সপ্তদশ শতাব্দীতে ডাচ সরকার শুধু তার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নয়, বরং আঞ্চলিক প্রভাবকেও আরো মজবুত করতে আগ্রহী ছিল। একটা সময় ছিল যখন মসলা বাণিজ্য (স্পাইস ট্রেড) ব্যতিক্রমী একটি লাভজনক উদ্যোগ ছিল। তখন ডাচ সরকার আন্তঃমহাদেশীয়, বিশেষ করে ইস্ট ইন্ডিয়া অঞ্চলে বাণিজ্যের একচেটিয়া আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ডাচ সরকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি দারুণ সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী তারা ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে একটি ঔপনিবেশিক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ডাচ ভাষায় ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি Vereenigde Oostindische Compagnie (সংক্ষেপে VOC) নামে পরিচিত।

এ লেখায় ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রায় অনালোচিত একটি অধ্যায়, তাদের সামুদ্রিক জাহাজে কর্মরত শল্য চিকিৎসকদের সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা, উপনিবেশ স্থাপনে অনুসন্ধান করা এবং সহায়তা প্রদান করা। ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামুদ্রিক জাহাজের শল্য চিকিৎসকরা জাহাজে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে জাপান পর্যন্ত প্রসারিত ভৌগোলিক এলাকায় কোম্পানির প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। মজার ব্যাপার হলো শহরের হাসপাতালে কর্মরত সমসাময়িক শল্য চিকিৎসকরা জাহাজের সার্জনদের খুব বেশি গণ্য করত না, বরং নাপিতের চেয়ে সামান্য বেশি বলে তাদের সমালোচনা এবং নিরক্ষর হিসেবে আখ্যায়িত করত। তাদের সেই নেতিবাচক মনোভাব এক ধরনের পৌরাণিক কাহিনী হিসেবে বিবেচিত হয়। শল্য চিকিৎসকরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের সময়ের মান অনুযায়ী মোটামুটি শিক্ষিত ছিল। তবে মর্মান্তিক সত্য যে তারা ইউরোপে অজানা এবং সেই সময় দুরারোগ্য রোগের মুখোমুখি হয়েছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীতে যখন জিল্যান্ড প্রদেশের মিডডেলবার্গের চিকিৎসক পাউলাস ডি উইন্ড (১৭১৪-১৭৭১) ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে জাহাজের শল্য চিকিৎসকদের পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন তখন তিনি অভিযোগ তোলেন, জাহাজের শল্য চিকিৎসকরা ‘চরম অযোগ্যতায় ভুগছিলেন এবং তাদের খুব সীমিত জ্ঞান ছিল। উপরন্তু তারা ছিল কিশোর, অনেকে ১৩ বছর বয়সী এবং শারীরবিদ্যা, অস্ত্রোপচার ও ওষুধ সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না।

ইতিহাসে দেখা যায়, ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজের শল্য চিকিৎসকদের সম্পর্কে অনেকের নেতিবাচক মন্তব্য রয়েছে। যেমন অষ্টাদশ শতাব্দীর ভ্রমণকারী জ্যাকব হাফনার অবাক হয়েছিলেন যে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অজ্ঞ শল্য চিকিৎসক নিয়োগ করেছিল। তাই কোম্পানির জাহাজে উচ্চ মৃত্যুহার দেখে তিনি অবাক হননি। তিনি যা দেখেছিলেন, তাই লিপিবদ্ধ করেন। অনেক সৈনিক বা নাবিক কোম্পানির জাহাজের শল্য চিকিৎসক এবং তাদের সঙ্গীদের মূর্খতা ও অবহেলার শিকার হতো। হাফনার একটি জাহাজের শল্য চিকিৎসকের সাধারণ কর্মজীবনকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: ‘জাহাজের শল্য চিকিৎসক কুড়ি বছর বা তার বেশি বয়সী একজন গ্রামের নাপিত, যে এশিয়া যাওয়ার পথে ক্যারিয়ার তৈরি করে এবং সে জাহাজের তৃতীয় শল্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করে। কিন্তু জাহাজের প্রথম শল্য চিকিৎসক এবং শল্য চিকিৎসকের সহযোগীর [অ]সময়োপযোগী মৃত্যুর কারণে কাউন্সিল তাকে জাহাজের প্রথম শল্য চিকিৎসক নিযুক্ত করে, যার ফলে তার জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। এশিয়ায় পৌঁছার পর কোম্পানির শল্য চিকিৎসকের প্রধান চিন্তা থাকে কখন তাকে হাসপাতালের চিকিৎসক নিযুক্ত করবে এবং নিয়োগের কয়েক মাস পর সে পুরো হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে পদোন্নতি পাবে। একসময় তার ভাগ্য খুলে যায়, যদিও তার অস্ত্রোপচারের দক্ষতার ভিত্তি খুবই কম।’ হাফনারের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, অজ্ঞ শল্য চিকিৎসকদের কারণে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাসপাতালগুলো খুনিদের আস্তানাগুলোর চেয়ে কিছুতেই ভালো ছিল না।

