তারপর অজস্র সুফি সিন্ধের মাটিতে পা রেখেছেন। কেউ চলে গেছেন অন্য কোথাও, কেউবা শায়িত হয়েছেন চিরদিনের জন্য। আজও প্রতিদিন সেই সব মাজারে খাবারের ব্যবস্থা থাকে মুসাফিরদের জন্য। সেখানে ভিড় জমায় দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া থেকে আসা মানুষ।
সিন্ধের মাটি বহন করে চলছে বহু সভ্যতার পদচিহ্ন। সিন্ধু নদের মতোই যুগ যুগ ধরে প্রবহমান এখানকার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। ইসলাম এ অঞ্চলে জন্ম দিয়েছে নতুন পরিমণ্ডল। জন্ম নিয়েছে এমন এক সমন্বিত চেতনা, যেখানে শরিয়ত, তরিকত, মারিফত ও হাকিকতের স্তরগুলো লোকজ অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিশে গেছে। এ ঐতিহ্যের প্রাণভোমরা হলেন সিন্ধের সুফিরা। ক্রমে সাধারণ মানুষের জীবন, লোককাহিনী, গান, শ্রম, প্রেম ও বেদনা সবই হয়ে উঠেছে আধ্যাত্মিক উপলব্ধির ভাষা। ফলে সিন্ধের সুফিবাদ একদিকে কুরআন ও হাদিসভিত্তিক, অন্যদিকে ভারতীয় ভক্তি ও বেদান্ত দর্শনের সঙ্গে বোঝাপড়াপূর্ণ। এ দ্বিমুখী স্রোত সিন্ধের সুফি কবিতাকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য।
বিভিন্ন সময়ে অনেক সুফি আগমন করেছে দক্ষিণ এশিয়ায়। নানাভাবেই তারা সিন্ধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশ্ববিখ্যাত সুফি মানসুর হাল্লাজ ৯০৫ সালের দিকে সিন্ধে পা রাখেন। তিনি সিন্ধজুড়ে সফর করেন এবং ধর্মীয় বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেন স্থানীয় মানুষের সঙ্গে। এ অঞ্চলের গায়ক ও কবিরা তার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছেন। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় তাসাউফচর্চায় সর্বোচ্চ বড় প্রভাবটা আসে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে। এ সময়ে চিশতিয়া তরিকার খাজা মুইনুদ্দিন চিশতি, কলন্দরিয়া তরিকার শাহবাজ কলন্দর, সোহরাওয়ার্দিয়া তরিকার বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, বাবা ফরিদ এবং জালাল উদ্দীন সুরখপোশ হিন্দুস্তানে পা রাখেন। তাদের আকাশচুম্বী সফলতা প্রভাবিত করে সিন্ধের সংস্কৃতিকেও। বিশেষ করে বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, শাহবাজ কলন্দর, বাবা ফরিদ ও জালাল উদ্দীন বুখারিকে একসঙ্গে হক চার ইয়ার বা চার বন্ধু হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। বাবা ফরিদের শিষ্য ছিলেন পির মাঙ্গো এবং বোদলা বাহার।

শাহর মাজারে গাইছেন তার ভক্তরা ছবি: ট্যাংক রেইডার
পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে সিন্ধের মাটিতেই জন্ম নিতে থাকেন বড় বড় সুফি। এর মধ্যে সবার আগে থাকবে মাখদুম বিলওয়াল ও কাজি কাদান। বিলওয়াল জন্মগ্রহণ করেন ১৪৫১ সালে। ১৫২২ সালে আর্গুনরা সিন্ধ আক্রমণ করলে তাকে হত্যা করা হয়। তার মাজার এখনো দীপ্যমান। অন্তরের অনুভূতিকে তিনি ফারসি ও সিন্ধি ভাষায় হাজির করতেন। তার একটি চৌপদী নিম্নরূপ—
নিজেকে খোদার কাছে করো সমর্পণ
খোদার ইচ্ছার কাছে নিজের ইচ্ছা যাক মিশে
নিজেতে মুগ্ধ থাকা নিজ ধর্ম ত্যাগের মতন
বরং তৈরি হও খোদাতে পৌঁছতে দিনশেষে।
