রাজশাহী, উত্তরবঙ্গ
২১ জুন ১৯৩৬
সোমবারে আমি শুনতে পেলাম আমাকে ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবারে আমি জানলাম আমার বিভাগীয় পরীক্ষার সবগুলো পত্রে আমি পাস করেছি। তাই আমার জন্য সপ্তাহটি ছিল শিক্ষানবিশ কাল শেষ করার। সাত বছরে আমি নয়টি পরীক্ষা দিয়েছি। বিশ্বাস করা কঠিন ছিল যে আমার প্রথাগত শিক্ষা শেষ হয়েছে। সম্ভবত ছুটিতে দেশে না আসা পর্যন্ত আমি মাদারীপুরেই থাকব।
চিঠি দেয়ার জন্য আমার ঠিকানা হবে মহকুমা প্রশাসক, মাদারীপুর, জেলা: ফরিদপুর, বাংলা, ভারত। আপাতত এতেই কাজ চলবে, সংক্ষিপ্ত করা গেলে আমি জানাব। টেলিগ্রামের ঠিকানা হবে ‘মাদারীপুর, বাংলা’। ভারতের কোনো মহকুমার দেখভাল করা একজনের পুরো সময় ও সামর্থ্য দাবি করে। আর মাদারীপুর ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা। আমার মনে হয়, আমার গর্ববোধ করা উচিত ছিল, কিন্তু বাস্তবে আমি ভয় পাচ্ছিলাম। আমার মনে হচ্ছে, বাবা, আপনি যখন প্রথম কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেন তখন এমন হয়েছিল।
আমি কবে রাজশাহী ত্যাগ করব তা নিশ্চিত নই, তবে সপ্তাহের মধ্যেই হবে। যাওয়ার পথে দুই-তিনদিন কলকাতায় থাকব মূলত আসবাবপত্র কেনার জন্য।
এরই মধ্যে মাদারীপুর সম্পর্কে আমি কিছুটা জানতে পেরেছি। নতুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. হাজরা ফরিদপুর থেকে এসেছেন। ফলে তিনি ফরিদপুর সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য দিতে পেরেছেন। মাদারীপুরের বর্তমান এসডিও (মহকুমা প্রশাসক) এস কে দের সঙ্গেও আমার পত্র যোগাযোগ হচ্ছে। তোমার কাছে থাকা বাংলার ম্যাপ দেখলেও তুমি বুঝতে পারবে মাদারীপুর গঙ্গা ও বহ্মপুত্র নদীর মোহনার বদ্বীপে অবস্থিত। মাদারীপুরের ৫০ মাইলের মধ্যে কোনো রেলস্টেশন নেই এবং পুরো মহকুমায় উল্লেখযোগ্য কোনো সড়ক নেই। সব পরিবহন ও যোগাযোগ জলপথে হতো। আমি সেখানে একটি সরকারি লঞ্চ পাব। ‘ রোজালিন্ড’ নামের লঞ্চটি সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসারের সঙ্গে ভাগাভাগিতে ব্যবহার করতে হবে। মাদারীপুর একটি বড় পাট ব্যবসা কেন্দ্র এবং জনসংখ্যা একেবারে রাজশাহীর সমান, ২৬ হাজার, তবে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এ সময়ে শহর অঞ্চলের বাইরে বাকি সব জলমগ্ন। তাই পিটারকে সঙ্গে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। এমনকি শীতকালেও সেখানে ঘোড়ায় চড়ার কোনো অবস্থা নেই। আমি এ বছরের নবাগত কোনো সহকারী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তাকে বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টায় আছি। আমার সৌভাগ্য যে সেখানে গাড়িও চলে না, নইলে আমার সামর্থ্যে গাড়ি কেনা সম্ভব হতো না।
