খ্বাজা নসর অল্-দিন অল্-রূমী আরব মুসলমানী কিংবদন্তীর লোকবিশ্রুত সাধু। পুঁথিশাস্ত্রপন্থী নন, তিনি হয়ে উঠেছেন তাদের আদরের জোহা, জুহা, জিহি, গোহা— তাদের পরম সুজন। হাজার তাঁর কাণ্ড-করামতি, আরো হাজার গল্প গড়ে উঠেছে তাঁকে নিয়ে, আরো হাজার গল্প জোড়া লেগেছে তার সাথে— নানা ঠাঁই থেকে। যোদ্ধা বণিক মুসাফেরের মুখে মুখে সে সব কথা আর তাঁর নাম ছড়িয়ে গেছে যতদূর বিস্তার হয়েছে আরব্য নাগাল। মূল আরব ভূখণ্ডের চারি দিকে, সিরিয়া থেকে ইরান, মিসির দেশ লোহিত সাগরের পথে আফ্রিকা, ডাইনে-বাঁয়ে তখনকার আরব হ্রদ বলে প্রসিদ্ধ ভূমধ্যসাগরের কূলে কূলে, বোগদাদ থেকে সিসিলি, অল্-আন্দালুস, ভেতর-এশিয়ার দুশ্চর স্তেপিপ্রান্তর পর্যটন করে রুশ আর চীনের সীমানা বরাবর— যত বাড়তে চলেছে দার অল্ ইসলাম বা ইসলামভূমির পরিসর, ততখানি। সে গল্পের ঝোলা ফুলে-ফেঁপেও উঠেছে দিনে দিনে— চারি দিকের লোকজনের মেশা লেগে। ইসলামের ধর্মবিস্তার অসিমুখে, বা কট্টর উলেমার প্রতাপে যা না হয়েছে তার একশো ব্যাপকভাবে হয়েছে সাধু-দরবেশদের খোলামেলা আনাগোনার ফলে। ইসলামের সহজ ধর্মানুগতি, বা সৌভ্রাত্র-সমত্ব-উদারতায় সাধারণজনে যে আগ্রহী হয়েছিলেন নানা জায়গাতে সে তাঁদেরই দৃষ্টান্তে। আর তাঁদেরই মুখে মুখে ফেরা, সাধুদের মাথায় করে রাখা সাধু নসরুদ্দিন— জীবনের কোনো দিকটা যাঁর অ-চলা নয়, কোনো লোকটা যাঁর অ-ধরা নয়, তোয়াক্কা নেই আচার-শরিয়তের, মায় রাজ-পরোয়ানা— অথচ চলাচল তাদেরই মাঝখান দিয়ে। না চেয়ে পারা যায় এমনি মানুষের দিকে? কাজেই ভেড়া-চরানো য়িহুদির তিনি জোহা, তেহমনি জঙবাজ তুর্কি মামলুকের। যত ঠাঁইয়ের নাম করেছি তারও সীমাপার থেকে যে নসরুদ্দিনের গল্প পাওয়া গেছে অবিরলভাবে তার কারণ হল এই। ইরাকে তাঁর পোশাকি নাম বদল হয়ে হয়েছে আবু অল্-খায়র। স্লাভ সারবিয়া আর সুদান আফ্রিকার উপকথায় পাচ্ছি জুহাকে। আধুনিক সোভিয়েত রাষ্ট্রে তাঁকে দেখা গেল লোকনেতৃ ভূমিকাতে। প্রজাতন্ত্রী চীন দেশে সদ্য পঞ্চাশের দশকে ফিরে আবিষ্কার হয়েছেন আফান্তি নসরুদ্দিন— দুঃখী মানুষের হয়ে সামন্ত শাসক-ভক্ষকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, তাঁকে পাওয়া গেছে সেখানে সীমান্তের উইগুর মুসলমানদের উপকথা থেকে। উইগুররা সিনকিয়াং বা চীনী তুর্কিস্তানের তুর্কি জাত, তাদের বর্ণমালা নিয়ে তাতার-মোঙ্গোলরা পড়তে শিখেছিল, একসময় সারা মধ্য-এশিয়ার সংস্কৃতি চলাচল হয়েছিল তাদের লিপির মধ্যবর্তিতায়।
