মুহম্মদ সাঈদ চেয়েছিলেন সাংবাদিক হবেন। মুসলিম লীগের আদর্শ তাকে অনুপ্রাণিত করত। ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তি ও স্বতন্ত্র্ মুসলিম দেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সমর্থন। বড় ভাই আবদুল হামিদের জোরাজুরিতেই ডাক্তারি নিয়ে পড়ালেখা করলেন। ১৯৪০ সালে যখন মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, সাঈদ তখন প্রাচ্যীয় চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করলেন। ১৯৪৮ সালে বহুল প্রত্যাশিত স্বাধীনতা অর্জিত হলে হামদর্দের ভাগ্য নতুন করে লিখিত হতে থাকে। বড় ভাই আবদুল হামিদ ভারতেই থেকে যান হামদর্দের প্রধান হয়ে। ছোট ভাই মুহম্মদ সাঈদ চাপেন পাকিস্তানের ট্রেনে। আর এ সফরের মাধ্যমেই পাকিস্তানে হামদর্দের যাত্রা। যাত্রা রুহ আফজার।
রুহ আফজার নামটা দিয়েছিলেন আবিষ্কারক হাকিম আবদুল মজিদ। তিনি যখন মারা যান, তার দায়িত্বে এগিয়ে আসেন স্ত্রী রাবিয়া বেগম। কয়েক বছর পর দায়িত্ব নেন বড় পুত্র আবদুল হামিদ। ভারতে হামদর্দের গল্প মূলত তাকে দিয়েই। ছোট ভাই মুহম্মদ সাঈদ পাকিস্তানে চলে গেলে তৈরি হয় নিজস্বতা, তার ছাপ রুহ আফজায়ও স্পষ্ট। কারণ পাকিস্তানে প্রবেশ করে রুহ আফজা বানানোর পদ্ধতিতে সামান্য পরিবর্তন আসে। পাকিস্তানে কেউড়া পাওয়া যেত না, ফলে হাকিম সাঈদ গুল-এ বাহার ব্যবহার করা শুরু করেন। উত্তর পাকিস্তানে প্রাপ্ত জামিরের ফুলও ব্যবহৃত হতে থাকে। পাকিস্তানের মাটিতে রুহ আফজার সে বেড়ে ওঠার গল্প সাংবাদিক সানাম মাহের শুনিয়েছেন আল জাজিরায়।
হাকিম সাঈদ তখন করাচির আরামবাগে বসবাস করেন। প্রতিটি বোতল নিজেই প্রস্তুত করতেন। প্রথম দিনে রুহ আফজা বিক্রি হয় মাত্র ১২ বোতল। কিন্তু ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়তে থাকে মানুষের মধ্যে। ১৯৫৩ সালে তাকে চাহিদা পূরণের জন্য উন্মুক্ত কারখানা স্থাপন করতে হয় নাজিমাবাদে। দক্ষ প্রচারকও ছিলেন হাকিম সাঈদ। তিনি নিজেই তার বিজ্ঞাপনের কপি লিখতেন। রুহ আফজাকে অভিহিত করতেন ‘মাশরুবে মাশরিক’ বা প্রাচ্যের গ্রীষ্মকালীন পানীয় হিসেবে। পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও নারীদের পত্রিকাগুলোয়ও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে থাকে বিজ্ঞাপন। দাবি করা হয়, রুহ আফজা গ্রীষ্মকালে হারিয়ে ফেলা সতেজতা ফিরিয়ে দেয়। তৃষ্ণা মেটানো ও অবসাদ দূরীকরণের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। প্রচারণা কাজে দিতে সময় লাগল না বেশি। ক্রমে বাড়িতে বাড়িতে রুহ আফজা রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। বিজ্ঞাপনে দেখা যেতে থাকল রুহ আফজার গ্লাস হাতে বরপক্ষকে অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই মানুষকে উৎসাহিত করা হয় বন্ধু ও আত্মীয়দের রুহ আফজা দিয়ে আপ্যায়ন করতে। ছোটদের ম্যাগাজিনে রুহ আফজা নিয়ে বিজ্ঞাপন ও গল্প প্রকাশিত হতে থাকে। বিশেষ করে হামদর্দের নিজস্ব ম্যাগাজিন নওনেহাল নিয়মিত তুলে ধরত। এভাবে হাকিম সাঈদ পুরো একটি প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে রুহ আফজাকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
