খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, অবস্থাপন্ন শ্বশুরের কাছ থেকে পাওয়া শ্রেষ্ঠ যৌতুকটি ছিল রেলি বাইসাইকেল। রেলির মর্যাদা একালের বিএমডব্লিউ কিংবা লেক্সাসের চেয়ে কম কিছু ছিল না।
পঞ্চাশের দশকের বাংলা সিনেমার নায়কের কাছে দুই চাকার সাইকেলটিই পঙ্খীরাজ। ষাটের দশকে এসে সাইকেলের সিটের সামনের হরাইজন্টাল ক্রসবারে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার্থী নায়িকাকে বসিয়ে গুরুজনদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক চক্কর ঘুরিয়ে আনার যে আনন্দ, তার কোনো তুলনা নেই।
বহুবছর আগে যাযাবর লিখেছিলেন, ‘আধুনিক বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ। কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ; এতে আছে গতির আনন্দ, নেই যতির আয়েশ।’
যাযাবরের সামনে তখন দিল্লি শহর আর মোটরকার। সাইকেল বিজ্ঞানের হাই-টেক আবিষ্কার নয়। সাইকেল বেগ দিয়েছে কিন্তু আবেগ কেড়ে নেয়নি; গতির আনন্দ ও যতির আয়েশ দুই-ই মিলেছে দুই চাকার সাইকেলে।
জীবনের ভারসাম্য আর সাইকেলের ভারসাম্য আইনস্টাইনের কাছে একই রকম, দুটোতেই গতি থাকতে হবে, নতুবা হোঁচট আর হুমড়ি খেয়ে পড়া এড়ানো যাবে না।
সাইকেলের লেখক, লেখকের সাইকেল
‘বাইসাইকেল, অবশ্যই বাইসাইকেল হবে ঔপন্যাসিক ও কবিদের বাহন’— কথাটি ক্রিস্টোফার মোরলের।
তলস্তয়ের বয়স যখন ৭০ ছুঁই ছুঁই, তখন সাইকেল চালাতে শিখলেন। ইয়াসনায়া পলিয়ানার বিশাল প্রান্তজুড়ে যারা তলস্তয়কে একসময় অশ্বারোহী দেখেছেন, তারা তাকে সাইকেল আরোহী হিসেবে দেখতে শুরু করলেন।
ঔপন্যাসিক টমাস হার্ডির স্ত্রী এমা ৫৫ বছর বয়সে সাইকেল চালাতে শিখলেন। তার চেয়ে এক বছরের বড় টমাসকে চেপে ধরলেন তাকেও শেখাতে হবে। ১৮৯৬-র জানুয়ারিতে তিনি সাইকেল চালনা শিখতে শুরু করলেন। অল্পদিনের মধ্যেই তার মনে হলো এটা ‘নেশাকর’ একটি কাজ। তারপর টমাস ও এমা হার্ডি পুডল টাউন ও ডরসেটের রাস্তায় দিনের পর দিন পাশাপাশি সাইকেল চালিয়েছেন। এমা তার সবুজ রঙের সাইকেলটির নাম দিয়েছেন গ্রাসহোপার মানে ফড়িং। সাইকেলের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি সবুজ ভেলভেটের পোশাক পরে রাস্তায় নামতেন। আর টমাস হার্ডি পরতেন স্পোর্টসম্যানের পোশাক।
আর্থার কোনান ডয়েল ও তার স্ত্রী লন্ডনের রাস্তায় সাইকেল চালাতেন। হেনরি জেমস যদিও একটু মোটাসোটা ও বয়স্ক ছিলেন, তবে সাইকেল চালানোর মতো তারুণ্য তিনি ধরে রেখেছেন। দুপুরের খাবার আর বিকালের চায়ের মাঝখানের সময়টায় তিনি প্রতিদিন ২০ মাইল সাইকেল চালাতেন। সাইকেল খ্যাতি রয়েছে ভার্জিনিয়া উলফের। এইচ জি ওয়েলস সারে হিলসের আশপাশে ঘুরে বেড়াতেন। আত্মজীবনীতেও তিনি সাইকেলপ্রীতির কথা লিখেছেন। সিডনি ওয়েব ও বিয়াট্রিস ওয়েব দম্পতি এইচজি ওয়েলসকে ফ্যাবিয়ান সোসাইটিতে দলভুক্ত করার জন্য তাদের লন্ডনের বাড়ি থেকে সাইকেল চালিয়ে কেন্ট পর্যন্ত চলে যেতেন।