ইসলামের ধারক-বাহক রূপে আরবের কর্তৃত্ব স্খলিত হয়ে গিয়ে পড়ে ধর্মান্তরিত তুর্কিদের হাতে। তুর্কিরা দুর্ধর্ষ যোদ্ধা জাত, ইয়োরোপ-এসিয়ার বিস্তীর্ণ স্তেপি জুড়ে তাদের বাস। তাদের ইসলাম গ্রহণের স্পষ্ট বিবরণ নেই, কিন্তু আরবদের পরে তারাই— প্রথমে সেলজুক তুর্কিরা, পরে অটোমান তুর্কিরা হয়ে দাঁড়াল ইসলাম সাম্রাজ্যের অনন্য প্রতিভূ এবং বাইজান্তায়িন খৃষ্টসাম্রাজ্যের প্রবল প্রতিপক্ষ। সেলজুক তুর্কিদের হাতে জেরুসালেমের বিধ্বংস হয়, অটোমান তুর্কিদের হাতে পতন হয় প্রতীচ্যের শেষ গৌরববিন্দু ইস্তাম্বুল বা কনস্তান্তিনোপেলর। এর পরে অটোমানদের কেন্দ্র হেলে পড়েছিল পুব ছেড়ে পশ্চিমের দিকে, তাই নিয়েই তাদের শাসন অব্যাহত হয়ে ছিল এই শতাব্দীর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পার হয়ে, যত দিন না মুস্তাফা কামালের হাতে আধুনিক তুরস্কের পত্তন হয় সুলতানতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে।
তুর্কিরা ইসলামের নানা উত্তরাধিকার ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছিল, লোকপুরাণের নিছক নসরুদ্দিন সাধুটিও আছেন তার ভেতর। কিন্তু নসরুদ্দিন তাদের গল্পকথার কল্পনা নয়, ইতিহাসের মানুষ— স্থানে-কালে সুনিরূপিত। স্মরণীয় জাতীয় চরিত্র করে নিয়েছে তারা তাঁকে। তাদের হল নসরুদ্দিন হোচা, বা হোজা। হোজা বলতে তুর্কিতে বোঝায় ধর্মীয় পদাধিকারী, প্রধানত দরবেশী তাইফা বা সংস্থার লোক। তুর্কি মতে নসরুদ্দিনের আবির্ভাব চতুদর্শ শতাব্দীতে, এসেকশেহর (এখন আকশেহির, পুরোনো দোরিনিয়ম) বলে স্থানে। প্রসঙ্গত, তুরষ্কের জাতীয় বীর বলে গণ্য, যিনি বাইজান্তায়িন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ লড়ে শহীদ হয়েছিলেন সেই গাজী সৈয়িদ আবদাল্লা অল্-বাত্তালার কবরও তাঁরা নিরূপণ করেছেন এসেকশেহরের কাছে।
চতুর্দশ শতকের দু-এক টুকরো প্রসিদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে নসরুদ্দিনের যোগ দেখতে পাওয়া যায়। চেঙ্গিস খানের বংশধর তৈমুরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল, সে নিয়ে একটি-দুটি লেখা আমরা বইয়ে দিয়েছি, সে তৈমুর (টেমারলেন) চতুদর্শ শতাব্দীর প্রবলপ্রতাপী রাজা, তদুপরি সূফী সাধুদেরও বিশেষ পক্ষপাতী ইরানের দূত হয়েও নসরুদ্দিন এসেছিলেন মোগল দরবারে, এবং হিন্দোস্তানের ধর্মস্থান পরিক্রমা করেছিলেন। সূফীরা ভারতবর্ষের নানা স্থান পরিক্রমা করেছেন বহু দিন ধরে। সাফাবিদ ইরানের সঙ্গে মোগল ভারতের বিশেষ কূটনীতি-সম্বন্ধও ছিল, কিন্তু সে ষোড়শ শতকের ইতিহাস।