পাকিস্তানের দুই পাশেই নতুন প্রজন্ম রুহ আফজার সঙ্গে দুধ কিংবা পানি মিশিয়ে খেয়ে অভ্যস্ত হতে শুরু করে। মায়েরা যখন সন্তানদের সামান্য মিষ্টি স্বাদের কিছু দিতে চাইতেন, রুহ আফজাই হয়ে উঠত তাদের প্রথম পছন্দ। দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের কুরনুলে ছোটবেলায় লেখিকা অর্চনা পিদাথালাকে জন্মদিনের পার্টিতে কেবল রুহ আফজা দেয়া হয়েছিল। যখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বেঙ্গালুরুতে চলে আসেন, তখন নির্দ্বিধায় জড়িয়ে ছিলেন রুহ আফজার সঙ্গে। জুসের দোকানে নানা উপাদান দিয়ে রুহ আফজা পান করতেন। পান করতেন রাস্তার পাশে সিরাপ দিয়ে ফালুদা। রুহ আফজাকে পাকিস্তানের ডি ফ্যাক্টো জাতীয় পানীয়"হিসেবে স্থান দেয়া হয়। বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সামনে হাজির করা হতো রুহ আফজা। সামিউল্লাহ খানের মতো হকি তারকারা সে স্মৃতিচারণ পরবর্তী জীবনে করেছেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়, মিশন থেকে ফিরে আসার পর বিমানের পাইলটদের কমান্ডার-ইন-চিফ অভ্যর্থনা জানান। তখন তাদের সামনে রুহ আফজার সঙ্গে ঠাণ্ডা দুধ পরিবেশন করা হতো।
কয়েক দশক ধরে, এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হলেও একটি সাধারণ অতীতের ওয়ারিশ সবসময়ই ছিল। সে ওয়ারিশ রুহ আফজার। সাদৃশ্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের সংযুক্ত রেখেছে। পাকিস্তানে রুহ আফজায় ভরা গ্লাস ইফতার ও ঈদের টেবিলে পরিবেশন করা হয়। মুম্বাইভিত্তিক সংগীত প্রযোজক তুষার ভাটিয়া। তাকে রুহ আফজার জন্য একটি জিঙ্গেল লেখার দায়িত্ব দিয়েছিল নব্বইয়ের দশকের হামদর্দ ভারত। পুরো বিজ্ঞাপনে তিনি কেবল তিনটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, ‘হামদর্দ রুহ আফজা’। উদযাপন, সতেজতা ও মাধুর্যের কারণে পানীয়টির অর্থগুলো এরই মধ্যে এত সুপরিচিত ছিল যে আর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন পড়েনি। শব্দগুলো ঢোল, তাশা ও নাগারার মতো বিভিন্ন প্রকারের বাদ্যযন্ত্রে পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করলে, শরণার্থীরা পেশোয়ারে আশ্রয় নেয়। সেখানে ত্রাণ সরবরাহের অংশ হিসেবে হামদর্দ কর্তৃক রুহ আফজার বোতল পাঠানো হয়। শরণার্থীরা তাদের স্বাগত জানায়। তবে হামদর্দের ম্যানেজাররা শিবিরে প্রতিদিন যে পরিমাণ বোতল দিয়ে যাচ্ছিল, তা দেখে বিস্মিত হন। তদন্তের পর দেখা যায় যে আফগানদের রুহ আফজা পান করার নিজস্ব পছন্দের উপায় আছে। তারা তাদের মতো করেই ঐতিহ্য দাঁড় করিয়েছে।
হামদর্দের ক্লিনিক্যাল সায়েন্স বিভাগের পরিচালক আব্দুল হান্নান দিল্লি থেকে করাচিতে গিয়ে থিতু হন। উদ্দেশ্য ছিল হাকিম সাঈদের সঙ্গে কাজ করা। ১৯৭০ সালের ঘটনা সেটি। তিনি রুহ আফজা কারখানার শ্রমিকদের রুটি ঘন সিরাপে ভিজিয়ে দুপুরের খাবারে খেতে দেখেছেন।"