That marvelous landscape of my dream —
Which no eye knows, nor ever will —
At moments, wide awake, I seem
To grasp, and it excites me still.
(শার্ল
বোদলেয়রের প্যারিসিয়ান ড্রিম থেকে)
প্যারিস কোনো
শহর নয়,
প্যারিস হচ্ছে
বিশ্ব—রাজা
প্রথম ফ্রান্সেস।
প্যারিসের বয়স
আট হাজার
বছর। কেবল
বাস বা দেখার
জন্য নয়
প্যারিস বরং
অনুভব করার
জন্যও। প্যারিসের
নাম ধার
করে পৃথিবীতে
আরো ৩৮টি
প্যারিস শহর
প্রতিষ্ঠা করা
হয়েছে। অস্কার
ওয়াইল্ড লিখেছিলেন,
যখন ভালো
আমেরিকানদের মৃত্যু
হয়, তাদের
আত্মা প্যারিসে
যায়।
প্যারিসের চিত্রশিল্পী
পৃথিবীকে সৌন্দর্য
দিয়েছেন, প্যারিসের
কবি পৃথিবীকে
প্রেম দিয়েছেন,
প্যারিসের বিজ্ঞানী
পৃথিবীকে অক্সিজেন
দিয়েছেন। বিজ্ঞানী
ল্যাভয়সিয়ে এখানে
বসেই পানি
বিভাজন করে
অক্সিজেন ও
হাইড্রোজেন বের
করে এনেছেন।
এথেন্স ও
রোমের পর
যে শহর
পৃথিবীর আকর্ষণের
কেন্দ্র হয়ে
উঠেছিল, সেকালের
সেই লুটেশিয়া,
একালের প্যারিস
কিংবা পারী।
এথেন্স ও
রোম অনেক হারিয়েছে
আর প্যারিস
গ্রহণ করেছে।
একালের অন্যতম
শ্রেষ্ঠ মেট্রোপলিস
এবং কসমোপলিস
এই প্যারিস।
অন্তত ৫০টি
স্বাধীন ও
সার্বভৌম দেশের
নাগরিক অভিবাসী
হয়ে প্যারিসে
এসে স্থায়ী
বসতি স্থাপন
করেছে। দীর্ঘকাল
ধরে পর্যটকের
প্রধান আকর্ষণ
ছিল প্যারিস
ও লন্ডন,
হালে সঙ্গে
যোগ হয়েছে
ব্যাংকক ও
সিঙ্গাপুর।
১৪০ বছর
আগে যে
বাঙালি পরিব্রাজক
ইউরোপ গমন
করেছেন, তিনি
কী দেখে
বিস্মিত হয়েছেন?
‘(বুলিয়ার
নামক ভবনের)
দ্বারদেশ পার
হইয়া দেখি
একটি বিস্তৃত
স্থলে অসংখ্য
যুবক-যুবতীর
হাট বসিয়াছে।
তাহার পার্শ্বস্থ
গৃহে অনেক
ব্যক্তি সুন্দরীর
সঙ্গে কফি
ভক্ষণে এবং
প্রেমোন্মত্তচিত্তে সুধাপানে
প্রবৃত্ত আছে।’
যুবতীরা তার
মতে
স্বেচ্ছাচারিণী
এবং রঙরসে
উন্মত্ত, বাদ্য
বেজে ওঠার
সঙ্গে সঙ্গে
যুবক-যুবতী
হাত ধরাধরি
করে বাদ্যের
তালে তালে
‘মণ্ডলাকারে
ও পদোত্তোলনপূর্বক’
নৃত্যে মেতে
উঠল। ঘুরে
ঘুরে এবং
পা তুলে
হাস্যমুখে প্রেমভরে
গদ গদ
হয়ে অবিরাম
নেচেই চলেছে। প্যারিসের
এ দৃশ্য
দেখে বাঙালি
পরিব্রাজকের কী
মনে হয়েছে,
তা তিনি
স্পষ্টভাবেই বলেছেন:
‘ফরাশীশ্গণের
নীতিশিক্ষা ক্রমেই
হ্রাস হইয়া
আসিতেছে। বিদ্যালয়ের
যুবক ছাত্রবৃন্দ
কোথায় নীতিশিক্ষার
পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
করিবে, না,
অশিক্ষিত ব্যক্তির
ন্যায় দূষিত
