আলিবর্দি খান আর তার নাতি সিরাজ-উদ-দৌলাহর ইতিহাস আর কীর্তিকলাপ কিংবা কুকীর্তি মাপা জটিল ব্যাপার ও সমস্যাও বলতে পারেন। সাধারণত উন্নত চরিত্রের আলিবর্দি আর নীচ সিরাজের ব্যাখ্যাই পাওয়া যায়। আর তার জন্য দায়ী প্রধানত দুটি লেখনী।

সৈয়দ ঘুলাম হুসেইন খান তাবাতাবাই, যিনি সিয়ার-উল-মুতাখেরীন নামক গ্রন্থের লেখক হিসেবে পলাশী কাহিনীর দুনিয়ায় পরিচিত, আলিবর্দির অনেক গুণ গেয়েছেন। সিরাজের সম্বন্ধে তিনি অনেক কিছুই লেখেন—আর কমই সুলেখন।

আর আছেন জঁ ল। উনি পলাশীকালে কাশিমবাজার ফরাসি কুঠির ব্যবস্থাপক ছিলেন, আর সেই সমেত বাংলার মসনদে প্রায় অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকা ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজের পরাজয় আর ব্রিটিশ কোম্পানির জয়ের পর উনি কয়েক বছর পাল্টা আঘাত হানতে তত্পর ছিলেন, আর সফল না হয়ে উনি ফ্রান্স ফেরত যান। জঁ ল একটা স্মৃতিকথা লেখেন বঙ্গ, সিরাজ, পলাশী চক্রান্ত, ইত্যাদি উল্লেখ করে।

সিয়ার আর জঁ লর স্মৃতিকথার যুগলবন্দি মেনে চললে আলিবর্দি গুণী, আর সিরাজ নবাবজাদা থেকে বেশি, নবাবী মাস্তান বলেই বর্ণিত। কিন্তু সেটা মানতে অনেকেই অনিচ্ছুক, আর তার কারণ বেশি মাত্রায় রাগ হলেও—এই মনোভাব সাধারণত পশ্চিমবঙ্গে আর বাংলাদেশে—কিছু মাত্রায় তার উৎস প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ আর বিবেচনায়। ইদানীং এই দ্বিতীয় অ্যাপ্রোচটা অন্যান্য জায়গার ইতিহাসবিদ ও লেখকরাও অবলম্বন করেছেন। তাছাড়া সিরাজ আর তার মাতামহের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা জরুরি। আমি এই মিশ্রণে বক্তব্য রাখি, আর তার উদাহরণসহ ব্যাখ্যা আমার বই, ‘Plassey : The Battle that Changed the Course of Indian History ’-তে পাওয়া যায়। কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য আর মন্তব্য এখানে রাখলাম।

সিয়ার অনুযায়ী আলিবর্দি কোরআনপ্রেমিক ছিলেন। ভোর হওয়ার ২ ঘণ্টা আগে জাগতেন গোসল করতে। তারপর নামাজ প্রার্থনা করে উনি কফি নিতেন ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে। তারপর ২ ঘণ্টার দরবার বসত। পরে ১ ঘণ্টার জন্য উনি কথাবার্তা বলতেন ওমরাদের সঙ্গে, সিরাজ মুর্শিদাবাদে থাকলে উনিও আসতেন।

কথাবার্তার সঙ্গে মাঝে মাঝে কবিতাও হতো। তারপর মধ্যাহ্নভোজের প্রস্তুতি। কী আর কীভাবে রান্না হবে, নবাব নিজে আদেশ দিতেন। এ নিয়ে ওনার এক দুর্বলতা ছিল, সিরাজ বাদে। যা পেশ করা হতো তা থেকে উনি অল্প সেবন করতেন। মাঝে মধ্যে উনি জেনানার বাসিন্দাদের সঙ্গে এই ভোজ করতেন। তারপর ১ ঘণ্টার নিদ্রা, দেশ-বিদেশের গল্প শুনতে শুনতে ও তারপর আবার গোসল, নামাজ প্রার্থনা, কোরআন পড়া। তারপর আবার দরবার, আর দরবারের পর কোরআন নিয়ে আলোচনা। এরপর সভা বসত সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে: সেনাপতি, গুপ্তচর বিভাগের শাসনকর্তা, জগৎ শেঠ, যিনি বঙ্গের, এমনকি বিশ্বের প্রসিদ্ধ ব্যাংকার ছিলেন, যার ধনকুবের পরিবার নবাব মুর্শিদ কুলির সময় থেকে সুবার খাজনা জমার কাজটাও দেখতেন। সারা দেশের খবরাখবর আলোচনা হতো। এরপর পার্সোনাল টাইম, পরিবার টাইম ও রাত্রিভোজে অল্প কিছু শুকনো ফল নিতেন, কিছু মিষ্টি, তারপর নিদ্রা।

সুরা পান, তামাক সেবন কিচ্ছু নয়। বেগম সাহেবা সার্ফ-উন-নিসা ছাড়া কারো দিকে আজীবন তাকাননি। কঠোর ছিলেন, কিন্তু লোকজনদের কদর করতেন। ভালো জঙ্গি দেমাগ ছিল, মনোবল ছিল, দূরদর্শী ছিলেন ও সাক্ষাৎ বাংলার মসীহ যেন। আর সিরাজ?