এটি তাদের ভালো অবস্থায় রাখে বলে ব্যাখ্যা করা হতো। আসলে রুহ আফজাকে একটি নিরাময় হিসেবে কিংবা অনুরূপ বিশ্বাস প্রায় সময়ই বজায় ছিল। ১৯৮০-এর দশকে পাঞ্জাবের কিছু গ্রামে গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে ঠাণ্ডা করার জন্য রুহ আফজা ঢেলে দেয়া হতো। সর্বোপরি, উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য রমজানের সঙ্গে রুহ আফজার অটুট সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিন উপবাসের পর পানীয়টি তৃষ্ণা নিবারণ করে এবং প্রচুর পরিমাণে চিনি দেয়। প্রাপ্তবয়স্করা একটি খেজুর দিয়ে তাদের রোজা ভেঙেছে, যেমনটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা দ্বারা নির্ধারিত। ঠিক তার পরেই তারা এক গ্লাস রুহ আফজা খেতেন। কেউ কেউ তো"ছোটবেলায় খেজুর এবং রুহ আফজা উভয়ই সুন্নত ভেবে বসত। তার কারণ এগুলো ছাড়া কেউ রোজা ভাঙেনি।
১৯৮০ সালে হাকিম সাঈদের ৩৪ বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া রশিদ কোম্পানিতে যোগ দেন। বাবা ছিলেন নীতিমান ব্যক্তি। হাকিম সাঈদ মেয়েকে কোনো বিশেষ সুবিধা দিতে যাচ্ছিলেন না। অফিসের এক কোণে সেক্রেটারি মিসেস ডি সিলভার বিপরীতে কেবল একটি ডেস্ক দেয়া হয়েছিল। হাকিম সাঈদ সময় নষ্ট করতেন না। তিনি বলতেন, সপ্তাহে দুই দিন তিনি শিক্ষক, দুই দিন ডাক্তার এবং দুই দিন ব্যবসায়ী। যখন তিনি শিক্ষানবিশদের প্রশিক্ষণ দিতেন না কিংবা রোগীদের চিকিৎসাও করতেন না, ঠিক সে সময়টিতেও তিনি কর্মমুখর থাকতেন। একবার তিনি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক সে সময়েই কাগজ ও পেন্সিল বের করে হামদর্দের লোগো তৈরির কাজ করতে শুরু করে দেন। ১৩ বছর পর হাকিম সাঈদ এক বছরের জন্য সিন্ধুর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অবস্থান ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ১৯৯৮ সালে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হন। তার বয়স ছিল তখন ৭৮।
হাকিম সাঈদের পর দায়িত্ব তুলে নেন রশিদ। কোম্পানিটি তখন তার বাবার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি এতটাই দায়িত্বে ছিলেন যে শিল্প বিভাগের লেবেল বা প্যাকেজিংয়ের জন্য কোনো কম্পিউটারাইজড ডিজাইনও ছিল না। তিনি নিজে একজন চিত্রশিল্পী ও ক্যালিগ্রাফারের সঙ্গে কাজ করে বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন।"
কোম্পানিটি রশিদের নেতৃত্বে ধীর পদক্ষেপে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। আসতে থাকে মুনাফা। কিন্তু এটি বাস্তবে কখনই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি, এমনকি রুহ আফজার বোতল পর্যন্ত বিক্রি হয়নি। তবে এ সময়ে নতুন আরেকটি পরিবর্তন প্রবেশ করে রুহ আফজায়। কাচের বোতল থাকার কারণে প্রায়ই এখানে-ওখানে পড়ে ভেঙে যেত বোতল। সে বছর কাচের বোতল থেকে প্লাস্টিকের বোতলে পরিবর্তন করার চিন্তা নেয়া হয়। যদিও প্রথম দিকে প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিল। খুচরা বিক্রেতার আশঙ্কা ছিল গ্রাহকরা প্লাস্টিকের বোতলগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করবে না। কাচের বোতলগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য ছিল। অনেক পাকিস্তানিই রুহ আফজার খালি বোতল ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে পানি কিংবা শরবত পানের জন্য রেখে দিত।