চরিত্রসম্পন্ন হইয়া
বৈদেশিকগণের ঘৃণার
পাত্র হইতেছে।
দুশ্চরিত্রা স্ত্রী লোকের
সঙ্গে যথেচ্ছ
আমোদ-প্রমোদে
যুবকগণের চরিত্র
যে কত
দূর কলুষিত
হইতে পারে,
তাহা ভারতবর্ষীয়গণের
বুঝিবার শক্তি
নাই। তাহাদের
ধর্মনীতি ক্রমেই
সমাজ হইতে
তিরোহিত হইতেছে।
ইহাদের অধিকাংশ
লোক (আলেকজান্ডার)
দুমা, (অনরে
দ্য) বালজাক
ও (এমিল)
জোলার নবেল
পাঠে ব্যগ্র।
এ সকল
গ্রন্থকারের পুস্তকপাঠে
কেবল কুশিক্ষা
হইয়া থাকে। তিনি
আরো লক্ষ
করেছেন, ‘অশ্লীল
গ্রন্থ ও
অশ্লীল ছবি
ফরাশীশ্গণ ক্রয়
করিতে বিশেষ
তত্পর। দোকানে
প্রকাশ্যরূপে উলঙ্গ
স্ত্রীমূর্তি বিক্রীত
হয়।’ তিনি
আফসোস করেছেন,
দার্শনিক অগাস্ত কোতের
পজিটিভিস্ট দর্শন
গ্রন্থ সাধারণ
‘ফরাশীশ্গণ
একবার পড়িয়াও
দেখেন না।’
জ্যঁ জ্যাক
রুশো ১৭৪২-এ
লিওঁ থেকে
প্যারিস এসে
হতাশ হন।
তিনি আশা
করেছিলেন সুন্দর
রাজকীয় একটি
শহর দেখবেন,
কিন্তু তিনি
দেখলেন সরু,
নোংরা পুঁতিগন্ধময়
অলিগলি; দুর্বৃত্ত
অধ্যুষিত ঘরবাড়ি
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ,
ভিক্ষুক, দরিদ্র,
ওয়াগন চালক,
পুরনো কাপড়
সেলাই করার
দর্জি, চা
ও পুরনো
ব্যাট বিক্রেতা।
একালে প্যারিস
শুনলেই পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠ জাদুঘর
ল্যুভর কথা
মনে হবেই।
১৭৯৩ সালে
প্রতিষ্ঠিত এ
সৌধ ল্যুভ
মিউজিয়ামে ওল্ড
মাস্টারদের আঁকা
শ্রেষ্ঠ চিত্রকর্মগুলো
দেখতে দেখতে
আপনি মোনালিসার
সামনে দাঁড়িয়ে
থ’ হয়ে
আছেন। কিন্তু
এমন চিত্রকল্প
কি মনে
করতে পারেন,
ল্যুভ মিউজিয়ামের
চারপাশের রাস্তায়
মানুষ সমান
পানি গড়িয়ে
চলাচলের প্রশ্নই
আসে না,
সাঁতার কেটে
গিয়ে পৌঁছাবেন
তাতেও লাভ
নেই ল্যুভে
তালা লাগিয়েছে
কর্তৃপক্ষ। বন্যা
নাস্তানাবুদ করে
দিয়েছে প্যারিসকে।
পৃথিবীর অন্যতম
আবাসযোগ্য ঢাকা
মহানগর কিংবা
ঢাকা মেগাসিটিতে
এ তো
নিত্যকার ঘটনা।
তাই বলে
প্যারিসেও! প্যারিসের
এ বন্যা
এবং জলাবদ্ধতার
ঘটনাটি মাত্র
কয়েক বছর
আগের। সেইন
নদীর পানি
বেড়ে যায়,
নদীর কাছাকাছি
বাড়িঘরের বেজমেন্ট
পানিতে তলিয়ে
যায়, রাস্তায়
পানি ওঠে,
পানির উচ্চতা
ক্রমাগত বাড়তে
থাকে। শহরের
ভেতরে আছে
ক্রিমিয়ান সৈনিকের
একটি ভাস্কর্য।
এটি এখন
বন্যার পানি
মাপার নির্দেশক।
১৯৯০ সালের
সেইন নদীর
বন্যার পানি
ভাস্কর্যের গলা
পর্যন্ত পৌঁছেছিল,
প্যারিস শহর
দুই মাস
বন্যায় তলিয়ে
ছিল। এবার
হাঁটুও ছুঁয়েছে
আর তাতেই