এই নবাবজাদার সম্বন্ধে সিয়ারে গালিগালাজ ছাড়া কমই কিছু পাবেন। উনি কীভাবে দিন কাটাতেন তার খবর কম। শুধু মদ্যপান, মাস্তানি, আর গুণ্ডামি। এই রক্ষা যে মাতামহের মৃত্যুশয্যায় হবু নবাব সিরাজ আলিবর্দিকে কথা দিয়েছিলেন যে উনি আর মদ খাবেন না।

তাবাতাবায়ীকে অনেকে জন কোম্পানির দাস ছাড়া কিছু মানে না। তাংখাইয়া ইতিহাসবিদ কিংবা লেখক, যিনি আবেগ, রাগ আর উপার্জনের ভরসায় সিয়ার লিখেছেন। হয়তো এটা বাড়িয়ে বলা। কিন্তু আপনি যদি সিয়ার পড়েন, তাহলে দেখবেন যে অনেক জায়গায় মনে হবে, সত্য আর মিথ্যের মশগুল মিশ্রণ।

যেমন, আপনি সিয়ারে পড়বেন যে সিরাজ শুধু গুণ্ডা ছিলেন না, উভলিঙ্গ গুণ্ডা ছিলেন। ওনার সামনে মেয়ে, ছেলে, মহিলা, পুরুষ যা চোখে পড়ত উনি ওদের তুলে নিতেন, ভয় দেখাতেন, ধর্ষণ করতেন। আর এই কুকীর্তির ডেরা ছিল ওনার হীরাঝিল প্রাসাদ, যা বানানোর জন্য পয়সা উনি আলিবর্দির থেকে কৌশলে আদায় করেছিলেন। এ ব্যাখ্যা আপনি পাবেন কয়েকজন সিরাজরক্ষকদের থেকেও, যারা সিয়ারকে সত্য বলে মেনে এসেছেন, এমনকি অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, যিনি নবীনচন্দ্র সেনের ‘পলাশীর যুদ্ধ’ মহাকাব্যকে অতিকাল্পনিক আর মিথ্যে প্রমাণ করতে কোনো ত্রুটি রাখেননি।

জঁ লর ইতিহাস এ সম্বন্ধে আরো অগ্রসর। উনি তো লিখেই ফেললেন যে সিরাজ হিন্দু মহিলাদের ভাগীরথীর তীর থেকে স্নানাবস্থায় হরণ করতেন। বর্ষার দিনে উনি নাকি নৌকোডুবি করাতেন, নৌকোভর্তি শয়ে শয়ে লোকজন, বাচ্চাকাচ্চাদের মরণে উনি উল্লসিত হতেন।

তাবাতাবায়ী ও জঁ ল দুজনই কোনো প্রমাণজনক খবর তুলে ধরেননি। ওনারা দুজনই বিস্তারিতভাবে বহু জায়গায় লোকজনের কথাবার্তা হুবুহু লেখার দাবি করেছেন। রাজা, নবাব, ওমরা, সেনাপতি, বাণিজ্য, কাম কাহিনী, পলাশী চক্রান্ত ইত্যাদি। কিন্তু সিরাজের ভয়াবহ কাণ্ডকারখানার একটি প্রমাণকজনক শব্দ নেই, শুধু নিজের মনোকথা। সিরাজ অবশ্যই এনটাইটেলড হয়ে থাকবেন আজকালকার নুভ-রিশ, শহুরে নুভ-নবাবজাদাদের মতো, যারা এস-উ-ভি ছাড়া কথা বললেন না, যুবতী চুম্বক তৈরিতেই মেতে থাকেন। আর সিরাজের তো মসনদি খেয়াল, তার ওপর ১৭৫২ থেকে উনি আলিবর্দির উত্তরাধিকারী। কে বা ধরে, কে বা বাঁধে।

