আপনিসহ অনেক নারী কর্মী যারা পিবিএসের চার্লি রোজ শোয় যৌন হয়রানির কারণে চাকরিচ্যুত পুরুষদের স্থলে অভিষিক্ত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কাজ করছেন। সেসব অভিযুক্ত পুরুষের সংখ্যা কি আপনাকে বিস্মিত করে?
সত্যি আমি ভীষণ অবাক হয়েছি এটা জেনে। আপনি এতদিন যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের সম্পর্কে যখন এ রকম স্পর্শকাতর কোনো বিষয়ের অবতারণা হয়, তাতে অবশ্যই অবাক হওয়ার কথা! অন্যদিকে পুঁজিপতি শাসিত সমাজে বছরের পর বছর এ চর্চা অব্যাহত আছে। যেন ঈশ্বর আজন্ম তাদের সেই অধিকার দিয়ে রেখেছেন। এটা কেবল যৌন হয়রানি কিংবা যৌনসংশ্লিষ্ট বিষয়ই নয়, এটা অনেক বড় চিন্তার বিষয়। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী যেখানে নারীরাও সমানভাবে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে এবং জাতীয় জিডিপি বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। আমেরিকায় সমানসংখ্যক নারী বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে, যা মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ আর ভারতে এর হার ২৭ শতাংশ। যদি সমাজের পুরুষরা শারীরিকভাবে নারীদের প্রতি এভাবে প্ররোচিত হয়, তবে নৈতিকতার বিষয়টা সেখানে বেশ প্রশ্নবিদ্ধ ঠেকে। সম্মানের সঙ্গে সঙ্গে যেহেতু এখানে অর্থনৈতিক বিষয়টাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
চাকরিচ্যুত পুরুষদের ক্ষেত্রে কারো কারো সহানুভূতি লক্ষণীয়। কারণ এতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিভাবান পুরুষ ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
এটা আমার কাছে অত্যুক্তি মনে হয়। এ প্রতিভাবান মানুষগুলো প্রতিভাবান নারীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কতসংখ্যক তরুণী যে এই নিপীড়ন ও চাতুর্যের ফাঁদ সহ্য করতে না পেরে নিজেদের চাকরি থেকে সরিয়ে নিয়েছে, তা সংখ্যায় নিরূপণ করা বেশ কঠিন।
বৈশ্বিক সমাজে যৌনতার মতো বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন, ‘বৈশ্বিক যৌনতা কিংবা প্রেম বিষয়ে’ যেখানে আমেরিকার মতো দেশ এ রকম একটা সংকটে পতিত হয়েছে।
অনেকের সঙ্গে কথা বলে চাকরিতে তাদের ক্ষমতায়ন, অনুভূতি, ভবিষ্যৎ, বিয়ে, সমাজে তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার ক্ষমতা সম্পর্কে আমি জানার চেষ্টা করেছি। জানতে চেয়েছি যৌনতা বিষয়ে কতটুকু নিয়ন্ত্রণ তাদের আছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে এটাই উঠে এসেছে যে, পশ্চিমা পুরুষদের নিজেদের ওপর অতটা নিয়ন্ত্রণ নেই, ঠিক যতটা আমরা তাদের কাছে প্রত্যাশা করি।
আমি একটু যোগ করতে চাই। অতীতের কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, রিপোর্টিং থেকে অনেকে সরে এসেছেন। যৌনতা সম্পর্কে কৌশলী প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি তা আবিষ্কার করতে চেয়েছেন।
আমি নিশ্চিত, জনগণ এতে মর্মাহত হবে না। একটা বিষয় লক্ষ করেছি, যেখানেই আমরা যাই, সবারই প্রায় একই কথা জেনেছি। আপনি হয়তো লক্ষ করেছেন, সব ঘটনা একই ধাঁচের।
আপনি তো ৩৫ বছর ধরে সিএনএনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। একটি অগ্রগণ্য সংবাদমাধ্যম হিসেবে এটাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? এ বিষয় কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে?
এ বিষয়ে আমি অসন্তুষ্ট, তবে বিষয়টাকে ব্যক্তিগত হিসেবে বিবেচনায় নিইনি। এটা আমার কাছে মূর্খামির আস্ফাালন ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের এটা ভাবা কি যৌক্তিক নয় যে, আমরা একটু হলেও সমস্যার ভেতর নিমজ্জিত হয়ে পড়ছি।
এ সমালোচনা থেকে সিএনএন অনেকের মনোযোগের বিষয়বস্তু হবে। আপনি কী মনে করেন?
অতীতের কথা বললে এটা হয়তো কিছুটা সংশ্লিষ্ট ছিল, কিন্তু আমি মনে করি না যে, এ ধরনের লাঞ্ছনা বা নিগ্রহ থেকে কেউ উপকৃত হবে। এটি কেবল একটি নেটওয়ার্কের ক্ষতিই করছে না, এটি সুশীল সমাজ ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; যারা সত্য-মিথ্যার সঠিক প্রেক্ষাপট নির্ণয়ের কাজ করে থাকে। সত্য সঠিক গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করে আর অসত্য একনায়কতন্ত্রের দিকে ধাবিত করে। হোক সেটা জনগণের মাধ্যমে কিংবা প্রেসিডেন্টের প্ররোচনায়। অথবা প্রেসিডেন্ট নিজেই বুঝতে পারছেন না তিনি যা বলছেন, তার ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে। আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট বা তার চারপাশের লোকেরা কী বলছে, তার প্রকৃত ফলাফল সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। এটা মানুষের মধ্যে সংকীর্ণতার জন্ম দেবে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যে পৃথক মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে অনেক কিছু মিথ্যা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে আর কিছু বিষয় আছে যা কপর্দক প্রতিশ্রুতিতে পরিপূর্ণ। জনগণের স্বার্থ বিবর্জিত হয়, এমন নিয়মনীতির বিরুদ্ধে অবশ্যই সবার সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আপনি কি মনে করেন, সাংবাদিকরা তাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটা বিশ্বাসযোগ্য জনমত গড়ে তুলতে পারেন?
দেখুন, অর্থ এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সাংবাদিকতার প্রকৃত পরিসর সেখানে বেশ সংকুচিত। বড় কোনো নেটওয়ার্ক পরিচালনা ঠিক নয়, স্থানীয় ক্ষেত্রেও এটা প্রতীয়মান, যেখানে এটা গুরুত্বপূর্ণ তাত্পর্য বহন করে। দেশের কেন্দ্রে বসে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে আপনি কয়েক ঘণ্টার সংবাদ সহজে পেতে পারেন, কিন্তু স্থানীয় অনেক সংবাদ আছে, যেগুলো অন্তরালেই থেকে যাচ্ছে। এটাই দেশের ক্ষতির কারণ। কেননা সেখানেই প্রকৃত সংবাদের উৎস নিহিত আছে।






