বৃষ্টি চেয়ে উড়ো চিঠি

 

মন আমার,

ভালো আছিস বেশ দেখতে পাচ্ছি, ভালো লাগে, জানিস, এই যে ভালো আছিস সেটা জেনে। যার সাথেই থাকিস

ভালো থাকিস, এটাই কি চাইনি?

আমি? হুঁ, রান্না-খাওয়া, সংসার করা, মেয়ের যত্ন, অফিস করা, মুভি দেখা, বেড়াতে যাওয়া আর সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেয়া যদি ভালো থাকার মাপকাঠি হয়, তবে আমিও বেশ আছি।

হা-হা-হা-হা

“আমায় কেউ ডাকলে বলি, নেই।

হারিয়ে গেছি সেই তো কবে, ভীষণ অলক্ষ্যেই।

দেখছ আমার শরীরটাকে, আমায় দেখো কই?

ছায়ার ভেতর মিথ্যে কায়া, ‘আমার’ ‘আমি’ নই।”

দুই আর দুইয়ে চার কি সহসা হয়? ধরে নিই যদি, জীবনটা একটা পাজল, বক্সের ওপর খুব সুন্দর ছবি দেয়া আছে আর সাথে সব ছোট ছোট সব খাঁজ কাটা টুকরোগুলো। নির্দিষ্ট খাঁজের টুকরোর সাথে শুধু নির্দিষ্ট টুকরোটাই মিলবে। যে জায়গাটা মিলছে না, সেখানে ওই খাঁজটায় মিলে যাবে, এমন দেখতে বেশকিছু টুকরো আমরা সবাই বসিয়ে বসিয়ে চেষ্টা কি করি না? মনে হয় মিলে যাচ্ছে, কিংবা এবার বুঝি মিলেই গেল। এটাই সেটা যেটার সন্ধান ছিল। এবার পাজল সল্ভড, কমপ্লিট। প্রতিযোগিতা হলে সময়েরও ব্যাপার আছে, কার আগে কে দ্রুত মেলাতে পারল। তিনটে কোনায় অনেক সময় মিলেও কিন্তু যায়, তারপর এক পাশ মেলে না। আমরা আবার মেলাতে সচেষ্ট হই, নতুন ‘পারফেক্ট’ টুকরোটা খুঁজতে থাকি...খুঁজতে থাকি...খুঁজতে থাকি...

একটা গোটা জীবন কেটে যায় সোনার হরিণ খুঁজতে খুঁজতে...

ইতি,

তোর হারিয়ে ফেলা পাখি