ল্যুভ মিউজিয়ামের
একাংশ। শহরের
কমিউটার ট্রেন
সার্ভিস আগেই
বন্ধ করে
দেয়া হয়েছিল।
সুতরাং স্বপ্নের
শহর প্যারিসের
জন্য বড়
চ্যালেঞ্জ সেইন
নদীর বন্যা
নিয়ন্ত্রণ ও
শহর রক্ষা।
প্যারিস মানে
আইফেল টাওয়ার।
যে পর্যটক
প্যারিস গিয়েছেন,
তিনি ল্যুভে
না-ও
যেতে পারেন,
মোনালিসা তার
দেখা না-ও
হতে পারে,
কিন্তু প্যারিসে
গেছেন কিন্তু
আইফেল টাওয়ার
দেখেননি, তিনি
আসলে প্যারিসের
নাম করে
অন্য কোথাও
গিয়েছেন কিংবা
মিথ্যা কথা
বলছেন। ফ্রান্সে
বছরে সাড়ে
চার কোটি
পর্যটক ভিড়
জমান। এ
পর্যটক ব্যবস্থাপনাই
একটি বড়
চ্যালেঞ্জ। পর্যটক
আইফেল টাওয়ারে
উঠতে চাইলেন।
শুনলেন বন্ধ।
দূর থেকে
টাওয়ার দেখে
চলে যান।
বিস্ময়কর মনে
হতে পারে,
৮ ডিসেম্বর
২০১৬ ইঁদুরের
উৎপাতের কারণে
আইফেল টাওয়ার
বন্ধ করে
দেয়া হয়।
ইউরোপে এমনিতেই
ইঁদুরভীতি রয়েছে,
কারণ অতীতের
প্লেগমৃত্যু, যা
ব্ল্যাক ডেথ
নামে পরিচিত।
ইউরোপের কোনো
কোনো শহরের
অর্ধেকের বেশি
জনসংখ্যা নিশ্চিহ্ন
করে দিয়েছে। প্লেগ,
কলেরা, বহিঃশত্রুর
আক্রমণ, দীর্ঘমেয়াদি
যুদ্ধ এসবের
মধ্য দিয়ে
প্যারিস পরিণত
হয়েছে ইউরোপ
প্রধান দুটি
শহরের একটি,
অন্যটি অবশ্যই
লন্ডন।
‘যে
জাতির পনিরই
আছে ২৪৬
ধরনের, সে
জাতিকে কেউ
কেমন করে
শাসন করবে?’
প্রেসিডেন্ট শার্ল
দ্য গল
মজা করেই
নিজের জাতির
বৈচিত্র্য সম্পর্কে
এ কথা
বলেছিলেন। আর
এ বৈচিত্র্যের
প্রায় পুরোটাই
ধারণ করছে
প্যারিস। লন্ডনের
চেয়ে অনেক
বেশি অভিজাত
ও পুরনো
খান্দান হচ্ছে
প্যারিস। খ্রিস্টজন্মের
প্রায় আট
হাজার বছর
আগের শিকার
সন্ধানী মানুষের
জীবাশ্ম আবিষ্কৃত
হয়েছে এ
অঞ্চলেই।
খ্রিস্টপূর্ব ৫২
অব্দে রোমান
সম্রাট জুলিয়াস
সিজারের উদ্যোগে
সেইন নদীর
বাম তীরে
গল-রোমান
গ্যারিসন শহর
প্রতিষ্ঠিত হয়,
শহরের নাম
ল্যুটেশিয়া। এ
সময় বিভিন্ন
ধরনের নির্মাণকাজ
অ্যাম্পিথিয়েটার, স্নানাগার
তৈরি হয়।
শহরটি নতুন
করে পরিচিত
হয় সিটি
অব প্যারিসি
বা প্যারিস
নামে। প্যারিসিরা
সেলটিক উপজাতি।
ক্রমাগত আক্রমণ
ও অবরোধে
জার্মান ও
রোমান শক্তি
দুর্বল হয়ে
পড়ে। তারপর
ফ্রাঙ্কদের টানা
১০ বছরের
অবরোধ। ১৬
বছর বয়সী
রাজা প্রথম
ক্লোভিসের সেনাবাহিনীর
কাছে রোমানরা
পরাজিত হয়।
নবম শতকে
ভাইকিং জলদস্যুরা
প্যারিস অবরোধ
ও লুটপাট
করে। দ্বাদশ
শতকের শুরুতে
প্রতিষ্ঠিত হয়
প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়।
