একটা সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি নিজেও সমৃদ্ধ ও বিবর্তিত হয়। আরবে ইসলামিক সভ্যতাও এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছে।
এও তো সত্য যে ইসলাম বলতে একগুচ্ছ নীতি ও দর্শনের সমাবেশ বোঝায়। সেদিক দিয়ে ইসলামিক সংগীত বলতে, আরব সংস্কৃতির যেসব দিক ওই নীতি ও চিন্তার ভেতর দিয়ে দরবারি ও সামাজিক স্বীকৃতি পেয়েছে তাকে বোঝানো যেতে পারে। তবে শিল্প-সাহিত্য কবেই বা সর্বতোভাবে বিধানে আবদ্ধ থেকেছে? প্রকাশ্যে না হোক, গোপনে তার সৃষ্টির স্বাধীনতা উদযাপন করেছে। আরো একটা ব্যাপার হলো আব্বাসি শাসনামলে (৭৫০-১২৫৮) বাগদাদ নগরী পত্তনের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক উত্থান ঘটেছিল, তাতে বিশ্বের অন্য নগরীর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, বিনোদনের জন্য দরবারের পৃষ্ঠপোষকতায় সাংস্কৃতিক উত্থানও প্রায় অবশ্যম্ভাবী ছিল। হয়েছেও তাই।
তবে অনেকেই ইসলামিক সংস্কৃতি বলতে আরব সংস্কৃতিকেই বুঝে থাকেন। মনে রাখা দরকার, আরব বলতে যে বিশাল ভূখণ্ডকে বোঝায়, তার সব স্থানের সংস্কৃতি ও জীবনচর্চা কখনই এক ছিল না। ফলে তাকে একাকার করে ভাবাও ঠিক হবে না।
মুসলিম বা ইসলামিক সভ্যতা বিকাশের ইতিহাসে সংস্কৃতি-সংগীতের বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে পশ্চিমে, নির্দিষ্ট করে বললে স্পেনে এর বিস্তার। অবশ্য দ্বাদশ শতকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো প্রাচ্যবিদ্যার অনেকটাই আত্মস্থ করেছিল অনুবাদ ও যোগাযোগের মধ্য দিয়ে। তারও আগে গ্রিক দর্শনের, বিজ্ঞানের অনেক মূল্যবান গ্রন্থ ভাষান্তরের মধ্য দিয়ে আত্তীকরণ করেছিল আরবরা। ফলে মুসলিম শাসনের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নতুন দেশও সেই বিদ্যার উত্তরাধিকার হচ্ছিল। যে কারণে মুসলিম শাসনের অধীনে আসার পর স্পেনে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন, চিকিৎসাবিদ্যার মতো আরবের সংগীতও সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল। স্পেনে হিস্পানো-অ্যারাবিক নামে যে সংগীত বিরাট প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল, তার উৎস নিয়ে তর্ক থাকলেও তার প্রভাব নিয়ে সন্দেহ ছিল না। সেদিকে এগোনোর জন্য এর পূর্ব ইতিহাস আমাদের আয়ত্তে থাকা ভালো।
আব্বাসি শাসনামলের শুরুতে খলিফা হারুন আল-রশিদের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে পারে অনারব তিনটি দেশ ইসলামের বলয়ে আসা। এগুলো হলো পারস্য, তুরস্ক এবং ‘বারবার’ খ্যাত উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো। এর মধ্যে আবার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে পারস্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। স্মরণ করা যেতে পারে, সেখানে উমাইয়াদের শাসনামলে (৭৫৬-৯৭৬) শুউবিয়া আন্দোলন স্পেনসহ উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার মাঘরিব শহর থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। অনারবদের ওপর আরব সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের চাপিয়ে দেয়া বৈষম্য, অসমতার বিরুদ্ধে এ আন্দোলন গড়ে ওঠে। এটা রাজনৈতিক আন্দোলনের চেয়ে অনেক বেশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবেই সক্রিয় ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই অনারব পারস্য নিজেদের শিয়া মতানুসারী হিসেবে প্রকাশ করে। তবে তুরস্ক গ্রহণ করেছিল সুন্নি নীতি।
