প্রায়-সন্ধ্যাকাল।
নিজের প্রেতের সঙ্গে নীলগঞ্জ ইস্টিশনে দেখা।
ছত্রীসেনার মতো ঝাঁকে ঝাঁকে নামছে আঁধার। আর, ওইদিকে
যূথবদ্ধ মশাদের একটি ঘুরন্ত পিরামিড
...যা কেবলি ঊর্ধ্বমুখী...
পাক খেতে খেতে নিচ্ছে নিরালম্ব স্তম্ভের আকার।
ভেতরে অর্কেস্ট্রা এক চলমান অজস্র ধ্বনির;
যে-ধ্বনির অর্থ নেই কোনো;
শ্রবণ বধির করা মৃদু কোলাহল শুধু তুলছে গুঞ্জন।
স্টেশনের ডানে এক ঝাঁকড়ামাথা অশ্বত্থ-ক্যানোপি
ভালো করে ভেতরে তাকাই। দেখি:
পোকা নয়, নখের সমান ছোট্ট সংখ্যাতীত পাখি
যেন কোনো পাগলির মাথাজুড়ে প্রচুর উকুন!
বাঁ-দিকটায় জবাগাছ। তাতে বহু রক্তলাল ফুল
স্বভাবত চোখ-ঠারে পটু।
অপাঙ্গ চাহনি মেলে দেখি, আমাকে পরখ করছে
আমারই মতোন এক খর্বকায়, টুপিপরা লোক;
সে পরেছে আঁধারেও রঙিন গগলস।
কাছে যাই, গিয়ে বলি:
গচিহাটা নাকি যশোদল?
সে শুধু মুচকি হাসে বলে: নেন, বিড়ি খান!
বিড়িটা ধরাই। সুখটান। ধোঁয়া ছেড়ে বাইরে তাকাই
ততক্ষণে ঘটল ঘটনা! দেখি, খোলস ছাড়ছে সেই লোক;
খোলসের মধ্য থেকে ধীরে ধীরে
বের হচ্ছে আস্ত এক বিসর্পিল ট্রেন
হিস্-হিস্ শব্দ করে চালু হচ্ছে কয়লা-এঞ্জিন।
পেছনে-ধাবনশীল সুতানলি ধোঁয়ার কুণ্ডলি; তাতে
ডাইনিদের চুলপোড়া তীব্র-ঝাঁজ গন্ধের মচ্ছব;
এবং ঠাহর হয়, আমি আর প্লাটফর্মে নেই।
নিজেরই অজান্তে আমি রুদ্ধদ্বার ট্রেন-কামরায় বসে আছি;
একটি ঝুলন্ত লম্বা সরু তার থেকে
দৈত্যের কপালে একটি ক্রূর চোখ যেমন তাকায়...
হলদে-ঘোলাটে এক বাতি জ্বলছে মাথার ওপরে
বিষ্ঠারঙ দেয়ালের আধভাঙা আয়নায় দেখি:
সেই লোক বিড়ি টানছে। বিড়িটির মুখ জ্বলছে। তাতে
পুড়ছে আমারই মুখ। আর
পেছনে দাঁড়িয়ে সেই লোক বলছে: বন্ধুবর,
আজ রাতে আপনাকেই এ-ট্রেনের
এঞ্জিনের একমাত্র করেছি জ্বালানি!
(৩০ অক্টোবর, ২০১৮)