আধুনিক তুর্কি রিপাব্লিক প্রতিষ্ঠা করে মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক (আতা= পিতা, অর্থাৎ তুর্কি জাতির জনক) ধর্মনিরেপক্ষতার নীতি নিয়ে হোজাতন্ত্রেরও উচ্ছেদ করেন। ইসলামি শেরি বা শরি’য়া নব্যতাপ্রগতির অন্তরায় বলে তিনি বিবেচনা করেছিলেন। সেই সঙ্গে নানা শাখা সুফী-দরবেশদের থেকে আর খান্কাও বন্ধ হয় তাঁর কালে। সুলতানী তুরষ্কের হোজা শুক্রি এফেন্দি ধর্মনেতা রূপে তখন প্রতিবাদ করেছিলেন সেই ধর্মহীন ধর্মনীতির। এর পাশে কায়েদে আজম জিন্নাহ্ বা সদ্যস্তন কালের আয়াতোল্লা খোমিনির নতুন ইসলামি ধর্মরাষ্ট্র রচনার ইতিহাস স্বভাবতই মনে উঠে আসে।
কিন্তু আতাতুর্ক ধর্ম বা সাধুদের যতই অস্বীকার করুন, হোজা নসরুদ্দিনের গায়ে তাঁর শাসন স্পর্শ করে নি। আজও সেখানে ট্যুরিস্টের জানবার জন্যে নসরুদ্দিনের পরিচয়-পুস্তিকা ছেপে বেরোয়, নসরুদ্দিনের পরব হয় বছর বছর, দীপ সাজ পড়ে মজার আলো করে, আকশেহিরের লোকেরা নসরুদ্দিনের নানা কথা আর গল্প বলে শোনান সারা রাত জেগে।
২.
সূফী সাধু বলে নসরুদ্দিনের পরিচয়। ইসলামের বাহ্যাচারের বদলে তার অন্তর্ভাব অনুভব করার ভাগ হল তসব্বুফ, সেই হল সূফী সাধুর সাধনা। আপাতদৃষ্টিতে তাই আচার-বিচারের অনেক অন্যথা দেখা যায় তাঁদের কাজে-কথায়। নসরুদ্দিন বলেছেন, দুনিয়াতে তিনি হলেন উলটোপন্থী লোক। প্রথা-নিয়মের ব্যতিক্রমই তো উলটোপন্থা। উলটো হোক যাই হোক, অনুভববেদ্য ধর্মবোধ আয়ত্ত করতে গিয়ে তাঁরা ব্যাপক মানবধর্মের দেখা পেয়েছেন, তাইতে সূফী শেখ আর বিশ্বব্যাপী সন্ত যোগী মরমী মিস্টিকের চিন্তা আর জীবনের ধারা অনেকটা একরকম। তাইতে ব্যবধান হয়ে না গিয়ে তাঁরা ব্যাপক মানুষের মধ্যেও ঠাঁই পেয়েছেন অনেক পরিমাণে। আমাদের দেশের মধ্যযুগের দরদী মরমী সাধুদের দেখেও সে বেশ বুঝতে পারা যায়। কবীর, দাদু, নানকজী, মারাঠী নামদেব, আমাদের গৌর চৈতন্য— এঁরা কেউ তো প্রচলিত শাস্ত্রাচারী নন। কবীরের দোহাতে আছে, কাগজের নৌকোয় গুরু পাথরভার চাপিয়ে তাতে ডুবতে হয়: “কাগজ কেরী নাবরী পাহন গরুবা ভার”— কাগজ হল শাস্ত্রবিধি, পাথর ঠাকুরবিগ্রহ। চৈতন্য মন্ত্র দিয়েছেন: নিজের আকুতি নির্ভর করে আপন মাধুর্যে আস্বাদ পেতে চাও, সেই হল পরম আস্বাদ্য। কবীরপন্থা আর চৈতন্যমন্ত্র দুয়েই অনুগামী অগণিত।