সমাজতান্ত্রিক আদর্শ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে উইলিয়াম মরিস সাইকেলে ঘুরে ঘুরে লিফলেট বিতরণ করতেন। একসময় সাইকেল হয়ে উঠল সমাজতন্ত্রের প্রতীক ও সমাজতন্ত্রীদের বাহন।
সাইকেলের স্বর্ণযুগ উঠে এসেছে সমারসেট মমের উপন্যাস ‘কেকস অ্যান্ড এল’, জেরোমকে জেরোমের ‘থ্রি ম্যান অন দ্য বুমেল’ ও এইচজি ওয়েলসের ‘দ্য হুইলস অব চান্স’-এ।
টমাস হার্ডি বাথ ও ব্রিস্টলের মাঝামাঝি রাস্তায় সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার রেকর্ড জর্জ বার্নার্ড শ’র। তিনি দুর্ঘটনার তালিকাও তৈরি করেছেন। হার্টফোর্ডশায়ারে পাহাড়ি পথ দিয়ে দ্রুতগতিতে নামার সময় তার সামনে পড়ে পায়ে হাঁটা এক বুড়ি। তাকে বাঁচাতে গিয়ে এমনভাবে হুমড়ি খেয়ে পাথুুরে রাস্তায় পড়েন যে মুখের আদল বদলে যাওয়ার অবস্থা হয়। একবার তিনি লন্ডনের হে মার্কেট থেকে সাইকেলে ন্যাশনাল গ্যালারির দিকে যাচ্ছেন। সংঘর্ষ হলো ঘোড়ায় টানা ভ্যানের সঙ্গে, মুহূর্তের মধ্যে ভূপাতিত শ নিজেকে আবিষ্কার করলেন ভ্যানের চাকা আর ঘোড়ার পায়ের মাঝখানে। সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন মার্ক টোয়েন এবং ‘বাইসাইকেল বশীকরণ’ নামে একটি অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ রচনায় লিখেছেন, ‘একটি সাইকেল জোগাড় করে নাও, বেঁচে থাকলে এর জন্য আফসোস করবে না।’
সাইকেলভক্ত ছিলেন জ্য পল সার্ত্র। তার কাছে হাঁটাহাঁটির ব্যাপারটি একঘেয়েমিতে ভরা। সাইকেল চালানো অনেক ভালো।
সিমন দ্য বুভেয়ার মায়ের নিষেধাজ্ঞার পরও সাইকেল চালাতেন। দুবার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। জ্য পল সার্ত্রকে লেখা চিঠিতে সাইকেল চালনায় যৌনানন্দের কথা বলেছেন। একবার দুর্ঘটনায় চোখ-মুখ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এবং একটি দাঁত মুখ থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেছে।
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে প্যারিসের রাস্তার কেবল সাইকেল চালাতেনই না, ট্র্যাক রেসিংয়ে অংশগ্রহণ করতেন। স্যামুয়েল বেকেট বক্সিং, রাগবি, ক্রিকেট ও সাইক্লিং নিয়ে মেতেছিলেন। তার লেখায় এমনকি সবচেয়ে বিখ্যাত ‘ওয়েটিং ফর গদো’তে সাইক্লিং স্থান পেয়েছে।
হেনরি মিলার বলেছেন, সাইকেলের চাকার চেয়ে বড় বন্ধু আর নেই। তিনি যখন সাইকেল পেলেন, খুব দ্রুত বন্ধুদের প্রতি আগ্রহ হারাতে শুরু করলেন। চাকাই হয়ে উঠল তার একমাত্র বন্ধু।
‘লরেন্স অব অ্যারাবিয়া’খ্যাত টি ই লরেন্স সাইকেল চালিয়ে ফ্রান্স ঘুরে এসে সাড়া ফেলে দিলেন।
১৮৯৬ সালে আর্থার কোনান ডয়েল লিখলেন, ‘যখন মনোবল নেমে গেছে, দিনটা মনে হয় আঁধার। কাজ ভীষণ একঘেয়ে লাগে, আশা আদৌ আছে বলে মনে হয় না, তখনই বাইসাইকেলে চেপে বসো, কোনো কিছু চিন্তা না করে রাস্তায় কয়েক চক্কর লাগাও—শুধু সাইকেল চড়ার জন্যই।’
লেখাটি তার কোনো গোয়েন্দা গল্পের নয়, ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকা’তে প্রকাশিত।
