ঢাকা শহরে
এখন যেকোনো
ফুড কোর্ট
বা ফাস্ট
ফুড চেইনে
সাবমেরিন স্যান্ডউইচ
সহজেই খুঁজে
পাওয়া যায়।
বিশ্বজুড়ে সাবমেরিন
বা সাব-স্যান্ডউইচের
জন্য বিখ্যাত
ফাস্ট ফুড
চেইনের নাম
সাবওয়ে। ১৯৬৫
সালে শুরু
হয়ে এখন
পর্যন্ত তুমুল
জনপ্রিয়তার সঙ্গে
চলছে ফুড
চেইনটি। ১৭
বছর বয়সী
ফ্রেড ডি
লুকা এটি
শুরু করেন
এবং অর্থায়নে
পিটার বাক।
১৯৬৫ সালে
পিট’স
সুপার সাবমেরিন
নামে এর
পথচলা। কানেকটিকাটের
ব্রিজপোর্টে শুরু
হওয়া প্রতিষ্ঠানটি
দুই বছর
পর নাম
বদলে ‘সাবওয়ে’
করা হয়
এবং ১৯৭৪
সালে কানেকটিকাটের
ওয়েলিংফোর্ডে একটি
ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলা
হয়।
ডি লুকা
প্রথমত ডাক্তার
হতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু সে
সময় পিটার
বাক নামে
এক বন্ধু
তাকে ১
হাজার ডলারের
লোন দিয়ে
সাবমেরিন স্যান্ডউইচ
বিক্রির পরামর্শ
দেন। শুরুতে
তাদের ব্যবসা
ভালোভাবে এগোয়নি।
কিন্তু বাক
তবু আশাবাদী
ছিলেন। মজার
ব্যাপার, দ্বিতীয়
আউটলেট খোলার
পরও ব্যবসা
এগোয়নি। সাবওয়ে
নামে তাদের
তৃতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি
খোলার সময়
থেকে ব্যবসায়ে
উন্নতি। এখান
থেকে প্রথম
বছরে তাদের
মুনাফা ছিল
৭ হাজার
ডলার।
সাবওয়ে শুরু
করার পরপর
পরবর্তী ১০
বছরে এর
৩০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি
খোলার পরিকল্পনা
করা হয়।
কিন্তু পরিকল্পনা
পূরণ করা
সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত
ফ্যাঞ্চাইজি ১৬টি।
কিন্তু প্রতিটি
আউটলেট সমানভাবে
ব্যবস্থাপনা বা
খাবারের মান
রক্ষা করা
দুজনের পক্ষে
সম্ভব হচ্ছিল
না। তারা
বুঝলেন এ
সময় একটি
বিজনেস মডেলে
ঢুকে গিয়ে
কাজটি করা
উচিত। এ
চিন্তা থেকে
তারা ফ্র্যাঞ্চাইজির
মাধ্যমে ব্যবসা
ছাড়ানোর চিন্তা
করেন। নিজেরা
সরাসরি দেখাশোনা
না করে
অন্যদের ভার
দেন। কিন্তু
মূল স্থপতিদের
মনোযোগ ছিল
সুচারু ব্যবস্থাপনা
এবং ভোক্তাদের
সন্তুষ্টি। তারা
সাদামাটাভাবে (কিপ
ইট সিম্পল)
সবকিছু রেখে
ক্রেতাদের সেবা
দেয়ার চেষ্টা
করতেন যেন
কোনো ত্রুটি
না থাকে।
ডি লুকার
ঐকান্তিক চেষ্টার
কারণে সাবওয়ের
ব্যবসা ও
সেবা বাড়িয়ে
নেয়া সম্ভব
হয়েছে। ১৯৭৮
সালে সাবওয়ের
১০০তম আউটলেট
খোলা হয়।
প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠানটি
নতুন নতুন
ক্রেতা লাভ
করছিল। ডি
লুকা একবার
বলেন, ‘আমি
এমন অনেক
ক্রেতা পেয়েছি,
যারা আসলে
আমার ক্রেতা
ছিলেন না।’
সাবওয়ের এ
সাফল্যের অন্যতম
একটি কারণ
ছিল এর
খাবারের মান।
অন্যান্য ফাস্ট
ফুডের তুলনায়
সাবমেরিন স্যান্ডউইচের
মান ছিল
ভালো। বিষয়টিকে