নানা দিকে সূফী সাধুরা যে কিসে এত চিত্তজয় করেছিলেন তা অনুমান করা যায়। ভারত মহাদেশেও তাঁদের আনাগোনা ইসলামের সূত্রপাত থেকে, আর সে কেবল আনাগোনা নয়, আখড়া-খান্কা তুলে চেলা-সাবুদ নিয়ে নাম গান করে (সূফী ভজনায় জিকর আর সমা হল নাম আর গান। চৈতন্যপন্থীদের নাম ও কীর্তনের সঙ্গে বেশ তুলনা করা যায়) তাঁরা রীতিমতো অবধান জাগিয়ে তুলেছিলেন চারিপাশে। এমন খান্কা বড়ো কম ছিল না। ইবন বতুতার লেখাতে আছে ভারতবর্ষে এসে তিনি মালাবারে বোম্বাইয়ে ভুনাগড়ে কাম্বেতে কালিকটে ত্রিবাঙ্কুরে সূফী খান্কায় থাকার আশ্রয় পেয়েছিলেন। এর সবটাই তখন হিন্দু দেশ। ভারতবর্ষে গোড়ার দিকে সুহ্রাওয়র্দীয়া, আর চিশ্তীয়া শাখার সূফীদের প্রভাব ছিল বেশি। প্রসিদ্ধ চিশ্তীয়া গুরু মুঈন অদ্ দীন চিশ্তী হিন্দু রাজ্য অজমীরে এসে তাঁর শেষ জীবন যাপন করেন। বাংলাতে ‘সেকশুভোদয়া’ (হবে ‘সেখশুভোদয়’ অর্থাৎ সেখের শুভ উদয় বা আবির্ভাব) ব’লে ভাঙা সংস্কৃত-বাংলায় মেশা একখানা বই আছে, তাতে দেখা যায় সূফী শেখ এসেছেন বাংলায় তুর্কি বিজয়ের আগের পর্বে রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজসভায়।
পণ্ডিতেরা নির্ণয় করে বলেছেন, তাঁর নাম সেখ জলাল অদ্-দীন তব্রিজী, পাণ্ডুয়াতে তিনি খান্কা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আর তিনি সুহ্রাওয়র্দীয়া শাখার সূফী সাধু। বইয়েতে শেখের যে মান্য আর প্রতিষ্ঠা তাতে মনে হয় ইসলামি সাধু হিসেবে তিনিই এখানে প্রথমাগত নন। পরে, সপ্তদশ শতাব্দীতে কবি আলাওল নিজেকে কাদিরী শাখার সূফী বলে উল্লেখ করেছেন ‘সেকেন্দারনামা’য়। আবদুল করিম ইব্ন্ ইব্রাহিম আল-জীলী চতুর্দশ শতাব্দীর শেষে ভারতে এই শাখা এসে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে কথিত আছে।
বাইরের বাবা শেখ পীর সাধুরা যে এসে কেবল ধর্মাচার করতেন, কেবল ভোজ-বিভূতি দেখাতেন তা নয়। তাঁরা বহন করে বেড়াতেন কবিতার টুকরো, সফরিয়া-গল্পের ছোটো-বড়ো ঝুলি— কেবল আনতেন না, নিয়েও যেতেন। এমনি করেই এক জায়গার গল্প গেছে আরেক জায়গায়, হয়তো ফিরেও এসেছে ফের অন্য রূপ নিয়ে। এইভাবেই করটক দমনক দুই শেয়াল হয়ে গেল কলীলা ওয়া-দিম্না, এইভাবেই ওখানকার ‘সাত সাধু সিন্তি’ ফিরল সিন্দবাদ জাহাজী হয়ে। নসরুদ্দিনের নামে প্রচলিত গল্পমালার কোনো-কোনোটি যে ঢের আগে থাকতেই এখানে এসে প্রচলিত হয় নি কোনো-না কোনো কলন্দর সাধুর মুখে, তা বলতে পারা যাবে না। এ বইয়ের ‘ভোজ’ আর ‘বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই’ এই দুই গল্পের একটি নিয়ে তো সুকুমার রায় পদ্য লিখেছেন, আর দুটিতেই অনেক দিন ধরে আছে, জমা হয়ে আছে স্বনামধন্য গোপাল ভাঁড়ের, বা অন্যত্র ভাণ্ডারে। আরো আছে।
৩.