২০১৭ সাল নাগাদ হামদর্দের ব্যবসা পেছনে পড়ে যাওয়ার বিপদে পড়েছিল। তার প্রধান কারণ হলো নতুন প্রজন্মের গ্রাহকদের কাছে রুহ আফজার মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে স্মৃতিকাতরতা নেই। টিকে থাকার জন্যই নতুন জিনিস নিয়ে আসতে হয়। প্রথম বড় পরিবর্তন হলো নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া। দায়িত্ব নিলেন উসামা কোরেশি। প্রথমবারের মতো পরিবারের বাইরের কেউ দায়িত্ব কাঁধে নিলেন। উসামা কোরেশি রুহ আফজা মেশানো দুধ পান করে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম। বেড়ে উঠেছেন হামদর্দের শিশুতোষ পত্রিকা নওনেহাল পড়ে। হাকিম সাঈদের প্রতিষ্ঠিত কলেজে তিনি পড়াশোনা করেছেন। কোরেশি যখন হামদর্দে যোগ দেন, তখন তিনি যেন প্রেমময় দায়িত্ব পালনে রত হলেন। তার কাছে এটা দায়িত্বের চেয়েও বড় কিছু। তাই হয়তো স্পষ্ট করেই বলেছিলেন,"‘আমি এটা করেছি আমার প্রজন্মের জন্য। তারা এখন পিতামাতা বা পিতামাতা হতে যাচ্ছেন। তাদের বাচ্চারা হামদর্দকে আমাদের মতো করে জানুক।’
কোরেশি যোগদানের পর কোম্পানিটি ৯০০ কোটি রুপি আয় করতে সক্ষম হয়। এতে ৫০০টি পণ্যের একটি তালিকা ছিল। কিন্তু রুহ আফজা ছিল হামদর্দের তারকা পণ্য। অন্তত ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্ষিক সাত-আট কোটি বোতল রুহ আফজা বিক্রি হতো।
২০১৯ সালে কোরেশি মজা করে টুইট করেছিলেন যে হামদর্দ পাকিস্তান ওয়াঘা সীমান্তের ওপারে রুহ আফজা পাঠাতে ইচ্ছুক ও সক্ষম। ২০২১ সালে রুহ আফজা হামদর্দ ইন্ডিয়ার জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার লাভ এনেছিল। তবে কোরেশির জন্য এ পথ অতটা সহজ ছিল না। অনেকেই হামদর্দকে একটা"পুরনো ও একগুঁয়ে ব্র্যান্ড" হিসেবে দেখছিল। তাদের প্যাকেজিং ও বিপণন ধারাও কিছুটা সেকেলে ধরনের। কোরেশির জন্মেরও আগে থেকেই সেখানে রয়েছে কোম্পানির বেশির ভাগ জনবল। কিন্তু তিনি জানতেন,"যে সংগঠনগুলো পরিবর্তন হয় না, তারা মারা যায়। অনেকটা জুয়ার মতোই ছিল সিদ্ধান্তটা। কারণ রুহ আফজা হামদর্দের মোট আয়ের ৭০-৭৫ শতাংশই সরবরাহ করে। ঠিক সে চিন্তা থেকেই ২০১৯ সালে হাজির হয় রুহ আফজার কার্বোনেটেড সংস্করণ। কার্বোনেটেড কোমল পানীয়ের বাজার আন্তর্জাতিক বড় বড় রথী-মহারথীর দ্বারা শাসিত। ফলে রুহ আফজার প্রচারণা নিয়ে অতটা উচ্চাশা ছিল না। কিন্তু জনগণের প্রতিক্রিয়া রীতিমতো চমকে দেয়ার মতো প্রমাণিত হলো। অধিকাংশ মানুষ আগ্রহী হয়ে ওঠে রুহ আফজা নিয়ে। তার পর থেকে আরো বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়, যুক্ত হয় নতুন ফ্লেভার। স্প্রাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চিনিমুক্ত সংস্করণও বাজারে আনা হয়। বিভিন্ন উৎসবের সুযোগেও নানাভাবে পরীক্ষা করা হয় রুহ আফজার বিবর্তন নিয়ে।
হয়তো আবিষ্কারক হাকিম আবদুল মজিদ এতটা কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেননি। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপেও ছড়িয়ে গেছে রুহ আফজা। পাকিস্তানে চারটি কারখানা রয়েছে করাচি, লাহোর ও পেশোয়ারে। পাকিস্তানের ইতিহাস ও সংস্কৃতি পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে ও সময়ের সঙ্গে নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে নিয়ে এগিয়ে চলছে রুহ আফজা।
আহমেদ দীন রুমি: লেখক