প্রাধান্য দিয়ে
সাবওয়ের বিজ্ঞাপন
করা হয়।
বার্গারের বিকল্প
হিসেবে সাবমেরিন
স্যান্ডউইচকে উপস্থাপন
করতে বেগ
পেতে হয়নি।
এরপর প্রতিষ্ঠানটি
নিজেরাই রুটি
তৈরি করা
শুরু করে।
আশি ও
নব্বইয়ের দশকে
সাবওয়ের জনপ্রিয়তা
তুঙ্গে পৌঁছে
যায়।
সাবওয়ে আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে ব্যবসা
শুরু করে
১৯৮৪ সাল
থেকে। কিন্তু
আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিষ্ঠানটি
দক্ষিণ আমেরিকা
কিংবা ইউরোপে
না গিয়ে
বাহরাইনে তাদের
নতুন ব্যবসা
শুরু করে।
১৯৮৭ সালে
সাবওয়ে এর
হাজারতম আউটলেট
উদ্বোধন করে।
পরবর্তী ১০
বছরে ১০
গুণ বৃদ্ধি
পায় প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৯৮ সাল
নাগাদ কেবল
আমেরিকায়ই এর
আউটলেটের সংখ্যা
দাঁড়ায় ১০
হাজার। ওই
বছরই সাবওয়ে
হংকং, ইতালি,
উত্তর আয়ারল্যান্ড,
নরওয়ে, পাকিস্তান
ও সংযুক্ত
আরব আমিরাতে
শাখা খোলে।
সাবওয়ের সাবমেরিন
স্যান্ডউইচ এখন
দুনিয়াজুড়ে বিখ্যাত।
স্বাদ ও
মানের পাশাপাশি
বিজ্ঞাপনের জন্যও
প্রতিষ্ঠান ও
এর পণ্য
জনপ্রিয়তা লাভ
করেছে। ২০০০
সালে জারেড
ফগলকে দিয়ে
একটি মিডিয়া
ক্যাম্পেইন শুরু
করা হয়।
তিনি ‘দ্য
সাবওয়ে গাই’
নামে পরিচিতি
লাভ করেছেন।
২০০০-১৫
পর্যন্ত তিনি
সাবওয়ের বিজ্ঞাপন
ক্যাম্পেইনে যুক্ত
ছিলেন। এর
পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর
খাদ্য হিসেবে
সাব-স্যান্ডউইচের
পরিচিতির কারণে
‘ইট
ফ্রেশ’কে
স্লোগান ধরে
সাবওয়ের বিজ্ঞাপন
দেয়া হয়।
কোম্পানির ক্যাম্পেইন
হিসেবে ২০০৮
সালের ‘৫
ফুট লং’
ক্যাম্পেইন সবচেয়ে
বেশি জনপ্রিয়তা
লাভ করে।
এর মধ্যে
কিছু সমস্যার
মধ্য দিয়েও
যেতে হয়েছে
সাবওয়েকে। ফুড
ব্লগার ও
অ্যাক্টিভিস্ট ভানি
হারি একবার
৫০ হাজার
ভোক্তার সই
নিয়ে একটি
পিটিশন করেন।
এ সময়
একটি কথা
জনপ্রিয়তা পায়
সাবওয়ের এ
রুটি আসলে
কোনো রুটি
নয়। অর্থাৎ,
খাদ্য হিসেবে
রুটির যে
মান ও
গুণ এতে
তা নেই।
এরপর সাবওয়ে
তাদের রুটির
ধরন বদলে
ফেলে। তাদের
বান (রুটি)
থেকে অ্যাজোডিকার্বনামাইড
উপাদানটি বাদ
দেয়া হয়।
এছাড়া কর্মীদের
স্বল্প বেতন
নিয়েও প্রশ্নের
মুখে পড়ে
সাবওয়ে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক
সাবওয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির
মধ্য থেকে
১৭টির বিরুদ্ধে
কর্মীদের স্বল্প
মজুরি দেয়ার
অভিযোগ পাওয়া
যায়। দীর্ঘ
তদন্তের পর
জানা যায়
আসলেই কর্মীদের
ন্যূনতম মজুরি
দিতে ব্যর্থ
হয়েছিল প্রতিষ্ঠানের
এ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
এছাড়া সম্প্রতি
ইউক্রেনের ওপর
রাশিয়ার আগ্রাসনের