তবে সিন্ধি সুফি কাব্যের প্রথম সুসংগঠিত কবি কাজি কাদান। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণের মানুষ। জন্ম ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে। প্রথম জীবনে একজন আলেম ও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ভেতরে ক্রমে জন্ম নেয় গভীর আধ্যাত্মিক তাগিদ। তিনি উপলব্ধি করেন যে কেবল বাহ্যিক আইন মানুষের অন্তরের জড়তা ভাঙতে পারে না। সেই উপলব্ধি বিম্বিত হয় তার কবিতায়। পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে দেখা যায়, আত্মসমালোচনা ও অন্তর্দর্শনের আহ্বান। তিনি প্রশ্ন করেন, শতবার কোরআন পাঠ করেও যদি মানুষ নিজের ভেতরের অহংকার দূর করতে না পারে, তবে সেই পাঠের সার্থকতা কোথায়। কাজি কাদানের বাণী ছিল সহজ। তিনি জটিল দার্শনিক ভাষা ব্যবহার করেননি। লোকভাষায় তিনি তুলে ধরেছেন গভীর সত্য, মানুষ নিজের ভেতরেই প্রিয়তমকে খুঁজে পাবে। তার কবিতায় সমুদ্র, নদী, নৌকা, মুক্তা ইত্যাদি প্রতীক বারবার ফিরে আসে। এগুলো মানুষের আত্মিক সফরের রূপক। তিনি ১৫৫১ সালে মদিনায় থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
কাজি কাদানের উত্তরসূরি হিসেবে যে নামটি বিশেষভাবে উজ্জ্বল, তিনি শাহ আবদুল করিম (১৫৩৬-১৬২৩ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি ছিলেন একাধারে কৃষক, দরবেশ ও কবি। তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সরল। তিনি ভোরে নামাজ আদায় করতেন, দিনে মাঠে কাজ করতেন, রাতে জিকিরে নিমগ্ন হতেন। তার চিন্তাধারা সম্পর্কে জানা যায় লেখাপত্রের মধ্য দিয়ে। তার কবিতা ও মালফুজাত প্রথম সামনে আসে তার মৃত্যুর সাত বছর পর। বায়ানুল আরিফিন ওয়া তানবিহুল গাফিলিন নামে ফারসি গ্রন্থে তার কবিতা সংকলিত হয়। তাকে সিন্ধি সাহিত্যের চসার হিসেবে অভিহিত করা হয়। শাহ আবদুল করিমের কাব্যে ভক্তি ও কর্মের সমন্বয় স্পষ্ট। তিনি মনে করতেন যে আধ্যাত্মিকতা মানে সংসার থেকে পলায়ন নয়। সংসারের মধ্যেই সত্যের অনুসন্ধান। তার কবিতায় ঈশ্বর কখনো প্রিয়তম, কখনো অন্তরের আলো। তিনি বলেন, মানুষের হৃদয় যদি শুদ্ধ হয়, তবে সেই হৃদয়ই হয়ে ওঠে কাবা। তার শিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবসমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি ব্যক্তিগত সাধনাকে কখনো সামাজিক দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। মানুষের সেবা, সত্যভাষণ, ন্যায্য আচরণ সবই তার কাছে ইবাদতের অংশ। তার কাব্যভাষা লোকজ ও সুরেলা। এই সুর পরবর্তী সময়ে শাহ আবদুল লতিফের কাব্যে পূর্ণতা পায়।
সিন্ধের সুফি ঐতিহ্যে শাহ ইনায়াত রিজভি (১৬১৩-১৭০১ খ্রিস্টাব্দ) একটি ব্যতিক্রমী নাম। তিনি সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। তার লেখা থেকে স্পষ্ট যে আরবি ও ফারসি ভাষার উচ্চতর জ্ঞান এবং মুসলিম দর্শন নিয়ে তার পাণ্ডিত্য ছিল। জন্মগতভাবে তিনি ছিলেন ঐতিহ্যসচেতন সৈয়দ পরিবারের সন্তান। অন্যদিকে তার পূর্বসূরিদের কাব্যগাথার আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত ছিলেন। ফলে এ দুই ধারার সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি গণমানুষের একজন সাধক-কবি হিসেবে এক নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন; যেখানে তিনি যুদ্ধ ও শান্তির বীরদের কথা এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী লোককথা ও