কিন্তু আলিবর্দি? যে নবাব এতই প্রজাপ্রিয়, এতই ধার্মিক, তিনি কি নিজের মসনদের এত ক্ষতি করতেন অন্ধ নাতিপ্রেমে? আগেও পত্রপত্রিকায় লিখেছি, আমার বইয়েও লিখেছি: সিরাজ ছিলেন কিছুটা ছেলেমানুষ, আলিবর্দির দুলাল, একটু নার্ভাস আর রাগী গোছের, কিন্তু তিনি নিরক্ষর, ক্যালিগুলার মতো শয়তান, আর অতি কাপুরুষ কি ছিলেন? যতটা ওনাকে এসবের কুখ্যাতি দেয়া হয়। মনে রাখতে হবে, নবাব হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই সিরাজ পূর্ণিয়ার নবাব শওকত জংকে দমন করেন, মুর্শিদাবাদের সমকালীন চক্রান্তকারীদের কয়েক মাস দাবিয়ে রাখেন, যারা পরে পলাশীর চক্রান্তকারী হয়ে ওঠেন। ইংরেজদের কলকাতা থেকে তাড়ান, গোটা বঙ্গ থেকে তাড়ান। ফরাসিদের সঙ্গে চুক্তি করার চেষ্টা করেন ইংরেজদের আটকানোর জন্য। আবার কলকাতায় ক্লাইভের সঙ্গে একটা প্রাক-পলাশী যুদ্ধেও নামেন। ইনি কি তাহলে অশিক্ষিত, কামদীপ্ত সিরাজ, না ভৌগোলিক, প্রাসঙ্গিক, আর চক্রান্তের দাবা খেলায় পরাজিত নবাব? এসব নিয়ে একটু চিন্তা-আলোচনা দরকার।

এখানে অল্প ফ্ল্যাশব্যাক জরুরি। সিরাজের রাজকীয় উত্থান শুরু হয় তার জন্ম থেকেই। উনি তখন পদবি পাননি, নাম ছিল মির্জা মোহাম্মদ। ওনার ১৭৩৩ জন্মের পর পরই আলিবর্দি বিহারের নাইব নাজিম—ডেপুটি গভর্নর—হন। তখন বাংলা সুবার নবাব ছিলেন সুজা-উদ-দিন, মুর্শিদ কুলির সন্তান। আলিবর্দির তখন থেকেই সিরাজের প্রতি স্নেহ, যেটা পরে দুর্বলতায় পরিণত হয়। তার কন্যা আমিনা বেগমের ছেলে যা চায়, জানা যায় যে তাই পায় ও অক্ষয় বাবু যথারীতি একটু বাড়িয়েই লেখেন ওনার ‘সিরাজুদ্দৌলাহ’ বইয়ে (যেটি ১৮৯৭-এ প্রকাশিত হয়): ‘...কখনো হাতি চায়, কখনো ঘোড়া চায়, কখনো বা আকাশের চাঁদখানা হাতের মধ্যে ধরিতে চায়...’ অক্ষয় বাবুর অনুসারে—তার মানে যথারীতি সিয়ারের অনুসারে—সিরাজ দ্রুত ‘ক্ষুদ্র নবাব’ হয়ে ওঠেন।

আর সিয়ারের ফার্সি-ইংরেজি অনুবাদক, হাজি মুস্তাফা নামক এক সমকালীন ফরাসি ভদ্রলোক, যিনি মাঝে মধ্যেই নিজস্ব টিপ্পনি দেন, উনি তো লিখেই ফেললেন যে সিরাজ আলেয়া নামক সুন্দরী, কিংবদন্তি নর্তকীকে জীবন্ত অবস্থায় দেয়ালে গেঁথে ফেলেন। এটা অভিযুক্তি, তথাকথিত, তাবাতাবায়ীও এ সম্পর্কে চুপ।

আমার মতে, যতটা সিরাজকে শয়তান বলা হয়, আর যতটা আলিবর্দিকে ভগবান বলা হয়, দুটোই অসত্য। কিন্তু নানা-নাতির গভীর সম্পর্ক অবস্যই ছিল। আলিবর্দি নবাব হন ১৭৪০ সালে সুজাপুত্র সরফরাজ খানকে গিরিয়ার যুদ্ধে হারিয়ে, এক চক্রান্তের দৌলতে, যেটা সমকালীন জগৎ শেঠ ফতেহ চাঁদ সমর্থন করেছিলেন (তার উত্তরাধিকারী মাধব রায় পরে সিরাজের বিরুদ্ধে শওকত জংকে উসকানো থেকে পলাশীর ষড়যন্ত্র দুটিই করেন)।


