প্রথম পেস বোলার হিসেবে টেস্টে ৭০০ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন। ধর্মশালায় গতকাল সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচের তৃতীয় দিন ভারতের কুলদীপ যাদবকে আউট করে এ কীর্তি গড়েন ৪১ বছর বয়সী পেসার।
পেসারদের মধ্যে এক নম্বরে উঠে গেলেও সর্বকালের উইকেট শিকারিদের তালিকায় অ্যান্ডারসন তিনে। তার উপরে রয়েছেন শ্রীলংকার মুত্তিয়া মুরালিধরন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন। গত জুলাইয়ে অবসর নেয়া স্টুয়ার্ট ব্রড ৬০৪ উইকেট শিকার করে অ্যান্ডারসনের পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন।
পেস বোলারদের মধ্যে শুধু অ্যান্ডারসন ও ব্রডই ছয়শরও বেশি উইকেট নিতে সমর্থ হয়েছেন। তাদের আগে পেস বোলারদের মধ্যে উইকেট শিকারের রেকর্ডটা ছিল অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রার (৫৬৩ উইকেট)। ২০১৮ সালে ম্যাকগ্রাকে টপকে যান অ্যান্ডাসন। ১৮৭ টেস্টে ৭০০ উইকেট শিকার করলেন অ্যান্ডারসন। তার উইকেট শিকারের গড় ২৬.৫২।
অ্যান্ডারসনের কীর্তি নিয়ে তার সাবেক সতীর্থ ও তার ৪৯ টেস্টের অধিনায়ক স্যার অ্যালিস্টার কুক টিঅ্যান্ডটি স্পোর্টকে বলেন, ‘এটা অসাধারণ এক অর্জন। আরো ভালো করার ও ইংল্যান্ডের জয়ে ম্যাচ জয়ের যে ক্ষুধা তার মধ্যে, সেটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। শারীরিক সমস্যা জয় করে তার ১৯০ টেস্টের মতো খেলাটা অভাবনীয় বটে। তার স্কিলও অভাবনীয়।’
অ্যান্ডারসন তার ৭০০ উইকেটের মধ্যে ৪৩৪ উইকেট নিয়েছেন দেশের মাঠে, আর বিদেশে নিয়েছেন ২৬৬ উইকেট। অ্যাশেজে নিয়েছেন ১১৭ উইকেট। এছাড়া ভারতের বিপক্ষে ১৪৯টি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৩, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৭, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৪টি, পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮২, শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫৮, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১১ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯টি উইকেট নিয়েছেন। তিনি মোট ২৬০ জন ব্যাটারকে আউট করেছেন।
২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক অ্যান্ডারসনের। জিম্বাবুয়ের মার্ক ভার্মিউলেন তার প্রথম টেস্ট শিকার। নিজের তৃতীয় ওভারেই তিনি প্রথম উইকেট শিকার করেন। এ নিয়ে ২২ বছর টেস্ট খেলছেন। এর মধ্যে তার সফলতম বছর ২০১০ সাল। ওই বছর তিনি ৫৭ উইকেট শিকার করেন। ২০১৩ ও ২০১৭ সালে তিনি ৫০ উইকেটের বেশি শিকার করেন।
২০০৩ সালে অভিষেকের বছর ২৬ উইকেট নেন অ্যান্ডারসন। যদিও তার পরের চার বছরে নিতে পেরেছেন মাত্র ৩৬ উইকেট। তখন তিনি দলে জায়গা পাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তায় ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি দলে নিয়মিত। সেই থেকে শুরু তার নতুন এক যাত্রারও।
অ্যান্ডারসনের মাইলফলকের ম্যাচে ইংলিশরা হেরেছে ইনিংস ও ৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। ভারতকে প্রথম ইনিংসে ৪৭৭ রানে অলআউট করলেও অতিথি দলটি তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে বড় হারের লজ্জায় পড়ে। সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন জো রুট। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করেছিল ২১৮ রান। কুলদীপ যাদব প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের পর আজ নেন ২ উইকেট। রবিচন্দ্র অশ্বিন নেন ৭৭ রানে ৫ উইকটে। ৭ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৩০ রান করে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ কুলদীপ যাদব।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ভারত জিতে নিল ৪-১ ব্যবধানে। দুটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ ৭১২ রান করে সিরিজসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন যশস্বী জয়সাল।