যা হোক, এত বেশি অদক্ষতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা পরিষেবার জন্য ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ম ছিল যে কোম্পানি প্রতিটি জাহাজে দুজন সহযোগীসহ একজন শল্য চিকিৎসক নিয়োগ করবে। প্রধান (মাস্টার) শল্য চিকিৎসক হবেন সিনিয়র বা প্রথম শল্য চিকিৎসক এবং ‘অন-ল্যান্ড’ শিক্ষানবিশ শল্য চিকিৎসক (অর্থাৎ দ্বিতীয় শল্য চিকিৎসক) তার সহযোগী হিসেবে কাজ করবে এবং তৃতীয় শল্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করবে একজন ছাত্র।

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সক্রিয়তার ২০০ বছরে শল্য চিকিৎসকদের মাসিক বেতন খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। প্রথম শল্য চিকিৎসক প্রতি মাসে ৩২ থেকে ৫০ ডাচ গিল্ডার, ২৪ থেকে ২৮ ডাচ গিল্ডারের মধ্যে শল্য চিকিৎসকের সঙ্গী এবং ১৪ থেকে ১৮ ডাচ গিল্ডারের মধ্যে তৃতীয় শল্য চিকিৎসক বেতন পেত। উল্লেখ্য, জাহাজে থাকার জন্য শল্য চিকিৎসকদের জন্য ‘কোয়ার্টার ডেক’-এ প্রায় তিন বর্গমিটারের নিজস্ব কেবিন ছিল।

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজগুলোর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার জন্য প্রয়োজন ছিল বিশেষ প্রশিক্ষিণপ্রাপ্ত শল্য চিকিৎসক। জাহাজে শল্য চিকিৎসক হিসেবে কর্মসংস্থানের যোগ্যতা অর্জনের জন্য কিছুসংখ্যক শহরের প্রার্থীদের “সার্জন’স সি পরীক্ষা”য় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, যেখানে ‘মাস্টার্স পরীক্ষার’ চেয়ে কম প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। শল্য চিকিৎসক ও গিল্ডের সিনিয়র সদস্যরা প্রার্থীদের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডেপুটি শল্য চিকিৎসক ও ভাইস ডেপুটি শল্য চিকিৎসকদেরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। ১৭৮৩ সাল থেকে প্রধান শল্য চিকিৎসকদের জন্য প্রার্থীদের যেসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তা ছিল স্কার্ভি, মাথা ও স্তনের ক্ষত, জন্ডিস, প্রদাহ, গ্যাংগ্রিন, আমাশয়, শরীরের ভাঙা অঙ্গ, কাঁধের বিচ্যুতি, জ্বর, ডায়রিয়া, টাইফয়েড জ্বর, রক্তপাত ও জটিলতা এবং আলসার। এসব বিষয়ে তাদের দক্ষতা দেখানো দরকার ছিল। কারণ নিয়ম হিসেবে কোম্পানির জাহাজগুলোতে কোনো চিকিৎসক (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) ছিল না, যারা এসব রোগ বা সমস্যাকে মোকাবেলা করতে পারে।