ত্রয়োদশ শতকে
নগরীর লোকসংখ্যা
দুই লাখ।
১৩৫৭-৫৮
সালে রাজক্ষমতা
সীমিত করার
লক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা
মার্শেলের নেতৃত্বে
সশস্ত্র বিদ্রোহ
করে। শুরুতে
বিদ্রোহীরা সফল
হলেও দ্বিতীয়বারে
রাজকীয় সেনাবাহিনীর
হাতে মার্শেল
নিহত হন।
তার অনুগামীদের
অধিকাংশকেই মৃত্যুদণ্ড
দেয়া হয়।
১৪২০ সালে
ইংরেজরা প্যারিস
দখল করে
নেয়। ১৪৩৬-এ
প্যারিস পুনরুদ্ধার
হয়। ১৫৭২-এ
প্যারিসের ক্যাথলিকরা
প্রটেস্ট্যান্টদের ওপর
ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ
চালায়। সপ্তদশ
শতাব্দী থেকে
ফ্রান্সে শুরু
হয় ‘এজ
অব এনলাইটেনমেন্ট’
শিক্ষা ও
সংস্কৃতিকে অন্যান্য
ইউরোপীয় দেশকে
ছাড়িয়ে যেতে
থাকে।
১৭৮১-৯৯
প্যারিস ছিল
ফরাসি বিপ্লবের
কেন্দ্রভূমি। ১৮০০-১৫
পর্যন্ত ফ্রান্স
শাসন করেছেন
নেপোলিয়ন। ১৯৮৯
সালে আইফেল
টাওয়ার নির্মিত
হলো। ১৯৪০
থেকে চার
বছরের বেশি
সময় প্যারিস
জার্মানির দখলে
ছিল। মুক্ত
হয় ১৯৪৪-এ।
নতুন করে
গড়ে উঠতে
থাকে প্যারিস।
হারানো প্যারিস
শহর ১০৫
বর্গকিলোমিটার। প্যারিস
মেট্রোপলিটন এলাকা
২ হাজার
৩০০ বর্গকিলোমিটার।
মপার্নাসে ও
মমার্ত শিল্পীদের
পাড়া। প্যারিস
বিশ্বের সাংস্কৃতিক
রাজধানী। প্যারিসে
বিশ্বমানের জাদুঘরের
সংখ্যাই ১৭০,
আর লাইব্রেরি
৮৩০। খ্যাতিমান
ভাস্কর ও
চিত্রশিল্পী চিন্তামনি
কর তার
স্মৃতিচিহ্নিত গ্রন্থে
লিখেছেন, পৃথিবীতে
যদি সত্যিকার
আন্তর্জাতিক ও
বিশ্বজনীন শহর
থাকে তো
সে পারী।
পারীর মধ্যে
চলে গেছে
অসংখ্য বুলভার
বা প্রশস্ত
রাজপথ। এগুলো
কলকাতার চৌরঙ্গীর
প্রায় দু-তিনগুণ
চওড়া। বিখ্যাত
বুলভার সাঁজেলিজে
পৃথিবীর একটি
প্রশস্ততম রাজপথ।
প্রায় প্রত্যেক
বুলভারের দুই
পাশে সুন্দর
গাছের সারি,
রাতে গাছের
সারির পাশে
আলোর সারি,
গাছের ডালপালা
পাতার ফাঁক
দিয়ে আলোর
বন্যা বইয়ে
দেয়। পারী
শহরের মধ্যে
এত গাছপালা
থাকার জন্য
এর শহরটির
চারপাশে বন
থাকায় বিমান
আক্রমণকারীদের দৃষ্টিবিভ্রম
জাগিয়ে দেয়।
কালো বনের
ফাঁকে কোথায়
যে শহরটি
আত্মগোপন করে
আছে, অনেক
সময় ওপর
থেকে রাতে
তারা বুঝতে
পারে না।
তবুও অমূল্য
সংস্কৃতি ও
সভ্যতা সম্পদের
নিদর্শনে পূর্ণ
পারীকে অসভ্য
নিপীড়কদের থেকে
রক্ষা করার
জন্য রাষ্ট্রের
কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট
সাবধানতা অবলম্বন
করেছিলেন। পার্কগুলোর
মাঝে ট্রেঞ্চ
কেটে বড়
বড় কামান
