, দেখা যায় তার ডাকে রানা সদাপ্রস্তুত। এইভাবে কচি বয়সে বন্ধুত্ব শব্দের প্রকৃত অর্থ কাজীদার কাছ থেকেই শেখা। সোহেলের খুনসুটি কিংবা জাহিদ, সলিল সেন— এ চরিত্রগুলো আমাদের মনে অমর। কয়েক মাস আগে রানার বন্ধু মউরোস রানার সামনেই বোমা বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হলো। সেই ব্যথা আমরাও কি পাইনি!
****
ফেলুদা কিংবা ব্যোমকেশ ব্যক্তিবিশেষের কিংবা ছোট পরিসরের সামাজিক সমস্যার বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান দিয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে দরকার ছিল উইশফুল থিংকিংয়ের এক জাতীয় নায়ক। যার ঈশ্বর বা সমাজতন্ত্র নেই, সেই নিরালম্ব মতাদর্শের মানুষটি কোথায় যাবে! এ জাতীয় নায়ক শুরুতে লড়েছে ভারতীয় চক্রান্তের বিরুদ্ধে, সোভিয়েত রাশিয়ার হয়ে আমেরিকাবিরোধী একাধিকবার। পাকিস্তান কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স থেকে বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সাহায্যের কথা মনে রেখে তাদের সাহায্য করেছে। পরে বাংলাদেশের নানা আমলে পররাষ্ট্রনীতি, সাম্প্রতিক বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে তাল রেখে রানার শত্রু বদল ঘটেছে। সাম্প্রতিক বই ‘মহাপ্লাবন’ যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবট নিয়ে কাজ করেছে। পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের কার্যকারণ নিয়ে প্রচুর বই আছে। আমরা সবাই জানি, রানার বইগুলোর গল্প কাল্পনিক কিন্তু নানা দেশের জিওগ্রাফির বিবরণ একদম সঠিক।
***
২০১৬-এর মে মাসে মাসুদ রানার ৫০ বছর হলো। সে মাসেই প্রকাশিত হলো, রানার ছেলেবেলার কারবার নিয়ে বই ‘দুরন্ত কৈশোর’। একই সঙ্গে রহস্য পত্রিকার বিশেষ মাসুদ রানা সংখ্যা। কিন্তু অত্যন্ত মন খারাপ করে খেয়াল করি, দুটো আয়োজনের একটাও জমেনি। তবু, রানা রানা-ই।
কাজী মোতাহার হোসেন, আমাদের একজন ধ্রুপদী ঘরানার চিন্তক। তার কন্যা যোবায়দা মির্জার সেই যে ‘আমার নানা রঙের দিনগুলি’ মুক্তধারা ১৯৮৪ সালের জুলাইয়ে প্রকাশ করে। সেই বইয়ে কাজী আনোয়ার হোসেনের বেড়ে ওঠার একটা আঁচ পাওয়া যায়। বাবা মোতাহার হোসেন যদিও দাবা খেলার অসংখ্য সমস্যার সমাধানের খাতাটি তার ছেলেদের দিতে চান, দিয়ে গেলেন তা মেয়েকেই। হায়! অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি, সেই খাতা সম্ভবত আজও অপ্রকাশিত। এ অমূল্য গ্রন্থের প্রকাশ জরুরি।
***
সংক্ষেপে, মাসুদ রানা আমার একজন বন্ধু। ডালিম ভাইয়ের আব্বা, আমার বাবা, আমি, আমাদের অনেকেই তাকে ও সেই সূত্রে কাজী আনোয়ার হোসেনকে ভালোবাসি, সেবাকেও বাসি। সেবার এখনকার দৈন্য মন উচাটন করে। তবু এই বয়সেও নতুন রানার প্রকাশ সংবাদের দিকে চেয়ে থাকি, রোমাঞ্চিত হই নতুন অ্যাসাইনমেন্ট পেলে। ডালিম ভাইয়ের আব্বা শেষদিকে কেবল আমার জন্যই একটা মাসুদ রানা কিনে আনতেন। আমি ভাড়া আনতাম। তেমন আর কাউকে নিতে দেখতাম না। রানার পাঠক কমেছে। কিন্তু গভীর ভালোবাসা না থাকলে এটা সম্ভব নয়। এখন লেখার শেষ বাক্যে এসে, তাকে, মানে ডালিম ভাইয়ের আব্বাকে মনে পড়ছে, যার নাম কখনো জানা হয়নি।