এ কথা সত্যি যে জাহাজের একজন শল্য চিকিৎসকের জ্ঞান-দক্ষতা স্থলভাগের অন্য একজন শল্য চিকিৎসকের চেয়ে কম ছিল। সমুদ্রযাত্রার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত কম তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের দরকার ছিল। যারা সফলভাবে জাহাজের শল্য চিকিৎসক হিসেবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল, তাদের তীরে অনুশীলন করার অনুমতি দেয়া হয়নি, কিন্তু পূর্ণ বা প্রথম শল্য চিকিৎসকের পদমর্যাদা দেয়া হয়েছিল। তবে নিয়ম ছিল যে প্রার্থী তার তিন বছরের শিক্ষানবিশ শেষ করার পরে জাহাজের শল্য চিকিৎসক হওয়ার জন্য পরীক্ষায় নিতে পারত এবং সেই সঙ্গে এক বছরের ‘জার্নিম্যানশিপ’ও করতে পারত। যে পরিমাণ সময় একজন প্রার্থী শল্য চিকিৎসকের সঙ্গী হিসেবে জাহাজে কাজ করেছে, সেই সময়টুকু জার্নিম্যানশিপের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হতে পারে যে তখন লোকজন জাহাজের শল্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে খুব ইচ্ছুক ছিল। যদিও এর অর্থ এই নয় যে কোম্পানিকে কর্মসংস্থান করার জন্য তারা চাপ সৃষ্টি করছিল। তবে তাদের আগ্রহকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যেমন যারা কোম্পানিতে চাকরির আবেদন করেছিলেন, তারা সত্যিই তাদের পেশাকে বিস্তৃত করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া উৎসাহের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে যে সেই সময় ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগের হয়তো অভাব ছিল। তাই কোম্পানির জাহাজে শল্য চিকিৎসক নিয়োগ ও কোম্পানির সনদে এশিয়ায় (যেখানে হাসপাতালভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা স্থান দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছিল) বসতি খুঁজে পাওয়ার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ প্রসঙ্গে জার্মান বংশোদ্ভূত ফার্দিনান্দ ডির্জ্য (১৭৩১-১৭৯৭) কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বেশ কয়েকটি কারণে ডাচ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগ দেন। সেসব কারণের মধ্যে ছিল নতুনভাবে জীবন গড়ে তোলা, আরো চিকিৎসা বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা, দুঃসাহসিক কাজের হাতছানি। তিনি কর্মজীবনে কোম্পানির শল্য চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এশিয়ায় ১০ বছর কাটানোর সময় তিনি বিপুল অর্থকড়ির মালিক হন।