‘ট্রপিক অব ক্যান্সার’ এবং ‘ট্রপিক অব ক্যাপ্রিকর্ন’র খ্যাতিমান লেখক হেনরি মিলারের সাইকেল প্রেম সুবিদিত। তিনি নিজেই লিখেছেন, ‘কেউ তার রোলস রয়েসের যে যত্ন নিত, আমি আমার চাকার একই যত্ন নিই। মেরামতের দরকার হলে মার্টল এভিনিউতে এড পেরি নামের এক নিগ্রোর মেরামতখানায় নিয়ে আসতাম। বলতে পারেন ছোট শিশুকে যেমন করে গ্লাভস পরে তোলা হয়, এড সেভাবেই আমার সাইকেলটাকে ধরত। খুব খেয়াল রাখত যেন কখনো সামনের বা পেছনের চাকা যেন এপাশ-ওপাশ নড়চড় না করে। প্রায়ই বিনে পয়সায় আমার কাজটি করে দিত, কারণ তার ভাষায়, সে এমন কাউকে দেখেনি যে তার সাইকেলকে আমার মতো এতটা ভালোবাসে।
নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী আরেকজন উইলিয়াম গোল্ডিং জীবনের সফরটাকে সাইকেল আরোহণ মনে করেছেন। ‘মানুষের জীবনের যাত্রাটি বাইসাইকেলে চড়ার মতোই। আমরা জানি মানুষ সাইকেলে চড়ে চলতে শুরু করে। কোনো এক সময় মানুষ থামে এবং সাইকেল থেকে নেমে যায়। আমরা জানি সে যদি চলা থামিয়ে দেয়, সাইকেল থেকে না নামে, তাকে পড়ে যেতেই হবে।’
বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপোলা লিখেছেন, ‘আমার বয়স যখন ১৩ বছর, আমি ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে কাজ করতাম। সেখানে টেলিগ্রাম আসত, আমি আঠা দিয়ে টেলিগ্রাম কাগজের ওপর সেঁটে সঠিক ঠিকানায় বিতরণের জন্য আমার বাইসাইকেল নিয়ে ছুটতাম।’
বাংলাদেশের একজন কবি ও বৈজ্ঞানিক ডক্টর মফিজ চৌধুরী (হ্যামলেটের অনুবাদক, বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী) সাইকেল তৈরির কারখানা স্থাপন করেছিলেন।
১৯৬৯। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ছি। স্কুলটি আসলে বৃহত্তর একই উঠোনের টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রশিক্ষণ গবেষণাগার। আমরা কয়েক মাসের জন্য চলে এলাম কলেজে। প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা পড়াবেন, কলেজের শিক্ষকরা তাদের মূল্যায়ন করবেন। কেবল নাম শুনেই কলেজের একজন শিক্ষকের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে দিলাম। নাম আনম বজলুর রশীদ। তার লেখা ‘চ্যানেল বিজয়ী ব্রজেন দাস’ নামে একটি নিবন্ধ আমাদের পাঠ্য ছিল।
নজরদারিতে আবিষ্কৃত হলো চামড়ার সিট, চকচকে বেলঅলা, বেশ পুরনো একটা সাইকেলে চড়ে কলেজে আসেন, প্যান্ট দুটো রিং দিয়ে দুই পায়ের সঙ্গে চেপে রাখেন। সাইকেল থেকে নেমে রিং দুটো খুলে পকেটে ভরেন। আবার ছুটির পর সাইকেলের কাছে এসে পায়ে রিং পরেন, সাইকেলের পেছনের চাকায় লাগানো তালা খুলেন, বেল ঠিক আছে কিনা পরীক্ষার জন্য এক-দুবার টিপেন। তারপর বাড়ির দিকে রওনা হন। পরদিন আবার একইভাবে আমি কাছাকাছি কোথাও দাঁড়িয়ে থাকি। তিনি এসে সাইকেল থেকে নামেন। তিনি দু-একবার আড়চোখে আমাকে দেখেছেন, তবে স্কুল ড্রেস পরা একটি বালককে নিশ্চয়ই বাইসাইকেল থিফ ভাবেননি।
