সকালবেলা গোটা চারেক আনারস নিয়ে অপরিচিত মহিলা আমার বাসায় হাজির।
ঘুম থেকে দেরিতে উঠি। ছুটির দিন। ভ্রূ কুঁচকে এল।
হাতে-মুখে পানি দিয়ে ঘুম ভাব কাটিয়ে বসার ঘরে যার মুখোমুখি হলাম, তার বয়স চল্লিশের মতো। সঙ্গে বছর দশেকের একটা ছেলে। ছেলেটার চোখ-মুখ হুবুহু মহিলাটির মতো। আমাকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি রেহনুমা, আশফাকুজ্জামানের স্ত্রী।’
আমার কিছুক্ষণ লাগল বুঝতে কোন আশফাক। তিনজন আশফাকের মধ্যে আগের অফিসের আশফাক সাহেবেরই এই বয়সী একজন স্ত্রী থাকা সম্ভব।
‘বসুন।’
তিনি বললেন, ‘আমি খুব বিপদে পড়েছি। ওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
আমি কী বলব, বুঝতে পারছি না। আশফাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার অনেক দিন দেখা নেই। মহিলা আমি কিছু বলার আগেই বললেন, ‘আসলে আমি জানি, আপনি আর আগের অফিসে নেই। তবু ওই অফিসের সবাই বলল, আপনার সঙ্গে ওর ভালো সম্পর্ক, আপনি জানতে পারেন।’
আমি বললাম, ‘কিছু মনে করবেন না। অনেক দিন ওনার সঙ্গে কথা হয় না, দেখাও হয় না।
আমার প্রাক্তন কলিগদের বিবেচনা দেখে বিরক্ত না হয়ে পারলাম না। সে যাক! রেহনুমা ভাবিকে কিছু সান্ত্বনামূলক কথা বলা ছাড়া এ মুহূর্তে করার কিছু ছিল না। বাসায় চা বানানোর কোনো সরঞ্জাম না থাকার পরও অনেকবার চা খেতে বললাম। উনি রাজি হলেন না। ছেলেটা চুপচাপ। আমি আনারস খাই না। তবু রেখে দেয়া ছাড়া উপায় কি!
মহিলা ওনার ফোন নম্বর দিয়ে বিদায় হলেন। থাকেন ফরিদপুর। কয়েক দিন ঢাকায় এদিক-ওদিক খুঁজেছেন। এখন ছেলের পরীক্ষা বলে ফিরতে হচ্ছে।
একটা বিষয় জানার আগ্রহ ছিল। কিন্তু ছেলেটার সামনে জিজ্ঞেস করব কিনা ভাবছিলাম। তবু একপর্যায়ে বলে ফেললাম, ‘আচ্ছা, তরী নামের কাউকে চেনেন?’
উনি একেবারে থমকে গেলেন। তারপর বললেন, ‘আপনাকে ও তরীর গল্পটা বলেছে, তাই না? এত কিছু বলেছে, তবু ওর কোনো খোঁজখবর জানেন না?’ তার কণ্ঠে একটু শ্লেষ। ‘জানেন না, ও প্রায়ই এমন হারিয়ে যায়? প্রায়ই ওর মাথা...’ এটুকু বলতেই মনে হলো ওনার গলা ধরে এল।
আমি একটু থেমে বললাম, ‘না। এত কিছু জানি না, উনি শুধু একবার তরী নামে একজনের কথা বলেছিলেন।’
তিনি মনে হলো বিশ্বাসই করতে চাইছেন না যে আমি আসলেও আশফাক ভাইয়ের কোনো হদিস জানি না। আমি একটু বিব্রত হয়ে বললাম, ‘এর বেশি কিছু জানি না। তবে আমি খোঁজ করব। কাঁদবেন না প্লিজ। কিছু জানলে জানাব আপনাকে।’
তারা চলে যাওয়ার পরও সেদিন ঘুরেফিরে আশফাক ভাইয়ের কথা মনে পড়তে লাগল আমার। তার সঙ্গে বলার মতো বিশেষ কোনো সখ্য আমার ছিল না। তবু কেন যেন আমাকে একটু স্নেহ করতেন। একবার হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। অনেক রাত অবধি থাকা হয়ে গিয়েছিল, সেজন্যই কিনা!