মাদারীপুর মহকুমার আয়তন ৭১০ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, অধিকাংশ গ্রামীণ। এতেই তুমি বুঝতে পারো কেমন ঘনবসতিপূর্ণ এ মহকুমা। জনসংখ্যার শতকরা ৭০ ভাগ মুসলমান। আমি শুনেছি আমার বাংলোটি চমৎকার কিন্তু নদী ভাঙনের কারণে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর হওয়ায় আমার অফিসের অবস্থা করুণ। মহকুমা সদরে আমার সহযোগিতার জন্য কয়েকজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও আমার ব্যস্ততা থাকবে অত্যন্ত বেশি, সদরে ও মহকুমাজুড়ে সরকারি সফরে। তবে আমার স্বাস্থ্য যেহেতু ভালো, এ রকম একটি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা অবশেষে মঙ্গলজনকই হবে। আমি শুনেছি, বাংলার অন্যান্য জায়গার তুলনায় মাদারীপুর অধিকতর স্বাস্থ্যসম্মত। আমার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হবেন জনৈক হিল। যার অভিজ্ঞতা ১০ বছরের এবং আমার ধারণা আমি তাকে পছন্দ করব। মাদারীপুরে সম্ভবত আমি হব একমাত্র ইংরেজ, তবে আমার মনে হয় কাছাকাছি ইংরেজ পাট ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন।
রাজশাহী, উত্তরবঙ্গ
২৬ জুন ১৯৩৬
আমি আজ রাজশাহী হয়ে কলকাতায় যাচ্ছি। শনি ও রোববার সকালে কলকাতায় থেকে ২৯ তারিখে সোমবারে মাদারীপুর পৌঁছব। আমি কলকাতায় সময় পাব না।
মাদারীপুর, জেলা: ফরিদপুর, বাংলা
৪ জুলাই ১৯৩৬
আমি শনিবার সকালে কলকাতা যাই। আর কেনাকাটা বিবেচনায় একটি অত্যন্ত সফল দিন পার করি। আমি ৩৫০ টাকায় মূলত আসবাবপত্র কিনেছি; বসার ঘরের জন্য একটি সেট, খাবার রুমের জন্য একটি সেট, একটি বইয়ের আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, সবগুলোই নকশাবিহীন টিক কাঠের, অবশ্যই ব্যবহৃত কিন্তু অতীব সস্তায়।
রোববার সকালে স্থানীয় ক্যাথেড্রালে আমি কম্যুনিয়নে যোগ দিই এবং নাশতার পর অক্সফোর্ড মিশনে গিয়ে ফাদার ডগলাসের সঙ্গে অনেকক্ষণ দরকারি কথাবার্তা বলি। এরপর আমি কিচিনের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাই। কিচিনও একটি মহকুমার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যাওয়ার পথে ছিল। দুপুরের খাবারের পর আমি স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে আরোহণ করি।
কলকাতা থেকে খুলনা ট্রেন ভ্রমণ ছিল আরামদায়ক। সেখানে ট্রেন থেকে নেমে আমি একটি ছোট্ট স্টিমারে উঠি, যেটি আমাকে সরাসরি মাদারীপুর নিয়ে যাবে। আমি সৌভাগ্যবান যে স্টিমার কোম্পানির এজেন্ট মি. বয়েল ও তার স্ত্রীর সঙ্গে আমার স্টিমারে দেখা হয়। তারা নদীর ওপারে একটি বড় পাট ব্যবসা কেন্দ্র চরমুগুরিয়ায় বসবাস করেন এবং মহকুমার ছয়জন ইউরোপিয়ানের মধ্যে তিনি একজন। আমি রোববার বিকালে চরমুগুরিয়া যাচ্ছি তাদের সঙ্গে দেখা করতে।
আমি সরাসরি মহকুমা প্রশাসকের বাংলোয় যাই এবং দেখতে পাই যে দে (সুশীল কুমার) তার জিনিসপত্র গোছগাছ করতে ব্যস্ত। বাংলোটি ছিল সুন্দর, বড়, আলোবাতাসপূর্ণ আর পরিষ্কার। পরবর্তী কোনো এক পত্রে আমি এর বিস্তারিত বিবরণ দেব। আমি দেখতে পাই যে রাজশাহী থেকে আমার কাজের লোকেরা আর ভারী মালপত্র সহিসালামতে এসে পৌঁছেছে। দে আমাকে মাদারীপুর সম্পর্কে অনেক কিছুই বলল আর এটা আমার সৌভাগ্য যে প্রায় দুদিন আমরা একসঙ্গে ছিলাম। আমি তাকে পছন্দ করেছি আর ভাবছি যে পরে কোথাও আবার দেখা হলে ভালোই হবে।
