নিশা আমারে দাওয়াত দেয়— আসো, এক সাথে ডিনার করি। ওর সাথে আমার ডিভোর্স তৃতীয় বার্ষিকী পাড়ি দিছে ডজনখানেক দিন আগে। ফোন পেয়ে সেটাই প্রথম আমার মনে পড়ে। তারপর হিসাব করে দেখি— এই তিন বছরে ওর সাথে কোথাও কখনো দেখা হয়নি। যোগাযোগ হয়নি ভার্চুয়াল জগতের কোনো সুতানাতায়। তাহলে হঠাৎ ডিনারের দাওয়াত কেন? আমি বিস্ময়ে পড়ি— মহাভারত কি বিশুদ্ধ হয়ে গেল? তার সব ভুল-ত্রুটি কি ধুয়ে-মুছে সাফ? তা না হলে তো আমারে নিশার ডাকা অসম্ভব। ডিনারে বসতে চাওয়া আরো অলিক কল্পনা।

কিন্তু নিশার গলায় আন্তরিকতার ছোঁয়া— আসো, তোমার সাথে কিছু জরুরি কথা আছে। কিছু কাজও।

—ফোনে বলো।

— না, যেটা মুখোমুখি বলার সেটা ফোনে কুলাবে না। সূর্যের কাজ। টর্চ সামলাতে পারবে না।

বাহ! নিশার কথা বলার ভঙ্গি তো দারুণ। জলে ধোয়া স্বচ্ছ যুক্তিজাল। আগে কখনো তার মুখে এমন মনোহর বাক্য শুনেছি বলে তো মনে পড়ে না। তার পরও তার দাওয়াত কবুল করতে আমার মন ঘাড় কাতায় না। সোজা অটল করে রাখে— ছেঁড়া তার আবার জোড়া লাগানোর দরকার নাই।  ফেলে আসা পথে আর পা দেব না। তাই এড়াতে চাই— আজ হবে না। ইভিনিংয়ে একটা আর্জেন্ট কাজ আছে। শেষ করে ফিরতে রাত হবে।

— নো নো। আজ না। নেক্সট উইকেন্ডে।

ওহ! তাহলে টাইম-টেবল ফিক্সট করা! নিশ্চয়ই সেদিন কোনো পার্টি-টার্টির হাজিরা। শুনেছি এ কয় বছরে নিশা ক্যারিয়ারে দারুণ উন্নতি করেছে। বড় বড় ধাপ পাড়ি দিছে। বীমা কোম্পানির ডিরেক্টরশিপে গিয়া থিতু হয়েছে। নিশ্চয়ই তার কোনো সেলিব্রেশন। নিজের সাফল্যের ছটায় সবারে ঘায়েল করার রঙিন আয়োজন। তাই এত ঘটা করে ডাক। আন্তরিকতায় ভরা দাওয়াত।

— না না। সে রকম  কিছু না। স্রেফ তুমি আর আমি। আর কেউ থাকবে না।

আমার গায়ে অসভ্য, বর্বর ও জানোয়ারের তকমা লাগিয়ে নিশা ডিভোর্স দেয়। মাত্র তিন বছরের মাথায় এসে এসব সিলমোহর ধুয়ে-মুছে যাবার কথা নয়; বরং আরো গাঢ়তর হয়ে নিশার চোখে জ্বলজ্বল করার কথা। তার পরও সে আমার সাথে বসতে, একত্রে ডিনার করতে চাচ্ছে কেন?  তার এত উদারতা দেখানোর দরকার পড়ল কী উদ্দেশ্যে? আমি তার কোনো হিসাব মেলাতে না পেরে নিশার দ্বারস্থ হই। জবাবে সে একই সুর ও স্বরে গায়— আসো, এলেই শুনতে পাবে।

ওমা! এ তো দেখি একেবারে মেয়েলি হেঁয়ালি। সদ্য প্রেমে পড়া কিশোরীর খুটে বাঁধা ধাঁধা। প্রেমিককে কাছে পাওয়ার, তার কাছ ঘেঁষে বসার টোপ। তাহলে নিশা কি দিনে দিনে কিশোরী হয়ে উঠছে? আমারে কাছে পাওয়ার জন্য টোপ ফেলছে? আমি তাই তার আকার-আকৃতি, দৈর্ঘ্য-প্রস্ত মাপার পথ ধরি— কোথায় বসতে চাও। কয় তারা হোটেলে খাওয়াবে?