মাঝে মধ্যে একসঙ্গে লাঞ্চ করতাম আমরা। কিন্তু সেসব উল্লেখ করার মতো কিছু নয়। একটা ঘটনার পর ওনাকে আমি এড়িয়ে চলতে শুরু করি। একবার ময়মনসিংহ থেকে ফেরার সময় ট্রেন লেট ছিল। কমলাপুর পৌঁছতে সেদিন রাত ২টা বেজে যায়। মেঘ ডাকছিল। একটা সিএনজি কোনোমতে পেলেও মিরপুরের কথা শুনতেই সে ব্যাটা কোনো জবাব না দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেলে অগত্যা আশফাক ভাইকে ফোন দিতে হয়েছিল। তার বাসাটা ছিল হাঁটা দূরত্বেই।
মনে আছে মিনিট দশেক লেগেছিল পৌঁছতে। একটা ঘুটঘুটে অন্ধকার সাততলা বিল্ডিংয়ের নিচে চাবি হাতে আশফাক ভাই নিজেই অপেক্ষা করছিলেন। ক্যাচ ক্যাচ শব্দ তুলে গেট খুলে নিয়ে গিয়েছিলেন পাঁচতলায় তার এক রুমের ছোট্ট বাসায়। পরিবার ছিল ফরিদপুরে। সেটাই জানতাম।
ঘুম ভাঙিয়ে অসময়ে তাকে সেদিন ওভাবে ডেকে তোলার পরও তিনি সেদিন বেশ খুশি হয়েছিলেন। ভাত খাইয়েছিলেন ডিমের তরকারি দিয়ে। এরপর দুই কাপ চা নিয়ে একসময় টুকটাক গল্প শুরু হয় আমাদের। বিদ্যুৎ চলে গেলে উনি বারান্দার দরজাটা খুলে দিয়ে বলেন, ‘বাতাস আসুক।’
এরপর তিনি খুঁজে খুঁজে একটা মোমবাতি এনে টেবিলে রাখতেই দেয়ালে আমার চোখ পড়ে। প্রথমে একটা অতিকায় টিকটিকি। তারপর একটা সাদাসিধে অদ্ভুত সুন্দর লাজুক তরুণীর মুখ দেয়ালের ছবিতে। সাদা-কালো ছবি। কোমল চোখ।
আশফাক ভাইকে জিজ্ঞাসা করতেই বলেছিলেন, ‘ওই ছবিটা? ওহ, ওইটা তরী, আপনার ভাবির ছবি।’
বললাম, ‘ভাবি কি ফরিদপুরে?’ আশফাক ভাই আনমনা হয়ে বললেন, ‘ঘুমাচ্ছে। খুব টায়ার্ড। সারা দিন গরমের মধ্যে রান্নাবান্না করেছে। কিছু মনে করবেন না। ইচ্ছা করেই ডাকিনি।’
আমি তো অবাক। তার এক রুমের বাসায় আমরা দুজন বসে আছি। এর মধ্যে আরেকজন ঘুমাচ্ছে কোথায়? সেসব আমলে না নিয়ে একটু পরে উনি চায়ে একটা আয়েশি চুমুক দিয়ে বললেন, ‘ওই ছবিটা আমারই তোলা।’
‘তখন আমরা ফরিদপুরে থাকতাম। বুঝলেন? একদিন বিকালে নদী গবেষণায় নিয়ে গেলাম। যে লাজুক ছিল!’ এ কথা বলে আশফাক ভাই চায়ে আরেকটি চুমুক দিলেন। ভেতরে ভেতরে চুপসে গেলেও চায়ে চুমুক দিয়ে তার কথা শুনে যেতে থাকি।
তিনি বলে চললেন, ‘সে নদী খুব পছন্দ করত! বরিশালের মেয়ে। সাঁতার পারত দারুণ। আর আমি ছিলাম শখের ফটোগ্রাফার।’
আমি বললাম, ‘ছিল বলছেন কেন? এখন করে না?’ উনি বললেন, ‘এখন? এখন পাব কোথায়, ভাই?’
আমি বললাম, ‘তবে যে বললেন, উনি ঘুমাচ্ছেন?’ উনি আমার চেয়েও অবাক হয়ে বললেন, ‘তাই বলেছিলাম নাকি!’