এদিকে বাগদাদের শাসনের বাইরে থাকা আরব ও বারবার গোষ্ঠী ইসলাম গ্রহণ করলেও বাগদাদের শাসন অস্বীকার করে তিউনিসিয়ায় ‘ফাতিমীয়’ শাসন প্রতিষ্ঠা করে। এ শাসন উত্তর আফ্রিকা, মিসর ও আরবের একটা অংশ জয় করেছিল। পরে তিউনিসিয়া থেকে তাদের রাজধানী মিসরের কায়রোতে স্থানান্তর করে। লক্ষণীয় হলো ফাতিমীয় খলিফাদের প্রায় সবাই সাগ্রহে সংগীতের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। ফলে কায়রো সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার নতুন কেন্দ্র হয়ে ওঠে, পরে সেই চর্চা ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এটা ভৌগোলিক অবস্থান, নৌ-বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিচর্চার কারণেই সম্ভব হয়েছে।
মিসরের সংগীতচর্চার দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে অজস্র সংগীতজ্ঞ, গায়কি মেয়ে, নৃত্যশিল্পী ও ভোজ উৎসব ছিল। সেখানে আর্দ-আল-তাবালা (নারী ঢাকিদের ভূমি) বলে একটা কথাই চালু ছিল। তাছাড়া খলিফাদের ইচ্ছায় ‘মোয়াকিবস’ আয়োজন হতো। লক্ষ করলেই বোঝা যায়, গোত্রভিত্তিক আরবদের মধ্যে চলা এ চর্চা দরবারি পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ ছড়িয়ে ছিল।
ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন জানাচ্ছেন, খলিফার প্রসাদের ‘আলা (সাজসজ্জার) জন্য কাপড়ে তৈরি ৫০০ প্রচারকেতন, পাঁচশ ভেঁপু ছিল। আবার মিসরের ঐতিহাসিক ইবল তাঘরি বিরদি (১৪০৯-৭০) জানাচ্ছেন, কায়রোতে রাজধানী স্থানান্তরের কিছুকাল পরে, ৯৭৫ সালে ফাতেমায় শাসক পঞ্চাশটি ‘নাকারাত’ (ছোট্ট ঢাক) ও পঞ্চাশটি ‘কুসাত’ (চোঙ আকৃতির ঢাক) বাজিয়ে নতুন বছর উদযাপন করেন। এ সময় প্রসাদের সামনে তবুল (ঢাক), সুনুজ (ঝাঁজি), সাফাফির (বাঁশি) একটা গুঞ্জন তৈরি করত।
তাঘরি আরো জানাচ্ছেন, ৯৭৮ সালে আব্বাসি খলিফা আল তাই (৯৭৪-৯৯১) সামরিক উদযাপনের জন্য ‘তবলখানে’ নামে সামরিক ব্যান্ড দল তৈরি করেন। লক্ষণীয় হলো এরা কেবল বাদ্যই বাজাত না, যুদ্ধের ময়দানেও অংশ নিত। যে কারণে ১২৫০ সালে মিসরে হওয়া ফ্রান্সের ক্রুসেডে (ধর্মযুদ্ধ) জয় লাভ করার পর, সেখানে ‘তবলখানে’ প্যারেড করে। সেই সময় খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কেবল দরবারি সংগীতই নয়, বাদ্যনির্ভর অনেক আড়ম্বর চর্চাও বিকাশ হয়।
এবার তবে আরো পশ্চিমের দিকে যাওয়া যাক। সেখানে ইসলামিক সংগীতের বিকাশের ইতিহাস জড়িয়ে আছে শাসনের সঙ্গে।
৭১১ সালে বারবার সেনাপতি তারিক সাত হাজার সৈন্য নিয়ে জিব্রাল্টার পর্বতমালা পেরিয়ে স্পেনের মাটিতে পা ফেলেছিলেন, সেই যাত্রায় গোটাকয় শহরে সামান্য বিরোধ মোকাবেলা করে ৭৩২ সালের মধ্যে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহর পয়টিয়ারের ফটক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। ৭৫৫ সালে উমায়ই রাজপুত্র আবু আল-রহমান স্পেনের মাটিতে পদার্পণের পরের বছরই দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুস (আরবিতে: আল-আন্দালুসিয়া) অঞ্চলের শহর করদোবাতে আবাস গড়ে তোলেন। ৯৩২ সালে তৃতীয় আব্দ আল-রহমান নিজেকে খলিফা ঘোষণা করে স্পেন ও পর্তুগালের মধ্যবর্তী পেনিনসুলা অঞ্চলে মুসলিম বিজয় নিশ্চিত করেন।