—আমার বাসায়।

ওহ! তার নতুন ফ্ল্যাট দেখাতে চায়? তার দেহ-কাঠামো কত হাজার স্কয়ার ফিট, চেহারা-সুরতে কত নামিদামি পেইন্টিংসের সাজ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জুড়ে কত নামজাদা দেশী-বিদেশী ব্যান্ডের অলঙ্কার ফিট করা, তা দেখিয়ে আমার মুখ ম্লান করে দেয়াই তার উদ্দেশ্য?

—তুমি যা ভাবছ তা না। ফ্ল্যাটটা অফিসের। তার সাজ-সরঞ্জামও তাদের। আমি জাস্ট তার পাহারাদার। দেখে-শুনে রাখি আর কি।

অ্যাঁ! নিশার মুখে বিনয়! ভূতের মুখে রাম নামও ফেল। তাই আমার মুখে আর কোনো কথা সরে না।

আমাদের অনেক কমন বন্ধু-বান্ধবী আছে। তাদের জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী ও প্রমোশনের ঘাটতি নাই। তারা বরং বছরের এ-মাথা থেকে ও-মাথায়, মাসে দু-তিনটা করে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে। গত তিন বছরে তাতে আমার বহুবার যেতে হয়েছে। যে পার্টিবাজ মেয়ে, নিশাও নিশ্চয়ই গেছে। কিন্তু কোথাও কখনো একবারের জন্যও আমাদের দেখা হয়নি। ফলে বুঝতে পারছি না, ও কতটা বদলে গেছে। রূপ-যৌবন ওর গা-গতরে কতটা হেলান দিয়েছে। নম্রতা বগলতলায় কতটা আশ্রয় নিয়েছে। তাই তা দেখার জন্য আমার মন কিশোরী মেয়ের মতো আনচান করে ওঠে।

—তাহলে আসছ? নেক্সট ফ্রাইডে ইজ পারফেক্ট ডেট। ফেল করলে আবার নেক্সট মান্থের জন্য ওয়েট করতে হবে।

অ্যাঁ! নেক্সট মান্থের জন্য ওয়েট করতে হবে কেন? এ আবার কোন হেঁয়ালি? নাকি কোনো ফাঁদ? ডিনারের মুলো ঝুলায়ে ডেকে নিয়ে তার জালে বেঁধে ফেলবে? তারপর তার অঙুলি হেলনে নাচাবে। খুনও করে ফেলতে পারে। আজকাল তো হরহামেশা এমন হচ্ছে। পত্রিকা খুললেই দেখা যায় নানা কায়দা-কৌশলে খুন করার কাহিনী পাতাজুড়ে আসর বসিয়ে আছে। তাই যখন যৌথ জীবনে ছিলাম, একত্রে বসবাসে উঠবস করেছি, তখনকার কোনো ভুল-ত্রুটি কিংবা অন্যায় আচরণ মনের কুঠুরিতে গেঁথে রেখেছে। তার প্রতিশোধ নিতে একেবারে খতম করে ফেলবে। এখন ওর যে কর্তৃত্বের চূড়ায় বসবাস, দেশের সেরা বীমা কোম্পানির ডিরেক্টর, তাতে আমার মতো চুনোপুঁটি, বেসরকারি সংস্থার মার্কেটিং ম্যানেজাররে নিকাশ করে ফেলা ওর বাঁ হাতের খেল। আমি তাই জান বাঁচাতে, ফরজ কাজে নিজেরে নিয়োজিত করতে না না করে উঠি।

—আসো, তোমার কোনো ভয় নাই। আমি নিজে ড্রাইভ করে তোমারে পিক করব। আবার ডিনার শেষে পৌঁছে দেব। তোমার গায়ে আঁচড়টিও লাগবে না।

বাহ! এ তো দেখি সোনায় সোহাগা আয়োজন। আমার না করার সব ফাঁকফোকর সিমেন্ট-বালিতে এঁটে বন্ধ করা। তাই নিশারে আর ফেরানো সম্ভব হয় না।

 

দুই.

শুক্রবার সকালে আবার কল দেয়— ‘সন্ধ্যায় পিক করতে আসব। রেডি হয়ে থেকো।’

অ্যাঁ! ডিনারের দাওয়াত দেয়ার দিন নিশার আগ্রহ পাহাড়ের চূড়া ছুঁয়েছিল। আজ দেখি আকাশ ধরে ফেলেছে। সাতসকালে ফোনে তাগাদা দিচ্ছে!