মঙ্গলবার বিকালে তিনি চলে গেলেন আর এর মাঝে আমি কাজ ছাড়া তেমন আর কিছু করিনি। এটা বাংলা প্রদেশের অন্যতম ব্যস্ত এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ মহকুমা হিসেবে খ্যাত। মাসের ১০-১৫ দিন আমাকে মফস্বলে ভ্রমণ করে কাটাতে হচ্ছে। লঞ্চে এমন ভ্রমণ আনন্দদায়ক এবং বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা হয়। আমি সাধারণত মহকুমা পুলিশ অফিসারসহ (সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার) ভ্রমণ করে থাকি। তিনি একজন মুসলমান যুবক, নাম হাফিজউদ্দিন আর আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে ভালোই বোঝাপড়া হবে (আমরা যে ধরনের প্রশাসন চালাই তাতে এ বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ)।
আমার দৈনন্দিন কর্মসূচি এমন ছিল যে সকাল ৭-১১টা পর্যন্ত আমার বাংলোয় গোপনীয় কাজ আর লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ। আমার অত্যন্ত ভালো একজন গোপনীয় সহকারী ছিল। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা-৫টা পর্যন্ত অফিসের কাজ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ‘জেনারেল ফাইল’ করা। এটি ছিল যেকোনো ফৌজদারি মামলার প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা, এখানকার কাজ শেষ হলেই একটি মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে যায়। জেনারেল ফাইলে অভিযোগ গ্রহণ ও শুনানি করা হয়, অগ্রহণযোগ্যা মনে হলে তা বাতিল করা, স্থানীয় তদন্তের জন্য প্রেরণ বা বিবাদীদের প্রতি সমন প্রদান করা, মূলত জেনারেল ফাইলে এসবই করতে হতো। ফৌজদারি মামলার জন্য আমার হাতে তেমন কোনো সময় থাকত না, মূলত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটরাই তা করতেন। বাস্তবে আমি উভয় পক্ষের অনুরোধে এক মুসলিম যুবক দ্বারা একটি হিন্দু মেয়েকে অপহরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা গ্রহণ করেছি। এ মাত্র গ্রহণ করেছি। মামলার উভয় পক্ষই ‘ভদ্রলোক’ এবং এ মামলার সফল বা অন্য যেকোনো নিষ্পত্তি বিচারিক কর্মকর্তা হিসেবে আমার সক্ষমতা সম্পর্কে স্থানীয় বারের মতামতকে প্রভাবিত করবে।
অফিসের পর আমি সাধারণত আমার দায়িত্বে থাকা জেলখানা পরিদর্শনে যাই। জেলখানায় প্রায় ৩০ জন বন্দি আছে, যারা বিচারাধীন মামলার আসামি, দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা সাধারণত ফরিদপুর জেলা কারাগারে থাকে। এরপর কখনো স্কুল কমিটি মিটিং বা অন্য কোনো মিটিং থাকে। আমি জেলার সব উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সাড়ে ৮টায় রাতের খাবারের আগে আমি হয়তো আরো কিছু চিঠিপত্র লিখতে পারি। রাতের খাবারের পর আমি যতদূর সম্ভব কোনো কাজ না করে থাকার চেষ্টা করব। ভোরে ঘুম থেকে উঠতে চাইলে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমানোও নিশ্চিত করতে হবে।