নসরুদ্দিনের গল্পে দেখা যায় তাঁর উলটো আচার অনেক সময়েই উপহাস্য আচরণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই তাঁর খেল্কা যেন ভাঁড়ের আলখাল্লা, সাধুর চাইতেও লেকটা যেন বিদূষক। বলতে হয়, বিদূষকের সঙ্গে সাধুর বা মনীষা-সাত্ত্বিকতার বিরোধ হয় না। বিদূষকের উপহাস্য কৌতুকের মধ্যে থাকে পরিস্থিতির ত্বরিত অবধান, আশুসচেতনতা।
আরেকটা কথাও বলতে হয় এই সূত্রে। আমাদের দেশে সূফী বলতে সর্বত্রই ভক্তিপ্রীতি আর আত্মবিলয়ের সাধনা— এইরকম প্রচলিত। সূফীপন্থায় দুটি ধারা আছে, তার একটি ভক্তির পথ, অপরটি জ্ঞানে। এই জ্ঞান নানা বিদ্যার জ্ঞান নয়, কেন্দ্রিত আত্মজ্ঞান। সূফীর মূলত অর্জনীয় তাঁর নিজের সম্বন্ধে পূর্ণ চৈতন্য, তাঁকে হয়ে উঠতে হয় শুদ্ধ সিদ্ধ মানুষ, অল্-ইনসান অল্-কামিল, ইংরেজিতে যাকে বলা যায় The perfect Man। এ হল জ্ঞানপন্থা। অল্-সুহ্রাওয়র্দী এর খ্যাতনামা প্রবক্তা। তাঁর তরীকা, বা শাখা-আশ্রম এদেশে বিস্তৃত ছিল। ওমর খয়্যাম আমাদের অনেক দিনের বহু পরিচিত সূফী কবি। তিনি বিজ্ঞানী, তাঁর লেখাতেও আত্মসমর্পণের চেয়ে স্পষ্ট আত্মচৈতন্য। নসরুদ্দিনের গল্প পড়ে যেটুকু বুঝি তাতে বুঝি মানুষটি হয়তো এই জ্ঞানপন্থার পথিক।
সূফী শিক্ষাচর্চার পাঠ হিসেবে একটি-একটি গল্প বলার রীতি আছে, তাতে শিক্ষার্থী ঘা খেয়ে সচেতন হয়ে ওঠে, গভীরে চেয়ে দেখার উদেবজনা পায়। জেন্ বৌদ্ধদের ধ্যান-শিক্ষাতেও এমনিধারা গল্প বলার রেওয়াজ দেখা যায়, তবে সে হল হেঁয়ালি গল্প। নসরুদ্দিনের গল্প বহু দিন ধরে এমনি উপযোগী পাঠ বলে চর্চা হয়েছে সূফী মাদ্রাসাতে। অনেক গল্পই যেন কোনো সূফী গুরুর প্রসিদ্ধ বচনের উদাহরণের মতো। যাঁরা জানেন তাঁরা জানেন এ সব গল্পের গভীর মর্ম।
আর তাতে যাঁদের দরকার নেই? আধুনিক কালে বিলিতি দেশে নসরুদ্দিনের জনপ্রিয়কারী মওলানা ইদ্রিস শাহ বলেছেন, যারা সে পথের পন্থী নয় তাদেরও, অন্তত উপভোগে বাধা নেই সে সব গল্পিকা। নসরুদ্দিনের গল্প একখানা পড়লে আরো পাঁচখানা না পড়ে ওঠা পর্যন্ত সে কিছুতে উঠতে দিচ্ছে না।
কবি দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোজাকাহিনী গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে লিখিত