কিছুকাল পর তার লেখাতেই পড়ি তিনি হলিউড গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ম্যারিলিন মনরোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আর কোনো বাঙালি ম্যারিলিন মনরোকে সামনাসামনি দেখে এসেছেন এমন কোথাও পড়িনি। ম্যারিলিন ভালো সাইকেল চালাতেন। সিনেমাতেও তার সাইকেল চালনার দৃশ্য মুগ্ধকর।
সাইকেল ছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের। শিল্পী জয়নুল আবেদিন তার ময়মনসিংহের জীবনে সাইকেল চালাতেন। পল্লীগীতির সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্পী আবদুল আলীম সাইকেল চালাতেন। সাইকেলচালক কবিদের মধ্যে ফজল শাহাবুদ্দীন, নির্মলেন্দু গুণ, ওমর আলী এবং আরো কেউ কেউ রয়েছেন। কবি মাকিদ হায়দার নিশ্চিত করেছেন পাবনার দোহার পাড়ার হায়দার ব্রাদার্সের সব লেখক ভাই সাইকেল চালাতেন। আরো বলেছেন, আবু হেনা মোস্তফা কামালও সাইকেল চালিয়েছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিধর চিত্রগ্রাহক শহীদুল আলমকে তার নিচু সাইকেলে প্যাডেল মেরে এগোতে অনেকেই দেখেছেন। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদও সাইকেল নিয়ে অভিযানে বেরিয়েছেন।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাইকেলই ছিল আমার একমাত্র বাহন। ১৯৭৪-এর ১৬ মার্চ বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যু সংবাদ শোনার পর তার শৈশব ও যৌবনের স্মৃতিচিত্র হাতে নিয়ে সেগুনবাগিচা থেকে শুরু করে ওয়ারি হয়ে বংশাল পর্যন্ত খুঁজে বেরিয়েছি তিনি কোন বাড়িতে বাস করেছেন, কোন বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছেন, কোন পথে হেঁটেছেন, একটি কি দুটি বৃক্ষবহুল বাড়ি শনাক্তও করেছি। কিন্তু এক সময়ের হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশনের ঋণ এবং পরবর্তী সময়ের ডেভেলপার বুদ্ধদেব বসুর সব স্মৃতি মুছে দিয়েছে।
চলচ্চিত্র বিষয়ের অন্যতম কথক শফিউজ্জামান খান লোদি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন ষাটের দশকে বাংলাদেশের সিনেমায় নায়কের প্রতিভা বিকশিত হয়েছে সাইকেলের চাকার ঘূর্ণনে। ১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেনে সাইকেলে তরুণ রাজ্জাক দেয়ালের ওপর দিয়ে মুখ বাড়িয়ে সুজাতাকে বললেন, ‘কাল আমার বিয়ে!’
সাইকেলে ঠেস দিয়ে গার্লস স্কুল কি গার্লস কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নগর সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছিল। সাইকেলের হরাইজন্টাল ক্রসবারে নায়িকাকে বসিয়ে নায়কের পৌরুষ প্রদর্শনের অনেক দৃশ্য মনে পড়ছে।
সাইকেল আরোহী সপ্তপদী সিনেমার উত্তম কুমারকে কি সহজে ভোলা যায়! সাইকেল চড়ত খেটে খাওয়া নায়ক, আর আয়েশ করে সাইকেলে ঘুরে বেড়াত নায়িকা ধনাঢ্য জমিদারের নাতনি।
‘কল্লোল যুগ’, ‘সম্পাদকের বৈঠকে’, ‘কলেজ স্ট্রিটে সত্তর বছর’ গ্রন্থে সাইকেল আরোহী কলকাতার লেখকদের সঙ্গে দেখা মিলবে। বিনয় মজুমদারের ‘ফিরে এসো চাকা’ চাকাটি সাইকেলের নয়, তবুও চাকা তো। চাকা বিনয়ের কাছে গায়ত্রী, আমাদের কাছে গতি।