প্রণয়োপাখ্যান নিয়ে গান গাইতেন। পাশাপাশি তার রচনায় উঠে আসত ব্যবসায়ী, তাঁতি ও মৌসুমি বৃষ্টির কথা। যার ওপর সাধারণ মানুষের সমৃদ্ধি নির্ভর করত। তিনি ভালোবাসা ও আশার আধ্যাত্মিক থিমগুলো নিয়েও কাজ করেছেন। স্রষ্টার সন্ধানে রত সাধক ও নিঃস্বার্থ ভক্তদের প্রশংসায় পদাবলি রচনা করেছেন। তার বাণীতে ঈশ্বরের প্রেম যেমন আছে, তেমনি আছে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান। তিনি বিশ্বাস করতেন, যে সমাজে মানুষ অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়, সেখানে আধ্যাত্মিকতা পূর্ণতা পায় না। তার জীবন ও মৃত্যু সিন্ধের মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলে এবং সুফি ঐতিহ্যকে একটি নৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
সিন্ধি সুফি কাব্যের সর্বোচ্চ শিখর নিঃসন্দেহে শাহ আবদুল লতিফ (১৬৯০-১৭৫২ খ্রিস্টাব্দ)। আঠারো শতকের এ মহাকবি তার কাব্যগ্রন্থে লোককাহিনীকে আধ্যাত্মিক রূপকে রূপান্তর করেছেন। চরিত্র তার কাব্যে হয়ে ওঠে আত্মার প্রতীক। প্রিয়তম হলো পরম সত্য, আর বিচ্ছেদ হলো মানবজীবনের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা। শাহ লতিফের দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে ঐক্য। তিনি ওহদাতুল উজুদ তত্ত্বকে কাব্যের ভাষায় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, সৃষ্টির ভেতরে যে বৈচিত্র্য আমরা দেখি, তা আসলে এক সত্তার বহুরূপী প্রকাশ। মানুষ যখন নিজের অহংকার ত্যাগ করে, তখন সে উপলব্ধি করতে পারে এই ঐক্য। যেমন তিনি বলেছেন—
চোখকে ব্যবহার করো পায়ের মতো করে
কাউকেই বলো না প্রিয়তমের কথা
তাকে লুকিয়ে রাখো, ঘরে নিয়ে যাও গোপনে।
তার কবিতা তার জীবদ্দশায় লেখা হয়নি। বরং শাগরেদরা গেয়েছেন এবং মুখস্থ করেছেন। সাধারণত নিয়মিত সংগীতের আয়োজন করতেন তিনি। তার মৃত্যুর পর কবিতাগুলো একত্র করা হয় এবং নাম রাখা হয় শাহ জো রিসালা। তার কাব্যে সংগীতের ভূমিকা সর্বব্যাপী। তিনি নিজেই সুর সৃষ্টি করতেন এবং তার বাণী নির্দিষ্ট সুরে গাওয়া হতো। ফলে তার কবিতা কেবল পাঠ্য নয়, শ্রাব্য অভিজ্ঞতাও। এ সুর মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত হয় এবং আজও সিন্ধের সংস্কৃতিতে জীবন্ত। শাহ লতিফ ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠেছিলেন। তিনি হিন্দু যোগী, মুসলিম দরবেশ এবং সাধারণ কৃষক সবাইকে সমানভাবে গ্রহণ করেছেন। তার কবিতায় আমরা দেখি মানবতার এক সর্বজনীন রূপ। তার চিন্তার প্রসারে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন তার শাগরেদ খাজা মুহম্মদ জামান (১৭১৩-৭৫ খ্রিস্টাব্দ)। তিনিও সিন্ধের একজন বিখ্যাত সুফি ছিলেন।
সিন্ধের সুফি ইতিহাসে অন্যতম প্রধান নাম রুফি রোহাল ফকির। ১৭৩৪ সালে জন্ম নেয়া এ সুফি কবিকে মনে করা হয় বিখ্যাত আধ্যাত্মিক পুরুষ ও কবি কবিরের পুনর্জন্ম। তিনি আরেক সুফি শাহ ইনায়াতের আশীর্বাদধন্য। তার কবিতায় অহংকার, হিংসা ও ঈর্ষা পরিত্যাগ করে প্রেমকে প্রধান নীতি হিসেবে গ্রহণ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তার মাজার এখনো জমজমাট থাকে মুসাফিরদের আনাগোনায়।
