অনেক মেয়েকে ‘কবিতা’ পড়তে দিই, যেন সে ডিজায়ার পড়ে, এ বাসনা স্পষ্ট জাইনা কিংবা অস্পষ্টতা থেইকা। প্রেমিকাদের পড়তে দিই কিছু কিছু কবিতা, যেন সে আমাদের, ভালোবাসতে পারা ও না পারার, অর্থ এবং অর্থহীনতার ভেতর, ভাষার সংকট পাড়ি দিতে পেরে, আমি মরে যাওয়ার পরও সম্পর্কের ব্যক্তিগত অমরতায় আমাকেই ভালোবেসে যাবে। অনেক মেয়েকে আমি কবিতা পড়তে দিই, তার প্রতি মুগ্ধতা জানাইতে অথবা তার সৌন্দর্যকে অ্যাপ্রিশিয়েট করতে, যেমন বিপক্ষের ব্যাটসম্যান ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছে বলে, বাউন্ডারি থেকে বলটি ফেরত আসার আগে পিঠ চাপড়ে দেয়ার মতো। নিছক মেয়ে বলেও অনেককে আমি কবিতা পড়তে দিই, যেন সে ‘পুরুষ’ পড়ে চকিত চঞ্চল হয়; যেন সেসব মেয়ে তাদের প্রেমিকের সঙ্গে প্রেম করার সময়ও আমাকে স্মরণ করে, কার্যকারণহীন। অনেক অবলা মেয়েকে কবিতা পড়তে দিই, যেন সে ভাষা পায় কিছু বলার... অথবা অনেক মেয়ে যেন তার কানে শুনতে না পারাকে জয় করে শ্রবণযন্ত্রের ব্যবহার শুরু করতে পারে। অনেক মেয়ের অন্ধ চোখে আমার লেখাই দৃষ্টি হয়ে ওঠে দৃশ্যত যা, অথবা অদৃষ্টের ভূত ও ভবিষ্যৎ, এজন্য কত মেয়েকে কবিতা পড়তে দিই। এমনি, একদম এমনিও যে কত মেয়েকে আমি কবিতা পড়তে দিই..., কারণ অগণিত মানুষের মধ্যে মেয়েদেরই আমার পছন্দ বেশি, যদি এই প্রশ্ন সামনে আসে- নারী নাকি পুরুষের মধ্যে কাকে আমি, এই ধরেন এই কবিতাটাই পড়তে দিতে চাই। তবে এইটা ঠিক যে, তারা সবাই কবিতা পড়তে চেয়ে কিংবা মূলত তাকে ওই পড়তে দেয়া কবিতায় যা কিছু বলা হয়, তা পড়তে অক্ষম; যেন সে ঘুমচোখে মাথা দুলিয়ে পড়ে যাচ্ছে পবিত্র কেতাব, শৈশবের বারান্দায় অথবা যেন সে শপথ পড়ে যায় সামরিক শাসকের মতো করে, মিথ্যা রাষ্ট্রের দিনকে রাত এবং রাতকে দিন হতে দেখে দেখে, কেবলমাত্র নিয়মানুবর্তিতায়। কিছু কিছু কবিতার কথা মেয়েরাই উদ্ধার করতে পারবে, যদি না সে পড়তে অক্ষম হয় কবিতা। মেয়ে বলেই মরে যেতে যেতে এসব বাঁচা-মরা দ্বন্দ্বেও যেন পায় জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য, সান্ত্বনা; সেজন্য কত কবিতার ছন্দহীনতা লিখে অনেক কবিতা আমি মেয়েদেরই পড়তে দিতে চেয়ে থাকি। এছাড়া এমনিতে একটি কবিতা লিখে, এই পৃথিবীতে নিছকমাত্র ছেলে-ছোকড়া, পুরুষ-নাবালক কিংবা তরুণ-যুবকদের পড়ানোর চেয়ে; কেবল মেয়ে হিসেবে প্রতিভাত, তাদেরকেই কবিতা পড়ানোর ছলে, বুঝে বা না বুঝে, ভুল কিংবা উল্টো বা একদমই অন্য কিছু... যা বলা বা না বলা কথা বলে বলে লাইফটাইমের সবটুকু টকটাইম খরচ করতে চাই। কারণ, আমি এই পুরুষ দুনিয়ায়, অনেক নারীবাদ না কিংবা ঘাড়ে চেপে বসা সভ্যতা বা নারী দিবসে পুরুষের মেয়েলি কান্নার পুং সংবেদনশীলতার চাপ, এসবের কিছুই না... কেবল কবিতায়-ই লেখা যায় যে, স্তনে শিশুর দুধদাতের দংশনে বিষ নয়, অথবা নয় মোহনীয় ইন্দ্রিয়ের জয় বা পরাজয় বরং স্বপ্নবুঁদ হয়ে ওঠে মা...। কিংবা আরো আরো কিছু, যা- দিনকে রাত করে যাওয়া, সাদা ও কালোর রঙিন দুনিয়ায়, পুরুষ মানুষের ভাষাহীনতা এবং শব্দ ও তার অর্থের অনেক নিবিড়ে- সন্ধ্যা মুহূর্তমাত্রের মতো, যেন কূটাভাস বা ইশারাও নয়, তবু এক পাঠযোগ্য কথা রহস্য ভাষায়- কবিতায় বলা যায়, যা মেয়েরা পড়তে পারুক বা না পারুক, তবু ওনারাই পড়ুক, এটুক আমি চাই... এসব ছেলেছোকড়া বা মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষ ইত্যাদি হোক বা না হোক, মেয়েরে কবিতা পড়তে দিই, যেন সে ডিজায়ার পড়ে; হয়তো পুরুষ শরীরে বসে লিখতেছি বলেই- আরো অনেক অনেক, সমসাময়িক এই পৃথিবীর প্রায় সব মেয়ে, তাদেরকে উদ্দেশ করে বা না করে, হোক বা আগামাথা সম্পর্কহীন... তবু সবসময় আরো কিছু বাড়তি মেয়ে পাঠক অনবরত পড়তে থাকুক, আমার কবিতা এবং সেখানে লেখা বা না লেখা, বলা বা না বলা, বলতে পারা না পারা... এমনকি কোন কোন কবিতায় এতক্ষণ যা কিছু, তার লেশমাত্র নেই- তবু সেসব কথা, নীরবতা, কথাহীনতা... কবিতার, অনেক মেয়েকে আমি অনেক কবিতা পড়তে দিই, যেহেতু সে মেয়ে।
মেয়েরা, পড়ো এই কবিতা