আমি শারীরিকভাবে অত্যন্ত ভালো বোধ করছি। আর এখানকার জীবনও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। আগামী সপ্তাহে আমি ফরিদপুর সফরে যাব বলে ভাবছি।
আমার লেখা চিঠিপত্রে তাড়াহুড়োর ছাপ থাকবে, কারণ স্বাভাবিক সাপ্তাহিক বিমানডাক ধরতে আমাকে রোববারের বদলে শনিবারে লিখতে হচ্ছে। এখানে ডাক সেবার অবস্থা খুবই খারাপ। আমার পত্রগুলো আমি সিলমোহর করে দেব। কারণ এ মহকুমায় অনেক কৌতুককর জিনিস ঘটছে, যা হয়তো আমার পত্রে থাকবে। তুমি সিলমোহর ভাঙার কোনো নমুনা পেলে জানাবে।
বি. দ্র. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর আমি কিনা এটাই ভুলে আছি! বেগম ব্ল্যাঙ্কস আমার এক বাক্স বই নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি চীন থেকে জাহাজে উঠেছেন, ফ্রান্সের মার্সেইতে নেমে ব্লু ট্রেন ধরবেন ও ১৮ জুলাই ১৯৩৬ ইংল্যান্ড পৌঁছবেন। পিকফোরড থেকে তার ডোভার বা ফোকস্টোনে পৌঁছনোর সময়টা নিশ্চিত করে নিও আর যেভাবেই হোক (ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার পর) বোট থেকে বইয়ের বাক্সটা নিয়ে নেবে। এর ভেতরে একটা চিঠিও আছে।
মাদারীপুর, পূর্ববঙ্গ
১০ জুলাই ১৯৩৬
এ সপ্তাহে আমি তোমাকে একটি সুন্দর পত্র লিখতে পারব বলে মনে হচ্ছে। কারণ আমি একটি স্টিমারে ফরিদপুর যাচ্ছি জেলা বোর্ডের সভায় যোগদানের জন্য। আমি সেখানে হিলস পরিবারের সঙ্গেই থাকব। তাদের সঙ্গে দেখা হবে বলে মুখিয়ে আছি আর সে তো আমার বস! আমার হাতের লেখা কিছুটা জড়ানো হওয়ার কারণ স্টিমারের কম্পন।
এ সপ্তাহে মাদারীপুরে প্রথম সপ্তাহের মতো অত ‘বুনো-ব্যস্ততা’ ছিল না। দর্শনপ্রার্থীদের সংখ্যা কমে আসছিল আর আমি রুটিন কাজের একঘেয়েমিতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। বড় কোনো ফৌজদারি মামলাও ছিল না, যাতে প্রচুর সময় নিয়ে নেয়।
রোববারে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ দিয়েছি। আমি চিন্তা করছি যে একটা আগামীতে কেবল জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই বিশেষ ব্যবস্থায় রোববারের সাক্ষাৎকার অনুমোদন দেব। ওইদিন বিকালে আমি আর হাফিজউদ্দিন দুই মাইল দূরে পাটের বড় ব্যবসা কেন্দ্র চরমুগুরিয়া যাই এবং বয়েলস পরিবারের সঙ্গে চা পান করি। তাদের বাগানটি ছিল সুন্দর আর তারা নিজেরাও ছিলেন বন্ধুত্বপূর্ণ। বয়েলসরা ছিলেন নিষ্ঠাবান রোমান ক্যাথলিক। চা পানের পর আমরা স্থানীয় মাড়ওয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হই আর রাজার স্মারক তহবিলের জন্য ৫০০ টাকা প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি আদায় করি। এরপর মাদারীপুর হাইস্কুলের কমিটি মিটিংয়ের জন্য মাদারীপুর ফিরে আসি।