সাচোল সারমস্ত (১৭৩৯-১৮২৭ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন আঠারো ও উনিশ শতকের সন্ধিক্ষণের দাঁড়ানো এক সৃষ্টিশীল সুফি, দার্শনিক ও কবি। তিনি একাধিক ভাষায় কবিতা রচনা করেন। বিশেষ করে সিন্ধি, ফারসি, উর্দু, বালুচ, পাঞ্জাবি ও আরবি ভাষায় তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সিন্ধি সাহিত্যের ইতিহাসেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। তার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় তাওহিদের ঘোষণা। সেই ঘোষণা অনেক সময় প্রথাগত ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করে। সাচোলের দর্শনে ফানার বোধ প্রবল। তিনি নিজেকে বিলীন করতে চান পরম সত্তায়। তার কবিতায় প্রেমের উন্মাদনা আছে, আবার গভীর তাত্ত্বিক চিন্তাও আছে। তিনি বলেন, সত্যের পথে চলতে হলে ভয়ের দেয়াল ভাঙতে হবে। তার ভাষা কখনো সরল, কখনো তীব্র। তিনি মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী সব পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার কাছে মানুষই মূল, আর ঈশ্বর সেই মানুষের অন্তর্লীন সত্য। এ দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সিন্ধের সুফি ঐতিহ্যে এক অনন্য স্থান দেয়।
মোগল যুগের পতনের সঙ্গে সঙ্গে সুফি আধিপত্যও কিছুটা কমতে শুরু করে সিন্ধে। তার পরও এই সময়ে কিছু বিখ্যাত সুফির দেখা মেলে। তারা হলেন ফকির কাদির বখশ বেদিল, মুহম্মদ মুহসিন বেকাস, সৈয়দ মিসরি শাহ, পির হাদি হাসান বখশ শাহ জিলানি, সুফি বোধাল ফকির, নাদির আলি শাহ, খাজা আবদুল গাফফার নকশিবন্দী এবং মেওয়া শাহ। বর্তমানে সুফিবাদই সিন্ধের প্রাথমিক পরিচয়। এভাবে আবদুল্লাহ শাহ গাজী থেকে মেওয়া শাহ পর্যন্ত প্রত্যেকে সুফিই স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তাদের ভেতরে একটি অভিন্ন সূত্র কাজ করে। সেই সূত্র হলো প্রেম, ঐক্য ও আত্মশুদ্ধির পথ। তারা শরিয়তের গুরুত্ব অস্বীকার করেননি, কিন্তু তাদের অগ্রাধিকার ছিল অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য। কারণ অন্তরের পরিবর্তন ছাড়া আধ্যাত্মিকতা অসম্পূর্ণ। তাদের কাব্যে লোকজ উপাদানের ব্যবহার দেখায় যে তারা সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলতে চেয়েছেন। জটিল দর্শনকে সহজ গল্পে রূপান্তর করার মাধ্যমে তারা তাসাউফকে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। সেক্ষেত্র তারা সফল হয়েছেন।
সিন্ধের সুফি পরিচয় সেখানকার সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিভক্ত বিশ্বে সেই সুফিদের শিক্ষার কারণেও সেখানে হিন্দু ও মুসলিম পরিচয়কে সহযোগিতামূলক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। যেন প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলছে, ধর্মের আসল উদ্দেশ্য মানুষকে বিভক্ত করা নয়, বরং হৃদয়ের অন্ধকার দূর করা। এভাবে কাজি কাদানের আত্মজিজ্ঞাসা, শাহ আবদুল করিমের শ্রমমুখী সাধনা, শাহ ইনায়াতের ন্যায়সংগ্রাম, শাহ আবদুল লতিফের কাব্যময় ঐক্যদর্শন এবং সাচোল সারমস্তের উদার চেতনা মিলিয়ে সিন্ধের সুফি ঐতিহ্য নির্মাণ করেছে স্বতন্ত্র ও নিজস্ব এক পরিচয়। সেই পরিচয় যুগ যুগ ধরে সিন্ধের মাটিকে আলোকিত করে রেখেছে। এজন্যই গবেষক জুলিয়ান ল্যাভেক তার গবেষণার শিরোনামেই বলেছিলেন, ‘সিন্ধিরা সহজাতভাবেই সুফি।’
আহমেদ দীন রুমি: লেখক