প্রত্যাশা, বাংলাদেশের সাইকেলপ্রিয় লেখকদের নিয়ে তরুণ কোনো লেখক-গবেষক বড় ধরনের একটি কাজ উপহার দেবেন।
অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন সেভেনটি নাইন ডেজ
১৮৭৩ সালে প্রকাশিত জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’-এ ৮০ দিনে বিশ্ব ভ্রমণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফিলিয়াস ফগ যাত্রা করে, সঙ্গে পরিচালক জ্য পাসপার্তু। তার এ বিস্ময়কর কল্পভ্রমণে বাইসাইকেলেরও একটি ভূমিকা ছিল। জুল ভার্ন বহু অভিযাত্রীকে অনুপ্রাণিত করেছেন। গ্রন্থটি প্রকাশের ১৪৪ বছর পর মার্ক বিউমন্ট কেবল বাইসাইকেলে ৮০ দিনে বিশ্বভ্রমণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে পথে নামলেন। তার প্রাথমিক হিসাব ছিল প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা সাইকেল চালাবেন, অতিক্রম করবেন ২৪০ মাইল। ৮০ দিনে ১৮ হাজার মাইল বা ২৯ হাজার কিলোমিটার ঘুরে আসা অসম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত পুরো একদিন ও কয়েক ঘণ্টা হাতে থাকতেই তিনি ভ্রমণ সম্পন্ন করেন। কাজেই এ ভ্রমণ হলো সেভেনটি নাইন ডেজে।
কার্বন নিঃসরণের যুগে একালের ফিলিয়াস ফগরা বেছে নিচ্ছেন বাইসাইকেল।
বাইসাইকেল উপন্যাস
বাইসাইকেল নিয়ে উপন্যাসের ঘাটতি নেই। কেবল কয়েকটির নাম উল্লেখ করা হচ্ছে—
দ্য হুইলস অব চান্স (এইচজি ওয়েলস), বাইসাইকেল থিভস (লুইজি বার্তোলিনি), মোললয় (স্যামুয়েল বেকেট), দ্য সুপারমেইল (আলফ্রেড জেরি), দ্য রাইডার (টিম ক্র্যাব), দ্য থার্ড পুলিশম্যান (ফ্ল্যান ও’ব্রিয়েন), ব্যাড টু দ্য বোন (জেমস ওয়াশিংটন), ভস্ট (ডেভিড রোজ), দ্য এসকেপ (ম্যাট সিটন), থ্রি ম্যান অন দ্য বুমেল (জেরোম কে জোরোম), দি অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য প্রায়োরিটি স্কুল (আর্থার কোনান ডয়েল), দ্য ইয়েলো জার্সি (রালফ হার্ন), দ্য বিগ লুপ (ক্লেয়ার বিশপ), দ্য নিড ফর অ্যা বাইক (পল ফোর্নেল)।
বাইক বুম
শুরুর দিকের দুটি বছর ১৮১৯ ও ১৮৬৮ প্রবল বাইসাইকেল ক্রেইজ দেখা দেয় এবং বাইসাইকেল লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এরপর ১৮৯০ ও ১৯৭০-এর উত্তর আমেরিকায় এবং হালে ২০১০ থেকে ব্রিটেন ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোয় আবার বাইসাইকেল ক্রেইজ শুরু হয়। ক্রেইজ বাড়লে উৎপাদন বাড়ে।
১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫—এই সময়ে বাইসাইকেলের আগের দেড় শতাধিক বছরের বিক্রি ছাড়িয়ে যায়। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯৭০ সালে ৭০ লাখ সাইকেল বিক্রি হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বেবি বুমাররাই বাইক বুমের বড় কারিগর। সত্তরের দশকের তেল সংকট এমনকি ধনীদেরও অনেককেই গাড়ি গ্যারেজে রেখে সাইকেল নিয়ে বেরোতে বাধ্য করেছে। ৭ জুলাই ২০০৫ লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে টিউব রুটের একাংশ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হলে সাইকেল কেনার হিড়িক পড়ে যায়।