মনে রাখা দরকার, বিজয়ী জাতি হিসেবে আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আরবদের ভাষা ও মূল্যবোধ আরোপের সব চেষ্টাই করে। তিউনিসিয়ার লেখক আবদম আল তিফাসি (১১৮৪-১২৫৩) আবিষ্কার করেছেন, সে সময় ওই অঞ্চলে খ্রিস্টান ও হুদার (আরব উটের রাখাল) সংগীত প্রচলিত ছিল। তবে বাগদাদের প্রসিদ্ধ সংগীতজ্ঞ আলী ইবন-নাফি (ডাক নাম: জিরয়াব) দ্বিতীয় আল-রহমানের আমলে ৯২২ সালে করডোবা পৌঁছান। পরে তিনি দ্বিতীয় রহমানের দরবারের প্রধান সংগীতজ্ঞের পদ পান। জিরয়াব ছিলেন ‘উদ’ সংগীতের জন্য সমাদৃত। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি দরবারের ক্রীতদাস গায়কি মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেয়া এবং খ্রিস্টীয় ও প্রাচ্যের সংগীতের সমন্বয়ে ‘ইশিহালা’ ও ‘অমল’-এর (দ্বৈত সাংগীতিক ধরন) উন্নতি করেন। পরবর্তী সময়ে ইবন যুদি, ইবন আল-হাম্মারা কিংবা ‘শিল্পের সিল (সামুদ্রিক পাখি) খ্যাত’ আবুল হুসাইন আল-হাসিব আল-মুরসি ওই অঞ্চলে সংগীতের বিকাশ ঘটান।
তবে তথ্য হচ্ছে, জিরয়াবকে যে ‘নুবা’ সুর সৃষ্টির জন্য প্রশংসা করা হয়, গবেষকরা জানাচ্ছেন, তিনি সুর স্রষ্টার চেয়ে বরং সুরে রূপান্তর ও সংশোধনকারী। তার পরও সংগীতে তার অবদান খাটো করার সুযোগ নেই।
মুসলিম সংগীতজ্ঞদের প্রভাবে আন্দালুস অঞ্চলের কাব্য ও সংগীতে বিভিন্ন ছন্দের সূচনা হয়েছিল। প্রখ্যাত স্প্যানিশ গবেষক ই গার্সিয়া গোমেজ জানাচ্ছেন, ‘মুয়াশশাহ’ নিঃসন্দেহে উমাইয়া সংস্কৃতির অংশ। যদিও ‘মুয়াশশাহ’ আরবি ধ্রুপদী সংগীত ও ‘জাদযাল’ স্থানীয় কোনো দলের সৃষ্টি বলে দাবি করা যেতে পারে। এর মধ্যে ‘মুয়াশশাহ’ সংগীত নবম শতকের শেষ থেকে দশম শতকের শুরুর দিকে অন্ধ কবি মুকাদ্দাম ইবন মুআফার সৃষ্টি বলে ধারণা করা হয়। তবে ‘জাদযাল’কে অসামান্য প্রতিভাধর কবি আবু বকর মুহাম্মদ ইবন কুজমান সর্বোচ্চ বিকশিত করেছিলেন, তা স্বীকৃত। ১১৬০ সালে করডোবাতেই কবি কুজমানের মৃত্যু হয়।
‘মুয়াশশাহ’ শব্দটা এসেছে ‘উইশাহ’ শব্দ থেকে, যার অর্থ মুক্তা ও রুবি খচিত অলংকার। আর ‘জাদযাল’ মানে স্বর ও সুরের উঁচু স্তর। ‘জাদযাল’-এর ছন্দ অনেকটা রোমান ‘খারদজা’ (প্রস্থান) ধরনের। মানে সেই সময় স্থানীয় ও আশপাশের সংগীতের ছন্দ নিয়ে মুসলিম সংগীতজ্ঞরা বিস্তর নিরীক্ষা করেছেন। এমনকি সেই সময়ে দ্বিভাষিক, ত্রৈভাষিক সুর-ছন্দের ব্যবহার দেখা যায়। এর মধ্যে আরবি-রোমান, রোমন-হিব্রু, হিব্রু-আরবি একেকটি ধারা হিসেবেই বিকশিত হচ্ছিল। এসব ধারা শুধু স্পেন নয়, উত্তর আফ্রিকা ও নিকটপ্রাচ্যের লোক ও মার্গীয় সংগীতের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিল।
তাছাড়া, আন্দালুসিয়ায় সংগীতের দুটি তত্ত্ব বিকাশ হয়েছিল। একটি ‘লেইলা’, অন্যটি ‘জামব্রা’। এর মধ্যে ‘লেইলা’ তত্ত্বটি এসেছে আরবের ‘লায়লা’ (রাত) থেকে। আর ‘জামব্রা’ এসেছে আরব বেদুইনদের ‘সামার’ বা ‘মুসামারা’ থেকে। এসব সংগীত পরিবেশন, যন্ত্রের ব্যবহার, গায়কি ঢং, দর্শকের বসাও নির্দিষ্ট ছিল।