সময় অন্য
অনেক প্রতিষ্ঠান
রাশিয়ায় তাদের
সেবা বন্ধ
করলেও সাবওয়ে
তা করেনি।
এ কারণে
সমালোচনার মুখে
পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
খাদ্যপণ্যের বৈচিত্র্যের
দিক থেকেও
এগিয়ে থাকে
সাবওয়ে। এর
মূল পণ্য
সাবমেরিন স্যান্ডউইচ।
সাধারণত রুটির
টুকরো কেটে
যে সনাতন
ধারার স্যান্ডউইচ
তৈরি এটি
তার থেকে
আলাদা। লম্বা,
উপবৃত্তাকার আকৃতির
রুটির (বান)
মধ্যে চিকেন,
সালাদ, লেটুস,
চিজ, সস
ইত্যাদি দিয়ে
সাব-স্যান্ডউইচ
তৈরি হয়।
এছাড়া সাবওয়ে
তাদের মেনুতে
যুক্ত করেছে
র্যাপ, সালাদ,
মেনিনি এবং
অন্যান্য বেকড
প্রডাক্ট যেমন
কুকি, ডোনাট,
মাফিন ইত্যাদি।
সাবওয়ের সবচেয়ে
জনপ্রিয় পণ্যে
বিএমটি (BMT-Biggest,
Meatiest, Tastiest) তৈরিতে
পেপেরোনি, সালামি
ও হ্যাম
ব্যবহার করা
হয়। যদিও
নামটি মূলত
ব্রুকলিন ম্যানহাটন
ট্রানিজিট থেকে
এসেছে। এসবের
বাইরেও ব্রেকফাস্ট
স্যান্ডউইচ, ইংলিশ
মাফিন তৈরি
ও বিক্রি
করে। এছাড়া
২০০৬ সালে
তারা এনেছে
‘পারসোনাল
পিৎজা’, যা
যুক্তরাজ্যের বাজার
থেকে যাত্রা
করে। ২০০৯
সালে সাবওয়ে
সিয়াটল’স
বেস্ট কফি
পরিবেশনের সিদ্ধান্ত
নেয়। এটি
সকালের নাশতার
জন্য আমেরিকার
সাবওয়ের মেনুতে
যুক্ত হয়।
বলে রাখা
ভালো, ভারতে
সাবওয়ের কোনো
আউটলেটে বিফ
পরিবেশন করা
হয় না।
বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি
আরো বেশকিছু
কার্যকর পদক্ষেপ
সাবওয়ের প্রসারে
ভূমিকা রেখেছে।
যেমন তারা
আমেরিকান নেভির
সঙ্গে একটি
চুক্তি করেছিল।
এ চুক্তি
অনুসারে নৌবাহিনীর
জাহাজে সাবওয়ে
তাদের আউটলেট
খোলার প্রস্তাব
দেয়। ১৯৮৯
সালে হাওয়াইয়ের
পার্ল হারবার
স্টেশনে সাবওয়ের
প্রথম মিলিটারি-বেস
আউটলেট খোলা
হয়। ১৯৯৭
সাল নাগাদ
যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি
মিলিটারি বেসে
সাবওয়ের আউটলেট
তৈরি হয়।
বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক
আউটলেটের সুচারু
পরিচালনার জন্য
সাবওয়ে নানা
সময় প্রশংসিত
হয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে
ফাস্ট ফুডের
বাজারে সাবওয়ের
অবস্থান এখন
দারুণ। ২০২১
সালের জুনের
হিসাবে, ১০৪টি
দেশে সাবওয়ের
মোট ৪১
হাজার ৬০০টি
আউটলেট রয়েছে।
এর মধ্যে
নর্থ আমেরিকায়
শাখার সংখ্যা
২১ হাজার
৭৯৬। প্রতিষ্ঠানটি
প্রায় ৪
লাখ ১০
হাজার কর্মীর
কর্মসংস্থান করেছে।
২০১৯ সালের
হিসাবে, সাবওয়ের
রেভিনিউয়ের পরিমাণ
১৬ দশমিক
১ বিলিয়ন
ডলার। মজার
ব্যাপার হলো
যেসব দেশে
সাবওয়ের শাখা
নেই তারাও
সাবওয়ের প্যাটার্ন
লক্ষ করে
সে অনুসারে
স্যান্ডউইচ তৈরি
করে এবং
তা যথেষ্ট
জনপ্রিয়।
আলী আমজাদ: লেখক