কিন্তু এখনো তার কারণটা বুঝতে পারছি না। উদ্দেশ্যটা খোলাসা হচ্ছে না। তাই আমার ভেতর আবার নতুন করে শিরিষ কাগজের ঘষাঘষি শুরু হয়। মনটা খচখচ করতে থাকে— না করে দেব? বলব অসুস্থ? আজ আর যেতে পারব না। তাহলে মাসখানেক পিছিয়ে যাবে। তার মধ্যে আসল কারণটা উদ্ঘাটন করা হয়তো সম্ভব হবে। কিন্তু সুস্থ-সবল থেকে অসুস্থের কথা বলি কী করে? এছাড়া আর কি-ইবা বলা যায়? তবে যা-ই বলি না কেন তার সবটাই হবে ডাহা মিথ্যা। সূর্যের পশ্চিমে উদয়ের মতো অসত্য। তাই তাতে আর আমার পা দেয়া হয় না। ফলে সন্ধ্যায় নিশা নিজে ড্রাইভ করে পিক করতে এলে আমারে রেডি পায়। বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কল দেয়। আমি নেমে এসে গাড়িতে তার পাশের আসনে বসি।

গিয়ারস্ট্যান্ড মাঝখানে রেখে আমরা দুজন তখন পাশাপাশি। নিশার আপাদমস্তক না হলেও সিংহভাগ আমার চোখের আওতায়। ওর দেহের অলিগলি আমার আগে থেকেই চেনা, রেখা-উপরেখার গাঢ়তা-দৃঢ়তা জানা, টিলা-পাহাড়ের উচ্চতা মাপা। এমনকি গাতা-গর্তের সুলুকসন্ধানও করা। সুতরাং ওর মনোরম-মনোহারী অট্টালিকার কিছুই আমার অজানা নাই। তাই ওর পানে তাকায়ে অবাক হই— গত তিন বছরে তাতে এতটুকু পলেস্তারা পড়েনি। দু ফোঁটা মেদ জায়গা নেয়নি কোথাও। বরং তারা আরো হাত-পা গুটিয়ে নিছে। ফলে নিশা স্লিমের পথে আরো দু-চার কদম পথ পাড়ি দিছে। আরো তন্বী-তরুণী হয়ে উঠেছে। আমার উপোসী মন তাই লোলুপ হয়ে ওঠে। বারবার নিশার পানে ফেরে। পোশাক-আশাকের আবরণ ভেদ করে চোখ দেহের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায়। রেখায় রেখায় হাঁটাহাঁটি করে। কিন্তু মুখে কোনো কথা হয় না। কেননা নিশা গাড়ি চালানো নতুন শিখেছে। এখনো ওস্তাদ হয়ে উঠতে পারে নাই। তাই তাকে মনোযোগের পুরাটা ঢেলে দিয়ে রাস্তা পাড়ি দিতে হচ্ছে। কথা বলে তা থেকে দু-চার ফোঁটা আমার পানে টানলে দুর্ঘটনা হামলে পড়তে পারে। তাই আমি চুপচাপের ঘরে বসে থাকি। ফলে যাত্রাবাড়ি থেকে গুলশান, শুক্রবার বিধায় যানজটের দাপট কম থাকায় ঘণ্টাখানেকের পথে আমাদের তেমন কথা হয় না। শুরুর দিকে ‘হাই’ ‘হ্যালো’ ‘কেমন আছ?’ আর দু-চার শব্দের জবাবের মধ্যে সীমিত থাকে তিন বছর পর আমাদের প্রথম সাক্ষাতের মুহূর্তগুলো।

তবে ফ্ল্যাট ভবনের নিচে গাড়ি পার্ক করে নিশা সোৎসাহে মুখ খোলে— এত নামিদামি গাড়ি দেখে তোমার অবাক হওয়ার কিছু নাই। অফিসের গাড়ি। ড্রাইভারও তাদের। তাই ড্রাইভিং শেখা থাকলেও আমাকে চালাতে হয় না। স্রেফ তোমার জন্য আজ স্টিয়ারিংয়ে বসতে হলো।

