লিওনেল মেসি কি অষ্টমবারের মতো
জিতে নেবেন ব্যালন ডি’অর মুকুট? নাকি প্রথমবার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি হাতে
নেবেন আর্লিং হালান্ড? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ রাতে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় প্যারিসের
থিয়েটার দু শ্যালেতে দেয়া হবে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার।
মেসি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ২০০৯,
২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২১ সালে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জিতেছেন ২০০৮,
২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। মিশেল প্লাতিনি, ইয়োহান ক্রুইফ ও মার্কো ফন বাস্তেন
তিনবার করে ব্যালন ডি’অর ট্রফির স্বাদ পেয়েছেন।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পঞ্জিকাবর্ষের
পরিবর্তে মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেয়া হবে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। ২০২২
সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালে ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোল ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে
সেরা খেলোয়াড়কে ভোটে নির্বাচন করবেন নির্বাচক প্যানেল।
আর্জেন্টাইন সুপারস্টার ২০২৩
সালের ব্যালন ডি’অর জেতার রেসে সবচেয়ে ফেভারিট। সেই সঙ্গে পুরস্কারের বড় দাবিদার
ম্যানসিটির নরওয়েজিয়ান ফরওয়ার্ড আর্লিং হালান্ড। তিনি সিটির হয়ে অভিষেক মৌসুমেই
অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে দলটিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে
সাহায্য করেছেন। নারীদের বিভাগে স্পেনের আইতানা বোনমাতি ফেভারিট। তিনি এ বছর
স্পেনকে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করেছেন। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের
সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের হাতছানি তার সামনে।
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই
পুরস্কারে এবার বেশ কয়েকজন যোগ্য দাবিদার উঠে এসেছেন। তবে আর্জেন্টিনাকে কাতারের
মাঠে বিশ্বকাপ জিতিয়ে মেসি এবার সবচেয়ে বড় দাবিদার। ফাইনালে দুই গোলসহ বিশ্বকাপে
মোট সাত গোল করেন মেসি। এছাড়া ইন্টার মিয়ামি ক্লাবেও দুর্দান্ত সূচনা করেন ৩৬ বছর
বয়সী ফরওয়ার্ড। মেজর লিগ সকারের দলটির হয়ে এরই মধ্যে ১৩ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন
তিনি। কাতারের মাঠে ঝলমলে পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের
‘গোল্ডেন বল’ ট্রফি জিতে নেন। এবার তার শোকেসে আরেকটি ট্রফি যুক্ত হওয়ার অপেক্ষা।
অবশ্য এটি তার জন্য নতুন কিছু
নয়। বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে এরই মধ্যে সাতবার তিনি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। পাঁচবার
জিতে তার কাছাকাছি রয়েছেন শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার রোনালদোকে আরেকটু পেছনে
ফেলার সুযোগ এসেছে তার সামনে।
এই রেসে তাকে হারাতে হবে
প্রতিপক্ষের গোলমুখে ডেঞ্জারম্যান আর্লিং হালান্ডকে, যিনি সিটিকে প্রথমবারের মতো
চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ট্রেবল জিতিয়েছেন। সিটিকে ট্রেবল জেতানোর পথে তিনি সব ধরণের
প্রতিযোগিতায় মোট ৫২ গোল করেন। কাজেই তিনি এই পুরস্কারের রেসে মেসির শক্ত
প্রতিদ্বন্দ্বী।
ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের জন্য ৩০
জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় এ দুজন ছাড়াও উল্লেখযোগ্য নাম রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস
জুনিয়র, ম্যানসিটির কেভিন ডি ব্রুইন, প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের ফরাসি কিলিয়ান
এমবাপ্পে ও ম্যানসিটির রদ্রি। তালিকায় সাতজনই সিটির খেলোয়াড়। এমবাপ্পে বিশ্বকাপ
ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। যদি এবার ফ্রান্স
শিরোপা উৎসব করতো, তবে ব্যালন ডি’অরের বড় দাবিদার হয়ে উঠতেন তিনিই।