বসানো হয়েছিল।
চিন্তামনি করের
বর্ণনা দ্বিতীয়
মহাযুদ্ধ চলাকালীন
এক কালের
তরুণ বাঙ্গালি
পর্যটক প্যারিসে
পৌঁছার আগে
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের
পঙিক্ত স্মরণ
করলেন ‘প্রত্যেক
শিল্পীরই দুটি
মাতৃভূমি, একটি
যেখানে সে
জন্মেছে, অন্যটি
হলো ফ্রান্স।
আর ফ্রান্স
মানেই শেষ
পর্যন্ত প্যারিস।
প্যারিসের এয়ারপোর্টটি
সাবেক প্রেসিডেন্ট
দ্য গলের
নামে। এখন
বছরে প্রায়
পাঁচ লাখ
উড়োজাহাজ এবং
সাত কোটি
মানুষের ওঠানামা
ইউরোপের অন্যতম
প্রধান এ
এয়ারপোর্টে।
‘কেবল
বিশালত্বে নয়
এ বৈশিষ্ট্যতা
মূলত স্থাপত্যকলায়।
ফ্রেঞ্চরা এ
ধরনের নকশাকে
বলে আভ্যাঁ
গার্দে অর্থাৎ
নবধারার নকশা।
মোট তিনটি
টার্মিনাল তার
সঙ্গে নানাভাবে
নানা কায়দায়
সংযুক্ত ছয়-সাতটি
করে স্যাটেলাইট
টার্মিনাল। কোথাও
প্যাঁচানো সিঁড়ি,
কোথাও দীর্ঘ
সুড়ঙ্গ। এ
একতলা গিয়ে
মিশেছে তেতলার
সঙ্গে। আবার
তা পাক
খেয়ে নেমে
এসেছে দোতলার
মেঝেতে যেন
বিশাল এক
ভুলভুলাইয়া। স্বীকার
করতে হবে
এর স্থাপত্যশৈলীতে
রয়েছে অভাবনীয়
অভিনবত্ব। কিন্তু
আমার মন
টানল না
এখনো যেন
স্বস্তির চেয়ে
চমক বেশি।
সৌন্দর্য্যের চেয়ে
বেশি দুর্বোধ্যতা।’
(ইউরেকা! ইউরোপ!!—কাজী
সাইফউদ্দীন বেন্নূর)
শতবর্ষ
পুরনো প্যারিসের মেট্রো
৩৮০টি ভূগর্ভস্থ
স্টেশন নিয়ে
ইউরোপের দ্বিতীয়
বৃহত্তম সাবওয়ে।
রাস্তায় সড়কবাতি
লাগানোর ক্ষেত্রে
পৃথিবীর প্রথম
শহর হওয়ায়
প্যারিসকেই বলা
হয়েছে City of
light।
প্যারিসের সবচেয়ে
পুরনো কাফে Le
Procope ১৬৮৬
সালের। প্যারিসে
টিকে থাকা
সবচেয়ে পুরনো
বাড়িটি ১৪০৭
সালের, 51 rue
de Montmorency, 3
Arrondissement ঠিকানায়।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ
চিত্রশালা ল্যুভ
তৈরি হয়েছিল
নগর রাজার
দুর্গ হিসেবে।
ফরাসি রাজারা
তাদের রুচি
অনুযায়ী প্রত্যেকেই
এ দুর্গে
কিছু না
কিছু পরিবর্তন
আনেন। ষোড়শ
শতাব্দী থেকে
এ দুর্গ
রূপান্তরিত হয়
রাজপ্রাসাদে। রাজা
ফ্রাসোয়া ল্যুভ
ব্যাপক সংস্কার
করে প্রাসাদের
একাংশে রেনেসাঁ
স্থাপত্য ও
ভাস্কর্য সাজাতে
থাকেন। তখন
প্রটেস্ট্যান্ট আন্দোলন
তুঙ্গে। এরই
মধ্যে রাজা
চতুর্থ অঁরি
(হেনরি) প্রটেস্ট্যান্ট
ধর্মবিশ্বাস ছেড়ে
ক্যাথলিক হয়ে
গেলেও ক্যাথলিকদের
একজন তার
ধর্মবোধ নিয়ে
সন্ধিহান হয়ে
ল্যুভ প্রাসাদের
পাশেই ছুরিকাঘাতে
তাকে হত্যা
করে।
ভালোবাসার শহরে