আন্দালুসিয়ার সংগীতে গভীর শিকড় গেড়ে ছিল ‘লেইলা’ ও ‘জামব্রা’। দক্ষিণ আন্দালুসিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর গ্রানাডা মুসলিম শাসন পতনের অন্তত ৭০ বছর পর পর্যন্ত ওই এর চর্চা হতো। বিশেষ করে ‘মুজেরাস’ (খ্রিস্টীয় শাসনের অধীনে থাকা মুসলিম) এবং ‘মরিসকস’দের (খ্রিস্টান হওয়া মুরেরা) মধ্যে এই চর্চা বেশি হতো। সেই সময় ব্যবহূত শিংয়ার মতো ‘বুক’ বাদ্যযন্ত্রটি এখনো আন্দালুসিয়ার ‘ডাবল রিড’ বা ওই ধরনের বাদ্যযন্ত্রে প্রভাব রেখে যাচ্ছে।
উত্তর আফ্রিকার আঘলাবিদ রাজ্যের সেনারা ৮৩১ সালে যখন ইতালির বৃহত্তম দ্বীপ সিসিলি জয় করে, তখন থেকেই সেখানে ইসলামিক সংস্কৃতির একটা প্রবাহ শুরু হয়। ১০৬০ সালে কাউন্ট রজার ডি হাউতিভিল্লির অধীনে নরমান সেই রাজ্যের পতন করেন। আরব ভূগোলবিদ ইদ্রিসি রজার দ্বিতীয় (মৃত্যু: ১১৫৪)-এর দরবার ভ্রমণ থেকে ফিরে যে বর্ণনা দেন, তাতে সেখানে ইসলামী সংগীতের প্রভাব পাওয়া যায়। অনারব ও অমুসলিম ইতিহাসবিদরাও জানাচ্ছেন, ভোজ উৎসবগুলোতে অজস্র সংগীতজ্ঞ ও নৃত্যশিল্পীর উপস্থিতি সিসিলিতে আবর সংগীতের একটা পাকাপাকি অবস্থান তৈরি করেছে। তাছাড়া আরবের সুপরিচিত ‘পেটনৃত্যর’ সঙ্গে সিসিলিতে কোমরের বিশেষ নৃত্য বিকাশ লাভ করেছিল। ইতিহাসবেত্তারা বর্ণনা করেন, ইংরেজরা আগে কখনই এসব দেখেনি বা শোনেনি।
সিসিলির সীমান্ত এলাকা ছাড়াও রাজধানী পালেরমো শহরে আরব প্রভাবিত সমৃদ্ধ খোদাই ও রঙিন চিত্র ১১৪০ সালেও দেখা গিয়েছে। সেই সময় নিকটপ্রাচ্যের বহু শিল্পী সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে স্মৃতিস্তম্ভ ভবনের নকশায় অবদান রেখেছেন।
ইসলামিক যুগে যেসব মনীষী গণিত, বিজ্ঞান, দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদের অনেকেই সংগীতবিষয়ক বই লিখেছেন। কে না জানে, গণিত-বিজ্ঞান হচ্ছে পরিমাপ বোধ ও মিশ্রণের বিকাশ। ফলে এটা বলাই যায়, ইউরোপের জন্য প্রাক-ইসলামিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান সম্ভবত পরিমাপমূলক সংগীত। আগে তারা এ নিয়ে কতটা চর্চা করছে, তা ঠিক পরিষ্কার নয়। সপ্তম শতক বিকশিত সংগীত ‘ইকায়াত’ বা ছন্দ নামে তার পরিচিতি পায়। সংগীত বিষয়ে ল্যাটিন ‘ডি মেনসিউরিস অ্যাট ডিসক্যান্টো’ গ্রন্থে ‘এল মুয়াহিম’ ও ‘এল মুয়ারিফা’ নামের যে ছন্দের কথা আছে, তা আসলে আরব থেকে যাওয়া নাম। আরবি ‘ইকায়াত’-এর ল্যাটিন নাম ‘হকেট’। আবার আরবি শব্দ ‘আল-উদ’ থেকেই ইংরেজিতে ‘লিউট’ শব্দের জন্ম হয়েছে বলে জানা যায়। একইভাবে আরব বাদ্যযন্ত্র ‘রাবাব’ থেকে ‘রেবেক’, ‘কিতারা’ থেকে ‘গিটার’, ‘নাককারা’ শব্দ থেকেই আধুনিক ‘নাকের’ এসেছে বলে জানা যায়। সংগীতচর্চা পদ্ধতি হিসেবে আরবি ‘মাজরা’ বা ‘লুট’-এর বিকাশের মতো বিভিন্ন তত্ত্ব
নানা দেশের সংগীতচর্চার সঙ্গে মিশে আছে, যার সব হয়তো আর আলাদা করা যাবে না।
তথ্যসূত্র
১. Music in the World of Islam: A Socio-cultural
Study, by Amnon Shiloah, Wayne State University
Press
২. The Arab Confrontation with European Music: The
Question Revisited, an article by Amnon Shiloah, from open source
in website
৩. মুসলিম সভ্যতা, মফিজুল্লাহ্ কবীর, বাংলা একাডেমি, প্রথম প্রকাশ: ডিসেম্বর ১৯৮৫
অলাত এহ্সান: গল্পকার, সাহিত্য সমালোচক