ভারতবর্ষের বাইসাইকেল
জার্মান ব্যারন কার্ল ফন ড্র্যাইস ১৮১৭ সালে প্রথম বাইসাইকেল আবিষ্কার করেন। প্রায় ৭০ বছর পর ভারতবর্ষে বাইসাইকেল প্রবেশ করে। ১৮৯০-এর দশকে তিনটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বিএসএ, রুজ ও বেলি ভারতে সাইকেল রফতানি করতে শুরু করে। ১৯১০ সালে ভারতের বাজারে ৩৫ হাজার ব্রিটিশ বাইসাইকেল পাঠানো হয়। ১৯৪০-এ তা ৭০ হাজারে উন্নীত হয়। ১৯৫০ দশকে বার্ষিক দুই লাখ বাইসাইকেল এলেও স্থানীয় প্রস্তুতকারীরা সাইকেল তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। বিদেশী সাইকেলের মধ্যে জনপ্রিয়তা ও টেকসই হওয়া—দুটোতে এগিয়ে রেলি বাইসাইকেল।
নৈরাজ্যবাদীদের স্লোগান
‘সরকারের উচিত রাস্তা থেকে গাড়ি অপসারণে সাহায্য করা, যাতে বাইসাইকেল সরকারকে উত্খাত করতে পারে।’ একটা অ্যানার্কিস্ট স্লোগান।
তবে সরকার পতনের ভয়ে নয় গণমানুষের যে সরকার, তার প্রধান ব্যক্তি সাইকেলেই অফিসে আসা-যাওয়া করেন। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রীর কেবলই সাইকেল; সামনে হুটার নেই, সাইরেন নেই, দুই পাশে নিরাপত্তা প্রহরী নেই, পেছনে অ্যাম্বুলেন্স নেই, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি নেই, এমনকি পেছনে নেই একটি স্পেয়ার সাইকেল, চাকা পাংকচার হলে অন্যটিতে উঠবেন। বাংলাদেশে কবি-প্রেসিডেন্ট একবার সাইকেলে উঠেছিলেন খবর হওয়ার জন্য।
ফ্রিডম মেশিন বাইসাইকেল
সমাজসংস্কারক ফেমিনিস্ট সুসান অ্যান্থনি সাইকেলকে বলেছেন ‘নারীর ফ্রিডম মেশিন’। নারীমুক্তির জন্য বাইসাইকেল যে অবদান রেখেছে, পৃথিবীর আর কোনো কিছু আর কোনো আবিষ্কার তা করেনি।
বাইসাইকেল নারীকে গতি দিয়েছে, প্রতিবাদের ভাষা দিয়েছে, প্রতিরক্ষার শক্তি দিয়েছে। এটা একই সঙ্গে এমপাওয়ারমেন্ট মেশিন অর্থাৎ ক্ষমতায়নের যন্ত্র। বাংলাদেশের সাইকেল আরোহী এনজিও কর্মী নিজেকে যেমন বেগবান করেছেন, তেমনি স্বপ্ন এনে দিয়েছেন কিশোরী ও তরুণীদের জীবনে।
সুসান অ্যান্থনি লিখেছেন, যে নারী সাইকেল চালনায় দক্ষ হয়ে উঠেছেন, জীবন পরিচালনাতেও তিনি দক্ষ।
উনিশ শতকে বাইসাইকেল ইউরোপের নারীকে ঘর থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ শতকে তা নারীর পুরুষ নির্ভরতা হ্রাস করে এনেছে।
বাইসাইকেল চুরি
এমো ফিলিপস লিখেছেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম প্রতি রাতে একটা বাইসাইকেল পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম। এক সময় বুঝতে পারলাম ঈশ্বরের প্রক্রিয়াটি ভিন্ন। সুতরাং আমি একটি বাইসাইকেল চুরি করে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম।’
বাইসাইকেল চুরি নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিত্তোরিও ডি-সিকার হাতে বিশ্বখ্যাত সিনেমা ‘বাইসাইকেল থিভস’। চোরের অন্যতম টার্গেট বাইসাইকেল। কিন্তু পৃথিবীতে যত সাইকেল চুরি হয়, তার একাংশই কেবল পুলিশের খাতায় ওঠে। তবে গবেষকরা বলেন, এ চোর অত্যন্ত দক্ষ সাইক্লিস্ট হয়ে থাকবেন।