দ্য প্যারিস সিনড্রোম
প্যারিস
হচ্ছে দ্য
সিটি অব
লাভ—ভালোবাসার
শহর। পর্যটকদের
প্রথম আকর্ষণ
ফ্রান্স। অতপর
যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন,
চীন, ইতালি,
যুক্তরাজ্য, জার্মানি,
মেক্সিকো, থাইল্যান্ড
ও অস্ট্রেলিয়া।
প্যারিসের আকর্ষণ
দুর্নিবার। কিন্তু
পর্যটক যে
ভালোবাসা ও
মুগ্ধতা লাভের
প্রত্যাশা নিয়ে
আসেন, প্যারিসে
আসার পর
তা না
পাওয়ার যন্ত্রণা
তাকে কষ্ট
দিতে থাকে—প্রত্যাশা
ও প্রাপ্তির
ব্যবধান নিয়ে
দ্য প্যারিস
সিনড্রোম। প্রথম
ধাক্কা প্যারিসের
মানুষ অন্য
ভাষা বলেন
না, ইংরেজিকে
মনে করেন
শত্রুর ভাষা;
প্যারিসিয়ানদের চেহারা
বিষণ্ন। প্যারিসেও
পকেটমার আছে,
ঠক-প্রতারক
আছে, কফি
ও পানীয়ের
দাম বেশি,
হোটেল ভাড়া
আকাশ ছোঁয়া—সব
মিলিয়ে পর্যটকদের
অনেকেই প্যারিস
সিনড্রোম এড়াতে
পারেন না।
মেগাসিটি প্যারিসের
সমস্যাও অতিশয়।
সরকারি ও
বেসরকারি মালিকানায়
৬০টি নিশিযাপন
কেন্দ্র রয়েছে।
তাতে ১৫
হাজার মানুষের
সংস্থান হয়।
প্যারিসের কেন্দ্রেই
গৃহহীন মানুষের
সংখ্যা বাড়ছে।
প্যারিসবাসী বছরে
মাথাপিছু ৪
দশমিক ২৫
টন জ্বালানি
তেলের সমপরিমাণ
জ্বালানি ভোগ
করে। ভবিষ্যতে
প্যারিসের জ্বালনি
সংকট মোকাবেলার
জন্য সৌরশক্তি
ব্যবহার অনিবার্য।
প্যারিসের ভবনগুলোর
একটি উল্লেখযোগ্য
অংশ খুবই
পুরনো হওয়ায়
এগুলো উষ্ণ
রাখতে বিপুল
পরিমাণ বিদ্যুতের
প্রয়োজন।
সাহিত্যে প্যারিস
ভিক্টর
হুগোর দ্য হাঞ্চব্যাক অব নতরদেম
এবং লা
মিজারেবল, এমিল জোলার
দ্য
লেডিস প্যারাডাইস, হেনরি
জেমসের দ্য অ্যাম্বাসাডর, আর্নেস্ট
হেমিংওয়ের অ্যা মুভেবল
ফিস্ট,
সমারসেট মমর দ্য
রেজর্স এজ,
গার্ট্রুড
স্টেইনের প্যারিস, মার্গারেট ম্যাকমিলানের
প্যারিস
১৯১৯; সিক্স
মান্থস দ্যাট
চেইঞ্জড দ্য
ওয়ার্ল্ড,
আর্নেস্ট হেমিংয়ের
দ্য
সান অলসো
রাইজেস, ক্লদ ইজনারের
মার্ডার
অন দ্য
আইফেল টাওয়ার,
হেনরি
মিলারের ট্রপিক অব
ক্যান্সার,
জেমস বল্ডউইনের
‘জিওভানি’জ রে ব্র্যাডবারির
উই
অলওয়েজ হ্যাভ
প্যারিস: স্টোরিজ, পওলা
ম্যাকলেইনের দ্য প্যারিস ওয়াইফ
এডমুন্ড হোয়াইটের
ইনসাইড
অ্যা পার্ট
মাই ইয়ার্স
ইন প্যারিস, সিলভিয়া
বেকের দ্য শেকসপিয়ার অ্যান্ড কোস্পানি, অ্যালিস্টেয়ার
হর্নের সেভেন এজেস
অব প্যারিস।
ফ্রান্সের অলিখিত আইন: সব শহরে
ভিক্টর হুগোর
নামে অন্তত
একটি রাস্তা
থাকতে হবে।
আন্দালিব রাশদী: কথাসাহিত্যিক