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শুরুর সময় এবং ১৬৮৬ সালের নীতি ছিল যে চিকিৎসা কর্মীদের সংখ্যা জাহাজের আকৃতি (সাইজ) অনুযায়ী নির্ধারণ করবে, অর্থাৎ জাহাজটি যত বড় হবে, ক্রুর সংখ্যা তত বেশি হবে এবং বেশি মানুষের জন্য বেশি চিকিৎসকের সহায়তা প্রয়োজন হবে। বৃহত্তম জাহাজগুলোতে (দৈর্ঘ্যে ১৪০ ফুটের বেশি) তিনজন শল্য চিকিৎসক (দুজন সহকারীসহ একজন পূর্ণ শল্য চিকিৎসক) ছিল। যুদ্ধের সময় যখন শল্য চিকিৎসকের অভাব ছিল, তখন এ দৈর্ঘ্যের একটি জাহাজে কেবল একজন প্রথম শল্য চিকিৎসক ও তার একজন সঙ্গী বরাদ্দ করা হয়েছিল। অন্যদিকে একজন প্রথম শল্য চিকিৎসক ও একজন তৃতীয় শল্য চিকিৎসককে আরেকটু ছোট জাহাজে (দৈর্ঘ্য ১২০ থেকে ১৩০ ফুটের মধ্যে) নিয়োগ দেয়া হতো। ছোট জাহাজগুলোতে কেবল একজন শল্য চিকিৎসকের সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সকল কর্মচারীর জন্য ১৬৩৪ সালে প্রথম সাধারণ নির্দেশনা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত জাহাজের শল্য চিকিৎসকদের দায়িত্ব সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো কিছু নির্ধারিত ছিল না। তবে কোম্পানির প্রথম সাধারণ নির্দেশনার ১২২টি নিবন্ধের মধ্যে মাত্র চারটি জাহাজের স্বাস্থ্যবিধি ও ওষুধের ওপর নিবন্ধ ছিল। এগুলোর মধ্যে ছিল জাহাজ পরিষ্কার করা এবং রোগীদের জন্য বিশেষ খাবার সরবরাহ করা। তবে ১৬৯০-৯৫ সময়ে উচ্চ মৃত্যুহারের ফলে ১৬৯৫ সালে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। সেই নির্দেশনা ছিল মূলত কোম্পানির জাহাজের শল্য চিকিৎসকের দায়িত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ দেয়া। নির্দেশনায় একাধিক বিষয় উল্লেখ করা হয়, যেমন (১) সমুদ্রযাত্রা শুরু করার পর ড্রেসিং, তুলা ও ব্যান্ডেজ অবিলম্বে প্রস্তুত করা। যেহেতু সমুদ্রযাত্রার আগে ক্রুদের প্রায়ই জাহাজে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, তাই মৌলিক ওষুধও অন্তর্ভুক্ত ছিল, (২) সকালে এবং সন্ধ্যায় মূল মাস্তুলের কাছে অস্ত্রোপচার-সংক্রান্ত ১ ঘণ্টার পরামর্শ সভার আয়োজন করা, (৩) দিনে দুবার অসুস্থ ও আহতদের দেখতে যাওয়া এবং দিনে তিনবার অধিক গুরুতর রোগীদের পর্যবেক্ষণ করা, (৪) শয্যাশায়ী রোগীদের নিয়মিত পরিষ্কার ও ধোয়ার কাজ করা, (৫) দৈনিক ‘সার্জন লগ’-এ (বা ‘সার্জন জার্নাল’) সব কার্যক্রম লিপিবদ্ধ করা এবং (৬) ফুটন্ত ভিনেগার ছিটিয়ে এবং সেই সঙ্গে মাঝে মধ্যে পাউডার পোড়ানোর মাধ্যমে ডেকের মধ্যে বাতাস বিশুদ্ধ করা। অষ্টাদশ শতাব্দীজুড়ে সেই নির্দেশনা খুব বেশি হেরফের হয়নি।

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের অস্তিত্বের ২০০ বছরে প্রায় পাঁচ হাজার জাহাজ এশিয়ায় পাঠিয়েছিল। সেসব জাহাজের সুবিধার জন্য শল্য চিকিৎসক নিয়োগ করেছিল কোম্পানি, যা ছিল সম্পূর্ণ নতুন ধারণা এবং তত্কালীন দূরপাল্লার সামুদ্রিক চিকিৎসা অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ বিপরীত। এ কথা সত্য যে সামুদ্রিক চিকিৎসা পরিষেবা মূলত জাহাজের শল্য চিকিৎসকরা পরিচালনা করেছিল। এটা বোধহয় আধুনিক শল্য চিকিৎসার বিকাশের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া উত্তমাশা অন্তরীপ ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশশুলোতে তাদের বসতি স্থাপনেরও দরকার ছিল। অসুস্থ কর্মীদের থাকার জন্য ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এশিয়ায় হাসপাতাল তৈরি করেছিল এবং চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিল। তবে সেসব হাসপাতাল শুধু কোম্পানির কর্মচারীদের সুবিধার জন্য ছিল।

 

ফজল হাসান: লেখক ও অনুবাদক