লিক সারালেই পঙ্খীরাজ
আসলে চাকা নয়, টিউব। চাকাতে ছিদ্রে সমস্যা নেই। কিন্তু টিউব ফুটো হলে বাতাস বেরিয়ে যাবে, তারপর চাকা ফ্ল্যাট, কেবল রিংয়ের ওপর সাইকেল টেনে যাওয়া ঠিক হবে না, এটা এমনকি নবীন সাইক্লিস্টও জানে। এ অবস্থায় কিছুক্ষণ চালালে টিউব এমনকি ফেটেও যেতে পারে। রিকশার শহর ঢাকার রাস্তায় এখন অনেক সাইকেল মেরামতের দোকান। একবার হাজির হতে পারলেই বাকি কাজ মেরামতকারীর। দ্রুত টিউবটি খুলে একবার পাম্প করে ফুলিয়ে গামলার নোংরা পানিতে ঘুরিয়ে ফুরিয়ে বুদ্ধুদ দেখে শনাক্ত করবে লিকটি কোথায়! লিক একটা না বেশি। তারপর শিরিষ কাগজ দিয়ে লিক সংলগ্ন চারপাশ ভালো করে ঘষে তাকে রাবার সল্যুশন (ভলকানাইজিং ফ্লুইড) লাগিয়ে অন্য কোনো বাতিল টিউবের খানিকটা কেটে তালি লাগিয়ে কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখলেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।
লিক সারিয়ে নেয়া মাত্রই সাইকেল হয়ে ওঠে পঙ্খীরাজ। আমি বহুবার লিক সারানোর এ মেরামতি কাজ নিবিড়ভাবে দেখেছি।
আইনস্টাইনের বাইসাইকেল
ভারসাম্যের কথা বৈজ্ঞানিকের মুখেই ভালো মানায়। তিনি বলেছেন, ‘জীবনটা সাইকেল চালানোর মতোই। ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে তোমার সাইকেল চালু রাখতেই হবে। সাইকেল চালানোর সময় এটাই আমার মনে হয়েছে।
সাইকেল চালানোর শারীরিক ও মানসিক লাভ পুরোই তিনি আদায় করে নিয়েছেন। দুটি শ্রেষ্ঠ ব্যায়ামের একটি সাঁতার, অন্যটি সাইক্লিং।
ততদিনে বাইসাইকেলে চেইন লেগেছে, রাবারের চাকা লেগেছে। আমেরিকান অভিবাসী টমাস স্টিভেনস ঠিক করলেন সাইকেল চালিয়ে পৃথিবী ঘুরে আসবেন। তিনি নিলেন পেনি-ফারদিং বাইসাইকেল, ২২ এপ্রিল ১৮৮৪ সান ফ্রান্সিসকো থেকে যাত্রা করলেন। পৃথিবী ঘুরে ফিরে এলেন ১৮৮৭-এর জানুয়ারিতে। তিনি যখন অনুভব করলেন সাইক্লিংয়ে ভারসাম্যটাই আসল, তখন আইনস্টাইনের বয়স মাত্র আট বছর।
ছবি ও ভাস্কর্যে বাইসাইকেল
পিকাসো বাইসাইকেলের হ্যান্ডেল ও সিট ব্যবহার করে ভাস্কর্য ‘বুলস হেড’ নির্মাণ করেছেন। সংগীতশিল্পী ও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বব ডিলান ছবি এঁকেছেন দ্য বাইসাইকেল। মার্সেল দুশ্যাম্প সাইকেলের চাকা দিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে সৃষ্টি করেছেন ‘বাইসাইকেল হুইল’। ১৯১৩ সালে শিল্পীর মনে হলো সাইকেলের চাকা খুলে নিয়ে রান্নাঘরের টুলের ওপর উল্টো করে বসিয়ে দিয়ে চাকাটাকে ঘুরতে দেখা ভীষণ আনন্দের ব্যাপার হবে। এতেই সৃষ্টি হলো চমত্কার একটি ভাস্কর্য।
ডেরেন গ্রিনহাউয়ের ধাতব ভাস্কর্যে একটি মাছ সাইকেল চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটির পেছনে অবশ্য গ্লোরিয়া স্টেইনেমের সেই বিখ্যাত উক্তির প্ররোচনা রয়েছে: ‘একটি মাছের বাইসাইকেলের যেমন প্রয়োজন, একজন নারীরও পুরুষের তেমনই প্রয়োজন।’ জন লোপেজ সাইকেলের চেইন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া। ১৯১৩ সালে ওমবার্তো বোচ্চিওনির আঁকা ছবির নাম ‘ডিনামিজম অব অ্যা সাইক্লিস্ট’।