নিশার গাড়ি দেখে অবাক না হলেও ফ্ল্যাট দেখে আমার চোখ কপাল নেয়। তাতে পা দিয়া দেখি চারদিকে হাত-পা ছড়ানো খোলা ময়দানের মতো ড্রইংরুম। আমি নিজে থাকি পনেরো বাই বারো ফিটের ছোট মনের এক ঘরে। তাই ছোটখাটো ফুটবল মাঠের মতো দিলখোলা কারো ড্রইংরুম দেখলে গোপন ঈর্ষা তো টগবগাবেই। মাথা তুলবেই। তবে তারে বাঁ-হাত চাপায় বসিয়ে দিয়ে মুখে প্রশংসার জোয়ার তুলি— বাহ! সুন্দর করে সাজিয়েছ তো। চমত্কার নীল আলোর শেড। দেয়ালে দেয়ালে বাহারি পেইন্টিংস।

—আরো দুটো শেড আছে। রেড আর গ্রিন। ব্লু তোমার ফেভারিট বলে সেটাই আজ অন করে রেখেছি।

—বাসায় আর কাউরে দেখছি না যে?

—আগেই তো বলেছি আজকের ডিনার শুধু তোমার আর আমার। এমনকি বাসায় যে খেদমতগার আছে, তোমারে পিক করতে যাওয়ার আগে তারেও বিদায় দিয়া দিছি। বলছি, আজকে আর কোনো কাজ নেই। যা করার আমিই করে নেব।

ড্রইংরুমের মাঝখানে দেখি একগুচ্ছ ফুলের মতো সাজানো এক সেট সোফা। নিশা আমারে তাতে নিয়া বসায়। তার সেন্টার টেবিলের দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠি— জ্যাক ডেনিয়েল! রাজাধিরাজের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সুদৃশ্য বোতল। আমার পেয়ারের ব্র্যান্ড। আর তার চারপাশ জুড়ে বরফ, সোডা, চানাচুর ও বাদামের মতো একদল মোসাহেব। যাদের ছাড়া পেগ দু কদমও চলতে পারে না।

আমার পানের টুকটাকের চেয়ে দু-এক ধাপ বাড়ানো অভ্যেস আছে। তবে নিয়মিত নয়। কিন্তু নিশাকে তো কখনো রঙিন পানির গ্লাস হাতে নিতে দেখি নাই। এত দিনে কি তাও রপ্ত করে ফেলেছে? আসক্ত হয়ে উঠেছে? তাই এত মোহনীয় আয়োজন!

—নো নো। তুমি পছন্দ করো, তাই জোগাড় করে রেখেছি।

না, নিশার উদ্দেশ্য ভালো নয়। আমারে মাতাল করে দিতে চাচ্ছে কেন? তাতে তার কী লাভ? আমার মাতলামি দেখা? বসে বসে মুচকি হাসা? কেননা একে তো ফেভারিট ব্র্যান্ড, তারপর অনেক দিনের বুভুক্ষু। সুতরাং হাতের নাগালে পুরো এক বোতল পেলে ঢেঁকুর না তোলা পর্যন্ত তো থামতে পারব না। তখন তো পা আমার হুকুমের বাইরে চলে যাবে। ডানে বললে বামে মুখ ফিরিয়ে কদম ফেলবে।

—না, সে সুযোগ নাই। দ্যাখো বোতল খুলে, দু-চার পেগ রেখে বাকিটা ফেলে দিছি।

ওহ! তাহলে নিশা তরলরে সরল অস্ত্র বানায়ে আমার মনের খবর জানতে চায়, গোপন কথা বের করতে চায়? কেননা দু-চার পেগ পেটে পড়লেই তো আমার মনের আগল খুলে যাবে। ফরফর করে সব মুখের আগায় এসে হাজির হবে।

— সে রকম কিছু না। দেশ-বিদেশের পার্টিতে দেখেছি আগে দু-চার পেগ নিয়ে তারপর ডিনারে বসে। তখন তেল-মসলাবিহীন আস্বাদ-বিস্বাদের সব খাবারই মজাদার হয়ে ওঠে। অনেকদিন পর তোমার জন্য রেঁধেছি। জানি না কেমন হয়েছে। তবে দু-চার পেগের পর সব সুস্বাদু হয়ে উঠবে। তোমার মুখে তখন বাহ! বাহ! শোনার অপেক্ষায় আছি।

বাহ! তাহলে তো নিশ্চিত মনে পা বাড়ানো যায়। জোর কদমে আগানো। আমি তাই বোতল খুলে শুরু করি। প্রথম চুমুকের পর আমার মুখ খোলে— তোমার ফ্ল্যাটটা বেশ। চারদিকে হাত-পা ছড়ানো।