তখন আমার মনে হলো, কথাবার্তা মনে রাখতে আশফাক ভাইয়ের কিছু একটা গোলমাল হচ্ছে হয়তো। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে এল। তিনি কিচেনে কাপগুলো রেখে এলেন।
ফিরে এসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘সাবান দিয়ে হাত ধুতে গেলেই মনে পড়ে, বুঝলেন আবিদ? জুলাইয়ে বেশি হয় এই সমস্যাটা!... মাথাটা মনে হয় ঠিক নেই পুরো। আগের অফিসে প্রবলেম হচ্ছিল। এখনো মনে রাখতে সমস্যা হচ্ছে। কাউকে বলবেন না প্লিজ। চাকরি নিয়ে সমস্যায় পড়ে যাব, ভাই।’
আমি বলি, ‘টেক ইট ইজি, ভাই। এমন কিছুই হয়নি। কয়েক দিন ছুটি নেন। কোথাও থেকে বেড়িয়ে এলে ঠিক হয়ে যাবে।’
তিনি গলায় জোর দিয়ে বলেন, ‘না, না, হবে না। কোনোভাবেই ঠিক হবে না।’
আমি চুপ হয়ে যাই। এরপর আশফাক ভাই কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে থেমে থেমে নিচু গলায় বলতে শুরু করেন, ‘২০ বছর হয়। অফিস থেকে ফিরে কোথাও তারে খুঁজে পাই না। রাগ হয়। অফিসে খুব প্রেসার গেছিল। ভাবলাম, পাশের বাড়ির ভাবির সঙ্গে গল্প করছে। না, সে বাড়ি দেখি তালা দেয়া। তখন একটু চিন্তা হলো। শেষে দেখি উঠানের ওই পাড়ে একটা গোসলখানা ছিল। রাতে সাপখোপের ভয়ে যাওয়া হতো না। সেখানে পানির শব্দ। গিয়ে দেখি চুপচাপ পানি ঢালছে খালি গায়। শাড়ি-জামা কিচ্ছু নেই। ভূত দেখার মতো আমি চমকে উঠলাম। মেশিনের মতো খালি পানি ঢালছে। আর সাবান ঘষতে ঘষতে মনে হয় শরীরের সব চামড়া সব তুলে ফেলবে। আমাকে দেখে হুঁ-হুঁ করে কেঁদে ফেলল।’
সেই রাতে আশফাক ভাইকে কথায় পেয়েছিল মনে হয়। আমার কোনো জিজ্ঞাসার অপেক্ষায় না থেকেই তিনি বলেই চলেন, ‘শুধু একজনের নাম করছিল। ফিসফিস করে। চিবিয়ে চিবিয়ে। এরপর বমি করে দিল। আমি তারে উঠিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও সে আসতে চায় না। সাবানটা শক্ত করে ধরে গায়ে ঘষতে থাকে, বুঝলেন? তার গায়ের চামড়া দেখি ভিজে ভিজে কুঁচকে গেছে। সাবান গলে তার আঙুলের ছাপ বসে গেছে। তবু সে সাবানটা ধরে ঘষতেই থাকে। বলে, গা থেকে নোংরা যায় না—আরো সাবান আনো। যে দাগ দেখা যায় না, পাগলের মতো সে ধুয়ে ফেলতে চায়।’
আশফাক ভাইয়ের দেখি চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে। বলেন, ‘সমস্যা কী জানেন। প্রথমে আমার ওকেই কেমন ঘেন্না লাগল। পুরো বিশ্বাস পেলাম না। সব বুঝলেও মনে হলো, ওর সায় না থাকলে এটা সম্ভব? পরে নিজের বুঝ আসছে। ওর দোষ ছিল না। কিন্তু এর মধ্যেই তরী ঠিক আমাকে পড়ে ফেলছিল। বুঝলেন?’
‘যে করছিল, সে আমারই বন্ধু ছিল। আমার সঙ্গেই সে আমার বাসায় আসত। সেদিন সে এসেছিল একা। সে জানত, সেদিন আমার অফিস থেকে ফিরতে দেরি হবে। জানত, পাশের বাসার লোকেরা বেড়াতে গেছে। জানত, তরী তাকে আপন বড় ভাইয়ের মতো বিশ্বাস পায়।’ এটুকু বলে আশফাক ভাই চুপ করে থাকেন।
আর আমার খুব খারাপ লাগে। মনে হয়, বৃষ্টিতে ভেজাও ভালো ছিল! কেন এলাম! এমন ঘটনার সাক্ষী আমি হতে চাইনি।
তবু অনেকক্ষণ পর আমি মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করি, ‘উনি কোথায়?’
আশফাক ভাই বলেন, ‘সে বেঁচে নেই। তার শরীর খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। একদিন ব্লিডিং শুরু হয়। আমার হাতের এক গ্লাস পানিও সে আর খায়নি। আমার শাশুড়িকে খবর দিই। তিনি এসে চুপচাপ ওর সেবাযত্ন করেন। কিন্তু এই কয়েক দিন একবারও তরী আমার সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। আমার দিকে মাঝে মধ্যে তাকাত। অসুস্থ চোখ। একদম শেষ দিকে আমি আর তার সামনেও যাইনি। আমার মনে হতো, আমার সেই লোককে আর আমাকে ওই সময় সে একই রকম ঘৃণা করতো।’
‘কিন্তু কী করতাম বলেন? যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছিল। লোক জানাজানি হলে উপায় থাকত? একঘরে হয়ে যেতাম।’
‘জানেন কেমন লোক আমি! পরে বাড়ির লোকজনের অনুরোধে একসময় আমি আবার বিয়ে করি। আমার মনেই থাকে না, কদিন আগেই তরী মরে গেছে। তার পেটে ছিল আমাদের প্রথম সন্তান। যার নামও আমরা ঠিক করে ফেলছিলাম। মেয়ে হলো চিত্রা, ছেলে হলে কল্লোল। নদীর নামে নাম। মা আর বাচ্চা তখন কবরে ঘুমাচ্ছে।’
সেই রাতে আশফাক ভাই আর কোনো কথা বলেননি আমার সঙ্গে। সকালে ঘুম থেকে উঠে একেবারে কিছুই হয়নি ভঙ্গিতে আমরা যে যার মতো অফিসে চলে আসি। কিন্তু আমি ভাবছিলাম, কেন এসব তিনি আমাকে বলতে গেলেন? হয়তো জীবনে কখনো এসব কাউকে বলেননি। আর আমার নিজেরও এরপর কয়েক দিন হাত ধুতে গেলেই শুধু তরীর কথা মনে পড়ত। তরল, শক্ত, সুগন্ধি, ডিটারজেন্ট, ডিশওয়াশার, শ্যাম্পু কত পদের সাবান! এগুলো ছাড়া তো জীবন চলে না। কয়দিন খুব যন্ত্রণায় গেল!