মানুষ একটা দুই চাক্কার সাইকেল
হাওয়ার ওপর চলে গাড়ি
লাগে না পেট্রল-ডিজেল
মানুষ একটা দুই চাকার সাইকেল।
কী চমত্কার গাড়ির মডেল গো
চমত্কার গাড়ির মডেল
মানুষ একটা দুই চাক্কার সাইকেল।
জনপ্রিয় এ গান দিয়েই আমাদের সাইকেল ও জীবন বন্দনা। এ গানটি বাউল গণি সরকারের লেখা।
বাইসাইকেল কিক
ফুটবলার পেলের একটি বিখ্যাত শট পরিচিত হয়েছে ‘বাইসাইকেল কিক’ হিসেবে।
পেলে বলেছেন, বাইসাইকেল কিক সহজ নয়। আমি ১ হাজার ২৮৩টি গোল করেছি, এর মধ্যে মাত্র দুটি বা তিনটি বাইসাইকেল কিক থেকে আসা।
সাইকেলে দারিদ্র্য হ্রাস
গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের কথা বলে গাত্রদাহ সৃষ্টির কী দরকার: এর চেয়ে উগান্ডা, তানজানিয়া ও শ্রীলংকার কথা ধরা যাক। কেবল হাতে একটি সাইকেল পাওয়ার পরই তিন দেশে দারিদ্র্যের চাকা উল্টো ঘুরতে শুরু করল। তাদের পারিবারিক আয় বেড়ে গেল ৩৫ ভাগ। আর দুই চাকার ওপর মানুষ যখন ভারসাম্য রক্ষা করতে শিখল, তখন তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল শতভাগ। নারীমুক্তি ও দারিদ্র্যমুক্তি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, এ কাজটিতে বড় হাতিয়ার বাইসাইকেল।
সাইকেলের বাজারের আকার ২০১১-এর হিসেবে ৬১ বিলিয়ন ডলার। পৃথিবীতে সচল সাইকেলের সংখ্যা এক বিলিয়ন ছাড়িয়ে, বছরে বিক্রি ১৪০ মিলিয়নের কাছাকাছি আর এর ৬৬ ভাগই চীন দেশে তৈরি।
আমেরিকার বাজার ছেয়ে গেছে চীনের চাকায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তো চটবেনই। ট্রাম্পের দেশে বাইসাইকেলের মর্যাদা অনেক। মিশিগানের এম-১৮৫ হাইওয়েতে বাইসাইকেল স্বাগতম, কিন্তু মোটরচালিত গাড়ির প্রবেশাধিকার নেই।
বাইসাইকেল: চরম রসিকতা
একটি আমেরিকান চরম রসিকতা:
গণিত বিভাগের যে ছাত্রটি এতকাল হেঁটে ক্লান্ত হয়ে ইউনিভার্সিটিতে আসত, একদিন সে দামি ও অভিজাত বাইসাইকেলে চড়ে হাজির হলে অবাক বন্ধুরা জিজ্ঞেস করল, ‘এত সুন্দর একটা বাইক কোথায় পেলে?’
দ্বিধা কাটিয়ে সে জবাব দিল, ‘আমি ফাস্ট ইয়ারের যে ছাত্রীটিকে পড়াচ্ছিলাম গণিত ফাইনালে সে উতরে গেছে, এজন্য ব্যক্তিগতভাবে এসে আমাকে ধন্যবাদ দিতে চাচ্ছিল। যথারীতি সে তার সুন্দর বাইসাইকেলে চেপে এল। দরজা খুলতেই আমার কৃতজ্ঞ ছাত্রী দ্রুত নির্বসন হয়ে বিছানায় শুয়ে বলল, ‘আমার যা খুশি তুমি আজ নিতে পারো।’
শুনে এক বন্ধু বলল, ‘তোর বাইসাইকেল নেয়াটাই সবচেয়ে স্মার্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ দ্বিতীয় বন্ধু বলল, ‘ঠিকই, মেয়েটার পোশাকগুলো নিলে তোর গায়েও ফিট হতো না।’
এবার একটি সাদামাটা রসিকতা:
দ্রুতগামী সাইকেলের ধাক্কায় এক পথচারী হুমড়ি খেয়ে পড়ে ভীষণ আহত হলো।
সাইক্লিস্ট সৌজন্যবশত নেমে বলল, ‘সরি, এ যাত্রায় বড্ড বেঁচে গেলে।’
পথচারী মাথা তুলতে তুলতে বলল, ‘এ কি কথা!’
সাইক্লিস্ট বলল, ‘আমি সাধারণত ট্রাকই চালাই।’