সোম-বৃহস্পতিবারের বিস্তারিত কথা না হয় না বলি। এ দিনগুলোয় আমি প্রাণী চিকিৎসালয় ও পাবলিক লাইব্রেরি দেখতে যাই আর বালিকা বিদ্যালয় ও সমবায় ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সভা করি। ব্যাংকিংয়ের কিছু না জানলেও আমি পদাধিকারবলে সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এটা খুব চিত্তাকর্ষক যে কীভাবে লোকজন অন্যের মতামতের ওপর সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দেয়। সমবায় ব্যাংকের অন্য পরিচালকরা সবাই ঝানু ব্যবসায়ী, বয়স ৪০-এর এধারে ওধারে কিন্তু তারা আমার মতো একজন অনভিজ্ঞ তরুণকে আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানায়। আসলে তাদের সবারই নিজ নিজ স্বার্থ রয়েছে আর কেউ কাউকে বিশ্বাসও করে না, যেখানে তারা জানে যে আমি যথার্থই নিরপেক্ষ।
ফরিদপুর থেকে ফেরার পথে আমি দিনচারেক মফস্বলে ভ্রমণে থাকব। তাই আগামী সপ্তাহে সময় পেলে আমি তোমায় আমার কাজের অন্যদিক সম্পর্কে নতুন কিছু লিখতে পারব। আমার জীবন এখন এভাবেই কাটবে, দিনের পর দিন মফস্বলে ভ্রমণ আর সদরে ফিরে জমা কাজ শেষ করার প্রাণান্ত প্রয়াসে! এছাড়া প্রতিদিনের রুটিন কাজের পরিশ্রম আর অসংখ্য স্বাক্ষর প্রদান তো আছেই। তবে আরো অনেক কাজই আছে, যাতে একজন এসডিও এর ব্যক্তিত্ব প্রতিফলিত হয় আর জনগণকে তার নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখন পর্যন্ত একটি বন্ধুত্বভাবাপন্ন পরিবেশ পাচ্ছি, কিন্তু পরিস্থিতি সবসময় এ রকম থাকে না।
তুমি হয়তো আমার বাংলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে। আমার আঙিনার অধিকাংশ জুড়ে আছে একটি পুকুর, যার প্রায় পুরোটাই জলজ আগাছায় পূর্ণ। আমি হয়তো এটাকে পরিষ্কার করাতে পারি, যাতে সাঁতার ও গোসলে ব্যবহার করা যায়। বাগানটিও অগোছালো আগাছায় পরিপূর্ণ, তবে শুনেছি যে সুশীল দে গত শীতে চমৎকার ফুল ফুটিয়েছিল। আমি খুব তাড়াতাড়ি একজন মালী জোগাড়ের চেষ্টায় আছি। আমি একেবারে ঠিক সময়ে এসেছি, যাতে একজন মালী এ মাসে বাগানটি পরিচর্যা করে আগামী মাসে শীতের মৌসুমি ফুল লাগানো শুরু করতে পারবে। বয়েলস পরিবার তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমাকে সহায়তা করতে পারবে আশা করছি।
বাংলোটি পরিচ্ছন্ন আর প্রচুর আলো বাতাস খেলে! বসার রুম ছাড়া অন্য রুমগুলো একটু ছোট। বাংলো ও তার আঙিনার একটি নকশা এখানে দেখা যেতে পারে। দরজা জানালার অবস্থান আর দেখালাম না, কারণ দরজা ছিল ২২টি আর জানালা ১৮টি।
মাদারীপুর, পূর্ববঙ্গ
১৮ জুলাই ১৯৩৬
তোমার শেষ চিঠির জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ, কারণ এটি ছিল মাদারীপুরের ঠিকানায় প্রথম চিঠি। মাদারীপুর নিঃসন্দেহে একটি আর্দ্র স্থান কিন্তু ম্যালেরিয়ার কথা বিবেচনায় নিলে এটি গোটা পূর্ববঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত এলাকা। এখান থেকে ৮ ঘণ্টার স্টিমার দূরত্বে বরিশালে অক্সফোর্ড মিশনের একটি শাখা রয়েছে। কোনো এক সপ্তাহান্তে আমি সেখানে যাব বলে ভাবছি। আমার লঞ্চ তেল বা বিদ্যুতে চলে না, এটি চলে স্টিমে (আমি তোমার চিঠি পড়ছি আর সরাসরি লিখছি, তাই কোথাও কোথাও অপ্রাসঙ্গিকতা আসতে পারে)।