১৭৫২ সালে আলিবর্দি সিরাজকে যুবরাজ ঘোষণা করেন। তা সিরাজের খালা, ঘসেটি বেগমের পছন্দ হয়নি। সিরাজের ছোট ভাই মির্জা মাহ্দীকে (ইকরাম-উদ-দৌলাহ) উনি দত্তক নিয়েছিলেন। এই পলাশী চক্রান্তকারী বেগম, যার সঙ্গে আলিবর্দির ভ্রাতুষ্পুত্র নওয়াজিশের বিয়ে হয় (সিরাজের মা আমিনা বেগম ও আরেক ভ্রাতুষ্পুত্রকে বিয়ে করেন), চেয়েছিলেন যে ইকরাম নবাব হোক। ইকরামের অকালমৃত্যুর পর আর সিরাজের যুবরাজ হওয়ার পর এই খালার তীর বরাবরই সিরাজের দিকে তাক করা থাকে। কিন্তু ঘসেটি বাবার মন কোনোদিন সিরাজের বিপরীতে ঘোরাতে পারেননি।

কিছু রাজকীয় পরিবার অনেক সময় নিজেদেরই চক্রব্যূহে আক্রান্ত হয়। জানা যায় যে কিছু ব্যাপারে সিরাজ তার মাতামহের স্পেশাল লেফটেন্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন। যেমন কিছু শত্রু সরাতে, কিংবা অস্বস্তিকর ব্যক্তিকে। বলা যায় যে এক ওমরা হোসেন কুলি খান, যাকে বলা যেতে পারে দুদিকে দেখতেন, নওয়াজিশ, ঘসেটি আর আমিনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নবাব পরিবারের জন্য লজ্জাকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আলিবর্দি যখন শিকারের অজুহাতে রাজমহল যান, তখন হোসেন কুলির মৃত্যু সিরাজের হাতে হয়।

সে যা-ই হোক, নানা-নাতির ঘনিষ্ঠতা আজীবন ছিল। পলাশী কাহিনীতে বহু কিছু গোপন করা হয়েছে কোম্পানি আমলের দৌলতে। যেমন কি আলিবর্দির শাসনকালে ব্রিটিশ কোম্পানির সঙ্গে ওনার কোনো টেনশন ছিল না। দুঃখের ব্যাপার যে আপনি যদি কোম্পানির রেকর্ড দেখেন, ঠিক বিপরীত উদাহরণ পাবেন। সত্য এই যে রেষারেষির মধ্যেও বাণিজ্য চলত। শুধু সিরাজের সময় চাপটা বেশি পড়ে ব্রিটিশ কোম্পানির ওপর। উনি তো ডেনমার্ক আর ফরাসি কোম্পানির সঙ্গে মানিয়ে চলতেন, আর ওই কোম্পানিরাও মানিয়ে নিত। সিরাজ যখন জন কোম্পানিকে শাসান বাণিজ্য-দস্তক অপব্যবহার করার জন্য, আর হুমকি দেন জন কোম্পানির আচরণে রেগে (সে আচরণ ফরাসিরোধক থেকে সিরাজরোধক পর্যন্ত), তখন শুরু হয় একটা চেন রিঅ্যাকশন, যার উপসংহার পলাশীর ২৬০ বছর পরও রচিত হচ্ছে আমাদের বর্তমানে।

মজার ব্যাপার এই যে সিরাজ যুবরাজ হওয়ার পর আসেন হুগলিতে। সেখানে ইউরোপীয় কোম্পানিদের তরফ থেকে ওনাকে নজর দেয়া হয়। ইংরেজরাও ছিলেন সেই দলে। কোম্পানির খাতায় লেখাও আছে কীভাবে সিরাজকে কদর করা হয়েছিল: সোনার মোহর, মনোহারি মোমবাতি, ঘড়ি, দূরবীন, পিস্তল, হীরার আংটি। আবার হারেমের জন্যও অনেক কিছু। সবই টাকায়-টাকায় হিসাব পাবেন কোম্পানির খাতায়। একটু পড়ে দেখতে হয়। আর সেসবে সিরাজ আর আলিবর্দি দুজনই খুশি। এত খুশি যে আলিবর্দি প্রশংসাপত্র লেখেন রজার ড্রেককে, যিনি জন কোম্পানির চিফ ছিলেন কলকাতায়। আর সিরাজ? উনি তো ড্রেক সাহেবকে একটা জবর আলখাল্লা দিলেন, আর একটা হাতি।

এর চার বছরের মধ্যে ঝগড়া-মারপিট-প্রাক-পলাশী যুদ্ধ। আর পাঁচ বছরে চক্রান্ত আর পলাশীর যুদ্ধ। সিরাজের ২৪ বছর বয়সে পরাজয়, তার হত্যা, তার নিজস্য ইতিহাসের ইতি, আর আলিবর্দি-সিরাজ, উঁচু-নিচুর টানাটানি শুরু। ইতিহাসের এই খেল।

 

সুদীপ চক্রবর্ত্তী: পলাশী: দ্য ব্যাটল দ্যাট চেঞ্জড দ্য কোর্স অব ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি গ্রন্থের প্রণেতা