—হ্যাঁ, ডিরেক্টরদের জন্য কোম্পানির বানানো। কানাগলির মাথায়, তাই একেবারে নিরিবিলি। অফিস থেকে বাসায় ফিরে মনে হয় যেন কোনো পোড়ো বাড়িতে ঢুকছি। গা ছমছম করে ওঠে অনেক সময়। তাই এক কাজিনকে এনে রেখেছিলাম। বাট ভয়ে দুদিন পরই পালিয়ে গেছে। এখন একদম একা। ওদিকে আরো তিন-চারটা রুম আছে। সব ফাঁকা। কেবল কোনারটাতে সার্ভেন্ট থাকে। তাই বাসায় দুটো কথা বলার মতো কেউ নাই। আর জমানো টাকা দিয়ে কোম্পানির কিছু শেয়ার কিনে ডিরেক্টর হওয়ার পর অফিসে কাজের চাপও কমে গেছে। একগাদা অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে। ওরাই সব সামলায়। ফলে বাসায় এসে কোনো কাজও থাকে না। এত বড় ফ্ল্যাট, বড় একা একা লাগে। নিজেরে বড্ড অসহায় মনে হয়।

—তাহলে আর কাউরে জুটিয়ে নাও।

—নো, ওসব ঝামেলা আর কাঁধে নিতে চাই না। এমন স্বাধীন লাইফে ফাটল ধরানোর কোনো ইচ্ছা নাই। তুমি এসেছ থ্যাঙ্কিউ। বাট চলে যাওয়ার পর আর কোনো দিন তোমার চেহারাও দেখতে চাই না।

অ্যাঁ! নিশা বলে কী? এভাবে আদর-যত্ন করে ডেকে এনে একথা! মুখের ওপর চপেটাঘাত? গালে পাঁচ আঙুলের দাগ বসিয়ে দেয়া? এত বড় অপমানের পর এখানে আর এক মুহূর্তও নয়। লাল পানিতে টলমল গ্লাসটা হাত থেকে টেবিলে রেখে আমি উঠে দাঁড়াতে যাই।

—যাবে তো বটেই। বাট যাবার আগে তোমার পারফরম্যান্সটা করে যাও। বন্ধুদের সাথে খেয়ে এসে বিছানায় যে পারফরম্যান্স করতে। দারুণ ফ্যান্টান্সিতে ভরা সেসব এত দিনেও ভুলিনি। আমি ফুললি রেডি। শরীরে সে রকম বোধ হিসাব করেই তোমারে ডেকেছি। কোনো রকম প্রটেকশনবিহীন এক পারফরম্যান্সেই কেল্লা ফতে হয়ে যাবে আশা করি। তোমার এক্স বা ওয়াই আমার এক্স-রে ধরে ফেলবে।  ব্যস,  তখন আমার টাইম পাস নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না। এত বড় বিশাল ফ্ল্যাট আধো আধো বোলে একসময় ফুললি ভরে উঠবে।

—তোমার যা বডি, খাপ খোলা তলোয়ার যেনবা। তাতে তোমার জন্য তো হাজারো পুরুষের লাইন দিয়া থাকার কথা।

—হ্যাঁ, তা আছেও বটে। বাট তোমার স্বাদ-গন্ধ আমার চেনা। তাতে অভ্যস্তও বলতে পারো। তিন বছরের গ্যাপেও কোনো ফাটল ধরেনি। এই সামান্য কাজে নতুন করে আবার কারে ডাকতে যাব? তাই তোমারেই ডেকেছি। চলো, ডিনারটা সেরে ওদিকে যাই। বেড সাজানো আছে। তোমারে কীভাবে জাগাতে হবে, দাঁড় করাতে, তারপর তোমার কাছ থেকে গুড পারফরম্যান্স আদায় করে নিতে হবে তা আমার ভালো করেই জানা আছে। দেখো, এত দিনেও তা ভুলিনি।

—বাট লোকজনে কী ভাববে? তাদের কী বলবে?

—এমনিতেই তারা মনে করে আমি বসদের, বড় বড় অফিসারদের সাথে শুয়ে শুয়ে এ বয়সেই এত উপরে উঠেছি। কোম্পানির ডিরেক্টরশিপ বাগায়ে নিছি। তাই তাদের কারো কীর্তি ভেবে লোকজন হিসাব পাকা করে নেবে। তোমার আমার কিছু ভাবতেও হবে না, বলতেও হবে না।