আমার কালেক্টর মি. হিলের সঙ্গে পরিচয়ের জন্য ফরিদপুরে আমি কয়েক ঘণ্টা মাত্র সময় পাই, কারণ একটি সভায় যোগ দিতে তিনি ঢাকা চলে যান।
সোম-বৃহস্পতিবার আমি ভ্রমণে ছিলাম, দুদিন মহকুমার দক্ষিণে আর দুদিন পশ্চিমে। আমার মূল কাজ ছিল ব্যাড লাইভলিহুডের মামলাগুলোর বিচার করা। এগুলো ছিল অভ্যাসগত অপরাধীদের কাছ থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ড বা মুচলেকা গ্রহণ করা। এলাকায়ই তাদের বিচার করা হতো আর ৩০-৭০ জনের সাক্ষ্য নিতে হতো। এটি ছিল একটি পরিশ্রমসাধ্য কাজ আর সব সাক্ষীকেই পুলিশ শিখিয়ে পড়িয়ে রাখত। এ সময়ে আমি তিনটি স্কুলও পরিদর্শন করি।
ভ্রমণের প্রথমাংশে হাফিজউদ্দিন আমার সঙ্গে ছিলেন। আমাদের দুজনের বোঝাপড়া ভালোই হচ্ছিল আর তিনি ছিলেন আনন্দদায়ক ভ্রমণসঙ্গী। এমনিতেও কাজের চাপ থেকে একটু হালকা থেকে ভ্রমণ করা ছিল চমৎকার বিনোদন।
এখানকার জীবনে এত বৈচিত্র্য যে আমার কাজের সামান্য অংশই আমি তোমাকে লিখে জানাতে পারছি। আমরা এখন ব্যস্ত আমাদের অফিস সরিয়ে নিতে, কারণ নদীভাঙন আমাদের পুরনো অফিসের কাছে চলে এসেছে আর শীতের মধ্যেই হয়তো পুরনো অফিস নদীভাঙনে চলে যাবে। আমি এতদিনে মোটামুটি গুছিয়ে নিয়েছি আর বাংলোর সাজানো-গোছানোও প্রায় শেষ। গত তিন সপ্তাহে বুঝতে পেরেছি স্ত্রী থাকলে কত কাজে আসত! বাসা ও বাগানের কাজে মনোযোগ দেয়ার মতো সময় আমার নেই বললেই চলে। তবে আমার নিজ আর বাঙালিদের সম্পর্কে আমি অনেক কিছুই জানতে পারছি।
মাদারীপুর, পূর্ববঙ্গ
২৭ জুলাই ১৯৩৬
১৯ জুলাই, রোববার মাদারীপুর আসার পর আমার প্রথম একটি শান্ত দিন কাটল। কাজের চাপ ছিল কম, ৩-৪ ঘণ্টার কাজ করেছি ওইদিন। স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ের এক অস্থিরমতি অবাধ্য প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখার কাজও ছিল এর মধ্যে। আগের বছর তাকে অযোগ্যতা ও অসদাচরণের অভিযোগে অপসারণ করা হয় এবং সে তার গ্র্যাচুইটি পাওয়ার জন্য দেনদরবার করছিল। ওইদিনই ছিল আমার প্রথম আতিথেয়তা, মি. ও মিসেস বয়েলস এসেছিলেন দুপুরের খাবার খেতে।
২০ জুলাই, সোমবার আজ নতুন অফিস ভবনে প্রথম দিন। আমার আদালত কক্ষটি যথেষ্ট আরামপ্রদ হয়েছে, যার সঙ্গে একটি বিশ্রাম কক্ষও আছে। পুরনো অফিসে এটি না থাকায় অসুবিধা হচ্ছিল। এ ভবনগুলোও সাময়িক। নদীর মাইল দুয়েক ভেতরে স্থায়ী অফিস ভবন নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। বিকালে আমি প্রথমবারের মতো এটি দেখতে যাই। একটু হাঁটার সুযোগ পেয়ে আমার ভালোই লাগছিল। শরীরচর্চা করার সুযোগ আমি কমই পাচ্ছি। কখনো একটু অবসর পেলেও শরীরচর্চা করার মতো তেমন সুযোগও নেই। চারদিকে রাস্তা থাকলেও হাঁটার মতো অবস্থা নেই, এ যে ‘সর্বত্র পানি কিন্তু পান করব কি?’ প্রচুর ভ্রমণের প্রয়োজন হলেও আমার জীবন এক অর্থে বসে কাটানোর (ভ্রমণ তো নৌযানে বসে!)। আমার মনে হয় গোসলের কক্ষে আমার যাঁতা ভাঙা উচিত!
