আন্দালিব রাশদী অনূদিত
মওলানা জালালউদ্দীন রুমির চাঁদ
এত ভাগ্যবান কে হবে?
যে পানির জন্য ঝরনায় এসে
দেখে চাঁদের প্রতিবিম্ব
***
যখন তুমি অস্ত যেতে দেখো
উদয়ের অপেক্ষা করো
সূর্যের অস্তযাত্রা কিংবা চাঁদের ডুবে যাওয়ায়
তোমার এত উদ্বেগ কেন?
***
প্রতিটি মানুষের ভেতর
একটি চাঁদ আছে,
চাঁদের সঙ্গী হতে শেখো।
***
তোমার চিন্তাকে ঘুমাতে দাও
তারা যেন তোমার হূদয়ের
চাঁদের ওপর
ছায়া না ফেলে।
***
পানি স্থির হতে দাও
তুমি চাঁদ দেখবে
তোমার ভেতর হবে তারার প্রতিবিম্ব।
***
আজ রাতে চাঁদ
তারাদের চুমো খাচ্ছে
প্রিয়, তুমি আমার জন্য তেমনই হও।
***
চলে যাওয়ার সাথে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই।
সূর্য ডোবে, চাঁদ ডোবে
কিন্তু তারা তো চলে যায় না।
***
তৃষ্ণা আমাকে পানির কাছে নিয়ে গেল
সেখানে আমি
চাঁদের প্রতিবিম্ব পান করলাম।
***
তোমাকে ঘিরে থাকা কালো মেঘ থেকে
বেরিয়ে এসো
তখনই তুমি দেখবে তোমার নিজের আলো
পূর্ণ চাঁদের মতো দ্যুতিময়
***
যে চাঁদকে আকাশ কখনো দেখেনি
সে এমনকি স্বপ্নেও আবার উদিত হয়।
***
ওমর খৈয়ামের চাঁদ
কী দুর্ভাগ্য সে হূদয়ের যে জানে না
কেমন করে ভালোবাসতে হয়, যে জানে না
ভালোবাসার সাথে কী পান করতে হয়
তুমি যদি ভালোই না বাসো কেমন করে তবে
চোখ অন্ধ করে দেয়া সূর্যের আলো আর
চাঁদের কোমল রশ্মি উপভোগ করবে?
হাফিজের চাঁদ
সেই চাঁদ দিয়ে আমরা কী করব?
ওয়াগান থেকে একটি সূরার বোতল পড়ে মাঠের মধ্যে ভেঙে পড়ল
সে রাতে হাজার গুবরে পোকা এবং তাদের
মামাতো চাচাতো খালাতো ফুপাতো ভাইয়েরা
জমায়েত হলো
আর সেই মদ প্রাণভরে পান করল
আশপাশে তারা কিছু তুষ ক্ষুদকণাও পেল
তা নিয়ে বাদ্যবাজনা ও ঘূর্ণন শুরু হলো
এতে স্রষ্টা খুব খুশি হলেন
তারপর ‘রাতের বাতি’ আকাশে উদিত হলো
মাতাল একটি পোকা তার বাদ্যযন্ত্র রেখে
তেমন স্পষ্ট কারণ ছাড়াই
বন্ধুকে জিজ্ঞেস করল
‘সেই চাঁদ নিয়ে আমরা কী করব?
হাফিজের মনে হয়
প্রায় সবাই গানবাজনা ফেলে
ভীষণ অর্থহীন এ প্রশ্নের সমাধান
খুঁজতে শুরু করল।
ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার চাঁদ
চাঁদের ব্যালাড
চাঁদ উঠে আসে
ঘিয়ে সাদা পেটিকোটে
শিশুটি তাকায়, তাকায়
শিশুটি তার দিকে তাকিয়েই থাকে
বাতাসে উজ্জীবিত
চাঁদ তার বাহু নাড়ে
আর দেখায় শক্ত টিনের
বিশাল স্তন তার
‘চলে যাও চাঁদ, চাঁদ চাঁদ
যদি জিপসিরা এখানে আসে
তারা নেকলেস ও আংটির জন্য
তোমার হূিপণ্ড নিয়ে নেবে।
শিশু আমাকে এখন নাচতে দাও
যখন জিপসিরা এখানে আসবে
তোমাকে পাবে ছোট চোখ-বোজা
কামারের নেহাইয়ের ওপর।
‘চলে যাও চাঁদ, চাঁদ চাঁদ
কারণ আমি তাদের ঘোড়ায় শব্দ শুনছি’
‘যাও শিশু, তাকে আমার মাড় দেয়া
সাদা পায়ে মাড়িয়ে যেয়ো না।
যখন চাঁদ উঠে আসে
যখন চাঁদ ওঠে
ঘণ্টাধ্বনি মিলিয়ে যায়
আর অপ্রবেশ্য রাস্তা
সামনে চলে আসে।
যখন চাঁদ ওঠে
জোয়ার ঢেকে দেয় জমিন
আর হূদয় নিজেই অনুভব করে
যেন অনন্ত এক দ্বীপ।
পূর্ণ চাঁদের নিচে
কেউ আপেল খায় না
সবুজ শীতল ফল
ভক্ষণ বরং সঠিক।
যখন চাঁদ ওঠে
শত শত মুখ একই কথা
অভ্র ধাতুর মুদ্রা
পকেটে ফোঁপাতে থাকে।
(এ জেড ফোরম্যানের অনুবাদ থেকে ভাষান্তরিত।)
ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কির চাঁদ
জোছনা রাত
একটি চাঁদ উঠবে
একটি ছোট
চাঁদ তো আছেই
এখন এক পূর্ণ চাঁদ বাতাসে ঝুলছে
এটা অবশ্যই ঈশ্বরের কাণ্ড
তার বিস্ময়কর
রুপোর চামচ
নক্ষত্রভরা মাছের সুতা থেকে
ছেঁকে তুলেছেন।