যা-ই হোক। অফিসে আশফাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎও কমে যেতে লাগল। ওনাকে ফিল্ডে পাঠানো হতো বেশি। তবে তার পরও যে দু-একবার দেখা হয়েছে, তাকে দেখে মনে হয়নি, সেই রাতের কথা তার আর মনে আছে। আমার একটা চাকরির পরীক্ষা ভালো হলে আমি নতুন একটা ব্যাংকে জয়েন করি। মতিঝিলে পোস্টিং। কিছুদিন পর শুনেছিলাম, আশফাক ভাই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আর খোঁজ নিতে পারিনি।
এতদিন পর আজ রেহনুমা নামের বছর চল্লিশের কাঁচা-পাকা চুলের মহিলা আর মৃদুল নামের ছেলেটি এসে সেসব মনে করিয়ে দিলেন।
যা-ই হোক, করব না করব না করেও এদিক-ওদিক খোঁজ নিতে শুরু করলাম। কিন্তু কিছু জানতে পারলাম না। আমার এক বন্ধু পুলিশে ছিল। শেষে তার শরণ নিলাম। অনেক দিন পর তার সঙ্গে ক্যাম্পাসে এক সন্ধ্যায় চা-সিগারেট আড্ডার পর হারিয়ে যাওয়া আশফাক ভাইয়ের কথাটা পাড়লাম। ইউনিভার্সিটিতে তার সঙ্গে আমার বিশেষ যোগাযোগ না থাকলেও এখন আমাকে দেখে সে বেশ খুশিই হলো।
এর দুই মাস পর করিত্কর্মা বন্ধুটি মারফত আশফাক ভাইয়ের খোঁজ পাওয়া গেল। তিনি নারায়ণগঞ্জে একটা অফিসে জয়েন করেছেন। ওখানেই একটা মেসে থাকেন। বন্ধুটি আমাকে ওনার ফোন নম্বরসহ ঠিকানা দিল। এমনকি ওনার কয়েকজন কলিগের ফোন নম্বরও সে জোগাড় করে দিল।
আমি অবশ্য আশফাক ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম না। ফোনে রেহনুমা ভাবিকে সব জানালাম। তিনি আনন্দে কেঁদে ফেললেন। বারবার ধন্যবাদ দিতে লাগলেন। বললেন, মৃদুল আর তিনি কৃতজ্ঞ।
আমি অবশ্য আমার পুরনো ফোন নম্বরটা বদলে ফেললাম এর পর পরই। আশফাক ভাই আবার একদিন হারাবেন। রেহনুমা ছুটে আসতে থাকবেন ১১-১২-১৩ বছরের মৃদুলকে সঙ্গে নিয়ে আমার কাছে তার হারিয়ে যাওয়া স্বামীর খোঁজে। নতুন কোনো ঠিকানায় আশফাক ভাইয়ের ঘরের দেয়ালে টানানো থাকবে একটা সাদাসিধে লাজুক তরুণীর ছবি। কিন্তু আমি সেসবের সঙ্গে আর কোনো সংযোগ চাই না।
তরীর মতোই আমার ছোট চাচার মেয়েটিও ধর্ষিত হয়েছিল। পাড়ার সবার সঙ্গে সালিশে বসে ওই লোকটির সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে আমাদের পরিবারের মানসম্মান বাঁচানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমার সেই বোনটি কেমন আছে, তা আমরা কেউই আর জানতে চাইনি। যে সাবান দিয়ে তরী গা থেকে অদৃশ্য দাগ মুছে ফেলতে চেয়েছিল, আমার বোনটিও অমন করে রোজ কোনো সাবানের খোঁজ করে কিনা আমরা জানি না। আশফাক সাহেবের মতো এসব মনে রেখে গোটা জীবন পার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
আমি একটা বিস্মৃতিপূর্ণ স্বাভাবিক জীবন চাই।