২১ জুলাই, মঙ্গলবার যথারীতি সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বেলা ১১টা পর্যন্ত বাংলোয়, এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিসে একটানা কাজ করেছি। সন্ধ্যা ৬টায় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এক সমাবেশে সভাপতিত্ব করি, যেখানে সম্রাট সপ্তম এডওয়ারডের আততায়ীয় আক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়অর জন্য সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। (সমাবেশটি আয়োজনে অবশ্য আমার কোনো উদ্যোগ ছিল না।) সন্ধ্যাটি বয়েলসদের সঙ্গে চর মুগুরিয়ায় কাটাই, সরকারি ভ্রমণ ছাড়া সেই আমার প্রথম রাতে বাইরে থাকা। তারা মহাজং খেলার (একটি চাইনিজ টাইলস গেম, এটি দক্ষতা কৌশল ও ভাগ্যের সমন্বয়ে একটি খেলা) খুব আগ্রহী খেলোয়াড় এবং আমিও মজা পাচ্ছিলাম এমন একটি খেলায় আমার পুরনো স্মৃতি ঝালিয়ে নিতে পেরে, যা কেবল সময় কাটানোর চাইতেওও বেশি কিছু।
২২ জুলাই, বুধবার এদিন ছিল ব্যস্ত, যার শুরু হয় ভোররাত সাড়ে ৩টায়। তখন হাসপাতাল থেকে ডাক আসে একজন আহত অর্ধমৃত মহিলার মৃত্যুকালীন জবানবন্দি গ্রহণের। আমি এখনো জানি না সে জীবিত আছে কিনা, তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে ছিল। এ অবস্থায় আমাকে ভোররাতে বিছানা থেকে ডেকে না তুললেও পারত। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিলের কিছু জরুরি চিঠি আর অনেক দর্শনার্থী মিলে আমাকে ওইদিন সকালে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই ব্যস্ত রেখেছিল। আবার ট্যুরে বেরোনোর আগে সব গোছানো নিয়ে সারাদিনই ব্যস্ত ছিলাম।
২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার মহকুমা পুলিশ অফিসার হাফিজউদ্দিনসহ ‘রোজালিন্ড’ লঞ্চে নড়িয়ার দিকে রওনা হই। সারাদিন ‘ব্যাড লাইভলিহুড’ কেসের পাঁচজন অভ্যাসগত চোরের বিচার নিয়ে ৫০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সেখানে থাকা ছেলেদের উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করি, যেটি একজন খুবই উৎসাহী প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে এখন মহকুমার সেরা স্কুল। বিভিন্ন স্থানীয় অফিসারদের সঙ্গে কথা বলি, বিশেষ করে পালংয়ের সার্কেল অফিসার আব্দুর রহিম, যিনি পুরো ট্যুর আমার সঙ্গে ছিলেন। তার স্থির বিচারবুদ্ধি আর এলাকা সম্পর্কে জ্ঞান ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।
আমার মনে হয় আমার পত্রের বর্ণনাকে স্পষ্ট করতে এ এলাকার একটি মোটামুটি চিত্র তোমাকে দিতে পারি। আমার মনে হয় না তোমার কাছে বেঙ্গলের যে ম্যাপ আছে তা বিস্তারিত বুঝার মতো স্কেলে অঙ্কিত। এখানে নয়টি থানা ও তিনটি সার্কেল রয়েছে (বর্ণনার পরিবর্তে—পৃষ্ঠায় প্রদত্ত ম্যাপ ও দেখে নিতে পারেন)।
শিবচর সার্কেল— শিবচর থানা
- জাজিরা থানা
মাদারীপুর সার্কেল—মাদারীপুর থানা
- রাজৈর থানা
- কালকিনি থানা
এ তিনটি সার্কেলের মধ্যে পালং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর জাজিরা সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ থানা।
২৪ জুলাই, শুক্রবার আজ নড়িয়ায় রাস্তার দুপাশে কিছু ল্যাট্রিনের অবস্থা নিয়ে তদন্ত করলাম। এ মুহূর্তে এগুলো কেবলই অশোভন কিন্তু গরম বাড়লে চোখ এবং নাক উভয়ের জন্য এক বমন উদ্রেককারী অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে, যা হয়েছিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিলের ক্ষেত্রে। আমি এগুলো আরো অরক্ষিত স্থানে অধিকতর স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি করার জন্য মালিকদের নির্দেশ দিলাম। আরো একটি ‘ব্যাড লাইভলিহুড’ মামলার বিচার করলাম, যাতে এক বকবক করা উকিলের জন্য অনেক সময় লেগে গেল। রাজার স্মারক তহবিল সংগ্রহের জন্য রাতে একটি সভা করলাম।
২৫ জুলাই, শনিবার ভেদরগঞ্জে একদল কৃষকের একটি আবেদনের শুনানি করলাম। তাদের দাবি হলো যে তাদের জমিজমা ১৯৩০ সালে নদীতে ভেঙে গেলেও তাদের নিকট ১৯৩০-৩৩ সালের বাকি রাজস্ব পাওনার দাবিতে মামলা করা হয়েছে। এটা যদিও অনুমানের চেয়ে বেশি কিছু করা কঠিন, কারণ নদী প্রতি বছরেই ভাঙছে, তবু আমার মনে হলো তারা একটু বাড়িয়েই বলছে। তর্কিত জমি ১৯৩৪ সালের আগে ভাঙেনি বলেই আমার ধারণা। এরপর আমি পণ্ডিতসার নামে আনন্দদায়ক একটি গ্রামে গেলাম। সেখানে একটি সুপরিচালিত উচ্চ বিদ্যালয় ছিল। আর আমার এ-যাবৎ অভিজ্ঞতার ফলে যে বিষয়টি আমাকে চমৎকৃত করল তা হলো কোনো প্রকার রাজনৈতিক গোষ্ঠিদ্বন্ধের অনুপস্থিতি। আমি সেখানে তাদের গ্রামের নতুন ‘গ্রাম বৈঠকখানা’ বা ভিলেজ হল উদ্বোধন করলাম, যেটি ওল্ডারশায়ার গ্রামের ভিলেজ হলে ভদ্রলোকদের কোট রাখার কক্ষের চেয়ে বড় ছিল না।
২৭ জুলাই (আসলে হবে ২৬), রোববার সকালবেলাটা ব্যয় করলাম একটি ইউনিয়ন বোর্ডের নির্বাচন প্রক্রিয়ার কার্যকলাপ পর্যালোচনা করে। নির্বাচন পরিচালনাকারী সার্কেল অফিসারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আসলে ছিল এক টিস্যু অব লাইস বা ‘মিথ্যার বুনোট’! বিকালে আমরা প্রথম বড় অনুষ্ঠানে অংশ নিলাম। এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কনস্টিটিউশনাল লিগের একটি জনসমাবেশ। এটি একটি বেশ বড় সমাবেশ ছিল কিন্তু মাঝামাঝি সময়ে ঝড়ো হাওয়া ও তুমুল বৃষ্টির জন্য বক্তাদের বক্তৃতা শোনা যাচ্ছিল না। আমি আমার প্রথম বাংলা বক্তৃতা দিই, যা ছিল রীতিমতো স্নায়ুবৈকল্যকারী। আমি গতকাল সন্ধ্যায় এ মহকুমার সবচেয়ে ধনী ও পুরনো মুসলিম অভিজাত কার্ত্তিকপুরের জমিদারদের সঙ্গে রাতের খাবার খাই।
মাদারীপুরে ফিরেই তোমার ১৭ জুলাইয়ের পত্র পেলাম। মায়ের প্রশ্নের উত্তরে জানাচ্ছি (১) আমি এখনো ধূমপানের জন্য পাইপ ধরিনি, আর তার জন্য আমার তেমন অভাববোধও নেই। আমি এখনো রাতের খাবারের পর ইচ্ছে হলে টার্কিশ সিগারেটের ধোঁয়া ওড়াই। (২) এখানকার বৃষ্টির মাঝে আমি আমার ক্যামেরা দূরেই রেখেছি, কারণ এ আবহাওয়ায় ভালো ছবি তোলা অসম্ভব। তাই মাদারীপুরের ভালো একটা চিত্র পরিচিতি পেতে তোমাদের হেমন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
[মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে (জুলাই ১৯৩৬-অক্টোবর ১৯৩৭) ডব্লিউ.এইচ. সমারেজ স্মিথ নিজের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড এবং মাদারীপুরের জনজীবনের বিবরণ দিয়ে তার বাবা ও মাকে নিয়মিত চিঠি লিখেছেন। এ চিঠিসমূহের সংকলন পরবর্তীকালে ‘আ ইয়াং ম্যানস কান্ট্রি: লেটারস অব আ সাবডিভিশনাল অফিসার অব দ্যা ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস ১৯৩৬-১৯৩৭’ শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চিঠির অনুবাদ প্রকাশ হলো। চিঠির সংকলনটি জালাল আহমেদের অনুবাদে সামনের দিনে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে]









